বরাবরের মতোই প্রশংসিত হানিফ সংকেতের ইত্যাদি
jugantor
বরাবরের মতোই প্রশংসিত হানিফ সংকেতের ইত্যাদি

  আবু সাঈদ  

১২ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বরাবরের মতোই প্রশংসিত হানিফ সংকেতের ইত্যাদি

ঈদের আনন্দের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবেই জড়িয়ে আছে ইত্যাদি। ঈদের পরদিন বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে প্রচারিত এ অনুষ্ঠানটির নান্দনিক বিনোদনের পরতে পরতে ছিল শিক্ষামূলক নানা বার্তা। শুরুতেই করোনাযোদ্ধা কয়েকজন চিকিৎসকের গাওয়া এবং দুই শতাধিক সেবিকার অংশগ্রহণে পরিবেশিত ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে’ গানটিও অনুষ্ঠানে যোগ করে নতুন মাত্রা। এরপর নৃত্যশিল্পী শিবলী মহম্মদ ও শামীম আরা নিপার পারফরমেন্সে তিনটি গানের নান্দনিক সম্মিলনে একটি নৃত্যে উঠে এসেছে আমাদের হাজার বছরের পারিবারিক বন্ধনের ঐতিহ্যবাহী চিত্র। নৃত্যের ফাঁকে ফাঁকে তিন গুণী শিল্পী দিলারা জামান, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ও আবুল হায়াতের উপস্থিতি এবং মমতামাখা কথামালা দর্শকমনে দাগ কেটেছে।

দুর্নীতি, দস্যুতাসহ সাম্প্রতিক নানা অসংগতি নিয়ে নাট্যাংশগুলো ছিল উপভোগ্য। ঐতিহাসিক চরিত্র দস্যু বাহরাম, দস্যু মোহন, দস্যু বনহুর ও দস্যুরানীখ্যাত ফুলন দেবীর কাল্পনিক চরিত্র নিয়ে নাট্যাংশটি ছিল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। শহীদুজ্জামান সেলিম, সালাউদ্দিন লাভলু, মীর সাব্বির ও তানিয়া অভিনীত এ নাট্যাংশে দেখানো হয় সেকালের দস্যুতা ও বর্তমান দস্যুতার বিদ্রুপাত্মক, অথচ বাস্তব এক তুলনামূলক চিত্র। সাধারণ চাকরিজীবীদেরও সম্পদ যে দুর্নীতির কারণে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে, সেটারও একটি রসাত্মক চিত্র দেখা গেল এ নাট্যাংশে। নিরাপত্তাকর্মীকে দুদকের লোক ভেবে ঈদ শপিংয়ে দামি গহনা কিনতে গিয়েও এক সাধারণ চাকরিজীবী ভড়কে যাওয়া, একটি নাট্যাংশে সাক্ষাৎকারে চাকরিপ্রত্যাশীর গানে গানে উত্তরের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে বাস্তবতার চিত্র, যা ছিল বেশ রসাত্মক। আবার আরেকটি নাট্যাংশে দেখানো হলো, বড়লোক পাত্রের খোঁজে মোবাইল ফোন কোম্পানির ‘বর অনুসন্ধান কেন্দ্রে’ ফোন দিয়ে পাত্রপ্রত্যাশী কনে পক্ষের বেহালদশার বিষয়টি। হাল আমলে যুক্ত হয়েছে নতুন অসুস্থতা-ইন্টারনেট আসক্তি। বাসাভর্তি লোকজন থাকলেও সুনসান নীরবতা, কেউ কারও সঙ্গে কথা বলে না, একটানা আপন মনে ব্রাউজিং করেই চলেছে; এমন একটি ভয়ংকর দিকের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হলো একটি নাট্যাংশে। বিশেষ এক বার্তা দেওয়া হলো এর পর, ‘বিভিন্ন ভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য টিভিতে যেমন সতর্কতামূলক বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, তেমনি ইন্টারনেটের ব্যবহার ও অপব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধাও তুলে ধরে টিভিতে বিজ্ঞাপন দেওয়া দরকার।’ এ কথাটি যথেষ্ট আলোচনার দাবি রাখে।

এখনকার গান মানেই যেন ‘ফান’। মামা-ভাগ্নে পর্বে তুলে ধরা হলো, গান সাধনার বিষয়, হতে হবে হৃদয়ছোঁয়া। একটি গানেই যে কত শিক্ষণীয় বিষয় তুলে ধরা যায়, তা এবারের ইত্যাদি আবারও নতুন করে প্রমাণ করেছে। সিয়াম ও পূজার অংশগ্রহণে একটি দলীয় সংগীতে কথা ও কাজের মিল না থাকার বিষয়টি বেশ ব্যঙ্গাত্মক ও উপভোগ্য ছিল। চঞ্চল চৌধুরী ও মেহের আফরোজ শাওনের দ্বৈতগানেও ছিল শিক্ষামূলক বার্তা। করোনাকালের বিভিন্ন চিত্র ও টিকার গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি ব্যক্ত করা হয়েছে নিয়ম মেনে চলে করোনাকে হার মানানোর প্রত্যয়। সাবিনা ইয়াসমিনসহ প্রখ্যাত পাঁচ শিল্পীর গাওয়া গানটিও দেশপ্রেমে আপ্লুত করে তোলে দর্শকদের।

এ ছাড়া দর্শকপর্বে অপূর্ব-পূর্ণিমার ভাইরাল বাদাম ও আইসক্রিমের তির্যক সংযোজনে দর্শকদের সঙ্গে কথোপকথনও ছিল বেশ উপভোগ্য। নানি-নাতি, বিদেশিদের অংশগ্রহণে সমাজসচেতনতামূলক পর্ব, গ্রিসের এথেন্সে বাঙালি খাবারের হোটেল নিয়ে করা প্রতিবেদনের পাশাপাশি গানে গানে ঈদ শপিং এবং তিন প্রজন্মের ঈদ কেনাকাটার চিত্র, ঈদের সময়ে বাসস্ট্যান্ড-শপিংমল নিয়ে টিভি রিপোর্টিং, হাসপাতালেও ‘লোক-দেখানো রোগী দেখতে যাওয়া’ একশ্রেণির মানুষকে নিয়ে করা নাট্যাংশটিও ছিল যথেষ্ট উপভোগ্য। সবকিছু মিলিয়ে হানিফ সংকেত দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে একটানা ৩৪ বছর একটা টিভি অনুষ্ঠান সব সময়ই জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকে!

বরাবরের মতোই প্রশংসিত হানিফ সংকেতের ইত্যাদি

 আবু সাঈদ 
১২ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বরাবরের মতোই প্রশংসিত হানিফ সংকেতের ইত্যাদি
ফাইল ছবি

ঈদের আনন্দের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবেই জড়িয়ে আছে ইত্যাদি। ঈদের পরদিন বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে প্রচারিত এ অনুষ্ঠানটির নান্দনিক বিনোদনের পরতে পরতে ছিল শিক্ষামূলক নানা বার্তা। শুরুতেই করোনাযোদ্ধা কয়েকজন চিকিৎসকের গাওয়া এবং দুই শতাধিক সেবিকার অংশগ্রহণে পরিবেশিত ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে’ গানটিও অনুষ্ঠানে যোগ করে নতুন মাত্রা। এরপর নৃত্যশিল্পী শিবলী মহম্মদ ও শামীম আরা নিপার পারফরমেন্সে তিনটি গানের নান্দনিক সম্মিলনে একটি নৃত্যে উঠে এসেছে আমাদের হাজার বছরের পারিবারিক বন্ধনের ঐতিহ্যবাহী চিত্র। নৃত্যের ফাঁকে ফাঁকে তিন গুণী শিল্পী দিলারা জামান, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ও আবুল হায়াতের উপস্থিতি এবং মমতামাখা কথামালা দর্শকমনে দাগ কেটেছে।

দুর্নীতি, দস্যুতাসহ সাম্প্রতিক নানা অসংগতি নিয়ে নাট্যাংশগুলো ছিল উপভোগ্য। ঐতিহাসিক চরিত্র দস্যু বাহরাম, দস্যু মোহন, দস্যু বনহুর ও দস্যুরানীখ্যাত ফুলন দেবীর কাল্পনিক চরিত্র নিয়ে নাট্যাংশটি ছিল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। শহীদুজ্জামান সেলিম, সালাউদ্দিন লাভলু, মীর সাব্বির ও তানিয়া অভিনীত এ নাট্যাংশে দেখানো হয় সেকালের দস্যুতা ও বর্তমান দস্যুতার বিদ্রুপাত্মক, অথচ বাস্তব এক তুলনামূলক চিত্র। সাধারণ চাকরিজীবীদেরও সম্পদ যে দুর্নীতির কারণে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে, সেটারও একটি রসাত্মক চিত্র দেখা গেল এ নাট্যাংশে। নিরাপত্তাকর্মীকে দুদকের লোক ভেবে ঈদ শপিংয়ে দামি গহনা কিনতে গিয়েও এক সাধারণ চাকরিজীবী ভড়কে যাওয়া, একটি নাট্যাংশে সাক্ষাৎকারে চাকরিপ্রত্যাশীর গানে গানে উত্তরের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে বাস্তবতার চিত্র, যা ছিল বেশ রসাত্মক। আবার আরেকটি নাট্যাংশে দেখানো হলো, বড়লোক পাত্রের খোঁজে মোবাইল ফোন কোম্পানির ‘বর অনুসন্ধান কেন্দ্রে’ ফোন দিয়ে পাত্রপ্রত্যাশী কনে পক্ষের বেহালদশার বিষয়টি। হাল আমলে যুক্ত হয়েছে নতুন অসুস্থতা-ইন্টারনেট আসক্তি। বাসাভর্তি লোকজন থাকলেও সুনসান নীরবতা, কেউ কারও সঙ্গে কথা বলে না, একটানা আপন মনে ব্রাউজিং করেই চলেছে; এমন একটি ভয়ংকর দিকের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হলো একটি নাট্যাংশে। বিশেষ এক বার্তা দেওয়া হলো এর পর, ‘বিভিন্ন ভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য টিভিতে যেমন সতর্কতামূলক বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, তেমনি ইন্টারনেটের ব্যবহার ও অপব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধাও তুলে ধরে টিভিতে বিজ্ঞাপন দেওয়া দরকার।’ এ কথাটি যথেষ্ট আলোচনার দাবি রাখে।

এখনকার গান মানেই যেন ‘ফান’। মামা-ভাগ্নে পর্বে তুলে ধরা হলো, গান সাধনার বিষয়, হতে হবে হৃদয়ছোঁয়া। একটি গানেই যে কত শিক্ষণীয় বিষয় তুলে ধরা যায়, তা এবারের ইত্যাদি আবারও নতুন করে প্রমাণ করেছে। সিয়াম ও পূজার অংশগ্রহণে একটি দলীয় সংগীতে কথা ও কাজের মিল না থাকার বিষয়টি বেশ ব্যঙ্গাত্মক ও উপভোগ্য ছিল। চঞ্চল চৌধুরী ও মেহের আফরোজ শাওনের দ্বৈতগানেও ছিল শিক্ষামূলক বার্তা। করোনাকালের বিভিন্ন চিত্র ও টিকার গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি ব্যক্ত করা হয়েছে নিয়ম মেনে চলে করোনাকে হার মানানোর প্রত্যয়। সাবিনা ইয়াসমিনসহ প্রখ্যাত পাঁচ শিল্পীর গাওয়া গানটিও দেশপ্রেমে আপ্লুত করে তোলে দর্শকদের।

এ ছাড়া দর্শকপর্বে অপূর্ব-পূর্ণিমার ভাইরাল বাদাম ও আইসক্রিমের তির্যক সংযোজনে দর্শকদের সঙ্গে কথোপকথনও ছিল বেশ উপভোগ্য। নানি-নাতি, বিদেশিদের অংশগ্রহণে সমাজসচেতনতামূলক পর্ব, গ্রিসের এথেন্সে বাঙালি খাবারের হোটেল নিয়ে করা প্রতিবেদনের পাশাপাশি গানে গানে ঈদ শপিং এবং তিন প্রজন্মের ঈদ কেনাকাটার চিত্র, ঈদের সময়ে বাসস্ট্যান্ড-শপিংমল নিয়ে টিভি রিপোর্টিং, হাসপাতালেও ‘লোক-দেখানো রোগী দেখতে যাওয়া’ একশ্রেণির মানুষকে নিয়ে করা নাট্যাংশটিও ছিল যথেষ্ট উপভোগ্য। সবকিছু মিলিয়ে হানিফ সংকেত দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে একটানা ৩৪ বছর একটা টিভি অনুষ্ঠান সব সময়ই জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকে!

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন