ফেসবুকে ফেক আইডি

বিব্রত ও শঙ্কিত তারকারা

বলা হয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক। ব্যস্ত জীবনে পরিচিতজনের সঙ্গে সহজে যোগাযোগের জন্য প্রযুক্তির কল্যাণে তৈরি হওয়া এ অ্যাপসটি ব্যবহার করেন সবাই। নিজেদের দৈনন্দিন কাজ, ভালো কিংবা মন্দ লাগা- অনেক বিষয়ই শেয়ার করেন এ মাধ্যমে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রত্যেক পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই এখন ফেসবুকের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর মধ্যে মিডিয়ার তারকারাও বাদ নেই। বরং ব্যবহারের দিক থেকে তাদের আগ্রহ একটু বেশিই। নিজেদের কাজকর্ম দর্শক-ভক্তদের কাছে তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমের চেয়ে এখন ফেসবুকই তাদের প্রথম পছন্দ। কিন্তু কিছু অসৎ এবং প্রতারকের কারণে এ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমটিই বাংলাদেশে এখন হয়ে উঠেছে অসামাজিক কার্যকলাপের প্লাটফর্ম। বিনোদন জগতের তারকাদের ছবি ও নাম ব্যবহার করে অনেক সময় অদৃশ্য দুষ্টচক্র ছড়াচ্ছে যত অপপ্রচার। ফেসবুকে তারকাদের ফেক অ্যাকাউন্ট, অ্যাকউন্ট হ্যাক ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়েই এ প্রতিবেদন লিখেছেন এফ আই দীপু

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

ঘটনা : ১

বছরের বেশিরভাগ সময়ই বিদেশে থাকেন চিত্রনায়িকা রোজিনা। দেশীয় চলচ্চিত্রে তার উপস্থিতি এখন একেবারেই নেই। তবে মাঝে মধ্যে দেশে এলে এফডিসিতে কিংবা নিজের বাসায় দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের নিয়ে সময় কাটান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও খুব একটা সরব নন তিনি। যদিও একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে, তবুও সেটি তার নিজের নামে নয়। এদিকে দেশে যখনই আসেন তখনই শোনেন, কেউ না কেউ তার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন ফেসবুকে। শুরুতে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও শেষে প্রায় বিব্রত হচ্ছিলেন তিনি। এক সময় শুভাকাক্সক্ষী একজন সার্চ করে দেখতে পান, তার নামে অসংখ্য ফেক আইডি রয়েছে। যেগুলোর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অথচ এসব আইডি থেকে অনেকের কাছে মেসেজও পাঠানো হয়েছে। তার নিজস্ব আইডিতে পরিচিত মানুষ এবং কয়েকজন সাংবাদিক ছাড়া আর কেউই নেই। অথচ ফেক আইডি থেকে প্রতিনিয়ত তার নামে স্ট্যাটাস, বিভিন্ন ছবি পোস্ট করা হচ্ছে। যার অধিকাংশ পোস্ট বিভ্রান্তিকর, আবার কোনোটা উসকানিমূলক। বিষয়টি নিয়ে তিনি বেশ শঙ্কিত হলেন। এরপর তিনি এসব ফেক আইডির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ অনুভব করলেন।

ঘটনা : ২

ফেসবুক নিয়ে বেশ কয়েকবার বিভ্রান্তিতে পড়েছেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। বিশেষ করে তার প্রতিষ্ঠান ‘নিরাপদ সড়ক চাই’য়ের নাম ও লোগো ব্যবহার করে কেউ একজন একটি ভুয়া পেজ খোলে। সেখান থেকে অপ্রীতিকর-অশ্লীল ছবি পোস্ট করা হচ্ছিল নিয়মিত। বিষয়টি নজরে আসতেই মামলা করেন তিনি। সেই মামলাই ওই ভুয়া পেজ ব্যবহারকারী জেলও খেটেছিল। তারপরও কিন্তু ভোগান্তি কমেনি। কিছুদিনের মধ্যে আবারও তার নামে ফেক আইডি খোলা হয়। যেখান থেকে পোস্টও করা হয়। এসব কারণে বারবার এ নায়ককেও বিব্রত হতে হচ্ছে। ইলিয়াস কাঞ্চনের দুটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে ‘ইলিয়াস কাঞ্চন’ ও ‘কাঞ্চন ইলিয়াস’ নামে। যেগুলো তিনি নিজেই ব্যবহার করেন। এ দুটোর বাইরে তার কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। ফেসবুকে সার্চ দিয়ে দেখা গেছে, এ নায়কের নামে অনেক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। যার সবগুলোই ফেক। নামের বানান ওলটপালট করে এসব অ্যাকাউন্ট ও পেজ খোলা হয়েছে। অনেক সময় বাজে ছবিও পোস্ট করা হচ্ছে। এর জন্য এখনও অনেক বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় এ নায়ককে। বিষয়টি নিয়ে একবার তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু সময়ের অভাবে বারবার আইনের দ্বারস্থ হতেও পারছেন না। এ কারণে এসব ফেক আইডি নিয়ে তিনি শঙ্কিত। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হচ্ছে তার সামাজিক অবস্থান নিয়ে।

ঘটনা : ৩

কিছুদিন আগের ঘটনা। জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিপাশা হায়াতের নাম ও ছবি ব্যবহার করা একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্বের নামে অপ্রীতিকর কিছু মন্তব্য লিখে পোস্ট করা হয়। এতে ওই ব্যক্তির সহকারী বিপাশা হায়াতকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করেন, তিনি আসলে এসব মন্তব্য করেছেন কিনা। বিপাশা শুনে রীতিমতো অবাক। তিনি কেন এসব করতে যাবেন? কিছুদিন আগে কোটা আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময়ও এ অভিনেত্রীর নাম ও ছবি ব্যবহার করে ফেসবুক থেকে অপ্রীতিকর লেখা ও ছবি পোস্ট করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি বেশ শঙ্কিত ছিলেন। যদিও তার নিজস্ব অ্যাকাউন্ট থেকে এসব স্ট্যাটাস দেয়া হয়নি। তবুও সামাজিকভাবে তিনি হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছিলেন। তিনি জানেনও না যে, কার কাছে গেলে এর প্রতিকার পাওয়া যাবে!

ঘটনা : ৪

গত ২ বছর আগে হ্যাক হয়েছিল চিত্রনায়ক ওমর সানীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট। এজন্য তিনি মামলা করেছিলেন। সাইবার ক্রাইম ইউনিট তাকে সহযোগিতা করেছিল। পরে তার অ্যাকাউন্টটি উদ্ধার হয়। কিন্তু ঘটনা সেখানেই শেষ হয়ে যায়নি। এ নায়কের নামে অনেক ফেক অ্যাকাউন্ট আছে। যেসব অ্যাকাউন্ট থেকে তার ভক্ত কিংবা পরিচিতজনদের কাছে মেসেজ পাঠানো হয় নিয়মিত। অন্যদের কাছে বিকাশে টাকাও চায়। বিষয়গুলো তিনি সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে জানিয়ে রেখেছেন। কিন্তু ওখান থেকে একটি আইডি বন্ধ করা হলে আরও একটি আইডি খোলে প্রতারকরা।

উপরোল্লিখিত এসব ঘটনা শুধু উদাহরণস্বরূপ বিশেষ কয়েকটি। আরও সব ভয়ঙ্কর ঘটনা রয়েছে। যা ফেসবুকের ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ছড়ানো হয়। ফেসবুকের ফেক অ্যাকাউন্ট এখন সামাজিকতার জন্য বিষফোঁড়া। কারণ অনেক তারকাশিল্পী জানেনও না যে, তার নামে কয়টি ফেক অ্যাকাউন্ট আছে। কিংবা সেসব অ্যাকাউন্ট থেকে তারকা সেজে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে মিডিয়ার অনেকের কাছে চিত্র পরিচালক কাজী হায়াৎ, চিত্রনায়িকা পরীমনি, মাহিয়া মাহি, মডেল অভিনেত্রী তানজিন তিশাসহ আরও অনেকের নামে ফেক আইডি তৈরি করে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো হচ্ছে। এসব আইডিতে আবারও সংশ্লিষ্ট তারকাদের সাম্প্রতিক ছবি কিংবা কাজকর্মের তথ্যাদিও সংযুক্ত করা হচ্ছে। স্বভাবতই রিকোয়েস্ট রিসিপেন্ট বিভ্রান্ত হচ্ছেন আসলেই অ্যাকাউন্টটি কার?

ুপ্রত্যেক তারকারই আলাদাভাবে নিজস্ব ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তারপরও এসব অ্যাকাউন্ট থেকে রিকোয়েস্ট আসার পর সেই তারকাকে ফোন দিয়ে এর সত্যতা যাচাই করে নিতে হচ্ছে। কেউ কেউ বোঝেন বলে যাচাই করে নেন। কিন্তু যাদের যাচাই করার সুযোগ নেই তারা সেটাকে বিশ্বাস করে প্রতারণার ফাঁদে পড়ছেন। এসব বিষয় নিয়ে অভিযোগ করার মতো সময় কিংবা নিয়মকানুনও অনেকের জানা নেই। সামাজিকতার নামে যে অসামাজিকতার বিষ ছড়ানো হচ্ছে এ নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিব্রত এবং শঙ্কায় আছেন তারকারা। কারণ সামাজিকতায় সবচেয়ে বেশি দায়বদ্ধ তারা। তাদের অনেক কর্মকাণ্ডই ভক্তদের কাছে অনুকরণীয়। অথচ ফেক আইডি তারা সেটার ভুল তথ্য পাচ্ছেন।

ফেক আইডি নিয়ে বিব্রত হওয়ার ঘটনার শিকার চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমার নামে যেসব ফেক আইডি রয়েছে, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কিংবা আমার দর্শকরা হয়তো ভাববেন যে আমি বোধ হয় এমন ছবি পোস্ট করি। বিষয়টি নিয়ে কতটা বিব্রত হতে হয় সেটি বোঝান যাবে না। আমাদেরও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমি নিশ্চয়ই চাইব না, সমাজে আমার নামে কুৎসা কিংবা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়ুক। তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে যারা কাজ করেন তারা শুধু তারকাদেরই নয়, যারা ফেসবুকে বিভ্রান্তিতে পড়েন তাদেরও যেন সহযোগিতা করেন এটাই প্রত্যাশা করি। আবার এটাও বলতে চাই, আমাদেরও কারও আশায় বসে থাকলে হবে না। নিজেদেরও একটু সতর্ক হতে হবে। অনেক বিষয় আছে যেগুলো আমরা জানি না। সেসব বিষয় অন্যদের কাছ থেকে শিখে ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়। তাহলে হয়তো এসব অপরাধ কিছুটা হলেও রোধ করা সম্ভব।

ফেসবুক ফেক অ্যাকাউন্ট নিয়ে জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী মনির খানও বেশ শঙ্কিত। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার ফেসবুক হ্যাক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ আমার নিজস্ব কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই। একটি ইউটিউব চ্যানেল আছে আমার নামে যা আমিই দেখভাল করি। অথচ আমার নামে অনেক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। যেগুলো থেকে অনেক অপ্রীতিকর ছবি ও লেখা প্রকাশিত হয় বলে আমি শুনেছি। বিশেষ করে আমি যেহেতু রাজনীতিতে সক্রিয় তাই আমার নাম ও ছবি ব্যবহার করে কেউ কেউ আছেন অপপ্রচার চালাতে চান। এমন অনেক অভিযোগও ছিল আমার নামে। আমি আইনি সহযোগিতা চেয়েছি কয়েকবার এবং কর্তৃপক্ষকে আমি জানিয়েছি যে আমার কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই। শুধু আমার নামে নয়, আমাদের দেশে যত শিল্পী-কলাকুশলী রয়েছেন তাদের নামে বা ছবি ব্যবহার করে যেন কোনো অপপ্রচার না করা হয় সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাইছি।

ফেসবুকে ফেক আইডি নিয়ে বিড়ম্বনার শিকার জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎও। তিনি বলেন, ফেসবুক ব্যবহারে আমি তেমন আগ্রহী নই। তবুও একটা অ্যাকাউন্ট আমার আছে। আমি নিয়মিত যে বিভ্রান্তিতে পড়ি সেটি হল, আমার বন্ধু-শুভাকাক্সক্ষীরা আমাকে প্রশ্ন করেন, কোনটা তোমার নিজের অ্যাকাউন্ট? প্রোফাইলে কোন ছবি দেয়া। কীভাবে নিশ্চিত হব এটা আমার অ্যাকাউন্ট? এসব প্রশ্নের উত্তর আমাকে প্রায়ই দিতে হয়। এর কারণ তো একটাই, আমার নামে অনেক অ্যাকাউন্ট খোলা। মাঝে মাঝে আমি সন্দেহে পড়ে যাই কোনটা আমার অ্যাকাউন্ট? কেননা যেই পোস্ট আমি দেই সেটিই পরে আমার নামে খোলা অন্য অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা হয়। এসব বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া দরকার। আমরা গানের মানুষ, গান নিয়েই ব্যস্ত থাকি। অন্য কাজে মন দেয়ার সুযোগ থাকে না বা আমি এসব জানিও না। সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের সহযোগিতা করলে ভালো হয়।

একই সমস্যায় ভুগছেন অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত। তিনি বলেন, ‘আমার নামে ও ছবি ব্যবহার করা এত অ্যাকাউন্ট যে, নিজেই সন্দেহে থাকি কোনটা আমার অ্যাকাউন্ট। এ বিষয় যারা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন তারা সহযোগিতা না করলে হয়তো এ সমস্যা আরও বাড়তে থাকবে। তারকারাও তো মানুষ। তাদেরও মান-সম্মান আছে। তাদের ছবি বা নাম কেন ব্যবহার করা হবে? তাকে নিয়ে কেন অপপ্রচার করা হবে?

চিত্রনায়ক ওমর সানী অবশ্য এসব ঝামেলায় আইনি আশ্রয় নিয়েছেন। তারপর তার নামে ক্রমশই তৈরি হচ্ছে ফেক অ্যাকাউন্ট। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিষয়গুলো আমি সাইবার ক্রাইম ইউনিটের এডিসি নাজমুল ভাইকে জানিয়েছি। তিনি জানেন আমার নিজস্ব ফেসবুক অ্যাকাউন্ট কোনটি। তবে আমি চাই যারা এমন বিভ্রান্তিতে পড়ছেন তাদের সরকার পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হোক। আমাদের নামে এবং আমাদের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা তো সমস্যা নয়, ভক্তরা এমন করতেই পারে। কিন্তু তারা যখন আমাদের নামে অপপ্রচার চালায় তখনই আমরা সমস্যায় পড়ি। এটা যেন না হয় সেজন্য আমি তথ্য মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে সহযোগিতা কামনা করছি।

ফেসবুক এ সময়ে খুব দরকার এটা বিশ্বাস করেন অভিনেত্রী বাঁধন। কিন্তু সেটি নিয়ে যদি বিপত্তিতেই পড়তে হয় কেন সেটি ব্যবহার করব? এমন প্রশ্ন তার। তিনি বলেন, ‘ফেসবুক খুব যে একটা ব্যবহার করি তা নয়। বন্ধু-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম এটি। তাই সময় পেলে ব্যবহার করি। কিন্তু মাঝে মাঝে বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়। একটা ছবি আপ দিলাম, কিছুক্ষণ পর ছবিটি অন্য ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আপ করে দেয় কেউ। অনেকে হয়তো মনে করেন আমার অনেক ফেসবুক। বিষয়টি কিন্তু তেমন নয়। আমি সব সময় একটা দুশ্চিন্তায় থাকি, আর তা হল আমার নামে অনেক ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে। বিশেষ করে দেশে যখন কোনো আন্দোলন হয় তখনই ভয়টা বেশি কাজ করে। অনেক অসাধু লোক আছে ভুয়া ছবি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করে। আমার নামে কয়েকটা অ্যাকাউন্টে এমন হয়েছে। আমি সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ করব, এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা। কখন কে কি পোস্ট করে বসে কে জানে? এ আতঙ্ক আমার মতো প্রায় অনেকেরই।

শুধু এসব তারকাই নন। মিডিয়ায় প্রতিষ্ঠিত এমন কোনো তারকা নেই যার নামে ফেক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়নি। সিনেমা, নাটক ও গান- সব মাধ্যমের শিল্পীরাই এসব ফেক আইডির জন্য বিব্রত ও শঙ্কিত। তারা যদি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনে এসব ফেক আইডির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তাহলে সেই তালিকাটা হবে দীর্ঘ। কিন্তু সঠিক নিয়ম না জানা, বা প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রতার কারণেও অনেকে অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকেন। যদিও সেটি কখনই কাম্য নয়।

ইদানীং আরও একটি বিষয় দেখা গেছে। সেটি হচ্ছে, তারকাদের অরজিনাল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক। সেখান থেকে স্ট্যাটাস দিয়ে তাদের সতর্ক করা। অ্যাকাউন্টের দুর্বল নিরাপত্তা নিয়েও অনেক তারকার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে স্ট্যাটাস দিয়েছে হ্যাকারদের একটি গ্রুপ। আবার কেউ কেউ সেই অ্যাকাউন্ট থেকে সরকার ও দেশবিরোধী স্ট্যাটাসও দিয়েছে। যার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট তারকার কোনো ধারণাই নেই। এরকম একটি ঘটনা ঘটেছে উপস্থাপক ও নির্মাতা দেবাশীষ বিশ্বাসের ক্ষেত্রে। তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি গত দুই মাস ধরে হ্যাকড অবস্থায় আছে। হ্যাকার কিছুদিন আগে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের সময় দেবাশীষের আইডি থেকে উসকানিমূলক স্ট্যাটাসও দেয়া হয়েছে। তখন এ উপস্থাপকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রাক্কালে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট জানতে পারে অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছে। তার অ্যাকাউন্টটি এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। প

আমি প্রায় নিজে নিজে হেসে দিই আমার নামের অনেক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দেখে। গল্পটা এমন, আমার নামে ভুয়া ফেসবুক থেকে অনেক সময় পোস্ট করা হয়, এটা ওমুক তারকার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, লাইক দাও বা ওমুক সুপারস্টারকে অ্যাড করে নাও’সহ আরও বিচিত্র রকম পোস্ট। আবার মাঝে মাঝে দেখি অপ্রীতিকর ছবি ও ভিডিও পোস্ট করতে। এসব দেখে অনেক সময় বিব্রত অবস্থায় পড়তে হয়। তবে এর মধ্যে আমার পরিচিত কয়েকজন আছেন যারা আমার নামে ফেসবুক পেজ খুলেছেন। আমাকে ভালোবাসে বলে তারা এটা করছেন। ওখান থেকেই আমার কিছু আপডেট পাওয়া যায়। আমার নিজস্ব একটি অ্যাকাউন্ট আছে, যেটি আমি খুব কমই ব্যবহার করি। তবে সবাইকে ফেক আইডি থেকে সাবধান থাকার অনুরোধ করছি। রিয়াজ, চিত্রনায়ক

ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি ফেক আইডি রয়েছে দেশসেরা চিত্রনায়ক শাকিব খানের নামে। এর মধ্যে এ নায়কের অনেক ভক্ত নিজেদের নাম পরিবর্তন করে প্রিয় নায়কের নাম দিয়েছেন। তারা সবসময় শাকিব খানের আপডেট নিয়ে আলোচনা করেন। সেসব তথ্য সাধারণ মানুষকে জানান। এ নায়কের নির্দিষ্ট একটি পেজও রয়েছে, যেটি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ভেরিফাই করা। তথাপিও শাকিব খান নামে বিভিন্ন আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাওয়া কিংবা মেসেজ আদান-প্রদানের কথা প্রায়ই শোনা যায়। অনেকে না বুঝে সেসব রিকোয়েস্ট গ্রহণও করেন। করার কারণও আছে, তাদের পক্ষে কখনই জানা সম্ভব নয় এটা শাকিব খানের আইডি কিনা! এ প্রসঙ্গে শাকিব খান বলেন, ‘আমি ফেসবুক ব্যবহার করি না। আসলে করার সময় পাই না। আমার ভেরিফাইড পেজ থেকে সব তথ্য আপডেট করা হয়। এর বাইরে আমার নামে অনেক আইডি খোলা হয়েছে শুনেছি। সেসব আইডি থেকে অনেক মেয়েকে নায়িকা বানানোর প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে বলে জেনেছি। সবার উদ্দেশে একটা কথাই বলব, আমার ভেরিফাইড পেজ থেকে যেসব তথ্য আপডেট করা হয় সেটাই আসল। এর বাইরে আমার কোনো আইডি নেই এবং সেসব থেকে কোনো মেসেজ গেলে বিশ্বাস করবেন না। ’

আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট কয়েকবার হ্যাক করার চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু পারেনি। যখনই হ্যাক করার চেষ্টা করা হয়েছিল ওই সময় আমার কাছে নোটিশ এসেছিল। আমার সহকারী এসব বিষয়ে পারদর্শী, তাই সহজে তা ঠিকঠাক করতে পেরেছে। তবে আমি যে সমস্যায় পড়ি তা হল, আমার নামে অনেক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। যেগুলোতে কখনও কখনও আজেবাজে ছবি ও ভিডিও পোস্ট করা হয়। আমার শুভাকাক্সক্ষীরা আমাকে এসব বিষয় জানালে খারাপ লাগে। অনেকে হয়তো ভাবেন যে, আমি মনে হয় এসব পোস্ট করি। এসব বিষয় থেকে জানি না রেহাই পাওয়া যাবে কিনা। মানুষের মধ্যে ন্যূনতম বিবেকবোধ থাকলেও এ কাজটি থেকে বিরত থাকতেন। সামান্য লাইক বা কমেন্টের জন্য যারা এসব করেন তাদের উপযুক্ত বিচারের আওতায় নিয়ে আসা উচিত বলে আমি মনে করি। বিদ্যা সিনহা মিম, চিত্রনায়িকা

ফেসবুকে বিভ্রান্তি পড়া নতুন কিছু নয়। কয়েকবারই এর শিকার হয়েছি। খুব কষ্টদায়ক ঘটনা হল আমার নিজস্ব অ্যাকাউন্টকে আমার নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে মেসেজ দেয়, আমি নাকি ভুয়া! কিছু দিন আগে আমার নামে একটা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল, বিষয়টা আমার চোখে পড়ার পর আমি তাতে মেসেজ দিলাম, ওপ্রান্ত থেকে ফিরতি মেসেজ পেলাম আমি নাকি ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছি। ওনি নাকি রিয়েল চঞ্চল চৌধুরী। একদিন পর দেখি ও অ্যাকাউন্ট থেকে আমাকে ব্লক করা হয়েছে। এমন অনেকবার হয়েছে। আমার নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলার পর যখন আমি মেসেজ দিই তখন আমাকে ব্লক করা হয়। এসব বিষয়ে প্রায়ই সমস্যা পড়তে হয় আমাকে।

চঞ্চল চৌধুরী, অভিনেতা