যেভাবে চলছে নাটকের শুটিং
jugantor
করোনার তৃতীয় ঢেউ
যেভাবে চলছে নাটকের শুটিং

  সোহেল আহসান  

২৭ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যেভাবে চলছে নাটকের শুটিং

বিশ্বব্যাপী আবারও করোনাভাইরাস নতুনরূপে হানা দিয়েছে। নতুন ভ্যারিয়েন্ট অমিক্রনের কারণে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সেই প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছেন সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা। করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারি পক্ষ থেকে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আর এতে অন্যান্য অঙ্গনের মতো নাট্যাঙ্গনেও এর প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। আবারও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে কাজ করার বিষয়ে দায়িত্বশীলরা সতর্ক করছেন সংশ্লিষ্টদের। গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে করোনার সংক্রমণ নিম্নমুখী হতে শুরু করেছিল। বিশেষ করে গত বছরের অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে করোনা শনাক্তের হার একেবারেই কমে গিয়েছিল। তাতে করে বিনোদন অঙ্গন আবারও সরগরম হয়ে উঠেছিল। প্রচুর সংখ্যক নাটক নির্মিত হয়েছে এ সময়। অনেক নির্মাতা আগামী বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, পহেলা বৈশাখ এবং রোজার ঈদের নাটকও আগেই নির্মাণ করেছেন।

এদিকে চলতি এবং আগামী মাসে একগুচ্ছ নতুন নাটক নির্মাণের সিডিউল তৈরি করেছেন নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা। তবে করোনার বর্তমান সময়ে বেশ কিছু অভিনয়শিল্পী পূর্ব নির্ধারিত নাটকের সিডিউল বাতিল করেছেন। তাদের যুক্তি হলো, এ অবস্থায় তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অভিনয় করবেন না। এতে করে কিছু সংখ্যক নির্মাতা ও প্রযোজক সমস্যায় পড়েছেন। কারণ নাটকগুলোর শুটিং সম্পন্ন না হলে তাদের আর্থিক সংকটে পড়তে হবে বলে তারা জানিয়েছেন। এভাবে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতায় নাটকের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। যারা এত বিধিনিষেধের পরও শুটিং করছেন, তারা বাধ্য হয়েই কাজ করছেন বলে জানা গেছে। কারণ এটিই তাদের উপার্জনের একমাত্র পথ।

এদিকে রাজধানী উত্তরা ও গাজীপুরের পূবাইলের শুটিং স্পটগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় প্রতিটি শুটিং স্পটেই বহিরাগত ও উৎসুক মানুষের উপস্থিতি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ বেশি মানুষের উপস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি পালন করা কঠিন হয়ে যায়। পূবাইলের একটি শুটিং স্পটে শুটিং করলেন জনপ্রিয় নাট্য নির্মাতা সালাউদ্দিন লাভলু। তিনি ‘ষণ্ডা পান্ডা’ নামের একটি মেগা ধারাবাহিকের শুটিং করছেন সেখানে। চ্যানেল আইয়ে প্রচারিতব্য এ ধারাবাহিকে তিনি স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শুটিং করছেন বলে জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন লাভলু বলেন, ‘মুখে মাস্ক পরে তো আর অভিনয় করা যাবে না। তবে আমি ইউনিটের সবাইকে শুটিং শেষ হওয়ার পর মাস্ক পরিধান এবং বেশি বেশি হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখি। তাতে করে কিছুটা নিরাপদ থাকা যায়। তবে লকডাউন হয়ে গেলে আমি শুটিং বন্ধ রাখব। তা ছাড়া নাট্য পরিচালক সমিতির যারা সদস্য তাদেরও এরই মধ্যে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছি।

বৈশাখী টিভিতে প্রচার হচ্ছে দীর্ঘ ধারাবাহিক নাটক ‘বউ শাশুড়ি’। এটি পরিচালনা করছেন আকাশ রঞ্জন। এ নাটকটির শুটিং করছেন নিয়মিত। নাটকটির শুটিং চালাতে গিয়ে নিয়মিত বিড়ম্বনার মুখোমুখি হচ্ছেন এ নির্মাতা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর থেকে আমার ইউনিটের লোক সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছি। তা ছাড়া স্পটে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার জন্য সবাইকে সচেতন করি আমি। বর্তমান সময়ে আউটডোর শুটিং করতে পারছি না। এ ছাড়া শুটিং স্পটের ছাদেও কাজ করা যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে প্রতিকূল এক পরিবেশেই চলছে আমাদের শুটিং যজ্ঞ।’ কিছুদিন আগে মাছরাঙা টিভিতে প্রচার শুরু হয়েছে জাহিদ হাসানের প্রযোজনা ও সোহেল রানা ইমনের পরিচালনায় নতুন দীর্ঘ ধারাবাহিক নাটক ‘অদল বদল’। এতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কঠোরভাবে। ক্যামেরার সামনে ছাড়া অন্য সময় সবাই দূরত্ব বজায় রেখেই অভিনয় করছেন। তবে কিছু কিছু সেটে অনিয়মও দেখা গেছে। অনেকে মাস্ক ছাড়াই শুটিং করছেন। ক্যামেরার সামনে শিল্পীরা মাস্ক পরতে পারেন না, কিন্তু যারা ক্যামেরার পেছনে নির্মাণ বা টেকনিক্যাল কাজ করছেন তাদের কারও মুখেই মাস্ক দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সবাইকে সতর্ক হওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন ডিরেক্টর গিল্ডের সভাপতি সালাউদ্দিন লাভলু।

করোনার তৃতীয় ঢেউ

যেভাবে চলছে নাটকের শুটিং

 সোহেল আহসান 
২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
যেভাবে চলছে নাটকের শুটিং
ছবি: যুগান্তর

বিশ্বব্যাপী আবারও করোনাভাইরাস নতুনরূপে হানা দিয়েছে। নতুন ভ্যারিয়েন্ট অমিক্রনের কারণে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সেই প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছেন সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা। করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারি পক্ষ থেকে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আর এতে অন্যান্য অঙ্গনের মতো নাট্যাঙ্গনেও এর প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। আবারও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে কাজ করার বিষয়ে দায়িত্বশীলরা সতর্ক করছেন সংশ্লিষ্টদের। গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে করোনার সংক্রমণ নিম্নমুখী হতে শুরু করেছিল। বিশেষ করে গত বছরের অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে করোনা শনাক্তের হার একেবারেই কমে গিয়েছিল। তাতে করে বিনোদন অঙ্গন আবারও সরগরম হয়ে উঠেছিল। প্রচুর সংখ্যক নাটক নির্মিত হয়েছে এ সময়। অনেক নির্মাতা আগামী বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, পহেলা বৈশাখ এবং রোজার ঈদের নাটকও আগেই নির্মাণ করেছেন।

এদিকে চলতি এবং আগামী মাসে একগুচ্ছ নতুন নাটক নির্মাণের সিডিউল তৈরি করেছেন নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা। তবে করোনার বর্তমান সময়ে বেশ কিছু অভিনয়শিল্পী পূর্ব নির্ধারিত নাটকের সিডিউল বাতিল করেছেন। তাদের যুক্তি হলো, এ অবস্থায় তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অভিনয় করবেন না। এতে করে কিছু সংখ্যক নির্মাতা ও প্রযোজক সমস্যায় পড়েছেন। কারণ নাটকগুলোর শুটিং সম্পন্ন না হলে তাদের আর্থিক সংকটে পড়তে হবে বলে তারা জানিয়েছেন। এভাবে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতায় নাটকের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। যারা এত বিধিনিষেধের পরও শুটিং করছেন, তারা বাধ্য হয়েই কাজ করছেন বলে জানা গেছে। কারণ এটিই তাদের উপার্জনের একমাত্র পথ।

এদিকে রাজধানী উত্তরা ও গাজীপুরের পূবাইলের শুটিং স্পটগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় প্রতিটি শুটিং স্পটেই বহিরাগত ও উৎসুক মানুষের উপস্থিতি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ বেশি মানুষের উপস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি পালন করা কঠিন হয়ে যায়। পূবাইলের একটি শুটিং স্পটে শুটিং করলেন জনপ্রিয় নাট্য নির্মাতা সালাউদ্দিন লাভলু। তিনি ‘ষণ্ডা পান্ডা’ নামের একটি মেগা ধারাবাহিকের শুটিং করছেন সেখানে। চ্যানেল আইয়ে প্রচারিতব্য এ ধারাবাহিকে তিনি স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শুটিং করছেন বলে জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন লাভলু বলেন, ‘মুখে মাস্ক পরে তো আর অভিনয় করা যাবে না। তবে আমি ইউনিটের সবাইকে শুটিং শেষ হওয়ার পর মাস্ক পরিধান এবং বেশি বেশি হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখি। তাতে করে কিছুটা নিরাপদ থাকা যায়। তবে লকডাউন হয়ে গেলে আমি শুটিং বন্ধ রাখব। তা ছাড়া নাট্য পরিচালক সমিতির যারা সদস্য তাদেরও এরই মধ্যে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছি।

বৈশাখী টিভিতে প্রচার হচ্ছে দীর্ঘ ধারাবাহিক নাটক ‘বউ শাশুড়ি’। এটি পরিচালনা করছেন আকাশ রঞ্জন। এ নাটকটির শুটিং করছেন নিয়মিত। নাটকটির শুটিং চালাতে গিয়ে নিয়মিত বিড়ম্বনার মুখোমুখি হচ্ছেন এ নির্মাতা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর থেকে আমার ইউনিটের লোক সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছি। তা ছাড়া স্পটে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার জন্য সবাইকে সচেতন করি আমি। বর্তমান সময়ে আউটডোর শুটিং করতে পারছি না। এ ছাড়া শুটিং স্পটের ছাদেও কাজ করা যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে প্রতিকূল এক পরিবেশেই চলছে আমাদের শুটিং যজ্ঞ।’ কিছুদিন আগে মাছরাঙা টিভিতে প্রচার শুরু হয়েছে জাহিদ হাসানের প্রযোজনা ও সোহেল রানা ইমনের পরিচালনায় নতুন দীর্ঘ ধারাবাহিক নাটক ‘অদল বদল’। এতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কঠোরভাবে। ক্যামেরার সামনে ছাড়া অন্য সময় সবাই দূরত্ব বজায় রেখেই অভিনয় করছেন। তবে কিছু কিছু সেটে অনিয়মও দেখা গেছে। অনেকে মাস্ক ছাড়াই শুটিং করছেন। ক্যামেরার সামনে শিল্পীরা মাস্ক পরতে পারেন না, কিন্তু যারা ক্যামেরার পেছনে নির্মাণ বা টেকনিক্যাল কাজ করছেন তাদের কারও মুখেই মাস্ক দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সবাইকে সতর্ক হওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন ডিরেক্টর গিল্ডের সভাপতি সালাউদ্দিন লাভলু।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন