সাক্ষাৎকার

স্বল্প বাজেটে কাজ করা অনেক কঠিন

প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

অভিনেতা ও নাট্যকার তৌকীর আহমেদ

অভিনয়, লেখালেখি, নির্মাণ এ শব্দগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছেন তৌকীর আহমেদ।  টেলিভিশনে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। মঞ্চেও অভিনয় এবং নির্দেশনায় দেখিয়েছেন মুনশিয়ানা। চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন বলে দেশের বাইরে থেকে পড়াশোনা করেছেন।

তার নির্মিত চলচ্চিত্র আজ শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসিত। যে ক্ষেত্রেই হাত দিয়েছেন ফলেছে সোনা। সম্প্রতি তিনি এ শিল্প অভিযাত্রার গল্পই শুনিয়েছেন যুগান্তরকে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহেল আহসান

যুগান্তর: আপনার পরিচালিত ছবি ‘হালদা’ তিনটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব প্রদর্শিত হবে। এ নিয়ে আপনার আশাবাদ কী?

তৌকীর: বাংলাদেশের ছবিকে আমরা বিদেশে পরিচিত করতে চাই। আমাদের ছবি যদি বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় যদি প্রদর্শন করতে পারি, তাহলে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে একটি ক্যাম্পেইন হতে পারে। বাংলাদেশের সংস্কৃতির একটি পরিচিতি হতে পারে। সেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উৎসবে যদি আমাদের ছবি যায়, তাহলে তা আমাদের চলচ্চিত্রের জন্যই ভালো হবে।

যুগান্তর: এ ছবিটি নিয়ে সাধারণ দর্শক কিংবা সমালোচকদের কোনো প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন কি?

তৌকীর: আসলে ‘হালদা’ নিয়ে আমরা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াই পেয়েছি। ছবিটি মুক্তির পর দেখেছি, দর্শক এবং সমালোচকরা এর প্রশংসা করেছেন। বিদেশেও যখন এটি প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হচ্ছে তখন তা সুখকর। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মনোনীত হওয়া খুব সহজ নয়। যখন ছবি বিদেশে প্রদর্শিত হয় তখন এটা এক ধরনের স্বীকৃতিই বলা যায়।

যুগান্তর: ছবিটি নির্মাণে কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছিলেন?

তৌকীর: হালদা নদী যে এলাকায়, সেখানে শুটিং করা খুব সহজ ছিল না। অনেক ধরনের রক্ষণশীলতা আছে, অন্য প্রতিবন্ধকতাও ছিল। সেগুলো আমরা অতিক্রম করেই কাজ করেছি। একই সঙ্গে ছিল বাজেট স্বল্পতা। স্বল্প বাজেটে অনেক আয়োজন করা কঠিন হয়ে যায়। যা অতিক্রম করতে কঠিন পরিশ্রম করতে হয়েছে।

যুগান্তর: আপনার মুক্তি প্রতিক্ষীত ‘ফাগুন হাওয়া’ ছবিটি অগ্রগতি কী?

তৌকীর: এরই মধ্যে এ ছবির শুটিংসহ অন্য কাজও শেষ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ বছরের ডিসেম্বরে মুক্তির কথা ভেবেছিলাম। পারিপার্শি^ক বিষয়গুলো যদি ঠিক না থাকে তাহলে আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে ছবিটি মুক্তি দেয়ার ইচ্ছা আছে।

যুগান্তর: আপনার নির্মাণে প্রবাসীদের গল্প প্রাধান্য পায়। এ দুর্বলতা কেন?

তৌকীর: মানুষ তো আসলে দেশান্তরী হয় প্রয়োজনেই। আমার মনে হয় প্রাচীনকাল থেকেই এটা হয়ে আসছে। কিন্তু সেটাকে আবার বাধাগ্রস্ত করা হয়। উন্নত বিশ্ব সব সময়ই একটি সংরক্ষণ নীতি করেন। যেখানে অভিবাসনটা কঠিন করা হয়। মাঝখানে চলে আসে সিন্ডিকেট, দালাল। যারা এটা থেকে লাভবান হয়। কিন্তু ভুক্তভোগী হন সাধারণ মানুষ। বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতায় যে মাইগ্রেশন হচ্ছে, এ ইস্যুগুলো আমাকে ভাবায়। আমার মনে হয় এটার জন্য আমরা ভুক্তভোগী। আমাদের দেশের মানুষরা যখন ইমগ্রেশন বিড়ম্বনায় পড়ে তখন এ বিষয়গুলো আমাকে ভাবিয়েছে। যে কারণে আমি নিউইয়র্কে ‘ইচ্ছামৃত্যু’ নামে একটি মঞ্চ নাটক লিখেছিলাম। যেটি প্রশংসিতও হয়েছে। পরে ‘অজ্ঞাতনামা’, এটিও প্রশংসিত হয়েছে।

যুগান্তর: গুণগতমান নাকি জনপ্রিয়তা-কোনটিকে প্রাধান্য দেয়া উচিত?

তৌকীর: আমার ক্ষেত্রে আমি গুণগতমানকেই প্রাধান্য দিতে চাই। কেননা, জনপ্রিয়তা প্রায়শই সস্তা হয়। ভালো জিনিস জনপ্রিয় হলে আমার কোনো সমস্যা নেই। জনপ্রিয়তার জন্য সস্তা জিনিস করার পক্ষপাতী আমি না। গুণগতমান যদি ঠিক থাকে তাহলে সেই বিষয়টা টিকে থাকবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের মনে থাকবে।

যুগান্তর: অভিনয়ে খুব বেশি দেখা যায় না আপনাকে। নির্মাণের কাজের জন্যই কি এমন হচ্ছে?

তৌকীর: যে ধারার নাটক এখন হচ্ছে, সেখানে কমেডি এবং রোমান্টিক নাটক- এ দুটিই প্রাধান্য পাচ্ছে। সমস্যামূলক কিংবা সমাজ সচেতনতামূলক নাটকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। সেসব কারণেই হয়তো আমাদের কম ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছি। এর নাম ‘বাবা থাকে বাসায়’। এটি শিশুদের জন্য নির্মিত নাটক। আশা করছি দর্শক এ নাটকটি পছন্দ করবেন।

যুগান্তর: মঞ্চেও তৌকীর আহমেদ একজন মেধাবী অভিনেতা ও নির্দেশক। অনেকদিন ধরেই তিনি সেখানে অনুপস্থিত। এর কারণ কী?

তৌকীর: সর্বশেষ ৩ বছর আগে বটতলা ও দেশ নাটকের যৌথ প্রযোজনায় ‘যমুনা’ নাটকে অভিনয় করেছি। অন্য ব্যস্ততার জন্যই মঞ্চে কাজ করতে পারছি না।

যুগান্তর: মঞ্চনাটক নিয়ে সামনে কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

তৌকীর: হ্যাঁ। একটি গল্প নির্মাণের চেষ্টা করছি। এখন শেষ হয়নি গল্পটি। গল্প তৈরি হওয়ার পর পরই দর্শক নাটকটি মঞ্চে দেখতে পারবে।

যুগান্তর: নাট্যকার ও লেখক তৌকীর আহমেদের সাম্প্রতিক ভাবনা কী?

তৌকীর: জাতি হিসেবে যাতে আমরা এগিয়ে যেতে পারি এবং সেই এগিয়ে যাওয়ার লক্ষে আমরা ঠিক মতো কাজ করতে পারছি কিনা। আমরা কী আমাদের শিক্ষা এবং সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে পারছি? নাকি আমরা শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কথা ভাবছি। শুধু অর্থনীতি দিয়ে একটি জাতি এগিয়ে যেতে পারবে না। সুতরাং শিক্ষা এবং সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে- ইদানীং এ জায়গাটাই আমাকে ভাবাচ্ছে।