বিএনপির নিষ্ক্রিয় ও সুবিধাবাদীরা প্রকাশ্যে

মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে লবিং তদবিরে ব্যস্ত * যোগ্য ও ত্যাগীদের মধ্যে হতাশা

  হাবিবুর রহমান খান ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে উজ্জীবিত বিএনপি। নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে সক্রিয় ও ত্যাগীদের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবিমুখ বসন্তের কোকিলরা ডানা মেলেছে।

মামলা-হামলার ভয়ে, সম্পদ রক্ষায় যারা নিজেদের গুটিয়ে রাখছিলেন, তারাও সব শঙ্কার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসছেন। অংশ নিচ্ছেন দলীয় নানা অনুষ্ঠানে।

যাদের বিরুদ্ধে শত শত মামলার বোঝা, সেসব নেতাকর্মীর সামনেই বীরদর্পে দলীয় মনোনয়ন ফরম তুলছেন। অনেকে আবার নিজ নিজ সমর্থকদের মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকায় শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে লবিং ও তদবির শুরু করেছেন।

এদিকে নিষ্ক্রিয় ও সুবিধাবাদী এসব নেতা প্রকাশ্যে আসায় ত্যাগী ও সক্রিয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। আর্থিক এবং অন্যান্য সুবিধার মাধ্যমে তারা ফের মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে পারেন- এমন আশঙ্কাও তাদের।

তৃণমূলের একাধিক নেতা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, দলের ঐক্যের প্রয়োজনে তাদের ফিরিয়ে আনা বা সক্রিয় করা যেতে পারে।

কিন্তু সুবিধাবাদীরা যদি ফের মনোনয়ন বাগিয়ে দলে চালকের আসনে চলে আসেন, তা হবে দুঃখজনক। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ভবিষ্যতে দলের জন্য কেউ আর ঝুঁকি নেবে না।

জানা গেছে, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে নিষ্ক্রিয় ও সুবিধাবাদীরা প্রকাশ্যে আসায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলছেন না।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ ঝাড়ছেন। নজরুল নামে এক কর্মী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ হাজার হাজার নেতাকর্মীর আগমন।

প্রতিটি আসনে ৫-৬ জন করে দলীয় মনোনয়ন নিচ্ছেন। এ হিসাবে ৩০০ আসনে দেড় থেকে দুই হাজার নেতা রয়েছেন। কর্মী-সমর্থক বাদ দিলাম। এসব নেতা যদি রাজপথে থাকতেন, তাহলে চেয়ারপারসনকে কারাগারে থাকতে হতো না।’

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দলের ঐক্যের স্বার্থেই সবাইকে নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইকমান্ড।

যারা নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তাদের সক্রিয় করা হচ্ছে। কিন্তু তার মানে তো এই নয় যে, দলে সক্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের মনোনয়নও দিয়ে দেয়া হয়েছে। যারা ত্যাগী ও যোগ্য, তাদেরই আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে। আর এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরত্ব দেয়া হবে তৃণমূলের মতামতকে।

জানা গেছে, দুই দফায় খালেদা জিয়ার চূড়ান্ত আন্দোলনের ডাক আসার পরও দেখা গেছে, দলের প্রধানের আহ্বানে সাড়া দেয়নি নেতাদের একটি অংশ।

আন্দোলন শুরু হলে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের একাংশ আত্মগোপনে গেছে, কেউ কেউ তাদের ফোন বন্ধ রেখেছেন। খালেদা জিয়া অনেক নেতাকে ডেকে পাননি- এমন ঘটনাও ঘটেছে। দলের অনেক নেতার বিরুদ্ধে সরকারের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগও আছে।

সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে দলের ঐক্যের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। অতীতের মতো তারা যাতে দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত মাসে সাবেক ১২-১৫ জন এমপিকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে ফিরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে যারা বহিষ্কৃত হয়েছিলেন বা যাদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল, এমন ১০ নেতাকে রোববার দলে ফিরিয়ে আনা হয়। দলে ফিরেই বীরদর্পে নয়াপল্টনে চলে যান তারা। নিষ্ক্রিয় ও কথিত সংস্কারপন্থীদের প্রায় সবাই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

রোববার শহিদুল ইসলাম জামালের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। ওইদিনই নয়াপল্টন থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তিনি। জামালের মতো কথিত সংস্কারপন্থীদের প্রায় সবাই দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

জানতে চাইলে ফরিদপুর সদর আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী মাহবুবুল হাসান ভূঁইয়া পিংকু যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাজ করে আসছি।

কেন্দ্র ঘোষিত যে কোনো কর্মসূচি পালন করছি। কিন্তু নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় সুযোগসন্ধানী অনেক নেতা মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। নেতাকর্মীদের বিপদে-আপদে তারা কখনও দাঁড়াননি।

অতীতে দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তৃণমূল তাদের কখনও মেনে নেবে না। তাদের মনোনয়ন দেয়া হলে নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×