নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয়

  সোহেল আহসান ১১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয়
অভিনেতা আরমান পারভেজ মুরাদ

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই জড়িত আরমান পারভেজ মুরাদ। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন তিনি মঞ্চ নাটকের সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর টেলিভিশন নাটকের পাশাপাশি সিনেমায় অভিনয় করেন। দুই মাধ্যমেই প্রশংসিত হন তিনি।

ছবিতে অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এ অভিনেতার বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে এবারের যুগান্তরের মুখোমুখি তিনি।

যুগান্তর: অভিনয় নিয়ে আপনার ব্যস্ততা কেমন?

পারভেজ মুরাদ: খণ্ড ও ধারাবাহিক নাটকের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত আছি। নাটকগুলো শিগগিরই প্রচার হবে বলে জেনেছি। এর পাশাপাশি কিছু মোটিভেশনাল বিষয় নিয়েও কাজ করছি। তবে খুব বেশি নাটকে অভিনয় করছি না।

যুগান্তর: আপনি তো একজন আবৃত্তিশিল্পীও। এ নিয়ে কিছু করছেন কি?

পারভেজ মুরাদ: নতুন কিছু কবিতার কাজ শুরু করেছি। এর মধ্যে প্রেমের কবিতাও আছে। রেকর্ডিংয়ের কাজ শেষ হলে শিগগিরই এগুলো প্রকাশের উদ্যোগ নেব। সর্বশেষ ‘আমার মাতৃভূমি’ শিরোনামে আমার একক আবৃত্তির অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে।

যুগান্তর: সিনেমায়ও তো নিয়মিতই কাজ করেন। হাতে এ মুহূর্তে কোনো ছবি আছে?

পারভেজ মুরাদ: আমার অভিনীত কয়েকটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় আছে। এগুলো হল- এম রাশেদ চৌধুরীর ‘চন্দ্রাবতীর কথা’, সারোয়ারের ‘রংঢং’, ইদ্রিস হায়দারের ‘নীল ফড়িং’ ও রুহুল আমিনের ‘দেওয়ান হাসন রাজা’। প্রায় কাছাকাছি সময়েই ছবিগুলো মুক্তি পাবে শুনেছি।

যুগান্তর: চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন...

পারভেজ মুরাদ: ‘ঘানি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পাই।

যুগান্তর: বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও সংস্কৃতি জগতে যুক্ত হলেন। এ সিদ্ধান্তটা কেন নিয়েছিলেন?

পারভেজ মুরাদ: আসলে তেমন কোনো কারণ নেই। থিয়েটার ও কবিতা আবৃত্তি যখন ভালো লাগল, সবাই উৎসাহ দেয়া শুরু করল। তখন থেকেই আমি এ অঙ্গনে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিলাম। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কারণেই মানুষকে দ্রুত কমিউনিকেট করা যায়।

আর আমি ছোটবেলা থেকেই সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। মানুষ এবং প্রকৃতির জন্য কিছু করার ইচ্ছা তখন থেকেই। তাই ঢাকায় এসে যুক্ত হলাম সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে। এরপর থেকে এখনও কাজ করে যাচ্ছি।

যুগান্তর: উপস্থাপনায়ও তো অনেকদিন ধরে কাজ করছেন। এ মাধ্যমে কি সময় দিচ্ছেন এখন?

পারভেজ মুরাদ: আমি দীর্ঘ সময় বেতারে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছি। অন্য কাজের ব্যস্ততায় এখন উপস্থাপনায় একটু কম সময় দেয়া হয়। তবে বেতারের নাটকগুলোয় নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছি।

শরৎচন্দ্রের ‘গৃহদাহ’ নিয়ে একটি নাটক প্রচার হচ্ছে বেতারে। এতে আমি নিয়মিত অভিনয় করছি। এটি পরিচালনা করছেন ফাল্গ–নী হামিদ। এর আগেও কয়েকটি বেতার নাটকে কাজ করেছি।

যুগান্তর: এখন পর্যন্ত আপনার মিডিয়া জীবনের সেরা প্রাপ্তি কী?

পারভেজ মুরাদ: এখন পর্যন্ত মনে হয় আমার মিডিয়া ক্যারিয়ারই দাঁড়ায়নি। তবে নাটক কিংবা টেলিফিল্মে এ পর্যন্ত অনেক ভালো চরিত্রে অভিনয় করেছি। নির্মাতাদের ধন্যবাদ জানাই, কারণ তারা আমাকে দিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করিয়েছেন। তবে আমার মনে হয় আমার অভিনয় জীবনের সেরা চরিত্র এখনও করিনি। এখনও মনে হয় আরও অনেক কিছু করার বাকি আছে।

যুগান্তর: শুনেছি, নাটক পরিচালনা করছেন?

পারভেজ মুরাদ: হ্যাঁ। কিছুদিন আগে থেকে এটা নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করেছি। এরই মধ্যে ডকুমেন্টারির কাজ করেছি। তবে মঞ্চ নাটক দিয়েই পরিচালনা শুরু করছি। প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের জীবনী নিয়েই আমার পরিচালিত প্রথম মঞ্চ নাটকের গল্প লিখছি। কিছুদিনের মধ্যেই এটির রিহার্সাল শুরু করব। এটা হবে এসএম সুলতানের বায়োপিক। তার আদর্শ ও দর্শন মানুষকে জানানোর জন্যই এ আয়োজন করছি।

যুগান্তর: আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আপনার বক্তব্য কী?

পারভেজ মুরাদ: আমাদের শিল্প সংস্কৃতির জায়গাটা খুব ভালো নেই। এ থেকে উত্তরণ খুবই দরকার। বাণিজ্যিকীকরণের জন্যই এ অবস্থা হয়েছে। সমাজ পরিবর্তনের জন্য কোনো হিরো পেলাম না। শুধু রোমান্টিক আর ড্যাশিং হিরোই পেলাম। এর ফলে শিল্প সংস্কৃতি মানুষের জীবন থেকে অনেকটাই বাইরে চলে গেছে। বেশিরভাগ সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। টেলিভিশনে শুধু হাসাহাসি হচ্ছে। বাংলা ভাষার উচ্চারণের যে অবস্থা, তাতে কিছু করতে পারলাম না। এ জন্য নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয়।

যুগান্তর: একজন সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে কেমন বাংলাদেশ চান?

পারভেজ মুরাদ: বাংলাদেশ সুজলা সুফলা এক বৃহত্তর উর্বর ভূমি। এ দেশের মানুষ বরাবরই সহজ সরল সুন্দর, সেটি আগে হওয়া দরকার। তা ছাড়া প্রকৃতি, পরিবেশসহ অন্য বিষয়গুলো যেন ঠিকঠাক থাকে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। দূষণমুক্ত একটি সবুজ শহর কিংবা দেশ দেখতে চাই। এর জন্য আমাদের মানবিক একটা জীবন দরকার।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×