ঈদের সিনেমা নিয়ে চলছে বাহাস
jugantor
ঈদের সিনেমা নিয়ে চলছে বাহাস

  তারা ঝিলমিল প্রতিবেদক  

১৯ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদুল ফিতর বিদায় নিয়েছে এক পক্ষকালেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। কুরবানির ঈদ নিয়ে এরই মধ্যে নতুন কর্মযজ্ঞও শুরু করে দিয়েছেন সবাই। কিন্তু ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি এখনো রোজার ঈদের মধ্যেই আটকে আছে। ঈদের সিনেমা নিয়ে এখনো চলছে বাহাস। এবারের ঈদে চারটি সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলেও মূলত দুই সিনেমা (গলুই ও বিদ্রোহী) নিয়ে শাকিব খান এবং এক সিনেমা (শান) নিয়ে সিয়ামের মধ্যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ভক্তরা। সোশ্যাল মিডিয়ায়, বিশেষ করে ফেসবুকে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বাহাস তো চলছেই, গণমাধ্যমগুলোর মধ্যেও এ দুই নায়ককে নিয়ে বিভাজন লক্ষ করা গেছে। কেউ কেউ লিখছেন ঈদে শাকিবের চেয়ে সিয়ামের সিনেমা বেশি চলছে। আবার কেউ লিখছেন, শাকিবকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন সিয়াম। অন্যদিকে দেখা গেছে, ‘শান’ সিনেমাটির জন্য অন্য তারকারাও প্রচারণা চালাচ্ছেন। ফলাও করে প্রচার করছেন, ঈদে ব্যবসা সফলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন সিয়াম।

আসলে এসব আলোচনা-সমালোচনা বাহাস ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ, বাংলাদেশে সিনেমার ব্যবসায়িক সাফল্য পরিমাপের জন্য কোনো ‘বক্স অফিস’ নেই। কোনো প্রযোজকই সিনেমা মুক্তির পর কাগজে কলমে হিসাব দেখান না যে, তার সিনেমা সত্যিকার অর্থে কত টাকা ব্যবসা করেছে। যদিও ঈদের সিনেমা ‘শান’ এরই মধ্যে ‘সাকসেস পার্টি’ও করে ফেলেছে। অন্যদিকে সরকারি অনুদানের সিনেমা ‘গলুই’য়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, এটি সর্বাধিক বাজেটের সিনেমা। সামগ্রিক হিসাব নিকাশে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, সরকারি অনুদানের বাইরে এ সিনেমায় খুব বেশি অর্থলগ্নি করা হয়নি। আবার এটাও সত্যি, শাকিব খানের আলাদা ভক্ত শ্রেণি রয়েছে। যারা ইচ্ছা করলে নিজেরাই প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে একটি সিনেমাকে ব্যবসায়িক সাফল্য এনে দিতে পারেন। কিন্তু ঈদে শাকিবের দুটি সিনেমা মুক্তি পাওয়াতে ভক্তরাও বিভ্রান্ত ছিলেন, মূলত কোন সিনেমাটিকে তারা সফলতার মালা পরাবেন। সেই বিভ্রান্তি অবশ্য শাকিব খান কাটিয়েও দিয়েছেন। ‘গলুই’কেই তিনি পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। ‘বিদ্রোহী’ তার অভিনীত সিনেমা হলেও এটি নিয়ে তাকে খুব একটা মাতামাতি করতে দেখা যায়নি। তবু দুই সিনেমা মিলিয়ে শাকিব খান এবারও ঈদে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন বলে দাবি করছেন তার ভক্ত ও তাকে সমর্থন দেওয়া গণমাধ্যমগুলো।

অন্যদিকে ‘শান’ সিনেমার নায়ক সিয়ামের সেই অর্থে এখনো বিশাল ভক্তকুল তৈরি হয়নি। তাই তার ভক্তরা কোনো সিনেমাকে হিট বানিয়ে দেবে, এটা ভাবাও ভুল। তাকে কিছু গণমাধ্যম হিট বানাচ্ছে, এটা লক্ষণীয়। ‘হাউজফুল’ শব্দটি তার অভিনীত ঈদের সিনেমার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হলেও, আদপে এটা সত্যি নয়। রাজধানীতে একটি মাল্টিপ্লেক্সে তার সিনেমার শোতে দর্শক উপস্থিতি বিশেষ একটা সুবিধার ছিল না বলেও খবর রয়েছে।

একটি বিষয় স্পষ্ট যে, শাকিব কিংবা সিয়াম-যাকেই হিটের তকমা দেওয়া হোক না কেন, ঈদের সিনেমা এবার সিনেপ্লেক্সগুলোতেই সীমাবদ্ধ ছিল। দেশের অন্য স্থানে সবকটি সিনেমাই মুখ থুবড়ে পড়েছে। শুধু ‘গলুই’ সিনেমার শুটিং জামালপুরে হয়েছিল বলে, সেখানে কয়েকদিন দর্শক সিনেমাটি দেখার জন্য উৎসাহ দেখিয়েছেন। এর বাইরে ঈদের সিনেমা নিয়ে যা কিছু এখনো ঘটছে, সেটা শুধুই আলোচনা তৈরির চেষ্টা। এর বাইরে আর কিছুই নয়। হল মালিকরা যে রেন্টাল দিয়ে সিনেমাগুলো কিনেছেন, বা প্রদর্শনের জন্য চুক্তি করেছেন, সেই অর্থ তুলতেই তৃতীয় কিংবা চতুর্থ সপ্তাহ পর্যন্ত ঈদের সিনেমা প্রদর্শন করছেন। এ ছাড়া তাদের কিছু করারও নেই। কারণ, ঈদের পর এখনো নতুন কোনো সিনেমা মুক্তি পায়নি।

ঈদের সিনেমা নিয়ে চলছে বাহাস

 তারা ঝিলমিল প্রতিবেদক 
১৯ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদুল ফিতর বিদায় নিয়েছে এক পক্ষকালেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। কুরবানির ঈদ নিয়ে এরই মধ্যে নতুন কর্মযজ্ঞও শুরু করে দিয়েছেন সবাই। কিন্তু ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি এখনো রোজার ঈদের মধ্যেই আটকে আছে। ঈদের সিনেমা নিয়ে এখনো চলছে বাহাস। এবারের ঈদে চারটি সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলেও মূলত দুই সিনেমা (গলুই ও বিদ্রোহী) নিয়ে শাকিব খান এবং এক সিনেমা (শান) নিয়ে সিয়ামের মধ্যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ভক্তরা। সোশ্যাল মিডিয়ায়, বিশেষ করে ফেসবুকে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বাহাস তো চলছেই, গণমাধ্যমগুলোর মধ্যেও এ দুই নায়ককে নিয়ে বিভাজন লক্ষ করা গেছে। কেউ কেউ লিখছেন ঈদে শাকিবের চেয়ে সিয়ামের সিনেমা বেশি চলছে। আবার কেউ লিখছেন, শাকিবকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন সিয়াম। অন্যদিকে দেখা গেছে, ‘শান’ সিনেমাটির জন্য অন্য তারকারাও প্রচারণা চালাচ্ছেন। ফলাও করে প্রচার করছেন, ঈদে ব্যবসা সফলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন সিয়াম।

আসলে এসব আলোচনা-সমালোচনা বাহাস ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ, বাংলাদেশে সিনেমার ব্যবসায়িক সাফল্য পরিমাপের জন্য কোনো ‘বক্স অফিস’ নেই। কোনো প্রযোজকই সিনেমা মুক্তির পর কাগজে কলমে হিসাব দেখান না যে, তার সিনেমা সত্যিকার অর্থে কত টাকা ব্যবসা করেছে। যদিও ঈদের সিনেমা ‘শান’ এরই মধ্যে ‘সাকসেস পার্টি’ও করে ফেলেছে। অন্যদিকে সরকারি অনুদানের সিনেমা ‘গলুই’য়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, এটি সর্বাধিক বাজেটের সিনেমা। সামগ্রিক হিসাব নিকাশে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, সরকারি অনুদানের বাইরে এ সিনেমায় খুব বেশি অর্থলগ্নি করা হয়নি। আবার এটাও সত্যি, শাকিব খানের আলাদা ভক্ত শ্রেণি রয়েছে। যারা ইচ্ছা করলে নিজেরাই প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে একটি সিনেমাকে ব্যবসায়িক সাফল্য এনে দিতে পারেন। কিন্তু ঈদে শাকিবের দুটি সিনেমা মুক্তি পাওয়াতে ভক্তরাও বিভ্রান্ত ছিলেন, মূলত কোন সিনেমাটিকে তারা সফলতার মালা পরাবেন। সেই বিভ্রান্তি অবশ্য শাকিব খান কাটিয়েও দিয়েছেন। ‘গলুই’কেই তিনি পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। ‘বিদ্রোহী’ তার অভিনীত সিনেমা হলেও এটি নিয়ে তাকে খুব একটা মাতামাতি করতে দেখা যায়নি। তবু দুই সিনেমা মিলিয়ে শাকিব খান এবারও ঈদে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন বলে দাবি করছেন তার ভক্ত ও তাকে সমর্থন দেওয়া গণমাধ্যমগুলো।

অন্যদিকে ‘শান’ সিনেমার নায়ক সিয়ামের সেই অর্থে এখনো বিশাল ভক্তকুল তৈরি হয়নি। তাই তার ভক্তরা কোনো সিনেমাকে হিট বানিয়ে দেবে, এটা ভাবাও ভুল। তাকে কিছু গণমাধ্যম হিট বানাচ্ছে, এটা লক্ষণীয়। ‘হাউজফুল’ শব্দটি তার অভিনীত ঈদের সিনেমার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হলেও, আদপে এটা সত্যি নয়। রাজধানীতে একটি মাল্টিপ্লেক্সে তার সিনেমার শোতে দর্শক উপস্থিতি বিশেষ একটা সুবিধার ছিল না বলেও খবর রয়েছে।

একটি বিষয় স্পষ্ট যে, শাকিব কিংবা সিয়াম-যাকেই হিটের তকমা দেওয়া হোক না কেন, ঈদের সিনেমা এবার সিনেপ্লেক্সগুলোতেই সীমাবদ্ধ ছিল। দেশের অন্য স্থানে সবকটি সিনেমাই মুখ থুবড়ে পড়েছে। শুধু ‘গলুই’ সিনেমার শুটিং জামালপুরে হয়েছিল বলে, সেখানে কয়েকদিন দর্শক সিনেমাটি দেখার জন্য উৎসাহ দেখিয়েছেন। এর বাইরে ঈদের সিনেমা নিয়ে যা কিছু এখনো ঘটছে, সেটা শুধুই আলোচনা তৈরির চেষ্টা। এর বাইরে আর কিছুই নয়। হল মালিকরা যে রেন্টাল দিয়ে সিনেমাগুলো কিনেছেন, বা প্রদর্শনের জন্য চুক্তি করেছেন, সেই অর্থ তুলতেই তৃতীয় কিংবা চতুর্থ সপ্তাহ পর্যন্ত ঈদের সিনেমা প্রদর্শন করছেন। এ ছাড়া তাদের কিছু করারও নেই। কারণ, ঈদের পর এখনো নতুন কোনো সিনেমা মুক্তি পায়নি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন