সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান যেসব তারকা

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান যেসব তারকা
চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী মিশুক মুনীর ও পল ওয়াকার

কয়েকদিন দেশ উত্তাল ছিল সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে। ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ এ দাবিতে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে দাবি আদায় করে আবার ক্যাম্পাসে ফিরে গেছে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিনিয়ত অসংখ্য প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। তালিকায় বাদ নেই শোবিজ তারকারাও। এ যাবৎ বিশ্বের খ্যাতিমান অনেক তারকা অকালে প্রাণ হারিয়েছেন সড়ক দুর্ঘটনায়। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো তারকাদের নিয়ে এ আয়োজন। লিখছেন- হাসান সাইদুল

* গ্রেস কেলি : ১৯২৯ সালে জন্মানো অনন্য সুন্দরী গ্রেস কেলির অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে বহু ভক্ত তার প্রেমে পড়েছিলেন। তিনি অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ১৯৫০ সালে। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। সে সময় নিউইয়র্কের থিয়েটারের পাশাপাশি অভিনয় করেছিলেন বিভিন্ন টিভি সিরিয়ালেও। ‘মোগাম্বো’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি পুরোপুরি তারকার গৌরব অর্জন করেন। একসময় অভিনয় জীবনকে বাদ দিয়ে তিন সন্তানের জননী হিসেবে ভালোই চলছিল এই রাজ বধূর সংসার। কিন্তু ১৯৮২ সালে গাড়ি দুর্ঘটনা কেড়ে নেয় গ্রেস কেলির জীবন।

* জেমস ডিন : একসময়ের জনপ্রিয় তারকা জেমস ডিন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে অকল্পনীয় খ্যাতি আর প্রতিপত্তি তার স্বাভাবিক জীবনযাপনে হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। হঠাৎ করে টাকা-পয়সা হাতে আসায় বিলাসী আচরণ করতে বাধেনি। সে সময় তিনি অর্ডার দিয়ে একটি উচ্চ গতিসম্পন্ন গাড়ি তৈরি করেন। গাড়িটির নাম দেন ‘লিটল বাস্টার্ড’। ওই আমলে গাড়িটির গতিবেগ ছিল প্রতি ঘণ্টায় ৮৫ মাইল। মাত্র ১ সপ্তাহ গাড়ি চালানোর পর ১৯৫৫ সালে ডিন গাড়িটি নিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বসেন। এতেই তার মৃত্যু হয়।

* জেনি ম্যান্সফিল্ড : জেনি ম্যান্সফিল্ড অভিনেত্রী হিসেবে প্রথম সারিতে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেন হলিউড মোশন পিকচারে খোলামেলা চরিত্রে অভিনয়ের দক্ষতা দেখিয়ে। আমেরিকান জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী চলচ্চিত্র, থিয়েটার ও টেলিভিশনে একযোগে কাজ করতেন। সেক্স সিম্বল জেনি ম্যান্সফিল্ড ভক্তদের কাছে পেয়েছেন উচ্চ কদর। কাজের মূল্যায়ন হিসেবে জিতেছেন অসংখ্য পুরস্কার। ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ১৯৬৭ সালে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান এ অভিনেত্রী।

* লিসা লোপস : মাত্র ৩১ বছর বয়সে বিশ্বমানের গায়িকা লিসা লোপাস হারিয়ে যান চিরদিনের মতো। আমেরিকান গ্ল্যামারার্স এ গায়িকা একই সঙ্গে ছিলেন গান লেখিকা ও প্রযোজক। গানে ক্যারিয়ার গড়ে তোলা এ গায়িকা নব্বই দশকের শুরুতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০০২ সালে লা সিব্বা হন্ডুরাস হাইওয়েতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় এ অদম্য প্রতিভাময়ী গায়িকার।

* আদ্রে লিন্ডভাল : আদ্রে ক্যাথরিন লিন্ডভাল। চার বোন ও এক ভাইয়ের মাঝে লিন্ডভাল বেড়ে উঠেছিলেন সাধারণভাবেই। বিশ্বমানের এ মডেল ভালোবাসতেন ছোটদের সঙ্গে প্রাণোচ্ছল খেলায় মেতে থাকতে। বাইক চালানোও ছিল তার খুব পছন্দের কাজ। কিন্তু নিজের ক্যারিয়ারের গাঁথুনি মজবুত করতে সময় পান খুব অল্প। ২০০৬ সালের ২ আগস্ট নিজের বাইকটি নিয়ে বন্ধুর সঙ্গে বের হন। দুর্ঘটনায় পথের মাঝে একটি বড় পাথরের আঘাতে তার মৃত্যু হয়।

* পল ওয়াকার : পল উইলিয়াম ওয়াকার ১৯৭৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন মার্কিন চলচ্চিত্রাভিনেতা। ১৯৯৯ সালে ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র ‘ভার্সিটি ব্লুস’- এ অভিনয়ের জন্য পরিচিত হয়ে ওঠেন। খ্যাতি অর্জন করেন ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ চলচ্চিত্রে ব্রায়ান ও কর্ণার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য। ২০১৩ সালের ৩০ নভেম্বর গাড়ি দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন। আরোহী হিসেবে তিনি যে গাড়িতে অবস্থান করছিলেন হঠাৎ তার ব্রেক ফেল হয়। এমন সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি রাস্তার পাশের লাইট পোস্ট ও গাছের সঙ্গে সজোরে আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে গাড়িতে আগুন ধরে যায়।

* তারেক মাসুদ-মিশুক মুনীর : বাংলাদেশের দু’জন আলোচিত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সিনেমাটোগ্রাফার। ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এ দু’জনসহ পাঁচজন প্রাণ হারান। নতুন চলচ্চিত্র ‘কাগজের ফুল’-এর শুটিং লোকেশন দেখতে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর সহকর্মীদের নিয়ে মানিকগঞ্জে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন।

* আলমগীর কবির : আলমগীর কবির মূলত একটি চলচ্চিত্র আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন। যার ধারা পরে অব্যাহত রেখেছেন তার ছাত্ররা, যেমন- তানভীর মোকাম্মেল, তারেক মাসুদ, মোরশেদুল ইসলাম প্রমুখ। এরা সবাই আলমগীর কবিরের গড়া ‘ঢাকা ফিল্ম ইন্সটিটিউট’ ও ‘বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ’- এর ‘ফিল্ম অ্যাপ্রিসিয়েশন’ কোর্সের ছাত্র ছিলেন। ১৯৮৯ সালে বগুড়ায় একটি চলচ্চিত্রবিষয়ক অনুষ্ঠান শেষে ঢাকা ফেরার পথে নগরবাড়ী ফেরিঘাটে একটি ট্রকের ধাক্কায় গাড়িসহ নদীতে পড়ে মারা যান পরিচালক আলমগীর কবির।

* কালিকা প্রসাদ ভট্টাচার্য : কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য একজন ভারতীয় বাঙালি লোকসঙ্গীত শিল্পী ও লোকসঙ্গীত গবেষক। ১৯৯৯ সালে, তিনি উত্তরবঙ্গ এবং পূর্ববঙ্গের পল্লীগান ও লোকায়ত গানের ঐতিহ্যকে পুনর্জাগরণের উদ্দেশ্যে লোকগানের ব্যান্ড দোহার সহপ্রতিষ্ঠা করেন। আসাম তথা উত্তর-পূর্ব ভারতের চিলেটি গান বিহু বাউল, কামরূপী ভাওয়াইয়া গান তিনি দেশে-বিদেশে গেয়েছিলেন। ২০১৭ সালের ৭ মার্চে পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার গুরাপ গ্রামের কাছে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি।

* পীযূষ গঙ্গোপাধ্যায় : পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতিমান অভিনেতা পীযূষ গঙ্গোপাধ্যায় ২০১৫ সালের ২৪ অক্টোবর মারা যান। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে তার ডান হাত, ডান পা এবং বুকের ডানদিকের পাঁচটি পাঁজর ভেঙে গিয়েছিল। মারাত্মক চোট ছিল মুখের দু’পাশে ও কপালে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় এবং হাড় ভেঙে অস্থিমজ্জা রক্তে মিশে যাওয়ায় রক্তে সংক্রমণ বাড়ছিল। হাসপাতালে চারদিন জীবন-মরণ যুদ্ধে হেরে বিদায় নেন পৃথিবী থেকে।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter