পৃথিবীর কোথাও শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না

কবিতা খানম

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম
নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম। ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেছেন, পৃথিবীর কোনো দেশে শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না। বাংলাদেশেও হবে না। সুতরাং আমরা বলতে চাই, একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হবে, যা নিয়ে কারও কোনো প্রশ্ন থাকবে না। নির্বাচন কমিশনকে জবাবদিহি করতে হয় জনগণের কাছে। সুতরাং এমন কোনো নির্বাচন তারা করতে চান না, যার জন্য জনগণের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শুক্রবার সকালে নির্বাচন ভবনে আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনের উৎসবের আমেজ যেন কোনোভাবে বৈরী হয়ে না ওঠে সে বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের সতর্ক থাকার তাগিদ দিয়ে কবিতা খানম বলেন, বাংলাদেশে আজ নির্বাচনের হাওয়া বইছে। আজ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং নতুন সংসদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত এ হাওয়ার মধ্যেই আমাদের বসবাস। সুতরাং হাওয়াটা যেন কোনোভাবেই বৈরী না হয়- এ নির্দেশনা অবশ্যই আপনাদের প্রতিপালন করতে হবে।

সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের ব্রিফিংয়ে কবিতা খানম বলেন, নির্বাচন কমিশন কখনোই চাইবে না নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হোক। আমরা শপথ গ্রহণের পর থেকে প্রতিটা নির্বাচনে মাঠে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। ইতঃপূর্বে কোনো কমিশন এভাবে সাধারণ নির্বাচনে মাঠপর্যায়ে বিচরণ করেনি। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ‘বিচারকের নিরপেক্ষতায়’ দায়িত্ব পালনের তাগিদ দিয়ে সাবেক এই বিচারক বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে বা অনুরাগ-বিরাগের বশবর্তী হয়ে আপনারা কোনো জাজমেন্ট করবেন না। সবার জন্য সমান আচরণ যেন থাকে, সেদিকে নজর রাখবেন।

নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত সব ধরনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ‘সদ্ভাব’ বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আইনের মাধ্যমে একটা নির্বাচন তুলে আনার ক্ষেত্রে সবার সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। শুধু নির্বাচন কমিশন এ কাজ সুষ্ঠুভাবে করবে, এ আশা যারা ব্যক্ত করেন, আমি বলব তারা নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্বগুলো ইগনোর করার চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনী দায়িত্বে যারা আছেন, গণমাধ্যমে কথা বলার ক্ষেত্রে তাদের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। এমন কিছু বলা উচিত না, যা নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা ঘটাতে পারে।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হুশিয়ার করে কবিতা খানম বলেন, দায়িত্ব পালনে যেন এতটুকু অবহেলা না হয়। একট সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন তুলে আনার ক্ষেত্রে আপনাদের সৎ থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশনের শপথের মর্যাদা রাখার চেষ্টা করবেন। তিন মাসের কর্মকাণ্ড আপনাদের চাকরি জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। সুতরাং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সৎভাবে আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন। আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ না করার কারণেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিচ্যুতি ঘটে। কমিশন সেসব ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেবে না।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, না জেনে ভুল করবেন না এবং জেনে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করবেন। যেহেতু সব দোষ নন্দ ঘোষ, সে কারণে জবাবদিহিতার জায়গাটি আমরা অত্যন্ত শক্ত করতে চাই। কোনো ধরনের বিচ্যুতি বা আইনের ব্যত্যয় ঘটার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন জবাবদিহিতার জায়গাটিতে শক্তভাবে প্রতিবাদ করবে।

শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে তিনি আহ্বান জানান, যেন তারা আচার-আচরণ ও কথাবার্তায় ‘নির্বাচনকে অসুস্থ করে’ এমন বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকেন।

অন্যদের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ব্রিফিংয়ের উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য দেন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ইসি সচিব বলেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হবে, এটা ফিক্সড। এ নির্বাচন হবে সব দলের অংশগ্রহণে। তাই নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক।

দেশের অনেক জায়গায় এখনও ব্যানার, পোস্টার নামানো হয়নি উল্লেখ করে হেলালুদ্দীন আহমদ নির্দেশ দিয়ে বলেন, ১৮ নভেম্বরের মধ্যে যাতে এগুলো নামিয়ে ফেলা হয় এবং মনোনয়নপ্রাপ্তরা যাতে ব্যানার-পোস্টার লাগানোর সুযোগ পান।

প্রসঙ্গত ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৮ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর ও ভোট গ্রহণ ৩০ ডিসেম্বর। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ২ ডিসেম্বর বাছাইয়ের পর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা।

সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে, তবে প্রতিটি কেন্দ্রে নয় -মাহবুব তালুকদার : ময়মনসিংহ ব্যুরো জানায়, ময়মনসিংহে শুক্রবার রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। তবে প্রতিটি কেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা সম্ভব হবে না। মাহবুব তালুকদার আরও বলেন, এ পর্যন্ত যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, সব নির্বাচনে সেনা মোতায়েন ছিল। এবার আমরা অতীতের সেনা মোতায়েনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে সেনাবাহিনীকে কিভাবে ব্যবহার করব, সেটা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করব, সেই আলোচনা এখনও হয়নি।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, সেনাবাহিনীকে এমন জায়গায় রাখা হবে, যেখানে প্রয়োজন ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারবে। তাতে সেনাবাহিনীর পার্টিসিপেশন আগের চেয়েও বাস্তবসম্মত হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা বা আস্থা অর্জনে সক্ষম হবে।

এ মতবিনিময় সভায় বিভাগীয় কমিশনার মাহমুদ হাসান, ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি, জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস, পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×