আগামীতেও নৌকার জয় : আ’লীগের যৌথসভায় প্রধানমন্ত্রী

মহাজোটের আকার বাড়ছে

শিগগিরই মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু * বিদ্রোহী প্রার্থী হলে আজীবনের জন্য বহিষ্কার * নির্বাচন পরিচালনা কোর কমিটির সদস্য হলেন সজীব ওয়াজেদ জয় * নির্বাচনে অংশগ্রহণ নয় প্রশ্নবিদ্ধ করাই ঐক্যফ্রন্টের কাজ * হেফাজতে ইসলাম সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা রাখার নির্দেশ * নির্বাচনী প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ * প্রতি আসনে তিনজন করে মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণ দেবে আ’লীগ * ৩৩ সদস্যের কোর-কমিটি ও ১৫টি উপকমিটি অনুমোদন

  রেজাউল করিম প্লাবন ২৭ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগের যৌথসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
আওয়ামী লীগের যৌথসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের আকার বাড়ছে। ইসলামিক ডেমোক্রেটিক এলায়েন্স, ইসলামিক ফ্রন্ট এবং জাকের পার্টি এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। শুক্রবার রাতে আওয়ামী লীগের যৌথসভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভা থেকে দ্রুত মনোনয়ন ফরম বিতরণের কাজ শুরু করতে বলা হয়।

এজন্য দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের উদ্দেশে দেয়া হয় কঠোর বার্তা। অনুমোদন দেয়া হয়েছে ৩৩ সদস্যের কোর কমিটি ও ১৫টি উপকমিটির।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কোর কমিটির সদস্য করা হয়েছে। প্রতি আসনে তিনজন করে মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া হেফাজতে ইসলাম সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা রাখার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের এ যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ এবং সংসদীয় দলের (পার্লামেন্টারি পার্টি) সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের শুরুতে আওয়ামী লীগ সভাপতি সবার উদ্দেশে সূচনা বক্তব্য দেন।

দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়নের গতি যাতে অব্যাহত থাকে সেদিকে আপনারা খেয়াল রাখবেন। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আনলে দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস দেশের জনগণ আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনবে। কারণ, দেশের জনগণের প্রতি আমার আস্থা-বিশ্বাস আছে। আওয়ামী লীগ দেশের উন্নয়ন করতে পারে তা প্রমাণ করেছি।

আগামী নির্বাচনে নৌকার জয় হবেই ইনশাআল্লাহ। এদিন চলতি সংসদের পার্লামেন্টারি পার্টির শেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সূচনা বক্তব্য শেষে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়।

জানা গেছে, আপাতত মহাজোটে বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী ও তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব এমএ আউয়াল এমপির নেতৃত্বাধীন ১৫ দলীয় জোট ‘ইসলামিক ডেমোক্রেটিক এলায়েন্স’, সৈয়দ বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদীর নেতৃত্বাধীন ইসলামিক ফ্রন্ট এবং মোস্তফা আমীর ফয়সলের নেতৃত্বাধীন জাকের পার্টিকে নির্বাচনী জোট তথা মহাজোটে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়।

এ দিনের সভায় নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ নির্বাচন করলে তাকে আজীবনের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। যারা বিদ্রোহী তারা আজীবনের জন্যই বিদ্রোহী। তাদের ক্ষমা নেই।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা যুগান্তরকে বলেন, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে শিগগিরই আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হবে। এর দায়িত্ব দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে দেয়া হয়েছে। মনোনয়নপত্রের মূল্য আগের মতো ২৫ হাজার টাকাই রাখা হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক মনোনয়নপত্র বিতরণ ও জমার তারিখ ঘোষণা করবেন।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তাকে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কোর কমিটির সদস্য করা হয়েছে। কমিটিতে সদস্য আছেন ৩৩ জন।

এর মধ্যে ১৬ নম্বরে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম রয়েছে। আগে থেকেই তিনি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দল ও সরকারকে সহায়তা করে আসছেন। গত দুই নির্বাচনে দলের হয়ে প্রচারেও অংশ নিয়েছেন। এ দিনের বৈঠকে ১৫টি উপকমিটিও অনুমোদন দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতাদের উদ্দেশে বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকেই কোনো আসনেই দলীয় মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে কোনোরকম সংকেত কিংবা সবুজ সংকেত দেয়া হয়নি। কাউকে প্রার্থী হিসেবে কাজও করতে বলা হয়নি। ফলে এ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই।

কাজেই যারা দলীয় মনোনয়ন পেয়ে গেছেন কিংবা প্রার্থী করার বিষয়ে সবুজ সংকেত পেয়েছেন বলে দাবি করে মাঠে নেমেছেন, তা ঠিক নয়। এমন প্রচারণা চালিয়ে কেউ দল ও নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবেন না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার পক্ষে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে দল থেকে যাকেই প্রার্থী করা হবে, তার পক্ষেই সবাইকে কাজ করতে হবে। প্রার্থী কে হলেন, সেটি দেখা যাবে না, নৌকা প্রতীক দেখে ভোট দিতে হবে। এরপরও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ প্রার্থী হলে, তিনি যত বড় নেতাই হোন না কেন, সঙ্গে সঙ্গে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হবে।

দলীয় এমপিদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, না বুঝে কারও বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না। জিতে গেছি ভাব দেখানো যাবে না। তিনি বলেন, আমি ২০১৪ সাল পার করে দিয়েছি। এবার পার করতে পারব না।

সভার একপর্যায়ে কওমি মাদ্রাসা সনদের সরকারি স্বীকৃতির প্রেক্ষাপটে আগামী নির্বাচনে হেফাজতে ইসলামের অবস্থান প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়। দলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল ইসলাম ঠাণ্ডু বলেন, কওমি মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতির পর হেফাজতে ইসলামের আমীর মাওলানা আহমেদ শফি প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

অথচ দলের কিছু নেতা বিশেষ করে জোটে থাকা বামপন্থী নেতারা টকশো কিংবা বিভিন্ন ফোরামে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামীর তাণ্ডবের প্রসঙ্গ তুলে তাদের বিরুদ্ধে কথাবার্তা বলছেন।

এটি বন্ধ করতে হবে, না হয় হেফাজতে ইসলামের একটি বড় ভোটব্যাংককে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজে লাগানো সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, হেফাজত একটি বড় শক্তি। এরা রাজনৈতিক দল জামায়াতের বিরোধী।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে নেতিবাচক কোনো কথা বলা থেকে বিরত থাকতে নেতাদের প্রতি নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ। তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন কথাও বলা যাবে না।

সভায় দলের সার্বিক নির্বাচনী প্রস্তুতি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এ প্রস্তুতি কতটুকু এগিয়েছে সে নিয়েও বিশ্লেষণ করেছেন নেতারা।

এছাড়া নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা থেকে তিনজন করে পোলিং এজেন্টকে দলের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে, যাদের দুই জন পুরুষ ও একজন মহিলা হবেন। রাজধানী ঢাকা অথবা বিভাগীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা নিজ নিজ আসনের অন্য এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেবেন।

নির্বাচনী প্রস্তুতির আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগই আবারও ক্ষমতায় আসবে- এমন আত্মবিশ্বাস আমাদের রয়েছে। তবে দলকে বিজয়ী করতে মানুষের ঘরে ঘরে যেতে হবে। তাদের কাছে সরকারের উন্নয়ন ও বিএনপি-জামায়াতের নেতিবাচক রাজনীতি তুলে ধরতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে। আমরা ক্ষমতায় আছি, আমরাই ক্ষমতায় থাকব- এ বিশ্বাস যেন দৃঢ় হয়। নবগঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিষয়ে নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের কাজ হচ্ছে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। নির্বাচনে অংশগ্রহণ নয়, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করাই তাদের উদ্দেশ্য। এ নিয়ে সজাগ থাকতে হবে। এছাড়া বৈঠকে বিভিন্ন সময়ে যাদের শোকজ করা হয়েছিল তাদের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও আলোচনা হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের যৌথসভায় টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় যাওয়ার বিষয়ে নিজের দৃঢ় বিশ্বাসের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীও আমরা উদযাপন করতে পারব। তখন স্বাধীনতার সপক্ষ শক্তি ক্ষমতায় থাকবে।’

১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ১৯৯৭ সালে স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী পালন করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। ঐক্যফ্রন্টের ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এত বড় বড় কথা বলছেন, তিনি কার সঙ্গে ঐক্য করলেন?

তিনি এতিমের টাকা চুরির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি, একুশে গ্রেনেড হামলা মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে নেতা মেনে জোট করলেন? তার মুখে দুর্নীতির কথা মানায়? তারা সিলেটে গিয়ে জনসভা করলেন, অথচ আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করলেন, আমরা নাকি বাধা দেই।

কোথায় বাধা দিলাম? আমার নির্দেশ ছিল, যারাই সমাবেশ করতে চাইবে কাউকে বাধা দেয়া হবে না। অথচ বাধা দেয়ার অভিযোগ তুললেন। আসলে তারা চায়, আমরা বাধা দেই।

সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন দিতে হবে ড. কামাল হোসেনের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সংবিধানেই বলা আছে, কোনো অনির্বাচিত সরকার আসতে পারবে না। অনির্বাচিত কেউ সরকারের প্রধান হতে পারবে না।

তাহলে কেন সংসদ ভেঙে দিতে বলছেন উনি (ড. কামাল)? একদিকে দাবি করবেন সংবিধান প্রণেতা, আবার সংবিধান মানবেন না? এমন আচরণ কেন? কেন নির্বাচিত সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে? কার স্বার্থে, কিসের জন্য। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি কি বোঝেন না যে অনির্বাচিত সরকার আসার সুযোগ নেই?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অল্প সময়ে বেশি মানুষ সঠিকভাবে ভোট দিতে পারবে বলেই আমরা ইভিএম ব্যবহার করতে চাই। এতে কেউ কারও ভোট দেয়ার সুযোগ পাবে না।

আবার কম সময়ের মধ্যেই ভোট গণনা করা যায়। পৃথিবীর বহু গণতান্ত্রিক দেশে ইভিএম ব্যবহার হয়ে থাকে। আমরাও সে কারণে ব্যবহার করতে চাই। তারা সেখানেও বাধা দিতে চান। কিন্তু কেন?

তিনি বলেন, তারা সরকারের উন্নয়ন চোখে দেখেন না। দেখবেন কিভাবে উন্নয়ন তো তাদের ভালো লাগে না। তাদের ভালো লাগে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। তাহলে তাদের কদর বাড়ে। যারা উন্নয়ন দেখেন না, তারা পাকিপ্রেমী। তাদের পাকিস্তানে চলে যাওয়া উচিত।

আওয়ামী লীগ জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জন্মলগ্ন থেকেই লড়াই-সংগ্রাম করেছে। দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সফলতা এসেছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে। এ সংগঠনের শিকড় অনেক গভীরে।

দেশের উন্নয়নে কাজ করতে চাইলে যে সম্ভব তা প্রমাণ করেছি। আওয়ামী লীগ প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় এসে অনেক উন্নয়ন কাজ শুরু করে। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে তা বন্ধ করে দেয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমরা জয়ী হয়ে আবার দেশের উন্নয়নে কাজ শুরু করি।

বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ করি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে আবার ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনে বলেই উন্নয়ন কাজগুলো দৃশ্যমান করতে সক্ষম হয়েছি।

কিন্তু বিএনপি-জামায়াত ২০১৩ সালে ভোট ঠেকানোর নামে বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা, জ্বালাও-পোড়াও শুরু করে। কিন্তু দেশের জনগণ রুখে দাঁড়ায় বলেই তারা পরাজিত হয়ে ঘরে ফিরে যায়। টানা ১০ বছর ক্ষমতায় আছি বলেই দেশে উন্নয়ন দৃশ্যমান করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি বলেন, আমাদের টার্গেট তরুণ সমাজ। তরুণ সমাজ যেন কর্মসংস্থান করতে পারে সেজন্য তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। তারা যাতে বিনিয়োগ করতে পারে সেজন্য ব্যবস্থা করে দিয়েছি। বেসরকারি খাত উন্মুক্ত করে দিয়েছি। ফলে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে উন্নতি হবে। না থাকলে যারা স্বাধীনতাই চায়নি, সেই শক্তি ক্ষমতায় এলে উন্নয়ন থেমে যাবে। তারা দেশের কোনো উন্নয়ন করবে না, ব্যক্তি উন্নয়ন করবে। অতীতেও আমরা তাই দেখেছি।

জাতির জনককে হত্যার পর জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও খালেদা কোনো সরকারই দেশের উন্নয়ন করেনি। তাদের কাজ ছিল দুর্নীতি করা, স্বজনপ্রীতি, জাতির পিতার খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া। তারা যুদ্ধাপরাধীর বিচার বন্ধ করেছে।

মামলার কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির আমলে আমার নামে ১২টি মামলা দিল। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে একাধিক মামলা দিল। আমি কোনো মামলাই তুলে নিতে বলিনি। আমি তাদের চ্যালেঞ্জ করেছিলাম, প্রত্যেকটি মামলা তদন্ত করতে হবে।

কোনো মামলায় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি। তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, কিছু দিন আগে পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হল। আমি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলাম। দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারেনি।

বরং পদ্মা সেতুর দুর্নীতির কাগজ খুঁজতে গিয়ে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও কোকো কোথায় কোথায় দুর্নীতি করেছে তার প্রমাণ পেয়েছে। কানাডার ফেডারেল কোর্ট রায় দিয়েছে পদ্মা সেতুতে বিন্দুমাত্র দুর্নীতি হয়নি।

বরং খালেদা, তারেক, কোকোর দুর্নীতি প্রমাণিত হয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে। তারা শুধু এতিমের টাকাই চুরি করে না। তারা আন্তর্জাতিক মানের দুর্নীতিবাজ।

আজকের শিশুরাই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলবে -প্রধানমন্ত্রী : বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুদের দেশের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেছেন যে তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলবে।

তিনি বলেন, ‘আজকের শিশুরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এবং আমি আশা করি তারা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলবে।’

প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার বিকালে গণভবনে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি ট্রাস্ট জাতির পিতার ৯৬, ৯৭ ও ৯৮তম জন্মদিন উপলক্ষে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

ট্রাস্টের চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা শিক্ষার উন্নয়নে তার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে বলেন, ‘দেশকে এগিয়ে নিতে এবং আগামী প্রজন্ম যাতে দেশের সুশিক্ষিত নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে সে জন্য আমরা শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সব শিশু তাদের শিক্ষা অব্যাহত রাখুক।

আর তাই আমরা প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনা মূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করছি এবং তাদের বৃত্তি ও উপবৃত্তি দিচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা ধানমণ্ডির বাড়িকে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে পরিণত করেছেন এবং জাতির পিতার নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা এই ফান্ড থেকে ১৭শ’ দরিদ্র অথচ মেধাবী শিশুকে বৃত্তি দিচ্ছি এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় হতাহতদের সহায়তা দিচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার শিশুদের গান ও চিত্রাঙ্কনের মতো খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দিচ্ছে যাতে তাদের মেধা ও চিন্তাচেতনা সঠিকভাবে বিকশিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সভাপতি শিল্পী হাশেম খান, স্বাগত বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান। স্মৃতি ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশুরা হোসেন ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অনুষ্ঠানে ছিলেন।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×