নির্বাচন নিয়ে বলার কিছুই নেই: খালেদা জিয়া

এমন জায়গায় চার্জ শুনানি হলে আমি আর আসব না * পরবর্তী শুনানি ১৩ জানুয়ারি * খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বললেন তার আইনজীবীরা * মওদুদকে বললেন- আপনাকে দিয়ে কিছু হবে না, খোকনকে ডাকেন

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচন নিয়ে বলার কিছুই নেই: খালেদা জিয়া

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমার বলার কিছুই নেই।’

এদিন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদের (আসামি) চার্জ (অভিযোগে) শুনানি অব্যাহত থাকায় আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন। পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর অস্থায়ীভাবে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।

দুপুর ১২টা ১২ মিনিটের দিকে কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে আদালতে উপস্থিত করা হয়। উপস্থিত হয়েই খালেদা জিয়া বলেন, ‘আদালতের ভেতর এত লোক কেন?

পুলিশদের এখান থেকে সরে যেতে বলুন।’ ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে বিচারক আদালতে আসেন। শুরুতেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতের প্রতি চার্জ শুনানি নেয়ার আবেদন করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, পিপি যে দরখাস্ত (এফবিআই ও কানাডার রয়েল মাউন্টেন পুলিশের সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তা সাক্ষ্য গ্রহণ) করেছেন, তা আইনসম্মত নয়।

এরপর খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের লোকজন তো দাঁড়িয়ে আছে। তাদের তো বসতে দিতে হবে। দুদকের পিপি বলেন, কিছু চেয়ার দেয়া আছে, সেখানে বসতে পারেন। খালেদা জিয়া বলেন, ‘কোথায় চেয়ার? এরপর বিচারক বলেন, পিপির আবেদন নথিভুক্ত করা হল। এ নিয়ে পরে শুনানি হবে। এখন চার্জ শুনানি শুরু করা হোক।’

আসামিপক্ষ শুরু থেকে চার্জ শুনানি করার অনুরোধ করলে বিচারক বলেন, ‘যেহেতু কোর্ট পরিবর্তন হয়েছে, সেহেতু আমি প্রথম থেকে শুনব।’

দুপুর ১২টা ২২ মিনিটের দিকে মোশাররফ হোসেন কাজল আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) শুনানি শুরু করেন। শুনানির এক পর্যায়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এমন জায়গায় কোনো মামলা চলতে পারে না। এমন স্থানে চার্জ শুনানি হলে আমাকে সাজা দেন আর যাই করুন, আমি আর আসব না। কারণ এখানে ওপেন ট্রায়াল হতে পারে না। লোকজন আসতে পারে না। গেট থেকে ফেরত যেতে হয়।’

উত্তরে মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘পর্যাপ্ত চেয়ারের ব্যবস্থা আছে।’ এরপর মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সংবিধান অনুসারে এটা পাবলিক ট্রায়াল হতে পারে না।’ এ পর্যায়ে বিচারক বলেন, ‘পর্যাপ্ত চেয়ার ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যেন হয়, আমি সে ব্যাপারে বলব।’

দুপুর ১২টা ২৬ মিনিটের দিকে মোশাররফ হোসেন কাজল ফের চার্জ শুনানি শুরু করেন। দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন তিনি। দুপুর ১টার দিকে রাষ্ট্রপক্ষের চার্জ শুনানি শেষ হয়।

এরপর আসামি সাবেক প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন অসুস্থ জানিয়ে সময় আবেদন করেন তার আইনজীবী। আদালত পরবর্তীকালে মওদুদ আহমদের পক্ষে চার্জ শুনানি শুরুর আদেশ দেন। মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সিরিয়ালি সবার শেষের আসামি থেকে শুরু করা হোক। সবার শেষে বলবেন খালেদা জিয়া আর তার আগে বলব আমি।’ এ সময় দুদকের পিপি বলেন, ‘আপনার জন্য (মওদুদ আহমদ) আড়াই বছর ধরে চার্জ শুনানি চলছে।’

এরপর বিচারক শেষের দিকের আসামি থেকে শুরু করার আদেশ দেন। প্রথমেই আসামি সেলিম ভূঁইয়ার আইনজীবী চার্জ শুনানিতে সেলিম ভূঁইয়াকে নির্দোষ দাবি করেন। এরপর আসামি গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ও সিএম ইউসুফ হোসেন ও খন্দকার শহিদুল ইসলামের পক্ষে সময় আবেদন করা হয়। এরপর শুরু করে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘মামলার আলামতের কোনো লিস্ট আমরা পাইনি। এগুলো প্রতিটি ডকুমেন্ট দেখা দরকার।’

জবাবে বিচারক বলেন, ‘২০০৮ সালের ২৫ মে থেকে এ মামলা চার্জ হেয়ারিংয়ের জন্য রয়েছে। গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি আপনি (মওদুদ আহমদ) হেয়ারিং শুরু করেছেন। এখনও যদি না পেয়ে থাকেন, তাহলে আবেদন করেন, পেয়ে যাবেন।’

দুপুর ১টা ১৪ মিনিটের দিকে মওদুদ ফের চার্জ হেয়ারিং শুরু করেন। তিনি বলেন, আমি বা আমার ল’ ফার্ম আইনি মতামত দেইনি। চার্জ হেয়ারিং করার আগে এটা পরীক্ষা করা উচিত ছিল। দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে চার্জ হেয়ারিং শেষ করে সময় আবেদন করেন মওদুদ আহমদ। আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী শুনানির জন্য ১৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।

আদালতের কার্যক্রমের শেষ পর্যায়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলার জন্য তার আইনজীবীরা বিচারকের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করেন। জবাবে বিচারক বলেন, ‘যেহেতু এ মামলায় (নাইকো মামলা) তিনি জামিনে আছেন, সেহেতু কথা বলার জন্য আদালতের অনুমতির প্রয়োজন নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কথা বলতে পারেন। এ কথা বলে বিচারক এজলাস ত্যাগ করেন। এরপর আইনজীবীরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে খালেদা জিয়ার মুখে শোনা যায়- ‘আপনাকে দিয়ে হচ্ছে না। খোকনকে (মাহবুব উদ্দিন খোকন) পাঠান।’ এরপর মাহবুব উদ্দিন খোকন কিছুক্ষণ খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে চিকিৎসার জন্য তাকে গত ৬ অক্টোবর বিএসএমএমইউতে নেয়া হয়। তিনি হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির অপর মামলায়ও সাজাপ্রাপ্ত হন। সেখান থেকে ৮ নভেম্বর তাকে সরাসরি আদালতে হাজির করা হয়। চিকিৎসা শেষে বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির করে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক (বর্তমানে উপপরিচালক) মুুহাম্মদ মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৫ মে দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক (বর্তমানে উপপরিচালক) এসএম সাহিদুর রহমান মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। চার্জশিটে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের পক্ষে আংশিক চার্জ শুনানি হয়।

খালেদা জিয়া ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন- সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সিএম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ। এদের মধ্যে বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান মারা গেছেন।

ঘটনাপ্রবাহ : কারাগারে খালেদা জিয়া

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×