কেমন গান শুনতে চান শ্রোতারা

  তারাঝিলমিল ডেস্ক ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কেমন গান শুনতে চান শ্রোতারা

বদলে গেছে গানের ধারা। এক সময় বিশেষ করে ফিতা, সিডি-ভিসিডির যুগে কেমন গান হতো, আর বর্তমান প্রযুক্তির এ সহজলভ্য দুনিয়ায় কেমন গান হচ্ছে এমন প্রশ্ন অনেকেরই।

গায়ক-সঙ্গীত পরিচালকরা আসলে কোন দিক বিবেচনা করে গান করেন? শ্রোতা-ভক্তরা কেমন গান শুনতে ও দেখতে চান? এটা সত্যিই কি গানের কারিগররা ভাবেন? গানপাগল ভক্তরা আসলে কেমন গান শুনতে চান? এ নিয়ে কথা হয়েছিল দেশের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে। যারা নিয়মিত না হলেও অবসরে গান শুনেন। বিস্তারিত লিখেছেন হাসান সাইদুল

গানের বাজার আগের মতো নেই- এমন অভিযোগ গান সংশ্লিষ্টদের। অন্যদিকে শ্রোতাদের অভিযোগ, গানের মান আগের মতো নেই। কথা, সুর কিংবা সঙ্গীতে কোনো নতুনত্ব নেই, মিল নেই কিংবা শ্রুতি মাধুর্যতা নেই। যেমনটি আগে ছিল। অন্যদিকে বদলে যাচ্ছে গানের ধারা। এই বদলে যাওয়া ধারার সঙ্গে শ্রোতারা কীভাবে তাল মিলিয়ে চলছেন?

কিংবা কতটা জনপ্রিয় হচ্ছে সেসব গান? বিষয়টি নিয়ে কথা হয় রাজধানীর শাহজাদপুরের একটি শপিং মলের কয়েকজন কসমেটিক ও কাপড়ের দোকান মালিকের সঙ্গে। তাদের প্রায় সবারই প্রিয় আসিফ আকবরের গান।

এ প্রসঙ্গে এক দোকান মালিক এরশাদ বলেন, ‘আমাদের এ মার্কেট বছরে তিনবার জমজমাট হয়। দুই ঈদ ও পহেলা বৈশাখ। মার্কেটে তখন প্রতিদিনই স্পিকারে গান বাজে। ওই সময় মিক্সড কিছু গান বাজানো হলেও এ মার্কেটে আসিফ আকবর ও জেমসের গান প্রায়ই বাজে।

গুলশান এলাকায় রিকশা চালান রফিকুল ইসলাম। ক্লান্তি ভর করলে কোনো গাছের ছায়ায় রিকশার হুড তুলে কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনেন তিনি। এছাড়া আর কখন গান শুনেন তিনি জানতে চাইলে রফিকুল বলেন, ‘আছে তো ভাই একটা ভাঙাচুরা মোবাইল। যাত্রী না পাইলে সিগারেট খাই আর গান শুনি।’ কার গান শুনেন জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি বেশি শুনি বারী সিদ্দিকী ও মনির খানের গান। আমার ছেলে দুজন আসিফের ভক্ত। তাই গ্রামের বাড়ি গেলে আমিও আসিফের গান শুনি। আমরা বাপ-ছেলেরা শুধু শুনিই না- বারী সিদ্দিকী, মনির খান ও আসিফের গান গাইও।’

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ২-এ অবস্থিত পিংক সিটি শপিং মলে দেখা যায় ভিন্ন রূপ। সেখানে বেশিরভাগ সময় কোনো গানই বাজে না। শুধু আবহসঙ্গীতই শোনা যায়।

এ মার্কেটের কাপড় বিক্রেতা আমির হোসেন বলেন, ‘আমি আইয়ুব বাচ্চুর ভক্ত। সব সময় তার গান শুনি। আমাদের মার্কেটে কোনো গান চলে না, বিভিন্ন রকম মিউজিক (আবহ সঙ্গীত) বাজে।’ গান না চলার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের শপিং মলে যেসব ক্রেতা আসেন, তারা গান-বাজনায় বিরক্ত হয়। তাছাড়া গান-বাজনা করে গ্রাহক ডাকার মতো ক্রেতার প্রয়োজন হয় না আমাদের।’

রাজধানীর মহাখালী বাসস্ট্যান্ড। এখানে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অনেক জেলার মানুষের আসা-যাওয়ার পদভারে মুখরিত। যাত্রীদের জন্য অপেক্ষার ফাঁকে এখানে বসে চালক ও সহকারীরা আড্ডা দেন।

কয়েকজন চালক ও সহকারীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি কী গান শুনেন? শুনলে কখন শুনেন বা কার গান শুনেন? সাত্তার নামে একজন চালক বলেন, ‘এখন তেমন একটা গান শুনা হয় না।’ কারণ জানতে চাইলে ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘এখন তো গান হয় না। বাজনা হয়। গান তো ছিল আগে। যে গান শুনে কখনও হাসতাম, কখনও কাঁদতাম।’ প্রিয় শিল্পী কারা এ প্রসঙ্গে আরেক চালক হুসেন বলেন, ‘মনি কিশোর, খালিদ হাসান মিলু, কুমার বিশ্বজিতের গান আমি শুনতাম। তারা তো নতুন কোনো গান করছেন না।’

নতুন শিল্পীরা তো নতুন নতুন গান করছে। ওগুলো শুনেন না কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগের শিল্পীরা যে গান করে গেছেন সেই গানের মতো গান এখন হয় না। তাই এখনকার শিল্পীদের গানও শুনি না।’

রাজধানীর বারিধারা নতুন বাজার চার রাস্তার মোড়ে ফুটওভার ব্রিজের নিচে চা বিক্রি করেন জমির। দুপুর বেলা চা বানাচ্ছেন। তার মোবাইলে বাজছিল মনির খানের গান, ‘তোমার কোনো দোষ নেই, আমারই তো দোষ, আমারই তো ভুল’।

জমিরের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘চায়ের এ টং দোকানটাই আমার ভরসা। আর চা-বিস্কুট বিক্রি ছাড়া এই মোবাইল আমার ভরসা। মনির খানের গান বেশি ভালো লাগে। আসিফ আকবরের গানও শুনি। তার গান আমার বউ খুব পছন্দ করে।’

হাতিরঝিলে বান্ধবীকে নিয়ে ঘুরতে আসা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া রিফাতের কাছে জানতে চাওয়া হয় কার গান ভালো লাগে? রিফাত বলেন, ‘হাবিব ওয়াহিদ আমার প্রিয় শিল্পী।

মিনার, তপু, তাহসানের গানও মাঝে মাঝে শুনি। কিন্তু হাবিবই আমার সবচেয়ে প্রিয় শিল্পী।’ রিফাতের বান্ধবী ফারজানা আবার রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনতে পছন্দ করেন। রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার গান বেশি শোনেন তিনি। তবে দুজনের অভিযোগ, বর্তমানে মানুষের হৃদয়ে গাঁথার মতো গান হচ্ছে না। ক্ষেভের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখনকার শিল্পীদের মধ্যে অস্থিরতা বেশি, সঙ্গে রয়েছে নকলের প্রভাব। শিল্পীরা নকলবাজ। এটা খুবই দুঃখজনক।’ ফারজানা একজন জনপ্রিয় শিল্পীর একটি গান গেয়ে এ প্রতিবেদককে শোনানোর পর একই সুরে বিদেশি একটি গান দেখালেন ইউটিউব থেকে।

রামপুরার টিভি ভবনের পাশে একটি মার্কেটে টি-শার্ট কিনতে আসেন নর্দান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী জালিস। কার গান বেশি শোনা হয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মাইলসের গান আমার প্রিয়, যদিও নতুন কোনো গান এখন প্রকাশ হচ্ছে না। মাইলসের আগের সব গান আমি শুনি। পাশাপাশি আসিফ, মনির খান, এন্ড্রু কিশোরের গানও শোনা হয়।’

রামপুরা প্রধান সড়কের এক পাশে বাদাম বিক্রেতা মাসুমও গান শুনেন। তার প্রিয় শিল্পী কাজী শুভ। ‘মন পাঁজরে শুধু তুমি আছ, আর তো কেউ থাকে না’- গানটি গেয়েও শোনান। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অনেক গান হয় তবে আগের মতো ভালো গান হয় না।

কাজী শুভ যদিও আমার প্রিয় শিল্পী, তবে আগের গানের মতো তিনিও গাইতে পারেন না।’ তার অভিযোগ, আগের গানের কথাগুলো ছিল সুন্দর এবং মানুষের মনের কথা। বর্তমানে যে গান হয় তাতে রয়েছে নকলের ছাপ। বিদেশি গানের সঙ্গে মিলে যায়। গানের কথার মধ্যে কোনো মানুষের কথা নেই, আছে প্রেম ভালোবাসা আর নোংরা ভিডিও।

ব্যাংকে চাকরি করেন সোহেল। এক সময় ছিলেন ব্যান্ডের গানের ভক্ত। এলআরবি, নগর বাউল কিংবা আর্ক ব্যান্ডের গানের কথাগুলো কবিতার মতো বলে যাচ্ছিলেন তিনি।

হাল আমলের গান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘৯০ দশকের গানগুলোর কথা ছিল হৃদয়ে গেঁথে যাওয়ার মতো। গান শুনে পরে গেয়েছি। এখন যে গান হয় তা শুধু শিল্পীদের তারকা হওয়ার ফন্দি মাত্র। ৫ মিনিটের একটা বাজনার গান, কথা যেমনই হোক ইউটিউবে ছাড়বে অশ্লীল ভিডিও দিয়ে। কিছু দিন পর ভিউ বাড়বে আর তারকা হবে গায়ক। অথচ গানের কথাগুলোতে বিন্দুমাত্র হৃদয়ে গাঁথার মতো কিছুই থাকে না। সে জন্য গান শোনা ছেড়ে দিয়েছি।’

এদিকে আগের গানের ক্যাসেট কিংবা সিডির দোকানগুলোও এখন আর নেই। মালিবাগ মোড়ের ‘সুরের ভুবন’ সিডি-ভিসিডি বিক্রেতা শাহাদাত মিয়া দুই যুগের বেশি সময় ধরে গানের ফিতা-ক্যাসেট, সিডি-ভিসিডি বিক্রি করে আসছিলেন। তার দোকানে সবচেয়ে বেশি সিডি-ভিসিডি ক্রেতারা আসত মনির খান ও আসিফ আকবরের গানের সিডি-ভিসিডি কিনতে।

তিনি বলেন, ‘আইয়ূব বাচ্চ, জেমস, হাসানের গানের সিডিও অনেক বিক্রি হতো। কেউ এখন আর সিডি কিনতে আসে না। গেল কয়েক বছরে তেমন সিডি-ভিসিডি বিক্রি হয়নি। যা দু’একটা হতো তাও ঘুরে ফিরে এক শিল্পী।

মনির খান কিংবা আসিফ আকবর। নতুনদের সিডি খুব একটা চলে না।’ তার মতে, এখন নতুন যারা গান করছে তাদের চেয়ে কলকাতা বাংলা গানই বেশি চলে। আমাদের দেশের শিল্পীরা গানে যত্নবান হওয়ার চেয়ে নিজেরা কিভাবে তারকা হবে সেই চিন্তাই করেন। কিন্তু কলকাতার গানগুলো মানুষের মনে গেঁথে যায়। যুগ যুগ ধরে বেজে ওঠে।

‘সুর বিনিময়’ সিডির দোকানে ১৫ বছর ধরে কাজ করছেন মজনু মিয়া। তার দোকানে কার গানের সিডি বেশি বিক্রি হয় প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ব্যান্ডের গান বেশি চলত হাসান আইয়ূব বাচ্চুর আর জেমসের গানও চলত।

আর সবচেয়ে বেশি গানের সিডি বিক্রি হয়েছিল আসিফ আকবর ও মনির খানের। ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ বের করার পর যতটা গানের অ্যালবাম বের করেছেন সবগুলোই বেশি বিক্রি হয়েছিল। মাঝে আসিফ গান গাওয়া বন্ধ করে দিলে, কাজী শুভ, ইমরানের গানও চলছিল কয়েক বছর।

সুবীর নন্দী, আব্দুল হাদীল গান সব সময় চলত।” বর্তমানে যদি দশটা সিডি ক্যাসেটের ক্রেতা আসে তবে বেশি কার গানের সিডি কিনে? প্রশ্নের জবাবে মজনু বলেন, ১০ জন ক্রেতার মধ্যে ৫ জনই আসিফ কিংবা মনির খানের ক্যাসেট কিনতে আসে। বাকিগুলো অন্য শিল্পীদের।

এসবের মধ্যে শঙ্কার কথা, খুব কম সংখ্যক শ্রোতাই আছেন, যারা নতুন শিল্পীদের গান শুনেন! কিন্তু কেন? সেই উত্তরও তারা দিয়েছেন। অথচ আমাদের শিল্পীরা সেসব শ্রোতাদের কথা না ভেবে, নিজের স্থায়ীত্বের কথা না ভেবে ইউটিউড ভিউ নিয়ে মেতে আছেন।

গান দিয়ে কিন্তু একটি সিনেমাও হিট করা যায়। একমাত্র ভালো গানের জন্যই একটি ছবি হিট হয়। মজিব পরদেশীর জনপ্রিয় ‘আমি বন্দি কারাগারে মা’, গানটি ‘বেদের মেয়ে জ্যোছনা’ ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছিল।

ছবিটি হিট হওয়ার অন্যতম কারণ এ গানটি। ‘বেদের মেয়ে জ্যোছনা আমায় কথা দিয়েছে’ গানটিও বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল তখন। সব মিলিয়ে এটাই বলতে চাই, একটা সিনেমা হিট হতে হলে অবশ্যই সুন্দর কথা ও সুরের গান ব্যবহার করতে হয়।

একমাত্র গানের কারণেই একটি সিনেমা যুগ যুগ ধরে মানুষের মনে গেঁথে থাকে সুতরাং গান করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের এটা মাথায় রাখতে হবে। কারণ পুরনো অনেক সিনেমার গান এখনও মানুষের ঠোঁটে ঠোঁটে। নতুন কোনো সিনেমার গানের কথা মানুষ মনে রাখছে না।

ইলিয়াস কাঞ্চন, চিত্রনায়ক

যে গান দর্শকদের ভালো লাগবে তারা সেই গানই শুনবেন এবং গাইবেন। আসলে আমরা গানের কথা, সুর ও সঙ্গীতের ওপর গুরুত্ব দিতাম। বড় তারকা হব এ চিন্তায় গান করিনি। মনোযোগ দিয়ে গান করেছি বলেই মানুষ এখনও আমাদের গান শোনেন।

শ্রোতারা এখনকার শিল্পীদের গান যে শুনেন না তা কিন্তু নয়। তবে এখন সবাই বাণিজ্যিক চিন্তাটাই বেশি করেন। লাভ ছাড়া কোনো কাজ করতে চান না। আমরা গান করতে গিয়ে কত কষ্ট করেছি, কত সাধনা করেছি তা এখনকার শিল্পীরা বুঝবেন না। তবে ভালো গান করলে অবশ্যই শ্রোতারা শুনবেন। কেন শুনবেন? কারণ গানে তাদের ভালোলাগা আছে! আর সেই গানই শুনবেন যে গানে শ্রোতাদের মনের কথা থাকবে।

কুমার বিশ্বজিৎ, সঙ্গীতশিল্পী

গানে যখন মানুষের কথা থাকে তখন মানুষ গানটা শোনেন এবং একটা সময় নিজে নিজে গেয়ে ওঠেন। আমি সব সময়ই শ্রোতাদের বিষয় মাথায় রেখে গান করেছি। শ্রোতাদের ভালোবাসায় আজও গান করছি। তারা আমার গানকে ভালোবাসেন বলেই আমি গান করি। এজন্য আমি শ্রোতাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। যখন কোনো কনসার্টে অংশগ্রহণ করি তখন বুঝতে পারি তারা আমাকে কত ভালোবাসেন। শ্রোতারাই আমার ভিউয়ার্স।

এখন যারা গান করেন তারাও প্রচণ্ড মেধাবী, ভালো গান করে। তবে রাতারাতি তারকা হওয়ার চিন্তা না করে যেন তারা গান করেন। এখন যে গানটা করবে সেটার জন্য ২৫ বছর অপেক্ষা করে যেন তারকা হয়।

তবেই মানুষ তাদের গান শোনবে এবং নিজে নিজে গাইবে। দুঃখজনক হলেও সত্যি, এখনকার অনেক শিল্পীর মধ্যে সেটা নেই। আমি বলব, বাংলা গান, বিশেষ করে বাংলাদেশি গানতে বাঁচিয়ে রাখতে হলে অবশ্যই তাদের এখন থেকেই সতর্ক হতে হবে। নইলে শ্রোতারা যে পুরনোদের গান নিয়েই গবেষণা করেন, শোনার কথা বলেন, সেখানেই তারা আটকে থাকবেন। নতুনদের নিয়ে কোনো চিন্তাই তারা করবেন না।

আইয়ূব বাচ্চু, সঙ্গীতশিল্পী

শ্রোতাদের ভালো লাগার বিষয়টি মাথায় রেখে গান করলে সে গান শ্রোতারা শুনবেই- এটা আমি বিশ্বাস করি। যখন কোনো কনসার্টে যাই তখন দেখি শ্রোতা-ভক্তরা কত ভালোবাসেন আমার গানকে। পছন্দের গান গাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। অনুরোধ এজন্যই করেন যে, গানটিতে তাদের মনের কথা থাকে বলে। একমাত্র শ্রোতাদের ভালো লাগা গানের কথা ও সুরের ওপর।

যারাই গান করুক, গানের কথা, সুর ও সঙ্গীতের বিষয় একটু যত্ন নিলেই শ্রোতারা গান শুনবেনই। তাড়াহুড়া করে কোনো কিছুই ভালো হয় না। অনেকেই তাড়াহুড়া করেন, কিছু ভিউ নিয়ে তারকা হন, অথচ পরে আবার খবর থাকে না।

এমনটি চলতে থাকলে শ্রোতারা বিকল্প কিছু চিন্তা করবেন। ভিনদেশি গানের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছেন। এটা হতে দেয়া যাবে না। এখনকার শিল্পীদের নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য হলেও ভালো গান করতে হবে।

মনির খান, সঙ্গীতশিল্পী

একটা গান অবশ্যই মানুষ শুনবেন, যদি গানটিতে তার মনের কথা থাকে, গানটি তার মন মতো হয়। মানুষ কিন্তু এখনও ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘মায়া লাগাইছে’, ‘আমি ফুল বন্ধু ফুলের ভ্রমরা’ গানগুলো শোনেন। কেন শুনে? কারণ গানে তাদের হৃদয়ের ফ্লেভার মিশানো। একজন শিল্পীর এমন গানই তৈরি করা উচিত। তৈরি করার সঙ্গে সঙ্গে তারকা হওয়ার জন্য গান বানানোর দরকার নেই। একটা গান যেন যুগ যুগ ধরে মানুষ শুনেন এমন গান বানানো উচিত।

হাবিব ওয়াহিদ, সঙ্গীতশিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.