একাই তিন চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ
jugantor
সাফল্যের গল্প
একাই তিন চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ

  সেলিম কামাল  

০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এই তো সেদিন ‘কৌন বানেগা ক্রোড়পতি’র সেটে যখন তিনি দৌড়ে প্রবেশ করেন, তখন কে বলবে ৬ ফুট সোয়া ২ ইঞ্চি লম্বা এ লোকটির বয়স ৮০ বছর! হ্যাঁ, এখনো আকর্ষণীয় ফিগারের অমিতাভ বচ্চন প্রমাণ করেছেন বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র। চলতি বছরের ৯ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাওয়া ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ সিনেমার শিব চরিত্রটিও সে কথাই প্রমাণ করে। অথচ ১৯৮২ সালে ‘কুলি’র সেটে ঘটে যাওয়া এক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন এ অমিতাভই। আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন তার চিকিৎসক ও পরিবারের লোকজন।

কিন্তু সে সময় মৃত্যুকে ফাঁকি তিনি ঠিকই দিয়েছিলেন!

কিংবদন্তি এ অভিনেতার জন্ম ১৯৪২ সালের ১১ অক্টোবর, ব্রিটিশ-ভারতের এলাহাবাদে। বলিউডে তার প্রাথমিক অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর ছিল না। এ মাধ্যমে তিনি প্রবেশ করেছিলেন একজন নেপথ্যকর্মী হিসাবে। ভয়েস ন্যারেটরের কাজ করতেন। ১৯৬৯ সালে মৃণাল সেনের ‘ভুবন সোম’ সিনেমার মাধ্যমে শুরু হয় তার অভিনয় ক্যারিয়ার। এর আগে তিনি রেডিও জকি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দিল্লির অল ইন্ডিয়া রেডিও কর্তৃপক্ষ তাকে যোগ্য মনে করেনি। কারণ, তার ভাগ্য তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল অভিনয়ের দিকেই। এখানেও হোঁচট খান অমিতাভ। খুব বেশি লম্বা বলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় অডিশন থেকে।

অভিনয় ক্যারিয়ার শুরুর পর সাফল্যের মুখ দেখতে অমিতাভকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল টানা ১২টি সিনেমা পর্যন্ত! সবই ফ্লপ। এগুলোর মধ্যে ‘বম্বে টু গোয়া’ ছিল মোটামুটি সফল। কিন্তু ‘জাঞ্জির’র পর তিনি শুধু দৌড়ে নয়, দাপিয়ে বেড়িয়েছেন বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। একে একে উপহার দিলেন-অভিমান, সওদাগর, নামাক হারাম, বেনাম, দিওয়ার, শোলে, কাভি কাভি, অমর আকবর অ্যান্থনি, ডন, মোকাদ্দার কা সিকান্দার, মিস্টার নাটওয়ারলাল, নসিব, লাওয়ারিশ, ইয়ারানা, আন্ধা কানুন, কুলি, আখেরি রাস্তা, অগ্নিপথের মতো দুর্দান্ত সব সিনেমা। অন্য যে কোনো অভিনেতার চেয়ে বেশি দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেছেন অমিতাভ। এমনকি তিনি ‘মহান’ সিনেমায় একাই তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন!

এত সাফল্যের পরও ৯০-এর দশকে অমিতাভ বচ্চন নিজেকে প্রায় দেউলিয়া মনে করেন। কারণ, তরুণ প্রজন্মের অভিনেতারা ততদিনে মাঠ দখল করে নিয়েছেন। শাহরুখ খানরা এসে ভেঙে দিয়েছেন অমিতাভ-প্রজন্মের আধিপত্য। বাধ্য হয়ে প্রযোজক ইয়াশ চোপড়ার কাছে কাজ চাইতে হয়েছিল তাকে। এরপরই তিনি অভিনয় করেন আদিত্য চোপড়া পরিচালিত ‘মোহাব্বতে’ সিনেমায়। যেখানে ছিল শাহরুখ-ঐশ্বরিয়ার উপস্থিতিও।

ভালো গানও গাইতে পারতেন অমিতাভ বচ্চন। ২০টির বেশি সিনেমার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। বিবিসি নিউজ পরিচালিত একটি জরিপে, অমিতাভ বচ্চন চার্লি চ্যাপলিন এবং মারলন ব্র্যান্ডোর মতো তারকাদের হারিয়ে ‘অ্যাক্টর অব দ্য মিলেনিয়াম’ খেতাব জিতেছিলেন।

দুই শতাধিক সিনেমার অভিনেতা অমিতাভ জিতেছেন চারটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। দাদাসাহেব ফালকে, ১৬টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও রয়েছে তার ঝুলিতে। পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ পদবিতেও তাকে সম্মানিত করে ভারত সরকার। ১৯৭৩ সালে তিনি বিয়ে করেন অভিনেত্রী জয়া ভাদুড়িকে। এক ছেলে অভিষেক ও এক মেয়ে শ্বেতাকে নিয়েই সংসারে সুখী তিনি। এখন তার ব্যস্ততা কেবলই গেইম শো ‘কৌন বানেগা ক্রোড়পতি’।

সাফল্যের গল্প

একাই তিন চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ

 সেলিম কামাল 
০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এই তো সেদিন ‘কৌন বানেগা ক্রোড়পতি’র সেটে যখন তিনি দৌড়ে প্রবেশ করেন, তখন কে বলবে ৬ ফুট সোয়া ২ ইঞ্চি লম্বা এ লোকটির বয়স ৮০ বছর! হ্যাঁ, এখনো আকর্ষণীয় ফিগারের অমিতাভ বচ্চন প্রমাণ করেছেন বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র। চলতি বছরের ৯ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাওয়া ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ সিনেমার শিব চরিত্রটিও সে কথাই প্রমাণ করে। অথচ ১৯৮২ সালে ‘কুলি’র সেটে ঘটে যাওয়া এক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন এ অমিতাভই। আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন তার চিকিৎসক ও পরিবারের লোকজন।

কিন্তু সে সময় মৃত্যুকে ফাঁকি তিনি ঠিকই দিয়েছিলেন!

কিংবদন্তি এ অভিনেতার জন্ম ১৯৪২ সালের ১১ অক্টোবর, ব্রিটিশ-ভারতের এলাহাবাদে। বলিউডে তার প্রাথমিক অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর ছিল না। এ মাধ্যমে তিনি প্রবেশ করেছিলেন একজন নেপথ্যকর্মী হিসাবে। ভয়েস ন্যারেটরের কাজ করতেন। ১৯৬৯ সালে মৃণাল সেনের ‘ভুবন সোম’ সিনেমার মাধ্যমে শুরু হয় তার অভিনয় ক্যারিয়ার। এর আগে তিনি রেডিও জকি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দিল্লির অল ইন্ডিয়া রেডিও কর্তৃপক্ষ তাকে যোগ্য মনে করেনি। কারণ, তার ভাগ্য তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল অভিনয়ের দিকেই। এখানেও হোঁচট খান অমিতাভ। খুব বেশি লম্বা বলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় অডিশন থেকে।

অভিনয় ক্যারিয়ার শুরুর পর সাফল্যের মুখ দেখতে অমিতাভকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল টানা ১২টি সিনেমা পর্যন্ত! সবই ফ্লপ। এগুলোর মধ্যে ‘বম্বে টু গোয়া’ ছিল মোটামুটি সফল। কিন্তু ‘জাঞ্জির’র পর তিনি শুধু দৌড়ে নয়, দাপিয়ে বেড়িয়েছেন বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। একে একে উপহার দিলেন-অভিমান, সওদাগর, নামাক হারাম, বেনাম, দিওয়ার, শোলে, কাভি কাভি, অমর আকবর অ্যান্থনি, ডন, মোকাদ্দার কা সিকান্দার, মিস্টার নাটওয়ারলাল, নসিব, লাওয়ারিশ, ইয়ারানা, আন্ধা কানুন, কুলি, আখেরি রাস্তা, অগ্নিপথের মতো দুর্দান্ত সব সিনেমা। অন্য যে কোনো অভিনেতার চেয়ে বেশি দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেছেন অমিতাভ। এমনকি তিনি ‘মহান’ সিনেমায় একাই তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন!

এত সাফল্যের পরও ৯০-এর দশকে অমিতাভ বচ্চন নিজেকে প্রায় দেউলিয়া মনে করেন। কারণ, তরুণ প্রজন্মের অভিনেতারা ততদিনে মাঠ দখল করে নিয়েছেন। শাহরুখ খানরা এসে ভেঙে দিয়েছেন অমিতাভ-প্রজন্মের আধিপত্য। বাধ্য হয়ে প্রযোজক ইয়াশ চোপড়ার কাছে কাজ চাইতে হয়েছিল তাকে। এরপরই তিনি অভিনয় করেন আদিত্য চোপড়া পরিচালিত ‘মোহাব্বতে’ সিনেমায়। যেখানে ছিল শাহরুখ-ঐশ্বরিয়ার উপস্থিতিও।

ভালো গানও গাইতে পারতেন অমিতাভ বচ্চন। ২০টির বেশি সিনেমার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। বিবিসি নিউজ পরিচালিত একটি জরিপে, অমিতাভ বচ্চন চার্লি চ্যাপলিন এবং মারলন ব্র্যান্ডোর মতো তারকাদের হারিয়ে ‘অ্যাক্টর অব দ্য মিলেনিয়াম’ খেতাব জিতেছিলেন।

দুই শতাধিক সিনেমার অভিনেতা অমিতাভ জিতেছেন চারটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। দাদাসাহেব ফালকে, ১৬টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও রয়েছে তার ঝুলিতে। পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ পদবিতেও তাকে সম্মানিত করে ভারত সরকার। ১৯৭৩ সালে তিনি বিয়ে করেন অভিনেত্রী জয়া ভাদুড়িকে। এক ছেলে অভিষেক ও এক মেয়ে শ্বেতাকে নিয়েই সংসারে সুখী তিনি। এখন তার ব্যস্ততা কেবলই গেইম শো ‘কৌন বানেগা ক্রোড়পতি’।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন