হার মেনেছে চাঁদের হাসি

পাঁচ কারণে ফলে ছন্দপতন * চার পরীক্ষায়ই পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে * পিইসিতে গত বছরের চেয়ে ৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ ও জিপিএ-৫ ১৯ হাজার ২৮৯টি কমেছে * ইইসিতে পাসের হার কমেছে ২ দশমিক ৯১ শতাংশ, জিপিএ-৫ কমেছে ৯২৫টি * জেএসসিতে পাসের হার কমেছে ৯.৪১ শতাংশ, জিপিএ-৫ কমেছে ৫৫ হাজার ৯৬০টি * জেডিসিতে পাসের হার কমেছে ৭.২২ শতাংশ, জিপিএ-৫ কমেছে ৫২৯৮টি * এটাই প্রকৃত ফল, আগামীতে পাসের হার আরও কমবে -শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা

  যুগান্তর রিপোর্ট ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

JSC Result

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি), ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (ইইসি), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি)- এ চারটি কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফল গত বছরের তুলনায় খারাপ হয়েছে।

শনিবার এ ফল প্রকাশ করা হয়। ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মান নির্ণায়ক ৪টি সূচকই এবার নিন্মমুখী। কমেছে পাশের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী এবং শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। আর বেড়েছে শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। প্রায় ৫৬ লাখের বেশি ছাত্রছাত্রী এ চার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ওই চার পরীক্ষার ফলের সারসংক্ষেপ হস্তান্তর করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার।

এর মাধ্যমে ফল প্রকাশ প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে বেলা ১টায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এবং দুপুর ২টায় শিক্ষামন্ত্রী সংবাদসম্মেলন করে ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

সকালে ফল হাতে পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশে স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার মান ঠিক রাখতে তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্কুলগুলোর দিকে একটু নজর দেয়া দরকার। সেখানে সঠিকভাবে পড়াশোনা হচ্ছে কিনা- এ বিষয়টার দিকে একটু বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। এটা খুবই জরুরি বলে আমি মনে করি।

দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে দুই মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের ঘোষণা দেয়ার পর তা শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

এরপর অনলাইন, এসএমএস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ফল জানানো হয়। গত বছরের চেয়ে এবার ফল তুলনামূলক খারাপ হলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থী পাস করায় দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ছিল বাঁধভাঙা আনন্দ। অধিকাংশ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক হাসিমুখে বাড়ি ফিরেছে।

মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার পিইসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে যমজ ভাইবোন আতিফা আসাদ আশফা ও আহনাফ আসাদ আদিব। আশফা মোট ৬০০ নম্বরের মধ্যে ৫৯০ এবং আদিবা ৫৭৯ পেয়েছে। আশফা ও আদিবা জানায়, তাদের এ ফলের কৃতিত্ব সবচেয়ে বেশি তাদের মা কান্তা আসাদের।

এ সময় তাদের বাবা আসাদুজ্জামান পলাশ বলেন, ‘প্রাপ্ত নম্বরে আমাদের মেয়ে স্কুলে প্রথম হয়েছে। এটা সততার পুরস্কার। কেননা, এ বছর প্রশ্ন ফাঁসের ব্যাপক অভিযোগ আমরা পেয়েছি। কিন্তু ভুল-শুদ্ধ যা-ই হোক, আমরা প্রশ্ন সংগ্রহ পর্যন্ত করিনি।’ তিনি সব অভিভাবকের প্রতি অনুরোধ করে বলেন, ‘আমরা কেউ যদি প্রশ্নের পেছনে না ছুটি, তাহলে দুষ্কৃতকারী আর প্রশ্ন ফাঁস করবে না।’ এ পরীক্ষা ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাঁচ কারণে এবারের ফল গত বছরের তুলনায় খারাপ হয়েছে।

বিশেষ করে পাসের হার এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী কমেছে। এগুলো হচ্ছে- জেএসসিতে কুমিল্লা বোর্ডের ফল বিপর্যয়; ইংরেজি-গণিত-আরবির মতো কঠিন বিষয়ে পাসের হার কম; উদারভাবে খাতা দেখার পরিবর্তে কিছুটা কড়াকড়ি; জেএসসি-জেডিসিতে তিন বিষয়ের নম্বর মূল ফলাফলে যোগ না হওয়া; সরকারি প্রাথমিক স্কুলে তুলনামূলক খারাপ ফল। সংশ্লিষ্টরা আরও বলেছেন, এবার জেএসসির পাসের হার কমার জন্য কুমিল্লা বোর্ডের ফলকে প্রধানভাবে দায়ী করা হচ্ছে।

ওই বোর্ডে এ বছর পাসের হার ৬২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। যেখানে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে বরিশালে পাসের হার সর্বোচ্চ ৯৬ দশমিক ৩২ শতাংশ। সর্বোচ্চ ও সর্বনিন্মের দিক থেকে উভয় বোর্ডে পাসের হারে পার্থক্য ৩৩ শতাংশের বেশি।

তবে কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হারটাই স্বাভাবিক বলে মতপ্রকাশ করেছেন কয়েকটি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকরা। তারা বলেছেন, যদি প্রশ্নফাঁস রোধ, ঠিকমতো খাতা দেখা নিশ্চিত এবং পরীক্ষার হলে অসাধু শিক্ষকের নকল সরবরাহ বন্ধ করা যায়, তাহলে পাসের হার আরও অন্তত ১০ শতাংশ কমবে। তখন সেটাই হবে আসল পাসের হার।

নাম প্রকাশ না করে একটি বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, একসময়ে উদারভাবে খাতা দেখতে বলা হতো। এবারের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা থেকে ১২ শতাংশ উত্তরপত্র নিয়ে পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট (বেডু) গবেষণা করছে।

জেএসসির খাতাও গবেষণার জন্য নেয়া হবে- আগে থেকে এমন প্রচারণা থাকায় অধিকাংশ শিক্ষকই মনোযোগ দিয়ে খাতা দেখেছেন এবং উত্তর দেখে নম্বর দিয়েছেন।

এছাড়া লাগামহীন নম্বর দেয়া কমেছে। এসব কারণ মিলিয়ে জিপিএ-৫ ও ফেলের হার বেড়েছে। ওই চেয়ারম্যান দক্ষিণ এবং উত্তরাঞ্চলের দুটি বোর্ডের নাম উল্লেখ করে বলেন, তাদের ফলাফল তদন্ত করে দেখা উচিত। কেননা ৩-৪ শতাংশ ছাত্রছাত্রী এমনিতেই অসুস্থ থাকে।

তাহলে সেখানে ৯৫-৯৬ শতাংশ কীভাবে পাস করে? ওইসব বোর্ডে কোনো দুর্নীতি হয়েছে কিনা, সেটাও দেখা দরকার বলে মনে করেন তিনি। ফল ও পাসের হার কমে যাওয়ার ব্যাপারে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া তাপাদার যুগান্তরকে বলেন, এবার শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, কর্মমুখী শিক্ষা এবং চারু ও কারুকলার মতো তিনটি বিষয় ধারাবাহিক মূল্যায়নের অধীনে স্কুলে পরীক্ষা নিয়ে নম্বর দেয়া হয়েছে।

মূল ফল তৈরিকালে ওই ফল গণনায় আনা হয়নি, যদিও তা ট্রান্সক্রিপ্টে দেয়া হবে। তিনি বলেন, পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটি ভূমিকা রেখেছে।

কেননা আগে কারও কোনো বিষয়ে পরীক্ষার নম্বর কম হলে ওই তিনটির প্রাপ্ত নম্বর জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব রাখত। মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম ছায়েফউল্লা বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কাছে আরবি, ইংরেজি ও গণিত কঠিন বিষয়।

এসব বিষয়ে খারাপ করায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটিই কমেছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, কুমিল্লা বোর্ডের ফল এবার তুলনামূলক খারাপই হয়েছে। এটিই সারা দেশের সার্বিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব রেখেছে। একই বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার বলেন, খারাপ ফলের জন্য আগের মতোই গণিত ও ইংরেজিকে দায়ী করা যায়।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও পরোক্ষভাবে উল্লিখিত কারণগুলো স্বীকার করে নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল সব ছেলেমেয়েকে স্কুলে নিয়ে আসা। তাদের স্কুলে ধরে রাখার জন্য বই দিয়েছি। লক্ষ্য ছিল, আগত সব ছেলেমেয়ে যেন পাস করে। ...এখন সার্বিকভাবে শিক্ষার গুণগত মানের জোর দেয়া হয়েছে। এর ফলে মান বাড়ছে। যদিও মান যা হওয়া দরকার, আমরা তার চেয়ে অনেক পেছনে আছি।

তবে বিশ্বে যারা আমাদের চেয়ে এগিয়ে ছিল, তারাও এ ব্যাপারে চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে।’ ঘোষিত ফল প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো কিছু গোপন করিনি। যা ফল হয়েছে, তা-ই প্রকাশ করেছি। তাৎক্ষণিকভাবে হয়তো এ প্রকৃত কারণ বলা যাবে না।

সার্বিক মূল্যায়নের জন্য সময় দরকার। সেটা বোর্ডগুলো করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষাবিদদের একটি কমিটি আছে। ওই কমিটির পরামর্শে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। পরীক্ষার ফল ও পদ্ধতি নিয়েও বেডু গবেষণা করছে। তাদের সুপারিশ ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ফলে আমরা পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছি।

গত বছরের চেয়ে এবারের পাসের হারের নিন্মগতি সম্পর্কে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের কাছেও প্রশ্ন ছিল। এ প্রসঙ্গে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলা যাবে না। বিষয়টি গবেষণার দাবি রাখে। আমাদের জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন (এনএসএ) প্রতিবেদনে বিষয়টি হয়তো স্থান পাবে। তখন আপনারা জানতে পারবেন।’

পিইসি-ইইসির ফল : পিইসি-ইইসির পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ উভয়ই গত বছরের চেয়ে কম। পিইসিতে গত বছরের চেয়ে এবার পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ কমেছে ১৯ হাজার ২৮৯টি। অপরদিকে ইইসিতে কমেছে ২ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ কমেছে ৯২৫টি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বলেন, পিইসিতে এবার ২৬ লাখ ৯৬ হাজার ২১৬ জন অংশ নেয়। পাস করে ২৫ লাখ ৬৬ হাজার ২৭১ জন। পাসের হার ৯৫.১৮ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৬০৯। গত বছর এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৯৮.৮১ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২ লাখ ৮১ হাজার ৮৯৮ জন। সর্বোচ্চ পাসের হারে গত বছরের মতো এবারও শীর্ষে বরিশাল বিভাগ, আর সর্বনিন্ম স্থান গত বছরের মতোই সিলেট বিভাগে। জেলা হিসেবে পাসের হারে অবশ্য শীর্ষে গোপালগঞ্জ। তিনটি উপজেলার সব শিক্ষার্থী পাস করেছে।

ইইসিতে এ বছর অংশ নেয় ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৯৯ জন। পাস করেছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৪৪ জন। পাসের হার ৯২.৯৪ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ২৩ জন। গত বছর এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৯৫.৮৫ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ হাজার ৯৪৮ জন। গত বছরের মতো এবারও পাসের হারে শীর্ষে রাজশাহী বিভাগ এবং পাসের হারে গত বছরের মতোই পিছিয়ে সিলেট বিভাগ। পাসের হারে জেলা হিসেবে শীর্ষে পঞ্চগড়। ইবতেদায়িতে ৫০৮ উপজেলার মধ্যে ৬১টিতে কেউ ফেল করেনি।

জেএসসি-জেডিসির ফল : সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান, জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় এবার অংশ নেয় ২৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৪২ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ২০ লাখ ১৮ হাজার ২৭১ জন। পাসের হার ৮৩.৬৫ শতাংশ। গত বছর এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৯৩.০৬ শতাংশ। সেই হিসাবে পাসের হার কমেছে ৯.৪১ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৬২৮ জন। গত বছর ছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ জন। কমেছে ৫৫ হাজার ৯৬০ জন।

এর মধ্যে কেবল জেএসসিতে অংশ নেয় ২১ লাখ ৩ হাজার ৭৬৩ জন। পাস করেছে ১৭ লাখ ৭ হাজার ২৪ জন। এবার পাসের হার ৮৩.১০ শতাংশ। গত বছর ছিল ৯২.৮৯ শতাংশ। সেই হিসাবে কমেছে ৯.৭৯ শতাংশ। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৯৭ জন। গত বছর ছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯ জন। জিপিএ-৫ কমেছে ৫০ হাজার ৬৬২ জন।

অপরদিকে জেডিসিতে অংশ নেয় ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৫৭৯ পরীক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৩ লাখ ১১ হাজার ২৪৭ জন। এবার পাসের হার ৮৬.৮০। গত বছর ছিল ৯৪.০২। জেডিসিতে পাসের হার কমেছে ৭.২২ শতাংশ। এবার এ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ হাজার ২৩১ জন। গত বছর ছিল ১২ হাজার ৫২৯ জন। কমেছে ৫,২৯৮টি।

বিষয়ভিত্তিক পাসের হার : জেএসসির ৮টি শিক্ষা বোর্ডের ৬টি বিষয়ের পাসের হারের চিত্র পাওয়া গেছে। গত বছরের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইংরেজি, গণিত এবং সাধারণ বিজ্ঞানে এবার পাসের হার বেশ খারাপ। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের মতে, পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমে যাওয়ার পেছনে এটিই প্রধান কারণ। এ বছর কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ভয়াবহভাবে কমে গেছে।

এর পেছনে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়- এ ৫ বিষয়ে পাসের হারে প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে কেবল ইংরেজিতেই পাসের হার গত বছরের চেয়ে প্রায় ২২ শতাংশ। গণিতে পাসের হার কমেছে ১৫ শতাংশের বেশি।

শুধু কুমিল্লা নয়, ঢাকাসহ অন্য সব বোর্ডেই পাসের হার উল্লিখিত বিষয়গুলোয় গত বছরের চেয়ে কম। বিশেষ করে গণিত, ইংরেজি এবং বিজ্ঞানে বেশি পাসের হার কমেছে গড়ে ৩ থেকে ২২ শতাংশ।

সেই হিসাবে বলা যায়, এ তিন বিষয়ের খারাপ পাসই সার্বিক পাসের হারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

আরও পড়ুন

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ১৬৪ ৩৩ ১৭
বিশ্ব ১৪,১১,৩৪৮৩,০০,৭৫৯৮১,০৪৯
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত