দর্শক হারাচ্ছে টিভিতে প্রচারিত নাটক
jugantor
দর্শক হারাচ্ছে টিভিতে প্রচারিত নাটক

  তারা ঝিলমিল প্রতিবেদক  

১৮ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এক সময় দেশি দর্শকের ঘরোয়া বিনোদন মাধ্যম ছিল শুধু টিভি নাটক। একটি মাত্র চ্যানেলের (বিটিভি) মাধ্যমে তখন বিনোদনের চাহিদা পূরণ করা হতো। দীর্ঘ সময় এ টিভি চ্যানেলটি নিজস্ব প্রযোজনার বাইরে প্যাকেজের আওতায় নাটক প্রচার করেছে। তবে সেটা ছিল সংখ্যায় কম। একুশ শতকের শুরুতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার শুরু হলে নাটক নির্মাণের সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে দর্শক সংখ্যাও বাড়তে থাকে। আগে সাপ্তাহিক নাটক প্রচার হলেও পরে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো প্রতিদিন নাটক প্রচার করতে শুরু করে। নিত্যনতুন গল্প, নির্মাণে বৈচিত্র্য এবং দক্ষ অভিনয়শিল্পীদের সমন্বয়ে নাটকগুলো নির্মিত হয়। এর মাধ্যমে অল্প সময়ে টিভি নাটকের প্রসার লাভ করতে থাকে। ফলে নাটকের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব মাধ্যমই উপকৃত হতে থাকে। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই অভিনয়শিল্পীর পেশায় নাম লেখান। এতে করে নতুন পুরোনোর সমন্বয়ে চমৎকার এক মেলবন্ধনের মাধ্যমে টিভি নাটক একটি শক্তিশালী শিল্পমাধ্যম হিসাবে বিবেচিত হতে থাকে।

তবে সাম্প্রতিক টিভি নাটক পুরোনো সেই গৌরব হারাতে বসেছে। এর জন্য প্রায় সব পক্ষই দায়ী। গল্পের দুর্বলতা, আনকোরা অভিনয়শিল্পী নিয়ে কাজ করা এবং লাগামহীন বিজ্ঞাপন প্রচারের কারণে দর্শক টিভিতে প্রচারিত নাটক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এসব দর্শক বিকল্প বিনোদনের মাধ্যম হিসাবে অনলাইনে ঝুঁকেছেন। কারণ সুবিধাজনক সময়ে অনলাইন থেকে নাটক দেখে নিতে পারছেন তারা। এ সুবিধা কাজে লাগিয়ে একঝাঁক তরুণ নির্মাতার সঙ্গে কিছু নামি নির্মাতাও অনলাইনের দিকে ঝুঁকেছেন। এতে করে টিভিতে প্রচারিত নাটক হয়ে পড়ছে প্রায় দর্শকহীন। দর্শক খরায় বাধ্য হয়ে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও ইউটিউবে স্বনামে চ্যানেল খুলে টিভিতে প্রচারিত নাটকগুলো ওখানেই আপলোড করছেন দর্শকের আশায়।

এদিকে শুধু উৎসবকেন্দ্রিক কিছুটা বৈচিত্র্য কিংবা দর্শকের পছন্দের কথা মাথায় রেখে নাটক প্রচারের চেষ্টা করে টিভি চ্যানেলগুলো। এ থেকে উত্তরণের জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না টিভি চ্যানেল কিংবা নির্মাতাদের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে কথিত আছে, টিভি নাটকের নিয়ন্ত্রণ এখন কিছু এজেন্সির হাতে। তারাই গল্প এবং অভিনয়শিল্পী ঠিক করে দিচ্ছেন। এতে করে মানের বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। অনেকেই বলেন, বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্যই এখন নাটক প্রচার করা হয়। এ নিয়ে দর্শক থেকে শুরু করে প্রখ্যাত অভিনয়শিল্পীরাও বিব্রত। প্রথম সারির অভিনয়শিল্পীরাও টিভি নাটক নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

টিভিতে প্রচারিত নাটক দর্শক হারিয়ে ফেলার প্রসঙ্গে জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান বলেন, ‘এ মাধ্যমে কাজ করা লোকদের আসলে আন্তরিকতা নেই। টিভি চ্যানেলগুলোর কর্তৃপক্ষ যদি দর্শকের প্রতি দায়বদ্ধতা না দেখিয়ে বিরতিহীন বিজ্ঞাপন প্রচার করতে থাকে এবং অভিনয়শিল্পীদেরও যদি কাজের প্রতি দরদ না থাকে তাহলে এমন তো হবেই। পাশাপাশি নির্মাতাদেরও যদি দায়বদ্ধতা না থাকে, তাহলে অবস্থা আরও খারাপ হবে। আমার মনে হয় টিভি নাটকের ক্ষেত্রে বেশি অবহেলা করা হচ্ছে।’

নাট্যাভিনেত্রী সুমাইয়া শিমু এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অনলাইনে নাটক প্রচারের কারণে কিছু দর্শক টিভি থেকে সরে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে ইদানীং দেখা যাচ্ছে, তরুণ দর্শকের সঙ্গে এখন বয়স্ক দর্শকও কিন্তু অনলাইনে ঝুঁকছেন। এর কারণ টিভি নাটকের প্রতি দর্শক বিরক্ত। এ সমস্যা থেকে বের হতে হলে টিভিতে নাটক প্রচারকালীন বিজ্ঞাপন প্রচার সীমিত করতে হবে। কাজের মান যদি আমরা ঠিকমতো বজায় রাখতে পারি, গল্প যদি সুন্দর হয়, তাহলে টিভি নাটকের দর্শক ধরে রাখা কিংবা দর্শক বৃদ্ধি করা সম্ভব।’

দর্শক হারাচ্ছে টিভিতে প্রচারিত নাটক

 তারা ঝিলমিল প্রতিবেদক 
১৮ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এক সময় দেশি দর্শকের ঘরোয়া বিনোদন মাধ্যম ছিল শুধু টিভি নাটক। একটি মাত্র চ্যানেলের (বিটিভি) মাধ্যমে তখন বিনোদনের চাহিদা পূরণ করা হতো। দীর্ঘ সময় এ টিভি চ্যানেলটি নিজস্ব প্রযোজনার বাইরে প্যাকেজের আওতায় নাটক প্রচার করেছে। তবে সেটা ছিল সংখ্যায় কম। একুশ শতকের শুরুতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার শুরু হলে নাটক নির্মাণের সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে দর্শক সংখ্যাও বাড়তে থাকে। আগে সাপ্তাহিক নাটক প্রচার হলেও পরে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো প্রতিদিন নাটক প্রচার করতে শুরু করে। নিত্যনতুন গল্প, নির্মাণে বৈচিত্র্য এবং দক্ষ অভিনয়শিল্পীদের সমন্বয়ে নাটকগুলো নির্মিত হয়। এর মাধ্যমে অল্প সময়ে টিভি নাটকের প্রসার লাভ করতে থাকে। ফলে নাটকের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব মাধ্যমই উপকৃত হতে থাকে। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই অভিনয়শিল্পীর পেশায় নাম লেখান। এতে করে নতুন পুরোনোর সমন্বয়ে চমৎকার এক মেলবন্ধনের মাধ্যমে টিভি নাটক একটি শক্তিশালী শিল্পমাধ্যম হিসাবে বিবেচিত হতে থাকে।

তবে সাম্প্রতিক টিভি নাটক পুরোনো সেই গৌরব হারাতে বসেছে। এর জন্য প্রায় সব পক্ষই দায়ী। গল্পের দুর্বলতা, আনকোরা অভিনয়শিল্পী নিয়ে কাজ করা এবং লাগামহীন বিজ্ঞাপন প্রচারের কারণে দর্শক টিভিতে প্রচারিত নাটক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এসব দর্শক বিকল্প বিনোদনের মাধ্যম হিসাবে অনলাইনে ঝুঁকেছেন। কারণ সুবিধাজনক সময়ে অনলাইন থেকে নাটক দেখে নিতে পারছেন তারা। এ সুবিধা কাজে লাগিয়ে একঝাঁক তরুণ নির্মাতার সঙ্গে কিছু নামি নির্মাতাও অনলাইনের দিকে ঝুঁকেছেন। এতে করে টিভিতে প্রচারিত নাটক হয়ে পড়ছে প্রায় দর্শকহীন। দর্শক খরায় বাধ্য হয়ে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও ইউটিউবে স্বনামে চ্যানেল খুলে টিভিতে প্রচারিত নাটকগুলো ওখানেই আপলোড করছেন দর্শকের আশায়।

এদিকে শুধু উৎসবকেন্দ্রিক কিছুটা বৈচিত্র্য কিংবা দর্শকের পছন্দের কথা মাথায় রেখে নাটক প্রচারের চেষ্টা করে টিভি চ্যানেলগুলো। এ থেকে উত্তরণের জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না টিভি চ্যানেল কিংবা নির্মাতাদের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে কথিত আছে, টিভি নাটকের নিয়ন্ত্রণ এখন কিছু এজেন্সির হাতে। তারাই গল্প এবং অভিনয়শিল্পী ঠিক করে দিচ্ছেন। এতে করে মানের বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। অনেকেই বলেন, বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্যই এখন নাটক প্রচার করা হয়। এ নিয়ে দর্শক থেকে শুরু করে প্রখ্যাত অভিনয়শিল্পীরাও বিব্রত। প্রথম সারির অভিনয়শিল্পীরাও টিভি নাটক নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

টিভিতে প্রচারিত নাটক দর্শক হারিয়ে ফেলার প্রসঙ্গে জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান বলেন, ‘এ মাধ্যমে কাজ করা লোকদের আসলে আন্তরিকতা নেই। টিভি চ্যানেলগুলোর কর্তৃপক্ষ যদি দর্শকের প্রতি দায়বদ্ধতা না দেখিয়ে বিরতিহীন বিজ্ঞাপন প্রচার করতে থাকে এবং অভিনয়শিল্পীদেরও যদি কাজের প্রতি দরদ না থাকে তাহলে এমন তো হবেই। পাশাপাশি নির্মাতাদেরও যদি দায়বদ্ধতা না থাকে, তাহলে অবস্থা আরও খারাপ হবে। আমার মনে হয় টিভি নাটকের ক্ষেত্রে বেশি অবহেলা করা হচ্ছে।’

নাট্যাভিনেত্রী সুমাইয়া শিমু এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অনলাইনে নাটক প্রচারের কারণে কিছু দর্শক টিভি থেকে সরে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে ইদানীং দেখা যাচ্ছে, তরুণ দর্শকের সঙ্গে এখন বয়স্ক দর্শকও কিন্তু অনলাইনে ঝুঁকছেন। এর কারণ টিভি নাটকের প্রতি দর্শক বিরক্ত। এ সমস্যা থেকে বের হতে হলে টিভিতে নাটক প্রচারকালীন বিজ্ঞাপন প্রচার সীমিত করতে হবে। কাজের মান যদি আমরা ঠিকমতো বজায় রাখতে পারি, গল্প যদি সুন্দর হয়, তাহলে টিভি নাটকের দর্শক ধরে রাখা কিংবা দর্শক বৃদ্ধি করা সম্ভব।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন