আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নই

মঞ্চ নাটক দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু করেন জাহিদ হাসান। এ মাধ্যমে অভিনয়ে দক্ষ হওয়ার পর শুরু করেন টেলিভিশন নাটকের অধ্যায়। শুরু থেকেই বেশ দর্শকপ্রিয় হয় তার অভিনয়। একই সময়ে চলচ্চিত্রেও কাজ শুরু করেন। নাটক এবং চলচ্চিত্রে সমানতালে অভিনয় করে হয়ে ওঠেন দর্শকের নয়নমণি। পেয়েছেন অসংখ্য স্বীকৃতি ও পুরস্কার। সেই একই রকম জনপ্রিয়তা নিয়ে এখনও নিয়মিত আছেন এই অভিনেতা। সম্প্রতি যুগান্তরের সঙ্গে এক আড্ডায় জানিয়েছেন বর্তমান ব্যস্ততা ও বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহেল আহসান

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

বর্তমান ব্যস্ততা কেমন যাচ্ছে?

সব সময়ের মতো খণ্ড ও ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় নিয়েই ব্যস্ততা যাচ্ছে। এ ছাড়াও নির্মাণেও নিয়মিত। গেল ঈদেও আমার পরিচালনায় নাটক প্রচার হয়েছে। আরও কিছু কাজ আছে হাতে। এগুলোও শিগগিরই শেষ করব।

সম্প্রতি ইউটিউবকেদ্রিক নাটক নির্মাণ শুরু হয়েছে। এটাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

এটা মূলত সময়ের দাবি। অপশনগত এবং কৌশলগত কারণে ইউটিউবকেন্দ্রিক নাটক নির্মাণ ও প্রচার জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। আগে তো শুধু বিটিভিই ছিল ভরসা। এরপর স্যাটেলাইট চ্যানেল এসেছে। সেখানেও কিছু জটিলতা ছিল। এখন সময় বদলেছে। সেই সঙ্গে মানুষের অভ্যাসও পরিবর্তিত হয়েছে। তাই হয়তো কেউ কেউ ইউটিউবের দিকে ঝুঁকছেন।

গ্রামের যেসব দর্শক তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধার বাইরে আছেন, তারা তো ইউটিউবে নাটক দেখতে পাচ্ছেন না?

তাদের জন্য টেলিভিশনে সাধারণ সময়ে নাটক দেখার সুযোগ তো আছেই। এখন দেশে চ্যানেল অনেক। কোনো না কোনো চ্যানেলে নিশ্চয়ই ভালো নাটক খুঁজে পাবেন। তা ছাড়া ইউটিউবভিত্তিক নাটক যে খুব পপুলারিটি পেয়েছে, তা কিন্তু নয়।

বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ নাটকের গল্পই একরকম। কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া গল্পে কোনো বৈচিত্র্য নেই। এ বিষয় নিয়ে আপনার উপলব্ধি কী?

আগে যারা নাটকের গল্প লিখতেন, তারা একটা অনুশীলনের মধ্য দিয়ে এ কাজে আসতেন। ৭০ থেকে ৯০-এর দশকে বেশিরভাগ গল্পকার এসেছেন বিটিভির মাধ্যমে। একটা সিস্টেমের মধ্য দিয়ে অভিনয় শিল্পীরাও আসতেন। এখন কোনো সিস্টেম নেই। এখন নাটকের নিয়ন্ত্রণ এজেন্সির হাতে। মাঝে মধ্যে চ্যানেলগুলোও অসহায়। এ কারণেই মান নিয়ে প্রশ্নও উঠছে।

এক সময় নিয়মিত সিনেমায় অভিনয় করতেন। গল্প কিংবা ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্তের জন্যই কি সিনেমায় আপনাকে দেখা যাচ্ছে না?

বাংলাদেশে আগে যে পরিমাণ ছবি নির্মিত হতো, সেই সংখ্যাটা এখন কমে গেছে। পাশাপাশি প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা কমে গেছে। এর জন্য অসংখ্য কলাকুশলী কিন্তু বেকার হয়ে আছেন। তারপরও কিন্তু নিয়মিতই সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পাচ্ছি। কিন্তু গল্প কিংবা চরিত্র পছন্দ না হওয়ায় কাজ করা হচ্ছে না।

এখনও অভিনয় করা হয়নি, এমন কোনো চরিত্রের জন্য কি অপেক্ষায় থাকেন?

অনেক চরিত্রেই আমার অভিনয় করা হয়নি। আমি মুষ্টিমেয় কয়েকটা চরিত্রেই শুধু অভিনয় করেছি। তবে পছন্দ হলে নিত্যনতুন চরিত্রে অভিনয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই।

প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের অনেক নাটক, চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার সঙ্গে আপনার রসায়ন কেমন ছিল?

স্যারের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা ছিল বহুমাত্রিক। কোনো কোনো সময় তাকে মনে হতো শিক্ষক, বাবা অথবা গুরু। কিছু সময় ছিল বন্ধুর মতো। আরেকবার মনে হতো তিনি বড় ভাই। তিনি আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। আবার অভিমান কিংবা রাগও করতেন। অভিনয়শিল্পী জাহিদ হাসান হওয়ার পেছনে অনেকের মধ্যে তারও গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে। স্যারের জীবদ্দশায় ‘নুহাশ পদক’ চালু করেছিলেন। এ পর্যন্ত তিনজন এ পদক পেয়েছেন। প্রথম পদকটাই আমি পাই।

আপনি তো নাটকও পরিচালনা করেন। এ কাজটি করার জন্য কীভাবে অনুপ্রাণিত হন?

আসলে নাটক পরিচালনা নিয়ে আমার তেমন কোনো স্বপ্ন কিংবা লক্ষ্য নেই। মনের খেয়ালেই মাঝে মধ্যে পরিচালনা করি। বেশিরভাগ অবসর সময়েই এ কাজটি করা হয়।

বর্তমান সময়ে যে নাটকগুলোতে অভিনয় করছেন, এগুলো নিয়ে আপনি কতটুকু তৃপ্ত?

একটুও তৃপ্ত নই। তারপরও আমাকে কিছু কাজ করতে হয়। কিছু কাজ অনুরোধে, আবার কিছু কাজ সারভাইভিংয়ের জন্য করতে হয়। আমি আসলে সব ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। তবে একই রকমের কাজ করে আমি তৃপ্ত নই।

অভিনেতা না হলে কী হতেন?

অভিনেতা না হলে কী যে হতাম তা জানি না। অভিনেতাও ঠিক মতো হতে পেরেছি কিনা জানি না। প্রতিনিয়তই অভিনয় শিখে যাচ্ছি। অভিনয় না করলে কিছু একটা তো হতামই।

আপনার প্রযোজনা সংস্থা থেকে কি সিনেমা নির্মাণ করবেন?

আপাতত ইচ্ছা নেই। কারণ সিনেমার কোনো বাজার নেই এখন। দর্শকও কমে গেছে। এই মন্দা সময়ে সিনেমা প্রযোজনা করলে লগ্নিকৃত অর্থ ফেরতের সম্ভাবনা একেবারেই অনিশ্চিত। তবে যদি কখনও সেরকম পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরি হয় তাহলে সিনেমা প্রযোজনা করতেও পারি।

রাজনীতিতে আসছেন, এমন গুঞ্জন শোনা যায় মাঝে মধ্যে...

না না। এটা ভুল ভাবনা। আমার এলাকা সিরাজগঞ্জ নদীমাতৃক এলাকা। নদী ভাঙনে অসহায় মানুষের জন্য আমরা কয়েক বন্ধু মিলে আর্থিক সহায়তা দিই। আমি ভাবি যে, এ এলাকাতেই তো আমার জন্ম। তাই এলাকায় মানুষের বিপদের সময় সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। এসব করতে গেলে মানুষ মনে করত আমি কেন এগুলো করছি। আমার উদ্দেশ্যই বা কী। আমি নিজেও এ কথাগুলো মানুষের কাছ থেকে শুনেছি। তারা আমাকে বিভিন্ন দলের মনে করে থাকেন। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নই। রাজনীতি করার মতো কোনো আমার আগ্রহ নেই। মানুষ অনেক সময় আমাকে নিয়ে নানা কল্পনা করেন। রাজনীতি করার বিষয় তারই একটি অংশ।