ঘুমভাঙা শহরে এবি’র জন্য ভালোবাসা...

জানাজায় মানুষের ঢল * চট্টগ্রামে মায়ের কবরের পাশে দাফন আজ

  সাংস্কৃতিক রিপোর্টার ২০ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আয়ুব বাচ্চু
আয়ুব বাচ্চু-ছবি সংগৃহীত

আইয়ুব বাচ্চু গানে গানে ঘুমভাঙা শহরে এক কিশোরের স্বপ্নের কথা বলেছিলেন। গানের কথাগুলো যেন তার জীবনেরই প্রতিচ্ছবি। গানের শেষটায় একটি লাইনে আছে- স্বপ্ন নিয়ে ঘুরেফেরা ছেলেটি ‘জীবন ছেড়ে পালায়’। তেমনি অনেক স্বপ্ন পূরণ করে, আবার কিছু অপূর্ণ রেখে চলে গেছেন সবার প্রিয় এবি। শুধু শহর নয়, সারা দেশের ঘুম ভেঙেছে বুকে কষ্ট নিয়ে। রুপালি গিটারের গায়ক প্রিয় আইয়ুব বাচ্চুকে হারানোর ব্যথা ছিল সব জায়গায়।

শুক্রবার শহীদ মিনারে প্রিয় শিল্পীকে শেষবার একনজর দেখতে দলে দলে এসেছিলেন ভক্তরা। আইয়ুব বাচ্চুর কফিনটা ছেয়ে গিয়েছিল তাদের ভালোবাসার ফুলে। এরপর জাতীয় ঈদগাহ মাঠে তার প্রথম জানাজায় তিলধারণের ঠাঁই ছিল না। পরে মগবাজার ও তেজগাঁওয়ে আরও দুটি জানাজা হয়। সেখানেও শিল্পী, সহকর্মী ও ভক্তদের ঢল নামে। এরপর স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয় শিল্পীর মরদেহ। আজ জন্মস্থান চট্টগ্রামে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হবে দেশের ব্যান্ডসঙ্গীতের কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুকে।

বৃহস্পতিবার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মাত্র ৫৬ বছর বয়সে মারা যান শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। তার মৃত্যুর খবরটি দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়।

শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের তত্ত্বাবধানে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছিল। দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের, সঙ্গীতাঙ্গনের দিকপালরা যেমন এসেছিলেন, তেমনি তাদের ছাপিয়ে ঢল নেমেছিল সাধারণ মানুষের। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর ছাড়িয়ে জনস্রোত চলে গিয়েছিল আশপাশের রাস্তায়। দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে তারা প্রিয় শিল্পীর কফিনে শেষ শ্রদ্ধা ঢেলে দিয়েছেন ফুলেল অর্ঘ্য।

শ্রদ্ধা জানাতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, সুমনা হক, ফোয়াদ নাসের বাবুসহ অগণিত ভক্ত-অনুরাগী। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় আইয়ুব বাচ্চুর কফিন ঘিরে ছিলেন তার সহকর্মীরা। তারা হলেন- তপন চৌধুরী, শাফিন আহমেদ, মানাম আহমেদ, কুমার বিশ্বজিৎ, রবি চৌধুরী, কবির বকুল, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, আইয়ুব বাচ্চুর ছোট ভাই ইরফান চৌধুরী প্রমুখ। এক মিনিটের নীরবতা পালন দিয়ে শেষ হয় শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব।

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠে। সেখানে বাদ জুমা তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও মানুষের ঢল নামে। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় আইয়ুব বাচ্চুর প্রাণপ্রিয় রেকর্ডিং স্টুডিও মগবাজারের ‘এবি কিচেনে’। সেখান থেকে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আই ভবন প্রাঙ্গণে। সেখানেও শিল্পী, শুভার্থী ও সহকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বাদ আসর তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয় শিল্পীর মরদেহ। আজ ভোরে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে আইয়ুব বাচ্চুর মেয়ে ফাইরুজ সাফরা ও ছেলে আহনাফ তাজোয়ার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তারা আসার পর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে জন্মভূমি চট্টগ্রামে। সেখানে চতুর্থ জানাজা শেষে এনায়েত বাজারে পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হবে। পারিবারিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

শহীদ মিনারে আইয়ুব বাচ্চুর কফিনে সর্বপ্রথম শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এরপর একে একে শ্রদ্ধা জানায় আওয়ামী লীগ, কমিউনিস্ট পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ (ইনু), বাসদ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগ (জাসদ), ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রমৈত্রী, যুবমৈত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, সিলেট সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘ, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন (বামবা), স্থপতি ’৭১, ফেসবুক গ্রুপ ‘দুষ্টু ছেলের দল’, মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা, পটিয়া সমিতি-ঢাকা, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সঙ্গীত পরিষদ, সমস্বর, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, একতা কালচারাল সোসাইটি, উদীচী, পথনাটক পরিষদ, প্রাচ্যনাট, বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিষদ, যুব সংহতি, ব্যান্ড দল ‘কিংবদন্তী’, মিউজিশিয়ান্স ফাউন্ডেশন, কুমিল্লার কাগজ, স্রোত আবৃত্তি সংসদ, ছাত্রলীগ-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা প্রমুখ।

আইয়ুব বাচ্চুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ, জাসদ একাংশের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য শিরীন আখতার, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, ইমদাদুল হক মিলন, ফকির আলমগীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি মুহাম্মদ সামাদ, ম. হামিদ, নাট্যজন ইনামুল হক, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু, শংকর সাঁওজাল, ফিডব্যাকের ফোয়াদ নাসের বাবু, শিল্পী সুমনা হক, ওয়ারফেজের কমল ও টিপু, অর্থহীন ব্যান্ডের সুমন, অবসকিউরের সাইদ হাসান টিপু প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ব্যান্ডসঙ্গীতে তিনি নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। এ কারণেই তিনি সবার ভালোবাসা পেয়েছেন। শিল্পী হিসেবে তিনি পরিণত হয়েছেন এ দেশের সম্পদে। তার চলে যাওয়া একেবারেই আকস্মিক। সঙ্গীতভুবনে তিনি শূন্যতা রেখে বিদায় নিলেন। আমার বিশ্বাস, নতুন প্রজন্ম তার দেখানো পথে চলে নবচেতনায় উজ্জীবিত হবে। র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ বলেন, আইয়ুব বাচ্চু সবসময় মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।

কনসার্টে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। একটা সুন্দর সমাজ গঠনে আইয়ুব বাচ্চুর ভক্তদের বলব, আসুন তার সম্মানে স্থায়ীভাবে মাদককে না বলি। তাকে ভালোবাসতে হলে আমাদের মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। তপন চৌধুরী বলেন, এই শহীদ মিনারে এত মানুষ ভালোবাসা জানাতে এসেছেন- এটাই একজন শিল্পীর জীবনে অনেক বড় প্রাপ্তি।

ব্যান্ডদল ফিডব্যাকের ফোয়াদ নাসের বাবু বলেন, গানের জন্য তার পরিশ্রম, সাধনা ও প্যাশন ছিল সার্বক্ষণিক। তিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান ছিলেন। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে একজন আইয়ুব বাচ্চু। গিটারের অবিরাম সুরের মূর্ছনায় আইয়ুব বাচ্চু ভক্তদের মাতিয়ে তুলতেন। তার গিটার বাজানো শুনে দেশের হাজার হাজার তরুণ গিটার বাজাতে উদ্বুদ্ধ হয়েছে, গিটার বাজানো শিখেছে।

সুমনা হক বলেন, আশির দশক থেকে আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে কাজ করেছি। কত শত স্মৃতি! সব স্মৃতি একটি একটি করে হৃদয়ে বাজছে। সঙ্গীত সাধনা ও জনপ্রিয়তার চূড়ায় থাকতে থাকতে তিনি চলে গেছেন। এই যে হাজারও মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা জানাতে তাদের উপস্থিতি, এটাই তার অনেক বড় প্রাপ্তি।

কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, এই দেশে আইয়ুব বাচ্চুর কোটি কোটি ভক্ত রয়েছে। তার গিটারের সুরে মুগ্ধ হয়েছে অগণিত শ্রোতা। যে গানগুলো তিনি রেখে গেছেন, সেসব গান এদেশের চিরকালের সম্পদ হয়ে থাকবে। প্রজšে§র পর প্রজন্ম শুনবে সেই গান।

দুপুরে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজায় আইয়ুব বাচ্চুর ছোট ভাই এরফান চৌধুরী বলেন, আইয়ুব বাচ্চু সবসময় মানুষকে সাহায্য করতেন। সাধারণ মানুষকে তিনি ভালোবাসতেন। পরিবারের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা ছিল। সবাই আমার ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন।

আইয়ুব বাচ্চুর জানাজা পড়ান হাইকোর্ট মসজিদের ইমাম আবু সালেহ সাইফুল্লাহ। জানাজায় ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন। এরপর আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার মগবাজারের এবি কিচেন স্টুডিওতে। এখানেই জীবনের দীর্ঘ সময় কাটিয়েছে তিনি। বিশেষ করে তার সৃজন কর্মকাণ্ডের বিরাট সময়জুড়ে আছে এবি কিচেন। এখানে তার দ্বিতীয় দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় প্রিয় চ্যানেল আইয়ের তেজগাঁও অফিস কার্যালয়ে। বাদ আসর চ্যানেল আই চেতনা চত্বরে অনুষ্ঠিত তার জানাজায় উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আই পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, আইয়ুব বাচ্চুর ছোট ভাই ইরফান, সঙ্গীতাঙ্গনের অনেক তারকা, চ্যানেল আইয়ের কর্মীসহ সাধারণ ভক্ত।

শাইখ সিরাজ বলেন, বাচ্চু অনেক আগেই আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। এমনটা কখনোই প্রত্যাশা করিনি। চ্যানেল আইয়ের সঙ্গে তার আÍার সম্পর্ক ছিল। এখানকার প্রতিটি মানুষ ছিল বাচ্চুর আপনজন। চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে আইয়ুব বাচ্চুর তৃতীয় জানাজায় আরও উপস্থিত ছিলেন ইবনে হাসান খান, আবদুর রহমান, হেলাল খান, ইজাজ খান স্বপন, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, আবদুর নূর তুষার, তানভীর খান, নির্মাতা সালাহ্উদ্দিন লাভলু, সোহেল খান, এফএস নাঈম, মাইলসের মানাম আহমেদ, ওয়ারফেজ ব্যান্ডের টিপু, অবসকিওর ব্যান্ডের সাইদ হাসান টিপু প্রমুখ।

শেষ বিদায় জানাতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম : আইয়ুব বাচ্চুকে শেষ বিদায় জানাতে চট্টগ্রামে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। তার দাফন-কাফনের সার্বিক দায়িত্ব নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। ইতিমধ্যে চৈতন্যগলির বাইশ মহল্লা কবরস্থানে কবর খোঁড়ার কাজ শেষ হয়েছে। সেখানে মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন আইয়ুব বাচ্চু। এখন শুধুই অপেক্ষার পালা। শেষবারের মতো তাকে একনজর দেখতে উদগ্রীব আÍীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও ভক্তকুল।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঢাকা থেকে আইয়ুব বাচ্চুর লাশ নিয়ে আজ সকাল ৬টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেবেন স্বজনরা। দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত মাদারবাড়ি এলাকার তার নানাবাড়িতে লাশ রাখা হবে। এখানে তাদের একান্ত আÍীয়স্বজনরা তাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পাবেন। এরপর লাশ জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে জানাজার জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে আসরের নামাজের আগ পর্যন্ত সর্বসাধারণ শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের ব্যক্তিগত সহকারী রায়হান ইউসুফ যুগান্তরকে বলেন, সঙ্গীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন সিটি মেয়রের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ চট্টগ্রামে আনা, জানাজা এবং দাফন পর্যন্ত পুরো কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করবে সিটি কর্পোরেশন।

আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে চট্টগ্রামের পটিয়ার খরনা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও ভক্তরা তার গ্রামের বাড়িতে ছুটে যান। আইয়ুব বাচ্চুর আÍীয় সামছুল আরেফিন জুয়েল যুগান্তরকে জানান, ছোটবেলা থেকে আইয়ুব বাচ্চু বাবার হাত ধরে নগরীতে চলে যাওয়ার পর সেখানেই তার বেড়ে ওঠা। তাদের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নের গাঙ্গারকুল এলাকায় রয়েছে সেমিপাকা একটি ঘর। ওই ঘরে বর্তমানে তার চাচাতো ভাইয়েরা থাকেন।

তিনি আরও বলেন, আইয়ুব বাচ্চু সর্বশেষ পটিয়ায় এসেছিলেন ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর। পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে টিআইবির উদ্যোগে দুর্নীতিবিরোধী সমাবেশ শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশ করেন তিনি। ওই সময় নিজেকে পটিয়ার সন্তান হিসেবে গর্ববোধ করে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাচ্চু। তবে গ্রামের বাড়ি খরনা ইউনিয়নে যাননি ওইদিন। আইয়ুব বাচ্চুর দাদা ছিলেন হাজী নুরুজ্জামান সওদাগর। তিনি পটিয়ার খুব পরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন।

শোক বই খুলেছেন ভক্তরা : আইয়ুব বাচ্চুর স্মরণে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে শোক বই খোলা হয়েছে। শুক্রবার সকালে প্রেস ক্লাবের সামনে এ শোক বই খোলা হয়। এরপর থেকে তার ভক্তরা লাইন ধরে শোক বইয়ে বিভিন্ন আবেগঘন মন্তব্য লিখছেন। ভক্তরা জানান, সকাল থেকে শতাধিক মানুষ শোক বইয়ে বিভিন্ন শোকানুভূতি প্রকাশ করেছেন।

ঘটনাপ্রবাহ : আইয়ুব বাচ্চু আর নেই

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×