একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

একক প্রার্থী নিশ্চিতের পথে মহাজোট

ক্ষমতাসীন দলের কঠোর অবস্থান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের তৎপরতায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে ইতিবাচক সাড়া বিদ্রোহীদের

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একক প্রার্থী নিশ্চিতের পথে মহাজোট

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহজোটের একক প্রার্থী নিশ্চিতের পথে ক্ষমতাসীনরা। এ ব্যাপারে গত এক সপ্তাহ ধরে নানা তৎপরতা চালিয়েছেন দলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত চার নেতা।

এরই মধ্যে ‘বিদ্রোহীদের বসিয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা করেছেন তারা। আবার বেশ কয়েকজনকে (বিদ্রোহী) অভিমান ভাঙাতে গণভবনে ডেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়ে দিয়েছেন।

এতে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। ৯ ডিসেম্বরের (প্রত্যাহারের শেষ দিন) মধ্যেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে দল বা জোটের প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় হবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা। ফলে নির্বাচনে প্রায় সব আসনে মহাজোটের একক প্রার্থী থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

সারা দেশের মহাজোটের নির্বাচনী কার্যক্রম দেখভাল করতে দলের কেন্দ্রীয় চার নেতাকে দায়িত্ব দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্বও পড়েছে তাদের (চার নেতা) ওপর। এই চার নেতা হলেন- দলের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও বিএম মোজাম্মেল হক।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, যেসব আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী আছে, আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। একক প্রার্থী নির্ধারণে আওয়ামী লীগ সভাপতির বার্তা তাদের পৌঁছে দিয়েছি। তারা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আশা করি, এবারের নির্বাচনে কোনো আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে না। ৩০০ আসনেই আমাদের (মহাজোটের) একক প্রার্থী থাকবে।

৭০-৮০টি আসনে আওয়ামী লীগের যেসব নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহ) হয়েছিলেন তাদের অনেকেরই মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে ৪০-৪২ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের হুশিয়ার করে বলেছেন, দলের বাইরে গিয়ে কেউ নির্বাচন করলে তাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে। এরপর একাধিক অনুষ্ঠানে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ বহিষ্কারের বিষয়টি পুনরুল্লেখ করেছেন। সর্বশেষ বুধবার ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘৯ তারিখ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করা হবে।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং দলের কঠোর অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থীরা নমনীয় হয়ে পড়ছেন। ফলে এবারের নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থীর বাইরে স্বতন্ত্র হিসেবে দল বা জোট শরিকদের কোনো প্রার্থী থাকার আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম যুগান্তরকে বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের (বিদ্রোহী) সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আলোচনা করেছি। অনেককে ঢাকায় ডেকে কথা বলেছি। অনেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি বলেন, শুধু দল নয়, মহাজোটের প্রার্থীদের যেভাবে আসন বণ্টন করা হয়েছে, সেখানে একক প্রার্থী নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলাপ হয়েছে। আমরা ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ওই সব প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন। আগামী নির্বাচনে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে অর্থাৎ মহাজোটগত ভাবে একটি ভালো ফল পাব বলে আশা করছি।

যাচাই-বাছাইয়ে পর আওয়ামী লীগের বৈধ প্রার্থী হয়েছেন ২৭৮ জন। ২৬৪ আসনে দলটির মনোনয়নে ২৮১ জন প্রার্থী হয়েছিলেন। এর মধ্যে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। আর এর মধ্যে ৩৬টি আসনে দলটির কেউ মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। এগুলো মহাজোট শরিকদের জন্য ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া মহাজোট শরিক দলগুলো নিজ দলের প্রতীকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসনে প্রার্থী দিয়েছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগেই (৯ ডিসেম্বর) মহাজোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শরিকদের সঙ্গে আসন বণ্টন চূড়ান্ত হবে বলে জানান ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকরা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত প্রার্থী কারা হচ্ছেন, তা জানা যাবে আগামীকাল (আজ) শুক্রবার। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দল ও জোটের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ করা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ইতিমধ্যে দল ও জোটের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। আজ-কালের মধ্যেই চিঠি দিয়ে দেয়া হবে। আগামীকাল মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা চিঠি পাবেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের যৌথসভায় ওবায়দুল কাদের এসব তথ্য দেন।

মনোনয়নপত্র দাখিল এবং যাচাই-বাছাইয়ের পর দেখা গেছে, দল ও জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে ৪০-৪২টি আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ফেনী-৩ আসনে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি থেকে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। এই আসনে আওয়ামী লীগের তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তারা হলেন- বর্তমান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (এমপি) রহিম উল্লাহ, যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবুল বাশার ও তার ছেলে ইশতিয়াক আহমেদ। নড়াইল-১ আসনের জাসদ (আম্বিয়া) সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়াকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের চিঠি নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ আসনে বর্তমান এমপি কবিরুল হক মুক্তি মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

পিরোজপুর-১ আসনে বর্তমান এমপি একেএম আউয়ালকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিমকে। এম এ আউয়াল বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। আবার পিরোজপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের কাউকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া নিয়ে দলে আলোচনা আছে। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন ও আশফাকুর রহমান।

খুলনা-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান এমপি পঞ্চানন বিশ্বাস। এখানে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ননীগোপাল মণ্ডল। লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ সাত্তার। পিরোজপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী) হয়েছেন আওয়ামী লীগের দুই নেতা- উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগকারী আশরাফুর রহমান ও সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন।

চট্টগ্রাম-২ আসনটি ১৪ দলের শরিক তরিকতকে ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এটিএম পেয়ারুল ইসলাম।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×