সাকিব-তাইজুলের টেস্ট তিন দিনে জিতল বাংলাদেশ
jugantor
সাকিব-তাইজুলের টেস্ট তিন দিনে জিতল বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ৩২৪ ও ১২৫ * ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৪৬ ও ১৩৯ * ফল : বাংলাদেশ ৬৪ রানে জয়ী

  স্পোর্টস ডেস্ক  

২৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাকিব-তাইজুলের টেস্ট তিন দিনে জিতল বাংলাদেশ
বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের উল্লাস। ছবি-সংগৃহীত

গত জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দুই টেস্টেই তিনদিনে হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। সবুজ গালিচায় বিষাক্ত পেসে বাংলাদেশকে ঘায়েল করেছিল ক্যারিবীয়রা। এবার নিজেদের আঙিনায় ঘূর্ণি-ফাঁদে উইন্ডিজকে নাকাল করে সেই যন্ত্রণা ফিরিয়ে দিল বাংলাদেশ।

চট্টগ্রাম টেস্টে স্পিন-বিষে অতিথিদের প্রাণ সংহার করে তিনদিনেই জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। ৬৪ রানের মধুর জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।

শনিবার চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয়দিনে ২০৪ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়ায় ঘূর্ণি বলের প্রলয় নাচনে পথ হারিয়ে চা-বিরতির আগেই ১৩৯ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

প্রথম ইনিংসে এক উইকেট পাওয়া তাইজুল ইসলাম দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৩ রানে ছয় উইকেট নিয়ে গুঁড়িয়ে দেন অতিথিদের। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ করেন জোড়া শিকার।

দুই উইকেটের প্রথমটি দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে টেস্টে ২০০ উইকেটের মাইলফলক ছোঁয়া সাকিব গড়েছেন দারুণ এক কীর্তি।

টেস্ট ইতিহাসে ২০০ উইকেট ও তিন হাজার রানের দ্রুততম ডাবলের রেকর্ড এখন সাকিবের। ৫৪ টেস্টে ডাবল পূর্ণ করে সাকিব ভেঙেছেন ইংলিশ কিংবদন্তি ইয়ান বোথামের (৫৫ টেস্টে) রেকর্ড।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ব্যাটিং-দুরূহ উইকেটে প্রথম ইনিংসে অনবদ্য সেঞ্চুরির সুবাদে মুমিনুল হক ম্যাচসেরা হলেও বাংলাদেশের জয়ের মূল কুশীলব স্পিনাররাই। চার স্পিনার মিলে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন উইন্ডিজের ২০ উইকেট।

প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন অভিষিক্ত নাঈম হাসান। দ্বিতীয় ইনিংসে ছয় উইকেট নিয়ে দলের জয় ত্বরান্বিত করেন তাইজুল। টেস্টে এটি বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় ও সব মিলিয়ে ১২তম জয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দেশের মাটিতে এটাই প্রথম টেস্ট জয়। আগের দুটি জয় ছিল ২০০৯ সালের উইন্ডিজ সফরে।

তৃতীয়দিনের শুরুটা অবশ্য আশা জাগানিয়া ছিল না। আগেরদিন ৫৫ রানে পাঁচ উইকেট হারানো বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস কাল গুটিয়ে যায় ১২৫ রানে। দিনের শুরুতেই মুশফিক ১৯ রানে ফিরে যাওয়ার পর আটে নেমে ৩১ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন মাহমুদউল্লাহ।

মিরাজের ব্যাট থেকে আসে ১৮ রান। তাতেই দু’শ ছাড়িয়ে যায় লিড। বাংলাদেশ পেয়ে যায় জয়ের রসদ। ঘূর্ণি উইকেটে ২০৪ রানের লক্ষ্যটাকেই উইন্ডিজের জন্য হিমালয় বানিয়ে ফেলেন স্পিনাররা।

সাকিব ও তাইজুলের জোড়া ছোবলে ১১ রানেই চার উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় উইন্ডিজ। প্রথম ইনিংসের মতো ঝড় তোলার আভাস দেয়া শিমরন হেটমায়ারকে ২৭ রানে থামিয়ে দেন মিরাজ।

এরপর তাইজুলের তোপে ৭৫ রানে অষ্টম উইকেট হারায় উইন্ডিজ। নবম উইকেটে ৬৩ রানের জুটি গড়ে হারের ব্যবধান শুধু কমাতে পেরেছেন সুনিল আমব্রিস (৪৩) ও জোমেল ওয়ারিক্যান (৪১)। মিরাজ এই জুটি ভাঙার পর আমব্রিসকে ফিরিয়ে ম্যাচ শেষ করেন তাইজুল।

সাকিব-তাইজুলের টেস্ট তিন দিনে জিতল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ৩২৪ ও ১২৫ * ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৪৬ ও ১৩৯ * ফল : বাংলাদেশ ৬৪ রানে জয়ী
 স্পোর্টস ডেস্ক 
২৫ নভেম্বর ২০১৮, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
সাকিব-তাইজুলের টেস্ট তিন দিনে জিতল বাংলাদেশ
বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের উল্লাস। ছবি-সংগৃহীত

গত জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দুই টেস্টেই তিনদিনে হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। সবুজ গালিচায় বিষাক্ত পেসে বাংলাদেশকে ঘায়েল করেছিল ক্যারিবীয়রা। এবার নিজেদের আঙিনায় ঘূর্ণি-ফাঁদে উইন্ডিজকে নাকাল করে সেই যন্ত্রণা ফিরিয়ে দিল বাংলাদেশ।

চট্টগ্রাম টেস্টে স্পিন-বিষে অতিথিদের প্রাণ সংহার করে তিনদিনেই জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। ৬৪ রানের মধুর জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।

শনিবার চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয়দিনে ২০৪ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়ায় ঘূর্ণি বলের প্রলয় নাচনে পথ হারিয়ে চা-বিরতির আগেই ১৩৯ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

প্রথম ইনিংসে এক উইকেট পাওয়া তাইজুল ইসলাম দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৩ রানে ছয় উইকেট নিয়ে গুঁড়িয়ে দেন অতিথিদের। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ করেন জোড়া শিকার।

দুই উইকেটের প্রথমটি দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে টেস্টে ২০০ উইকেটের মাইলফলক ছোঁয়া সাকিব গড়েছেন দারুণ এক কীর্তি।

টেস্ট ইতিহাসে ২০০ উইকেট ও তিন হাজার রানের দ্রুততম ডাবলের রেকর্ড এখন সাকিবের। ৫৪ টেস্টে ডাবল পূর্ণ করে সাকিব ভেঙেছেন ইংলিশ কিংবদন্তি ইয়ান বোথামের (৫৫ টেস্টে) রেকর্ড।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ব্যাটিং-দুরূহ উইকেটে প্রথম ইনিংসে অনবদ্য সেঞ্চুরির সুবাদে মুমিনুল হক ম্যাচসেরা হলেও বাংলাদেশের জয়ের মূল কুশীলব স্পিনাররাই। চার স্পিনার মিলে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন উইন্ডিজের ২০ উইকেট।

প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন অভিষিক্ত নাঈম হাসান। দ্বিতীয় ইনিংসে ছয় উইকেট নিয়ে দলের জয় ত্বরান্বিত করেন তাইজুল। টেস্টে এটি বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় ও সব মিলিয়ে ১২তম জয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দেশের মাটিতে এটাই প্রথম টেস্ট জয়। আগের দুটি জয় ছিল ২০০৯ সালের উইন্ডিজ সফরে।

তৃতীয়দিনের শুরুটা অবশ্য আশা জাগানিয়া ছিল না। আগেরদিন ৫৫ রানে পাঁচ উইকেট হারানো বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস কাল গুটিয়ে যায় ১২৫ রানে। দিনের শুরুতেই মুশফিক ১৯ রানে ফিরে যাওয়ার পর আটে নেমে ৩১ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন মাহমুদউল্লাহ।

মিরাজের ব্যাট থেকে আসে ১৮ রান। তাতেই দু’শ ছাড়িয়ে যায় লিড। বাংলাদেশ পেয়ে যায় জয়ের রসদ। ঘূর্ণি উইকেটে ২০৪ রানের লক্ষ্যটাকেই উইন্ডিজের জন্য হিমালয় বানিয়ে ফেলেন স্পিনাররা।

সাকিব ও তাইজুলের জোড়া ছোবলে ১১ রানেই চার উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় উইন্ডিজ। প্রথম ইনিংসের মতো ঝড় তোলার আভাস দেয়া শিমরন হেটমায়ারকে ২৭ রানে থামিয়ে দেন মিরাজ।

এরপর তাইজুলের তোপে ৭৫ রানে অষ্টম উইকেট হারায় উইন্ডিজ। নবম উইকেটে ৬৩ রানের জুটি গড়ে হারের ব্যবধান শুধু কমাতে পেরেছেন সুনিল আমব্রিস (৪৩) ও জোমেল ওয়ারিক্যান (৪১)। মিরাজ এই জুটি ভাঙার পর আমব্রিসকে ফিরিয়ে ম্যাচ শেষ করেন তাইজুল।