ইত্যাদিতে জাতীয় কবি নজরুলের অনবদ্য উপস্থাপনা
jugantor
রিভিউ
ইত্যাদিতে জাতীয় কবি নজরুলের অনবদ্য উপস্থাপনা

  তারা ঝিলমিল প্রতিবেদক  

০৪ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে অনুষ্ঠিত হলো এবারের ইত্যাদি। দর্শকরা, বিশেষ করে এ প্রজন্মের অনেকেই জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে জানতে পেরেছেন নজরুলের অনেক অজানা তথ্য।

জেনেছেন নজরুলের ছেলেবেলার সেই দরিরামপুর স্কুলের কথা। আসানসোল থেকে কাজীর শিমলা গ্রাম, সেখান থেকে বিচুতিয়া বেপারী বাড়ি, এরপর দরিরামপুর স্কুল-নজরুলের এ ত্রিশাল অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে অনুষ্ঠানটির এবারের পর্বে। নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’র শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ‘অগ্নিবীণা’ ও তার মৃত্যুবার্ষিকীকে সামনে রেখে অনুষ্ঠানটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ফাগুন অডিও ভিশন।

অনুষ্ঠানটির আয়োজনও ছিল বড় আকারে। ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুল মাঠে অসংখ্য দর্শকের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। অর্ধশতাধিক নৃত্যশিল্পীর অনবদ্য নৃত্যের ঝংকারে দর্শকদের আনন্দ উচ্ছ্বাসে মুহুর্মুহু করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে দরিরামপুর স্কুল মাঠ। শিল্পী বাপ্পা মজুমদার ও প্রিয়াংকা গোপের কণ্ঠে ‘দূর দ্বীপবাসিনী’ গানটি দারুণ হয়েছে। সেবাকর্মী আবদুল মালেকের প্রতিবেদনটি মানুষকে সেবা করার উৎসাহ জোগাবে।

এ ধরনের সেবা প্রতিষ্ঠান অনেকেরই আছে কিন্তু আবদুল মালেক যেভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের মার খেয়েও তাদের পরম যত্নে সেবা করছেন, গোসল করিয়ে দিচ্ছেন, ক্ষত পরিষ্কার করছেন-যা সচরাচর দেখা যায় না। তেমনি উচ্চশিক্ষিত হয়েও কৃষিকাজ করা, নিজের খামারে উৎপাদিত পণ্য নিজেই বাজারে গিয়ে বিক্রি করার বিষয়টি অনেককেই মুগ্ধ করেছে। শুধু চাকরির মোহে না ঘুরে, চেয়ার-টেবিলে বসে কাজ করার ইচ্ছে ত্যাগ করে যুব সমাজকে তিনি কৃষিকাজে এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করছেন। তাতে নিজের মঙ্গলের পাশাপাশি দেশেরও মঙ্গল হবে। ধান-চাল নিয়ে প্রতিবেদনটি ছিল তথ্য সমৃদ্ধ ও শিক্ষণীয়।

চালের নানা জাত এবং এসব জাতের উদ্ভাবক ও বিজ্ঞানীদের নাম উল্লেখ না করে চালের ব্র্যান্ডিং করা যেমন প্রতারণা তেমনি অপরাধও। প্রতিবেদনটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। দর্শক পর্বে বিরল দেশীয় বাদ্যযন্ত্র সংগ্রাহক রেজাউল করিম আসলাম ও তার বাদ্যযন্ত্র দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। এসব বাদ্যযন্ত্র ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের এসব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শিকড়কে সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

এবারের ইত্যাদির প্রতিটি নাট্যাংশই ছিল সমাজ সচেতনতামূলক ও সময়োপযোগী। ঢাকার রাস্তায় বাস, অ্যাপার্টমেন্টের মালিক সংস্থার সভা, সকালের মেডিটেশন, মামা-ভাগ্নের ফুড ব্লগিং, নেটের নেশা কাটাতে নেটবিহীন জায়গায় গমন, নানি-নাতি সবই ছিল উপভোগ্য। গ্রিসের বিশ্বখ্যাত অ্যাক্রোপলিস ও অ্যাক্রোপলিস মিউজিয়ামের ওপর করা প্রতিবেদনটি ছিল অনবদ্য। সবকিছু মিলিয়ে এবারের ইত্যাদিও বরাবরের মতোই অসাধারণ।

রিভিউ

ইত্যাদিতে জাতীয় কবি নজরুলের অনবদ্য উপস্থাপনা

 তারা ঝিলমিল প্রতিবেদক 
০৪ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে অনুষ্ঠিত হলো এবারের ইত্যাদি। দর্শকরা, বিশেষ করে এ প্রজন্মের অনেকেই জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে জানতে পেরেছেন নজরুলের অনেক অজানা তথ্য।

জেনেছেন নজরুলের ছেলেবেলার সেই দরিরামপুর স্কুলের কথা। আসানসোল থেকে কাজীর শিমলা গ্রাম, সেখান থেকে বিচুতিয়া বেপারী বাড়ি, এরপর দরিরামপুর স্কুল-নজরুলের এ ত্রিশাল অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে অনুষ্ঠানটির এবারের পর্বে। নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’র শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ‘অগ্নিবীণা’ ও তার মৃত্যুবার্ষিকীকে সামনে রেখে অনুষ্ঠানটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ফাগুন অডিও ভিশন।

অনুষ্ঠানটির আয়োজনও ছিল বড় আকারে। ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুল মাঠে অসংখ্য দর্শকের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। অর্ধশতাধিক নৃত্যশিল্পীর অনবদ্য নৃত্যের ঝংকারে দর্শকদের আনন্দ উচ্ছ্বাসে মুহুর্মুহু করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে দরিরামপুর স্কুল মাঠ। শিল্পী বাপ্পা মজুমদার ও প্রিয়াংকা গোপের কণ্ঠে ‘দূর দ্বীপবাসিনী’ গানটি দারুণ হয়েছে। সেবাকর্মী আবদুল মালেকের প্রতিবেদনটি মানুষকে সেবা করার উৎসাহ জোগাবে।

এ ধরনের সেবা প্রতিষ্ঠান অনেকেরই আছে কিন্তু আবদুল মালেক যেভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের মার খেয়েও তাদের পরম যত্নে সেবা করছেন, গোসল করিয়ে দিচ্ছেন, ক্ষত পরিষ্কার করছেন-যা সচরাচর দেখা যায় না। তেমনি উচ্চশিক্ষিত হয়েও কৃষিকাজ করা, নিজের খামারে উৎপাদিত পণ্য নিজেই বাজারে গিয়ে বিক্রি করার বিষয়টি অনেককেই মুগ্ধ করেছে। শুধু চাকরির মোহে না ঘুরে, চেয়ার-টেবিলে বসে কাজ করার ইচ্ছে ত্যাগ করে যুব সমাজকে তিনি কৃষিকাজে এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করছেন। তাতে নিজের মঙ্গলের পাশাপাশি দেশেরও মঙ্গল হবে। ধান-চাল নিয়ে প্রতিবেদনটি ছিল তথ্য সমৃদ্ধ ও শিক্ষণীয়।

চালের নানা জাত এবং এসব জাতের উদ্ভাবক ও বিজ্ঞানীদের নাম উল্লেখ না করে চালের ব্র্যান্ডিং করা যেমন প্রতারণা তেমনি অপরাধও। প্রতিবেদনটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। দর্শক পর্বে বিরল দেশীয় বাদ্যযন্ত্র সংগ্রাহক রেজাউল করিম আসলাম ও তার বাদ্যযন্ত্র দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। এসব বাদ্যযন্ত্র ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের এসব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শিকড়কে সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

এবারের ইত্যাদির প্রতিটি নাট্যাংশই ছিল সমাজ সচেতনতামূলক ও সময়োপযোগী। ঢাকার রাস্তায় বাস, অ্যাপার্টমেন্টের মালিক সংস্থার সভা, সকালের মেডিটেশন, মামা-ভাগ্নের ফুড ব্লগিং, নেটের নেশা কাটাতে নেটবিহীন জায়গায় গমন, নানি-নাতি সবই ছিল উপভোগ্য। গ্রিসের বিশ্বখ্যাত অ্যাক্রোপলিস ও অ্যাক্রোপলিস মিউজিয়ামের ওপর করা প্রতিবেদনটি ছিল অনবদ্য। সবকিছু মিলিয়ে এবারের ইত্যাদিও বরাবরের মতোই অসাধারণ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন