বাণিজ্যমন্ত্রী-মার্কিন রাষ্ট্রদূত মতবিনিময়

কেউ না এলে নির্বাচন থেমে থাকবে না

তোফায়েল আহমেদ

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। ফাইল ছবি

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, কেউ না এলে নির্বাচন থেমে থাকবে না। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ কোনো দলকে বাদ দিয়েই নির্বাচনে যেতে চায় না। কিন্তু কোনো দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি করবে না, সেটা সেই দলের ব্যাপার।

সোমবার সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য শক্তিশালী বিরোধী দলের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আশা করে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন সবার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে। এতে দেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বাণিজ্যমন্ত্রী ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, নির্বাচনে সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ না থাকায়, সংবিধানের ভেতরে থেকেই অবাধ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়টিই রাষ্ট্রদূতকে জানানো হয়েছে। তিনি (মার্কিন রাষ্ট্রদূত) আটক- গ্রেফতার নিয়ে কথা বলেছেন। আমি বলেছি, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।’

মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তিনি বলেছেন, নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। নির্বাচন কমিশন সে নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে। বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকবে। এ সময় সরকার শুধু রুটিন ওয়ার্ক করবে। নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এর লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। যে ঐক্যজোট তৈরি হয়েছে, তা নির্বাচনের লক্ষ্যেই হয়েছে। বিএনপি এ জোটে অংশ নিয়েছে। ড. কামাল হোসেনকে তারা নেতা হিসেবে মেনে নিয়েছে। সিলেটে সমাবেশের অনুমতি তারা পেয়েছে। এরপর তারা চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনায় সমাবেশ করবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করে, নির্বাচন প্রতিহত করার নামে প্রিসাইডিং অফিসার, পুলিশ ও সাধারণ মানুষ হত্যা করেছে। অগ্নিসন্ত্রাস করে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে। নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি। এটি তাদের সঠিক পথ ছিল না, এখন তা বুঝতে পেরেছে। সে নির্বাচনে অংশ না নেয়া ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। বিএনপি আবারও সে ভুল করবে বলে আমার মনে হয় না। সত্তরের নির্বাচনে মওলানা ভাসানীর দল অংশ নেয়নি। তারা আওয়ামী লীগকেও নির্বাচনে না যেতে বলেছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু নির্বাচন বয়কট করেননি। নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশের স্বাধীনতার কার্যক্রম শুরু হয়। ভাসানী নির্বাচনে আসেননি বলে সেই নির্বাচনকে কেউ অগ্রহণযোগ্য দাবি করতে পারেনি।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বড় ব্যবসায়িক অংশীদার। আমাদের তৈরি পোশাকেরও সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার তারা। বাংলাদেশে এখন তিনশ’র বেশি গ্রিন ফ্যাক্টরি রয়েছে। বিশ্বের এক নম্বর ডেমিন ফ্যাক্টরি এখন বাংলাদেশে। নিরাপদ ও কর্মবান্ধব পরিবেশে এখন শ্রমিকরা কারখানায় কাজ করছেন। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। অ্যাকর্ড এবং অ্যালায়েন্সের মেয়াদ শেষ। বাংলাদেশ এখন নিজেই কারখানা নিরাপদ রাখতে সক্ষম।’ তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছরে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৫৯৮৩.৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে। একই সময়ে আমদানি করেছে ১৭০৩.৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য।’

মতবিনিময়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমি সব দলের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের বলেছি, সহিংসতার পথে না গিয়ে শান্তির পথে থাকতে এবং নির্বাচনে অংশ নিতে। দেশের গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে সব রাজনৈতিক দল এ বিষয়ে আন্তরিক হবেন বলেই আশা করি। কারণ সব দল নির্বাচনে না এলে জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে না। এ জন্য ভোটারদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’

বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা প্রত্যাশা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘যে কোনো দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা নির্ভর করে সে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনের ওপর। সব দলের অংশগ্রহণে, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সবার প্রত্যাশা। বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার আন্তরিক বলে বিশ্বাস করি।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বার্নিকাট বলেন, ‘বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। তৈরি পোশাক শিল্পে অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করেছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক আমদানিকারক হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক নম্বরে। এ শিল্পের নিরাপদ কাজের পরিবেশ ও শ্রম অধিকারে অনেক উন্নতি হয়েছে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্স, তিন রাষ্ট্রদূত ও ৫ সচিবের কমিটি পোশাক শিল্পকে নিরাপদ করতে অনেক অবদান রেখেছে। বাংলাদেশ এ খাতে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য করছে। দিনদিন এ বাণিজ্য বাড়ছে। বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ আছে, আগামীতে আরও বাড়বে।

তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্ব মেনে নিয়ে বিএনপি নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। ড. কামাল হোসেনের সক্ষমতা সম্পর্কে দেশবাসী জানেন। বিএনপি খুনিদের দল হিসেবে প্রমাণিত। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তা প্রমাণ হয়েছে। তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ড. কামাল হোসেন সফল হতে পারবেন না।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশবাসী ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে ঘৃণা করে। তিনি রাজনৈতিকভাবে চরিত্রহীন। তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনি মোস্তাক ও ফ্রিডম পার্টির সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। শিবিরের কর্মী সমাবেশে তাদের কার্যকলাপের প্রশংসা করে বক্তৃতা করেছেন। একজন নারী সাংবাদিককে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সাংবাদিক সমাজ তাকে বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৫৫ জন সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়েছেন।’

এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শুভাশীষ বসু, একই মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুন্সী সফিউল হকসহ সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter