আ’লীগের যৌথসভা আজ

ভোট-পরবর্তী বিশেষ বার্তা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  হাসিবুল হাসান

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যনির্বাহী সংসদের নেতাদের নিয়ে আজ শনিবার বৈঠকে বসছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিকাল ৩টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক হবে। বৈঠক থেকে দলের নেতাদের উদ্দেশে আ’লীগ সভাপতি বিষয়ে কিছু বার্তা দেবেন বলে জানা গেছে।

দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোটের পর প্রথমবারের মতো এ ধরনের বৈঠকে দলের ভবিষ্যকরণীয় চূড়ান্ত করা হবে। তারা বলেছেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, ২০২০ সালে ‘মুজিববর্ষ’ পালনসহ সাংগঠনিকভাবে দলকে কীভাবে আরও মজবুত করা যায় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

এ ছাড়া নবনির্বাচিত এমপি-মন্ত্রীদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করারও নির্দেশনা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।

গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় আ’লীগ। দলটি এককভাবে ২৫৭ এবং জোটগতভাবে ২৮৮ আসন পেয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আ’লীগ। এই ভূমিধস বিজয়ের পর দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। বৈঠকে নেতাদের কথা শোনার পাশাপাশি দলের সভাপতি শেখ হাসিনা নানা দিকনির্দেশনা দেবেন।

বৈঠক নিয়ে কথা হয় আ’লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খানের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনে দেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আ’লীগের পক্ষে বিশাল রায় দিয়েছে। ভোট উৎসবে তারা আওয়ামী লীগের ওপর, শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রেখেছে। এটা বিবেচনায় নিয়ে দেশের মানুষের জন্য আর কি কি করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা হবে।

তিনি বলেন, আগামী বছর ২০২০ সাল, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। এটাকে আমরা ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে পালন করব। এ নিয়েও আলোচনা হবে। এ ছাড়া আগামীতে হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্র্বাচনে দলের করণীয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

জানতে চাইলে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ যুগান্তরকে বলেন, এটা নির্বাচনী পরবর্তী বৈঠক। সব বৈঠকেরই কিছু এজেন্ডা থাকে। সাংগঠনিকভাবে দলকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বৈঠকে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি।

দলের নেতারা বলেছেন, বড় জয় নিয়ে ক্ষমতায় এলেও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চায় না দলটি। বরং নির্বাচনে দলের বিশাল জয়ে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সামনের দিনগুলোকে কঠিন পরীক্ষা হিসেবে নিতে চায় দলের হাইকমান্ড।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আগামী পাঁচ বছর আমাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা। উন্নয়নের যে মহাসড়কে যাত্রা শুরু করেছি, সেটা অব্যাহত রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’

তিনি বলেন, ‘জনগণ আমাদের ওপর আস্থা-বিশ্বাস রেখেছে। এ বিশ্বাসের মর্যাদা দিয়ে বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলব- এ বিশ্বাস আমাদের আছে। আজ জাতির পিতা আমাদের মাঝে নেই। তার আদর্শ বুকে নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। আমরা চাই, এ দেশের যে উন্নতি আমরা করেছি, সেটা যেন অব্যাহত থাকে।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজকের বৈঠকে দলের সভাপতি যে বিশেষ বার্তা দেবেন বলে জানা গেছে তার মধ্যে রয়েছে- বিশাল জয়ে আত্মতৃপ্তিতে না থেকে জনগণের কাছে যাওয়া, উপজেলা নির্বাচনে একক প্রার্থী দেয়া, নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করতে গিয়ে বিএনপি-জামায়াতকে দলে না ভেড়ানো অন্যতম।

এ ছাড়া আ’লীগ সরকারের টানা ১০ বছরে দেশের যে উন্নয়ন হয়েছে তা কীভাবে আরও বেগবান করা যায়, সে বিষয়েও নেতাদের পরামর্শ চাওয়া হবে এবং একই সঙ্গে থাকবে শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনাও।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য যুগান্তরকে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে। নির্বাচনে বড় জয়ের পর মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তন এসেছে। বড় জয় হলেও সাংগঠনিক কিছু ত্রুটিও ছিল। সে বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সেখানেও প্রস্তুতির বিষয় আছে। এ ছাড়া আজকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে নবনির্বাচিত এমপি-মন্ত্রীদের কিছু নির্দেশনা দেবেন।

ঢাকার পাশের জেলার সঙ্গে যৌথসভা রোববার : এদিকে আগামীকাল রোববার ঢাকা ও ঢাকার পাশের জেলার নেতাদের সঙ্গে যৌথসভা করবে আওয়ামী লীগ। বেলা ১১টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ওই সভায় সভাপতিত্ব করবেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সভায় ঢাকা, গাজীপুর, গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা আ’লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, এমপি, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উল্লিখিত জেলাসমূহের সব উপজেলা, থানা ও পৌর আ’লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়ররা উপস্থিত থাকবেন।