প্রতিবন্ধী দিবসে প্রধানমন্ত্রী

চাকরিতে অনগ্রসরদের জন্য নীতিমালা হচ্ছে

  বাসস ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শিশুদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ছবি: বাসস
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শিশুদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ছবি: বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, সংখ্যালঘু নৃগোষ্ঠীসহ অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে তার সরকার নীতিমালা প্রণয়ন করছে।

তিনি বলেন, ‘কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিল। কিছুদিন পরপরই এ আন্দোলন হয়। সেজন্য আমরা কোটা পদ্ধতি বাতিল করে দিয়েছি- এটা ঠিক। তবে একটা নীতিমালা আমরা তৈরি করছি। অনগ্রসর জাতি যেন যথাযথভাবে চাকরি পায় এবং চাকরিতে তাদের অধিকার নিশ্চিত হয়, নীতিমালায় সেই ব্যবস্থা অবশ্যই করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ২৭তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস এবং ২০তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

১৯৯৬ সালে সরকারে আসার পর থেকেই প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষায় তার সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ হিসেবে তাদের প্রাপ্য অধিকার আমরা যেন দিতে পারি এবং তাদের ভেতরে যে শক্তি আছে সেটাকে আমরা যেন কাজে লাগাতে পারি, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীদের জন্য কল্যাণ ফাউন্ডেশন তৈরি এবং তাদের মধ্যে যারা খেলাধুলায় সম্পৃক্ত, তাদের বিশেষ অলিম্পিকে সম্পৃক্ত করাসহ আরও নানা ধরনের সুযোগ আওয়ামী লীগ সরকারই করে দিয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারাই আমাদের জন্য স্বর্ণ জয় করে আনছে, এর মাধ্যমেই বোঝা যায় তাদের সুপ্ত প্রতিভাটা। কাজেই আমাদের দেশের কাজেও তারা লাগতে পারে।’ ‘সাম্য ও অভিন্ন যাত্রায় প্রতিবন্ধী মানুষের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য দিয়ে সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জিল্লার রহমান এবং জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সভাপতি সায়েদুল হকও বক্তৃতা করেন।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ডা. মোজাম্মেল হোসেন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩’ এবং ‘নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন ২০১৩’ নামে দুটি আইন পাস করে। এরই মধ্যে এর বিধিমালাও প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের নির্দেশনা হচ্ছে- যত স্থাপনা হবে, সব জায়গায় প্রতিবন্ধীদের যাতায়াত ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যেন থাকে।

তিনি বলেন, বিশেষ টয়লেটের ব্যবস্থাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্য সব স্থানে তাদের জন্য যেন সুযোগ-সুবিধা থাকে, সেই নির্দেশনা দেয়া আছে।

শুরুতেই বিজয়ের মাসে জাতির পিতা, মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং সম্ভ্রমহারা দুই লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগ সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা দেশ স্বাধীন করার পরপরই আমাদের একটা সংবিধান দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি দেশের সর্বস্তরের মানুষের অধিকারের কথা বলে গেছেন। প্রতিবন্ধী এবং অনগ্রসর জাতির কথাও সেখানে বলা আছে।

সরকার প্রতিবন্ধীদের জন্য নিয়মিত ভাতার ব্যবস্থা করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় ১৬ লাখের ওপরে প্রতিবন্ধী রয়েছে, তাদের যেমন ভাতা দেয়া হচ্ছে, তেমনি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিনা পয়সায় পাঠ্যপুস্তক এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল বই প্রদানে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই থেকেই প্রতিবন্ধীদের ভাতা এবং সরকার প্রদত্ত অন্যান্য ভাতা ব্যাংকে প্রাপকের নিজস্ব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মোবাইল ফোনের সহায়তায় ‘জিটুপি’ ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রতিবন্ধিতার কারণে কোনো শিশুকে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা যাবে না’- এ লক্ষ্যে আমরা একটি বাস্তবমুখী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছি।

তিনি বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রতিবন্ধীরা যেন তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে, সেই প্রশিক্ষণও আমরা দিচ্ছি এবং প্রতিবন্ধীদের যারা প্রশিক্ষণ প্রদান করছেন তারা যেন আরও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ পান, সেই ব্যবস্থাও আমরা করছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি এটুকু বলতে পারি, আমাদের কোনো শ্রেণীর মানুষই অবহেলিত থাকবে না। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সফল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধীদের সহযোগিতায় বিভিন্নমুখী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

ঘটনাপ্রবাহ : কোটাবিরোধী আন্দোলন ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×