শুটিং স্পট

এক যে ছিল মা : মাতৃত্বের স্বাদবঞ্চিত এক নারীর আকুতি

  শাহনাজ হেনা ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এক যে ছিল মা : মাতৃত্বের স্বাদবঞ্চিত এক নারীর আকুতি
এক যে ছিল মা নাটকের দৃশ্যে মোনালিসা ও সাজ্জাদ

সুদূর আমেরিকা থেকে ঢাকায় এসেছেন জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী মোজেজা আশরাফ মোনালিসা। আবার চলে যাওয়ার তাড়া। এই তাড়ার মধ্যেই কাজ করেছেন অনেকগুলো নাটক ও টেলিফিল্মে।

সেদিন তাকে দেখা গিয়েছিল রাজধানীর উত্তরার একটি শুটিং হাউসে। নিজ থেকেই জানিয়েছিলেন তিনি। এই জানানোর মধ্যেও ছিল তাড়া। যেতেই হবে। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি আমন্ত্রণ রক্ষাটাও ছিল একটা সামাজিকতা।

শুটিং লোকেশনে যেতেই দূর থেকে দেখা গেল মোনালিসা কাঁদছেন। কিছুটা আড়ালে থাকায় বোঝা যাচ্ছিল না তিনি কী সত্যিই কাঁদছেন, নাকি দৃশ্যায়নে শট দিচ্ছেন! কাছে যেতেই বিষয়টি স্পষ্ট হল।

মোনালিসা প্রকৃতপক্ষে ক্যামেরার সামনেই কাঁদছেন। গল্প অনুযায়ী একটি দৃশ্যে তাকে কাঁদতে হবে। পরিচালকের এমন নির্দেশ পাওয়া মাত্র মেকাপ আর্টিস্ট গ্লিসারিন নিয়ে হাজির। কিন্তু মোনালিসার নাকি সেটার প্রয়োজনই হয়নি। দৃশ্য ধারণ শেষে বেশ উৎসাহের সঙ্গে মোনালিসা সে কথাই জানালেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এবার এসে তো অনেক নাটকেই কাজ করেছি। প্রতিটি নাটকেরই গল্প চমৎকার। যেহেতু আমি এখানে নিয়মিত নই। তাই আমার চেষ্টা ছিল ভালো ভালো গল্পের নাটকে কাজ করার। এ কাজটি সত্যিই অনেক ভালো লেগেছে। গল্পটা আমাকে কেন্দ্র করেই। যে কারণে ভীষণ মনোযোগ দিয়ে কাজটি করতে হচ্ছে। আর আমার সহশিল্পী হিসেবে এতে আছেন ইরফান সাজ্জাদ। ও খুব ভালো একজন অভিনেতা। তার সঙ্গে আমি অভিনয় করতে ভীষণ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি।’

গল্পের ফাঁকে এসে যোগ দেন ইরফান সাজ্জাদ। নাটকটি পরিচালনা করছেন সঞ্জয় সমাদ্দার। শুটিংয়ে কিছুটা বিরতি দিলেন তিনি। পাশেই দাঁড়ানো ছিলেন। মোনালিসার মুখের কথা অনেকটা কেড়ে নিয়ে গল্প সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেন। তিনি বলেন, “নাটকটির নাম ‘এক যে ছিল মা’। একজন মায়ের মা না হতে পারার কষ্ট নিয়েই মূলত এ নাটকের গল্প তৈরি হয়েছে। নাটকে সেই মা চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোনালিসা। আর তার স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ। আমি চেষ্টা করছি সবাইকে নিয়ে একটি ভালো প্রোডাকশন দাঁড় করানোর। গল্পের কথা তো মোনালিসার কাছেই শুনেছেন। ও অভিনেত্রী হিসেবে খুবই ভালো। নিয়মিত দেশে থাকলে হয়তো আরও অনেক কিছু করতে পারতেন। অন্যদিকে ইরফান সাজ্জাদও ভালো করছেন। আশা করি নাটকটি দর্শদের পছন্দ হবে।”

এতক্ষণ পাশে বসা ইরফান সাজ্জাদ মনোযোগী শ্রোতার মতো মোনালিসা ও সঞ্জয় সমাদ্দারের কথা শুনছিলেন। এবার তিনিও মুখ খুললেন। বলেন, ‘এটি ভীষণ আবেগী একটি গল্প।

মোনালিসাকে গল্পের ভেতর ঢুকে চরিত্রে মিশে গিয়ে অভিনয় করতে হচ্ছে। যে কারণে প্রতিটি দৃশ্যই ভালো হচ্ছে। সহশিল্পী হিসেবে আমি খুব আশাবাদী কাজটি নিয়ে।’ আড্ডাও বেশ জমে উঠেছে ততক্ষণে। ইরফানের কথার রেশ ধরে মোনালিসা বলেন, ‘আমি অভিনয় ভালো পারি না। তবে চেষ্টা করি ভালো করার। ভালো চরিত্র পেলে তা ফুটিয়ে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা করি। এই নাটকের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছে।’

ছবি তোলা, গল্প করা সব মিলিয়ে শুটিংয়ে অনেকটা সময় ব্যয় করা হয়ে গেছে। যদিও পরিচালকের অনুমতি এবং ইচ্ছায় এতক্ষণ আড্ডায় মেতেছিলেন শিল্পীরা। বিরতি টানতেই হচ্ছে। কারণ দিনের আলো ততক্ষণে ফুরিয়ে আসছিল।

আউটডোরের একটি দৃশ্য ধারণ করতে হবে। সেটারই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন পরিচালক। তার জন্য গেটাপ নিতে মেকাপরুমের দিকে চলে গেলেন মোনালিসা। জানালেন, ‘শিগগিরই ফিরছেন আমেরিকায়। নিজের আরেক কর্মস্থলে। আবারও ফেরার প্রতিশ্রুতি ছিল কথায় এবং কাজে। আসতেই হবে তাকে। ইউনিটের ও লোকেশনের সঙ্গে বেরিয়ে আসতে হল। কারণ তখন পুরো শুটিং হাউস ফাঁকা। ক্রুদের নিয়ে ইউনিট চলে গেছে বাইরে। ফিরবে ১ ঘণ্টা পর।

মোনালিসা আমেরিকা চলে গেছেন। যাওয়ার আগে বলেছেন, এ নাটকটি না দেখলে দর্শকরা অনেক কিছুই মিস করবেন। কারণ মাতৃত্বের জন্য নারীর হাহাকারের দৃশ্যায়ন এ নাটকের মাধ্যমে ভিন্নভাবে দর্শকরা উপভোগ করতে পারবেন। পরিচালক জানিয়েছেন শিগগিরই ‘এক যে ছিলো মা’ নাটকটি একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রচার হবে।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter