ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

ক্লাসে ফেরার ঘোষণা, কারাগারে হেনা

ক্ষমা চাইলেন পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি * আজ থেকেই পরীক্ষা

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ক্লাসে ফেরার ঘোষণা, কারাগারে হেনা

দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাসে আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করেছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। বুধবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে তারা এ ঘোষণা দেয়।

এর আগে সকালে প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থানের মধ্য দিয়ে তৃতীয় দিনের বিক্ষোভ শুরু করে তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বাতিলসহ ছয় দফা দাবি মেনে নিতে স্লোগান দিতে থাকে।

তৃতীয় দিনে এসে এদিন পর্ষদ সভাপতি ছাত্রীদের কাছে ক্ষমা চান। বাবা-মাকে অপমান ও নকল করার অপবাদের গ্লানি সইতে না পেরে ৩ ডিসেম্বর গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী অরিত্রী অধিকারী।

আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় তিন আসামির মধ্যে ক্লাস শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে বুধবার রাতে উত্তরার একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিকালে ছাত্রীদের পক্ষে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেন (শিক্ষার্থীদের) মুখপাত্র আনুশকা রায়। তিনি বলেন, ‘শিক্ষকরা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, সব দাবি পর্যায়ক্রমে মেনে নেয়া হবে। দাবির মধ্যে যেগুলো আইনি বিষয়, সেগুলো আইনের মাধ্যমে সমাধান হবে। এ কারণে আমরা এখন ক্লাসে ফিরে যাব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ এ সময় আজ থেকে পরীক্ষা ও ক্লাসে ফিরে যেতে সব শিক্ষার্থীকে আহ্বান জানান আনুশকা। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, আজ থেকেই বার্ষিক পরীক্ষা চলবে।

শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সকাল থেকেই প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ করছিল। বেলা আড়াইটার দিকে কয়েকজন শিক্ষক এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় শিক্ষকদের কয়েকজনকেও ছাত্রীদের সঙ্গে কাঁদতে দেখা যায়। এক পর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভেতরে নিয়ে যেতে সক্ষম হন তারা। ছাত্রীদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন। বৈঠক থেকে বেরিয়ে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা।

এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার সাংবাদিকদের মাধ্যমে অরিত্রীর বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চান। ছাত্রীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজন হলে পদত্যাগ করতেও রাজি আছেন বলে জানান। গোলাম আশরাফ তালুকদার বলেন, ‘শিক্ষকদের গ্রেফতার বা অন্যান্য বিষয় আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চলছে। আমিও চাই, এটি আইনগত প্রক্রিয়ায় চলুক। এই ধরনের ঘটনা আইনের প্রক্রিয়ায় আনা উচিত, যেন ভবিষ্যতে কোনো বাবা-মায়ের বুক খালি না হয়।’ আজ ও কালকের পরীক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা ফিরে আসুক। তবে কাউকে জোর করা যাবে না। তারা নিজের ইচ্ছায় পরীক্ষা দিক।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা আসার পর শিক্ষক হাসনা হেনাকে নির্দোষ দাবি করে তার মুক্তি চেয়ে বিক্ষোভ করে আরেক দল শিক্ষার্থী।

কারাগারে হাসনা হেনা : বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শ্রেণী শিক্ষক হাসনা হেনাকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়। রিমান্ড আবেদন না থাকায় আসামিকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানির সময় তাকে এজলাসে তোলা হয়নি।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান তালুকদার আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে অরিত্রীর আত্মহত্যার প্রেক্ষাপট, ঘটনার সারসংক্ষেপ ও তাতে হাসনা হেনার সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরেন।

পাশাপাশি বলা হয়, বাদীর (অরিত্রীর বাবা) স্পষ্ট ধারণা যে, স্কুলের তিন শিক্ষকের নির্মম আচরণে মর্মাহত হয়ে অরিত্রী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। আসামির নাম-ঠিকানা যাচাই হয়নি। জামিন দিলে পলাতক হয়ে মামলার তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি করবে।

বিকাল ৪টার দিকে শুনানিতে আসামির পক্ষে আইনজীবী মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী অংশ নেন। তিনি বলেন, ২০ বছরের বেশি সময় ধরে হাসনা হেনা শিক্ষকতা করেন। এজাহার ও প্রতিবেদনে তিনি অরিত্রীকে কোনো প্ররোচনা দিয়েছেন, বকাঝকা করেছেন এমন বক্তব্য নেই। শুধু বলা হয়েছে, অরিত্রী ও তার মা-বাবা আসার পর তিনি তাদের অনেকক্ষণ বসিয়ে রেখে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও শাখা প্রধান জিন্নাত আরার কাছে নিয়ে যান। তাহলে কিভাবে তিনি প্ররোচনা দিলেন। যে শিক্ষক মোবাইল জব্দ করলেন তাকেও এ মামলার আসামি করা হয়নি। শুধু হয়রানি করার জন্য হাসনা হেনাকে আসামি করা হয়েছে।

জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ বলেন, ভিকারুননিসার এই ন্যক্কারজনক ঘটনা অভিভাবকসহ সবাইকে নাড়া দিয়েছে।

তারা শিক্ষকতার ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছেন। অরিত্রী যদি অন্যায় করেও থাকে তাদের উচিত ছিল তাকে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা। তা না করে তারা অরিত্রী ও তার বাবা-মাকে অপমান করেছেন।

তাদের জন্যই অকালে একটি প্রাণ ঝরে গেল। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন নাকচ করে ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সাঈদ কারাগারে পাঠানোর ওই আদেশ দেন।

ঘটনাপ্রবাহ : ভিকারুননিসা ছাত্রী অরিত্রির আত্মহত্যা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×