তারকাদের বিশ্লেষণ

টেলিভিশন নাকি ইউটিউব কোনটি এগিয়ে!

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৫ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

টেলিভিশন নাকি ইউটিউব কোনটি এগিয়ে!

টেলিভিশনে নাটক দেখার জৌলুশ অনেকটাই কমে গেছে। মাত্রাতিরিক্ত বিজ্ঞাপন প্রচারের কারণে বিশাল সংখ্যক দর্শক এখন ইন্টারনেটভিত্তিক মাধ্যম ইউটিউবে ঝুঁকে পড়েছেন।

আবার অনেক নির্মাতা ইউটিউবের জন্যই নাটক নির্মাণ করছেন। প্রযুক্তির এ উৎকর্ষতার নানা বিষয় নিয়ে কয়েকজন অভিনেতা ও নির্মাতার মন্তব্যভিত্তিক প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন সোহেল আহসান

টিভি নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতা মাহফুজ আহমেদ। চলচ্চিত্রেও নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। নির্মাণেও দক্ষ।

নাটকের ক্ষেত্রে টেলিভিশন নাকি ইউটিউব- কোনটি এগিয়ে এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমাদের নাটক প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল, নাটক দেখা দর্শক প্রায় বন্ধই করে দিয়েছিল। ইউটিউব আসাতে ইন্ডাস্ট্রিটা বেঁচে গেছে। এখন ইউটিউবের কল্যাণেই হোক, নাটককে ঘিরে নতুন করে জাগরণ তৈরি হচ্ছে।

যারা ফ্রিল্যান্স মেকার, প্রডিউসার তারা ইউটিউবকে টার্গেট করে নাটক বানাতে পারেন। যদি ভালো নাটক হয়, দর্শক যদি পছন্দ করে জনপ্রিয় হয় তাহলে সেটা বিক্রি করে টিভিতে যা পেত তার থেকে বেশি আয় করা সম্ভব ইউটিউবে।

শুধু ইউটিউব চ্যানেল নয়, নাটক এখন বিশ্ববাজারেও নেয়া সম্ভব ইন্টারনেটের মাধ্যমে। ইউটিউবকে সামনে রেখেই এখন নতুন নাটক, সিনেমা কনটেন্ট তৈরি হবে। এটা বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করবে। বাংলাদেশের নাটককে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেয়ার জন্য ইউটিউব সবচেয়ে ইফেক্টিভ মাধ্যম।’

নাটকের আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা ও নির্মাতা জাহিদ হাসান টেলিভিশন ও ইউটিউবের মধ্যে তুলনা করতে অপারগ।

তিনি বলেন, ‘ইউটিউবে নাটকের ভিউয়ার্স বেশি এটা সত্যি। কিন্তু জনপ্রিয়তা আর ভিউয়ার্স দুটি দুই জিনিস। টেলিভিশন টেলিভিশনই আর ইউটিউব ইউটিউবই। ইউটিউবের সঙ্গে টেলিভিশন কখনই মিলবে না। বিয়ে বাড়িতে দাওয়াত দিয়ে বার্গার খাওয়ালে কিন্তু সেটা ‘খাওয়া’ হবে না। এটা বিকালের নাশতার মতো। পোলাও বিরিয়ানি যাই খাওয়াক না কেন দাওয়াতের লোকদের ভাত খাওয়াতে হবে।

টিভি চ্যানেলের নীতিনির্ধারকদের টাইমিং সেন্সের অভাবের কারণে মানুষ এখন শটকার্ট হয়ে গেছে। টেলিভিশন একটা জায়গায় দেখতে হয়। আর ইউটিউবটা চলে আসছে মোবাইলের সঙ্গে। কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়। এখন হাতে হাতে টেলিভিশনও চলে এসেছে। সুতরাং দুটি মাধ্যম আলাদাভাবেই গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে টিকে থাকবে। যদিও এখন সব কিছুই মোবাইলকেন্দ্রিক হয়ে গেছে।’

নাটকের জনপ্রিয় নির্মাতা মাসুদ সেজান টেলিভিশনের চেয়ে ইউটিউবকেই এগিয়ে রাখছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইউটিউব দেখছে মানুষ, কারণ হাতের কাছেই এটা পায়। মানুষ সব সময় খুব সহজ জিনিস খোঁজেন। টিভির সামনে বসে বিজ্ঞাপন দেখতে হবে, সময় নিয়ে বসতে হবে।

এত টাইম নাই মানুষের। হাতের কাছে মোবাইল। সেটি খুললেই ইউটিউব, আর ইউটিউব খুললেই নাটক। সহজ হিসাব। এখানে আর অন্য কোনো হিসাব নেই। জীবনযাত্রা সহজ হয়ে যাচ্ছে। সব কিছু মানুষ সহজে পেতে চাচ্ছে। এটাই হচ্ছে মূল কারণ।

টেলিভিশনে নানারকম বিড়ম্বনা সহ্য করে মানুষ আর কিছু দেখতে চায় না। শুধু নাটক নয়, ইউটিউবে মানুষ যা পায় সবই দেখে। ইউটিউব সবচেয়ে সহজলভ্য একটি বিনোদন মাধ্যম। যে কারণে সবাই ইউটিউবকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।

টেলিভিশনের গুরুত্বের পাশাপাশি ইউটিউবকে এগিয়ে রাখছেন নাটকের আরেক নির্মাতা সাগর জাহান। তিনি বলেন ‘দর্শক ইউটিউবে নাটক দেখে, এটা একটি পজেটিভ দিক। বিজ্ঞাপনের ভিড়ে, ব্যস্ততা কিংবা সময়ের অভাব যা-ই বলি, আমরা এখন হয়তো এসব কারণে সহজেই ইউটিউবে নাটকগুলো দেখে ফেলি।

ইন্টারনেটের সহজলভ্যতাও একটি কারণ। আর একটা দিক হচ্ছে, আমাদের দেশের প্রায় কোটির বেশি মানুষ প্রবাসী। এই বিশাল সংখ্যক মানুষ কিন্তু ইউটিউবেই নাটক দেখেন। এটার কোনো নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট আমার কাছে নেই। বরং নাটকের জন্য এটা বেশি উপকারী। তারপরও টেলিভিশনে সরাসরি দেখার আবেদন কিন্তু থাকবেই। এর গুরুত্ব কখনই কমে যাবে না।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter