গল্প ও ভালো চরিত্র হলে শাকিবের সঙ্গে অভিনয় করতে আপত্তি নেই

-সাদিকা পারভীন পপি

  যুগান্তর ডেস্ক    ০২ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চিত্রনায়িকা পপি
ঢাবাই ছবির চিত্রনায়িকা পপি

যুগান্তর: আপনার নামের অর্থ জানেন?

পপি: অবশ্যই, জানব না কেন? তবে আমার নামের অর্থ বলতে পপি একটা ফুলের নাম। সেই ফুলের নামানুসারেই আমার নাম রাখা হয়েছে।

যুগান্তর: ১৯৯৭ সালে চলচ্চিত্রে আগমন আপনার? চলচ্চিত্রে এসেছিলেন কী মনে করে?

পপি: আসলে সালমান শাহ আমার প্রিয় নায়ক ছিলেন। তার নায়িকা হতেই চলচ্চিত্রে আসি। এর বাইরে আগে পিছে এত কিছু ভাবিনি।

যুগান্তর: আপনার ক্যারিয়ারের কোন কাজটি আপনার টার্নিং পয়েন্ট ছিল?

পপি: আমি অনেক সৌভাগ্যবান যে অনেক ভালো ভালো কাজ করতে পেরেছি। তবে ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া কাজের কথা বললে ‘কুলি’ ও ‘বিদ্রোহী পদ্মা’ নামই আগে চলে আসে।

যুগান্তর: অভিনয় ছাড়া আর কী ভালো করতে পারেন?

পপি: অনেক কিছুই তো পারি। আমি ভালো ইন্টেরিয়র ডিজাইন করতে পারি। অনেকেই হয়তো বিষয়টি জানেন না। এ ছাড়া মজার মজার রান্নাও করতে পারি।

যুগান্তর: আপনি এখনও অনেক গ্ল্যামারার্স। অথচ আপনার সমসাময়িক অনেকেই উধাও। এই গ্ল্যামার ধরে রাখার রহস্য কী?

পপি: দেখা হলে এখন অনেকেই এমন প্রশ্ন করেন। এটা কিন্তু খুব আহামরি কোনো বিষয় নয়। আমি মনে করি মানুষ ইচ্ছা করলে অনেক অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারেন। চেষ্টার ঊর্ধ্বে কিন্তু কোনো কিছুই নয়। তাই হয়তো নিজের ইমেজকে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। আর আমি বিশ্বাস করি প্রতিটি নায়িকারই তার ফিটনেস ধরে রাখাটা জরুরি। ফিটনেস ধরে রাখতে কোনো রহস্য নেই। শুধু নিয়মের মধ্যে থাকলেই সম্ভব। আমি যদি নিজেরই যত্ন নিতে না পারি তাহলে দর্শকদের কীভাবে একটি ভালো চলচ্চিত্র উপহার দেব?

যুগান্তর: সাম্প্রতিক ব্যস্ততার খবর কী?

পপি: কিছুদিন আগে আমার বাবা বেশ অসুস্থ ছিলেন। তাই কোনো কাজ করা হয়নি। বাবা এখন কিছুটা সুস্থ। তাই আবারও কাজে ফিরছি। এখন সাদেক সিদ্দিকী পরিচালিত ‘সাহসী যোদ্ধা’ সিনেমার শুটিং করছি। এ ছাড়া একই মাসে শহীদুল হক খানের ‘টার্ন’ ও ‘যুদ্ধ শিশু’ নামে নতুন দুটি সিনেমার শুটিং শুরু করব শিগগিরই। পাশাপাশি আরিফুর রহমান নির্দেশিত ‘কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্র’ নামের একটি সিনেমাতেও কাজ করছি। এ ছবির মাধ্যমে প্রথমবার শরৎচন্দ্রের পার্বতী চরিত্রে অভিনয় করছি।

যুগান্তর: আপনি তো মাঝে মাঝে নাটকেও কাজ করেছেন। এ মাধ্যমে কি নিয়মিত হবেন?

পপি: সাধারণত উৎসবকেন্দ্রিক নাটকে মাঝে মাঝে অভিনয় করি। তবে একটা বিষয় ক্লিয়ার করা উচিত। সেটা হচ্ছে আমি ছোট পর্দা বা বড় পর্দা বলে কিছুই কখনও বুঝিনি। এখনও বোঝার চেষ্টা করি না। আমি বুঝি অভিনয়। আমি একজন অভিনেত্রী আমার যেখানে অভিনয় করার জায়গা থাকবে আমি সেখানেই অভিনয় করব। আমার মনে হয় সবার এটাই করা উচিত। ভালো কাজের প্রস্তাব এলে অবশ্যই নিয়মিত কাজ করব।

যুগান্তর: যৌথ প্রযোজনার ছবি ও কলকাতার ছবিতে এখন বাংলাদেশের অনেক নায়ক-নায়িকাই অভিনয় করছেন। আপনারও কী করার ইচ্ছা রয়েছে?

পপি: প্রস্তাব আসে বললে হয়তো একটু কমই বলা হবে। অনেক লোভনীয় প্রস্তাবও আসে মাঝেমধ্যেই। যৌথ প্রযোজনা বলেন আর কলকাতার ছবি বলেন যেখানেই অভিনয় করি আমি কিন্তু পপিই থাকব। যদি যৌথ নিয়মনীতিসহ সবকিছু ঠিকঠাক থাকে সেই সঙ্গে অভিনয় করার জায়গা থাকে তাহলে অবশ্যই অভিনয় করব। তবে নিজেকে বা নিজের দেশকে ছোট করে কোনো কাজ আমি করব না।

যুগান্তর: অনেকেই তো বলেন আপনার হাতে কাজ নেই। কথাটি কি সত্যি?

পপি: কথাটি একেবারেই হাস্যকর। হাতে কাজ নেই বিষয়টি ঠিক নয়, বলতে পারেন গতানুগতিক কাজ করছি না। তবে সময় সময় আমার নতুন ছবি মুক্তি পাচ্ছে এবং নতুন নতুন সিনেমার কাজও করে যাচ্ছি। তিনটি ছবিতে কাজ করছি এটা তো বলেছিই।

যুগান্তর: শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয়ের প্রস্তাব এলে করবেন না?

পপি: করব না কেন? শাকিবের সঙ্গে অনেক ছবিতেই তো অভিনয় করেছি। তার ক্যারিয়ারের শুরুর অনেক ছবিতেই আমি নায়িকা ছিলাম। তার সঙ্গে তো আমার কোনো বিরোধ নেই। বরং তার বর্তমান অবস্থানকে আমি এপ্রিশিয়েট করি। সে আমাদের দেশকে আন্তর্জাতিকভাবে রিপ্রেজেন্ট করছে। এটা আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য অনেক বড় পাওয়া। শুধু শাকিব খান নয় চলচ্চিত্রের কোনো শিল্পীর সঙ্গেই আমার বিরোধ নেই। তবে গল্প ও ভালো চরিত্র থাকলে অভিনয় করতে আপত্তি নেই।

যুগান্তর: নায়িকা নাকি গল্পের নায়িকা- কোনটিতে বেশি আপনার গুরুত্ব?

পপি: মূলত একটি ভালো সিনেমার প্রাণ হচ্ছে ভালো গল্প। গল্পহীন ছবির নায়িকা হওয়ার চেয়ে লক্ষগুণ উত্তম গল্পের নায়িকা হয়ে কাজ করা। আর আমি অবশ্যই সেটিতে গুরুত্ব দেই।

যুগান্তর: আপনার স্বপ্নের কোনো চরিত্র আছে কি?

পপি: একজন শিল্পীর কোনো না কোনো স্বপ্নের চরিত্র অবশ্যই থাকবে। আমার বেলায়ও তার ব্যতিক্রম নয়। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে নেতৃস্থানীয় নারীপ্রধান যে কোনো চরিত্রে আমি কাজ করতে চাই এবং সে স্বপ্নের কাজের ক্ষুধা সবসময় আমায় তাড়া করে বেড়ায়।

যুগান্তর: কী ধরনের প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি বিরক্ত হন?

পপি: কবে বিয়ে করছেন। এ প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি বিরক্ত লাগে। এই প্রশ্নই এখন বেশি শুনতে হয়।

যুগান্তর: সত্যিই তো বিয়েটা কবে করছেন?

পপি: বিয়ে তো আর হুট করে করব না। যখন করব তখন তো সবাই জানবেই। বারবার এমন প্রশ্ন করে বিব্রত করার তো কিছু নেই।

তারা ঝিলমিল প্রতিবেদক

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter