শ্রমিকদের অবরোধ ভাংচুর, সাভারে সংঘর্ষে নিহত ১

বেতন কাঠামোয় অসঙ্গতি এ মাসেই সংশোধনের আশ্বাস

শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর * ডিসেম্বরে ঘাটতি বেতন জানুয়ারিতে পুষিয়ে দেয়া হবে

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাভারের হেমায়েতপুরে মঙ্গলবার শ্রমিকদের বিক্ষোভে পুলিশের অ্যাকশন
সাভারের হেমায়েতপুরে মঙ্গলবার শ্রমিকদের বিক্ষোভে পুলিশের অ্যাকশন। ছবি: যুগান্তর

পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন কাঠামোয় অসঙ্গতি চলতি জানুয়ারির মধ্যেই সমাধানের আশ্বাস দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সরকার-মালিক-শ্রমিক ত্রিপক্ষীয় প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কোর কমিটির জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

একই সঙ্গে মজুরি ইস্যুতে শ্রমিক আন্দোলন, রাস্তা অবরোধ, গাড়ি ভাংচুর ও জ্বালাও-পোড়াও পরিহার করে কাজে ফেরারও আহ্বান জানানো হয়েছে। বেতন বৈষম্যকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, লাঠিচার্জ, গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সাভারে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক শ্রমিক নিহত হয়েছে।

ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর, উত্তরখান, দক্ষিণখান, আজমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং বেশ কয়েকটি গাড়িও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

শ্রমিক অবরোধের কারণে এসব এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। বিকালে শ্রমিকরা রাস্তা ছেড়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

তিন দিন ধরে চলা বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে দেড় মাস আগে ঘোষিত নতুন মজুরি কাঠামো পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কয়েকদিন ধরে পোশাক খাতে সৃষ্ট চলমান শ্রম অসন্তোষ নিরসনে করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে মঙ্গলবার রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ের শ্রম ভবনে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কোর কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, রফতানিকারক সমিতির সভাপতি ও সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী, এফবিসিসিআই সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বাণিজ্য সচিব মো. মফিজুল ইসলাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব আফরোজা খান, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিঞা, বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, মো. আতিকুল ইসলাম, এমপ্লোয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি কামরান টি রহমান ও শ্রমিক নেতা আমিরুল হক আমিন, মাহবুবুর রহমান, সিরাজুল ইসলাম রনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আড়াই ঘণ্টাব্যাপী চলা বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, শ্রমিকদের বেতন কোনোদিন কমে না। কমবেও না। ন্যায্য মজুরি থেকে কেউ কমানোর চেষ্টা করলে সরকার শ্রমিকদের পক্ষ হয়ে তা প্রতিরোধ করবে। কিন্তু বলতে চাই অসহিষ্ণু হলে চলবে না। অবরোধ-ভাংচুর, জ্বালাও-পোড়াওয়ের মাধ্যমে দাবি আদায় হয় না।

কোনো নৈরাজ্যের সুযোগ দেয়া হবে না উল্লেখ করে শ্রমিক নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শ্রমিকদের নেতা হয়ে আপনারা শ্রমিকদের শেষ করে দেবেন না। মনে রাখবেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমবান্ধব।

সরকার শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গেই দেখে। এ কারণে পাঁচ বছরের মধ্যে দু’বার মজুরি বাড়ানো হয়েছে। সদ্য ঘোষিত বেতন কাঠামোয় অসঙ্গতি থাকতে পারে। সেটি সমাধানেরও সুযোগ রয়েছে।

ইতিমধ্যে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের পাঁচজন করে প্রতিনিধি এবং সরকার পক্ষের দুই সচিবকে (বাণিজ্য ও শ্রম) নিয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা শ্রমিকদের বিভিন্ন গ্রেডের বেতন কাঠামো পর্যালোচনা করবেন। সেখানে অঙ্গতি থাকলে তা চলতি মাসের মধ্যেই সমাধান করা হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ঘোষিত মজুরি কাঠামোয় কিছুটা সমস্যা আছে। শ্রমিকরা বিভিন্ন গ্রেডে অসঙ্গতির কথা বলছেন। মালিকরা বলছেন নেই। এটা সমাধানের জন্য গঠিত কমিটি বসে সমাধান করবে। সমাধান অবশ্যই হবে।

আমি বিশ্বাস করি চলতি মাসের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হবে। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধান আমরা শিগগিরই করব। তবে কয়েকদিন ধরে মজুরি ইস্যুতে আমরা যা দেখছি তা মোটেও কাম্য নয়।

কোনো শ্রমিক ধসংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে না। করলেও সেটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ মালিক ও শ্রমিক একই বাইসাইকেলের দুটো চাকার মতো। একটি না থাকলে আরেকটি চলবে না।

আমাদের একসঙ্গে চলতে হবে। তাই বাইরে থেকে যারা ধ্বংসাত্মক কাজ করছেন তারা বন্ধু নয়। তাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে। শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা সবাই সতর্ক থাকবেন। তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়া হবে।

শ্রমিকদের উদ্দেশে জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন বলেন, আপনারা এমন কিছু করবেন না, যা শ্রমিক সংগঠনগুলোর ন্যায্য দাবির আন্দোলনে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে। গুজবে কান দেবেন না। বেতন কাঠামোয় যে অসঙ্গতি আছে, তা সমাধানের জন্য এ বৈঠকে বসেছি।

বিভিন্ন গ্রেডে যাদের বেতন কম বেড়েছে। সেটি ইতিমধ্যে গঠিত কমিটির পর্যালোচনায় সব ধরা পড়বে। তাই ডিসেম্বরের বেতন ঘোষিত মজুরি কাঠামো অনুযায়ীই আপনারা গ্রহণ করুন। জানুয়ারিতে যে বেতন পাবেন তা ডিসেম্বরের বর্ধিত বকেয়াসহ পাবেন।

এ বিষয়ে মালিক ও সরকার পক্ষ আমাদের আশ্বস্ত করেছে। তাই আপনারা আন্দোলন ছেড়ে কর্মস্থলে যোগ দিন। গুজবে কান দেবেন না। ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ছেড়ে কারখানায় ফিরে আসুন।

সকাল ৯টায় মিরপুরের কালশীর এলাকায় ২২ তলা গার্মেন্টসের সামনে শ্রমিকরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে শ্রমিকদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে সড়কের একপাশে তাদের অবস্থান করতে দেয় পুলিশ। নারী শ্রমিক খাদিজা আক্তার বলেন, আমাদের ন্যূনতম বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন ডিসেম্বরে জারি হয়েছে।

কিন্তু সেখানে আমাদের সব দাবি-দাওয়া উত্থাপন হয়নি। অপারেটর ও হেলপারের বেতনের মধ্যে অনেক বৈষম্য ও ব্যবধান রয়েছে।

আমরা এগুলো দূর করার কথা বলছি। তিনি অভিযোগ করেন, তাদের জন্য সরকার ঘোষিত নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করলেও মালিকপক্ষ তা দিচ্ছে না। পোশাক শ্রমিক পারুল ও মেশিন অপারেটর শিমুল যুগান্তরকে বলেন, মালিকপক্ষ নিয়ম না মেনে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়মে বেতন দিচ্ছেন।

আর যারা আন্দোলন করছেন তাদের ছাঁটাই করতে তালিকা তৈরি করছেন। পল্লবী জোনের এসি এবিএম জাকির হোসেন বলেন, আমাদের মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি যুক্তিসঙ্গত। মালিক পক্ষ তাদের দাবি মেনে নিয়েছে। আশা করি আর সমস্যা হবে না।

উত্তরার আজমপুর ও উত্তরখান, দক্ষিণখান এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় কারখানা ভাংচুর ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

বিমানবন্দর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টার পর থেকে উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকার বিভিন্ন গার্মেন্টের শ্রমিকরা জড়ো হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে আসার চেষ্টা করে। তারা বিভিন্ন গার্মেন্টে গিয়ে শ্রমিকদের বের করে আনার চেষ্টা করে। দক্ষিণখান এলাকার নিপা এবং এপিএস গার্মেন্টসে হামলা ভাংচুর করে।

বেলা পৌনে ১২টার দিকে উত্তরার আবদুল্লাহপুর এলাকায় গার্মেন্ট শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ে তাদের সরিয়ে দেয়।

দক্ষিণখানে নিপা গার্মেন্টসের সামনে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে দুই পুলিশসহ ১২ জন আহত হয়। সকালে পোশাক শ্রমিকরা নিপা গার্মেন্টের সামনে একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দিলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়।

এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল ছোড়ে। দক্ষিণখান থানার এসআই সুজন যুগান্তরকে জানান, শ্রমিকদের হামলায় পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন।

সকাল ৯টায় উত্তরার আজমপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন পোশাক শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশ তাদের টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে শ্রমিকরা রেললাইনের ওপর অবস্থান নেন। পোশাক শ্রমিকরা ওই এলাকায় দুটি গাড়ি ভাংচুর করে।

সাভারে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে নিহত ১ : আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি জানান, বেতন বৈষম্যকে কেন্দ্র করে সাভারে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, লাঠিচার্জ, গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন মিয়া (২২) নামে এক শ্রমিক নিহত হয়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন মুকুল হোসেনসহ আরও তিন শ্রমিক।

শেরপুরের শ্রীবরদি থানার কলাকান্দা গ্রামের আমির আলীর ছেলে সুমন উলাইলের আনলিমা অ্যাপারেলসে কাজ করত। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সাভারের হেমায়েতপুরের বাগবাড়ী এলাকা, উলাইল ও আশুলিয়ার কাঠগড়া, খেঁজুর বাগান ও জিরাবো এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হেমায়েতপুরের বাগবাড়ী এলাকায় স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের শামস স্টাইল ওয়্যারস লিমিটেডের শ্রমিকরা সকালে কারখানায় কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে।

পরে ডার্গ গ্র“প ও জেকে ফ্যাশন কারখানার শ্রমিকরাও তাদের সঙ্গে একাÍতা প্রকাশ করে বিক্ষোভ করে। হেমায়েতপুর-শ্যামপুর সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উলাইল এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় সুমন গুলিবিদ্ধ হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার সাউদার্ন বিডি লিমিটেড, কন্টিনেন্টাল গার্মেন্টস লিমিটেড, হ্যাসন কোরিয়া সোয়েটার লিমিটেড, এসবিএস ডেনিম ওয়্যার লি., লিলি অ্যাপারেলস লি., ক্রস ওয়্যার লি., ম্যাট্রো নিটিং লি. ও এশিয়ান নিটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়-পাল্টাধাওয়াসহ ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার সাউদার্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা জানান, বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা জিরাবো-বিশমাইল সড়কে নামলে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে টিয়ার শেল ও জলকামান থেকে পানি নিক্ষেপ করে। এতে ২০ শ্রমিক আহত হন।

শিল্প পুলিশ-১ এর ওসি মাহমুদুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত শিল্প পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে সংঘর্ষে শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।

সুমনের পরিবারে শোকের মাতম : শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি জানান, মজুরি বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে আন্দোলনে নিহত সুমন মিয়ার পরিবারে চলছে শোকের মাতম। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুমনের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন তার পরিবারের সদস্যরা। শ্রীবরদী উপজেলার কলাকান্দা গ্রামের আমের আলীর ছেলে সুমন। সুমনের মৃত্যুর খবরে তার মা ফিরোজা বেগম বারবার মূর্ছা যান।

সুমনের বড় বোন তাছলিমা বেগম রাত সাড়ে ৮টায় যুগান্তরকে বলেন, তারা দুই ভাই ও তিন বোন। সুমন ছিলেন সবার ছোট। প্রায় এক বছর আগে সুমন বরিশালের মেয়ে তানিয়াকে বিয়ে করে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। সুমনের অকাল ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর জন্য তিনি সরকারের কাছে বিচার দাবি করেন।

গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করলে পুলিশ শটগানের গুলি ছোড়ে ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। আউটপাড়া এলাকার জোবেদা টাওয়ারের টিএন ফ্যাশনের অপারেটর সোহেল জানান, বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তার দক্ষিণে আউটপাড়া এলাকার শহীদ হুরমত আলীর কবরের পাশের ব্রাদার ফ্যাশন, ক্যাপিটাল ফ্যাশন কারখানার গেটে শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে তারা পাশের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নেমে গেলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় পুলিশ গিয়ে টিয়ার শেল মেরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ বিক্ষোভ চলাকালে স্থানীয় টিএন ফ্যাশন, এপারেলস পোশাক কারখানা, পশমী সোয়েটার, ক্যাপিটাল ফ্যাশনসহ কয়েকটি কারখানা ছুটি দেয় কর্তৃপক্ষ।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. আনিসুর রহমান জানান, দুপুরের খাবারের বিরতির পর ভোগড়া বাইপাস মোড়ের পশ্চিমে পেয়ার বাগান এলাকায় ভিঅ্যান্ডআর ফ্যাশন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ইটপাটকেল ছুড়ে ভাংচুর করে।

একপর্যায়ে শ্রমিকরা পাশের ঢাকা বাইপাস সড়কে নেমে অবস্থান নিলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় এক পথচারীর মোটরসাইকেল নিয়ে তাতে অগ্নিসংযোগ করে এবং গাড়িতেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা এলাকার এক্সপিরিয়েন্স টেক্সটাইলের শ্রমিকরা সকাল থেকে প্রধান ফটকে বিক্ষোভ করেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, একই সীমানা প্রাচীরের ভেতরের একই মালিকের হ্যারি ফ্যাশনের শ্রমিকদের সরকার ঘোষিত নতুন মজুরি কাঠামোতে বেতন দেয়া হলেও এক্সপিরিয়েন্স মিলের শ্রমিকদের পুরনো কাঠামোতে বেতন দেয়া হয়। এ কারণে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ করেন।

খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা ও ভালুকা শিল্প পুলিশ শ্রমিকদের দাবি নিয়ে মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। আগামী মাস থেকে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেবেন বলে মালিকরা ঘোষণা দিলে দুপুর ১২টার দিকে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন।

কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার পারভেজ জানান, আগে সরকারি গেজেট অনুযায়ী শ্রমিকদের বেতন ও অন্য সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়নি। এখন থেকে নতুন গেজেট অনুযায়ী সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×