মুশফিকের পর তাইজুল

বাংলাদেশ ৫২২/৭ ডিক্লেয়ার * জিম্বাবুয়ে ৩০৪

  জ্যোতির্ময় মণ্ডল ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মুশফিকের পর তাইজুল
বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট

মিরপুর টেস্টের প্রথমদিনের যুগল নায়ক ছিলেন মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম। রেকর্ডøাত ডাবল সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয়দিনটি একান্ত নিজের করে নেন মুশফিক।

মঙ্গলবার জিম্বাবুয়ের সেঞ্চুরিয়ান ব্রেন্ডন টেলরকে ছাপিয়ে তৃতীয়দিনের নায়ক তাইজুল ইসলাম। সিলেট টেস্টে ১১ উইকেট নেয়া এই বাঁ-হাতি স্পিনার মিরপুরেও প্রথম ইনিংসে তুলে নিলেন পাঁচ উইকেট।

বাংলাদেশের মাত্র তৃতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে টানা তিন ইনিংসে তাইজুলের পাঁচ উইকেট নেয়ার কীর্তি কাক্সিক্ষত জয়ের পথে আরও এগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশকে।

স্বাগতিকদের ৫২২ রানের জবাবে কাল দিনের শেষ বলে জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যায় ৩০৪ রানে। ২১৮ রানের বিশাল লিড পাওয়া বাংলাদেশ প্রতিপক্ষকে ফলো-অন করাবে কিনা, সেটি জানা যাবে আজ সকালে। জিম্বাবুয়েকে মনস্তাত্ত্বিক চাপে রাখতেই ফলো-অনের সিদ্ধান্তটা ঝুলিয়ে রেখেছে স্বাগতিকরা।

প্রতিপক্ষকে প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ না দেয়ার কৌশলও হতে পারে। তৃতীয়দিনের খেলা শেষে তাইজুলও সংবাদ সম্মেলনে এসে রহস্যটা জিইয়ে রাখলেন, ‘দলের মধ্যে ফলো-অনের বিষয়ে কোনো কথা হয়নি।’

অবাক করার মতোই একটি রেকর্ড রয়েছে বাংলাদেশের। আগের ১০৯ টেস্টে কখনোই প্রতিপক্ষকে ফলো-অন করায়নি টাইগাররা! কাল দিনের প্রথম সেশনেই ফলো-অনের শঙ্কায় পড়েছিল জিম্বাবুয়ে।

এরপর প্রতিরোধের দেয়াল গড়ে অতিথিদের আশার আলো দেখান টেলর ও পিটার মুর। ক্যাচ মিসের মহড়ায় বাংলাদেশ শিবিরে ক্রমেই আঁধার জাঁকিয়ে বসছিল।

তবে শেষ বিকেলের ম্রিয়মাণ আলোয় আবারও উজ্জ্বল হয় বাংলাদেশের সম্ভাবনা। টেলরের সেঞ্চুরি (১১০) এবং মুরের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসের (৮৩) পরও ফলো-অন এড়াতে পারেনি সফরকারীরা।

তাইজুলের পাঁচের সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজের তিন উইকেটে তিনশ’ পেরিয়েই অলআউট জিম্বাবুয়ে। ফলো-অন এড়ানোর জন্য প্রয়োজন ছিল ১৯ রান। ২১৮ রান এগিয়ে থেকে আজ মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

দিনের শুরুতে নাইটওয়াচম্যান ত্রিপানোর উইকেটে নিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করেছিলেন তাইজুল। ম্যাচ হারলেও সিলেটে বাংলাদেশের ফিল্ডিং হয়েছিল দুর্দান্ত।

মিরপুরে বাংলাদেশ পুড়তে যাচ্ছিল ক্যাচ মিসের আক্ষেপে। ওপেনার ব্রায়ান চারি ও পিটার মুরের হাফ সেঞ্চুরির সঙ্গে টেলরের সেঞ্চুরিতে বেশ ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল অতিথিরা। তাতে বাংলাদেশের ফিল্ডারদেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। এদিন সব ভূমিকাতেই ছিলেন তাইজুল।

ক্যাচ ছেড়েছেন, আবার অসাধারণ ক্যাচ নিয়েছেন, পেয়েছেন পাঁচ উইকেটও। ফিফটি করা চারি ফিরতে পারতেন ১৯ রানেই। খালেদ আহমেদের বলে পয়েন্টে তার ক্যাচ ছাড়েন তাইজুল। আবার তাকেই ফেরান তাইজুল। ততক্ষণে জিম্বাবুয়ে তৃতীয় উইকেটে তুলে ফেলে ৫৬ রান। পোড়া কপাল খালেদ আহমেদের।

তার বলে দু’দিনে দুটি ক্যাচ উঠলেও উইকেট পাননি মিস হওয়ায়। জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করা মুরের উইকেটটি হতে পারত মোস্তাফিজের। কিন্তু নাজমুল ইসলাম অপু কাভারে দাঁড়িয়ে সেটা তালুবন্দি করতে পারেননি।

মুরের রান তখন ছিল ৭৫। শেষ পর্যন্ত মোস্তাফিজকেও উইকেট শূন্য থাকতে হয়েছে। সিলেটে এক পেসার খেলানোর কারণে অনেক সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু মিরপুরে দুই বিশেষজ্ঞ পেসার মিলেও একটি উইকেট নিতে পারেনি।

দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই শন উইলিয়ামস ও সিকান্দার রাজাকে আউট করেন তাইজুল। উইলিয়ামস বোল্ড হন ব্যাট বলের লাইন মিস করায়। সিকান্দার পেছনে সরে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন। ১৩১ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে তখন বিপদে সফরকারীরা। কিন্তু ষষ্ঠ উইকেটে দারুণ ছন্দে খেলেছেন মুর ও টেলর।

এই উইকেটে তারা তুলেছে ১৩৯ রান। জুটি ভাঙেন দু’দিনে প্রথম বোলিংয়ে আসা আরিফুল হক। ৮৩ রানে মুরকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলে। তাইজুল টেলরের লড়াইটা যেন খাদ্য শৃঙ্খলের মতোই! ৯৪ রানের সময়ে সেঞ্চুরির হতাশা নিয়ে ফেরার হাত থেকে টেলরকে বাঁচান উইকেটকিপার ব্যাটস্যান মুশফিক ক্যাচ মিস করেন। বোলার ওই তাইজুল।

আবার তাইজুলের বলেই মিডউইকেটে খেলে ডাবল নিয়ে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি পেয়ে যান টেলর। ওই ওভারে শেষ দুই বলে আরও দুটি চার মেরে রানের গতিও বাড়িয়ে নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত তিনি আবার তাইজুলের অসাধারণ ক্যাচ হয়েই মাঠ ছাড়েন।

বাংলাদেশ শিবিরে নিমেষেই স্বস্তি নেমে আসে। টেলরকে ফেরানোর এক বল পরই যে মাভুতাকে তুলে নেন মিরাজ। ফলো-অন এড়ানোর জন্য তখনও জিম্বাবুয়ের প্রয়োজন ৩৩ রান।

শেষ বিকালে ফ্লাডলাইটের আলোয় খেলা হয়েছে শেষ কয়েক ওভার। সেই আলোতেই স্বস্তি ফিরেছে স্বাগতিকদের। কিন্তু নবম উইকেট নেয়ার আগেই আবার শুরু হয় ক্যাচ মিসের প্রদর্শনী।

মিরাজের এক ওভারেই শর্ট লেগে জার্ভিস ও চাকাভার দুটি ক্যাচ মিস করেন মুমিনুল ও লিটন দাস। মিরাজের তার আগের ওভারেও আরেকটি ক্যাচ মিস হয় প্রথম স্লিপে। সেবারও ব্যাটসম্যান ছিলেন চাকাভা। দিনটা প্রায় যখন শেষ করার পথে তখন বাংলাদেশ ড্রেসিংরুমে স্বস্তি এনে দেন সেই তাইজুল।

চাকাভাকে তুলে পান ক্যারিয়ারের ষষ্ঠবারের মতো পাঁচ উইকেট। এনামুল হক জুনিয়র ও সাকিব আল হাসানের পর দেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে নেন টানা তিন ইনিংসে পাঁচ উইকেট।

পেসার চাতারা ইনজুরির কারণে ব্যাট করতে না পারায় বাংলাদেশেরও এক উইকেট কম নিতে হয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ : বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে সিরিজ, ঢাকা-২০১৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×