ব্রেক্সিট নিয়ে এমপিদের সঙ্গে দরকষাকষি মে’র

২১ জানুয়ারির মধ্যে জানাতে হবে বিকল্প পন্থা * ২৯ জানুয়ারি পার্লামেন্টে বিতর্ক ও ভোটাভুটি * চুক্তিহীন ‘সংসার ভাঙা’ ঠেকাতে ব্রেক্সিট ২০২০ সাল নাগাদ পেছাবে ইইউ

  সালমান রিয়াজ ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রেক্সিট নিয়ে এমপিদের সঙ্গে দরকষাকষি মে’র

সরকার পতনের বড় ঝুঁকিটা সামলে উঠেই ফের ব্রেক্সিট ঘোড়ায় চাবুক কষছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। এবার নতুন কৌশলে, একটু ভিন্নপথে।

বুধবার পার্লামেন্টের অনাস্থা ভোটে উতরে যেতেই তার ‘নতুন ব্রেক্সিট রূপরেখা’ বাস্তাবায়নে নেমে পড়েছেন মে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ৪৩ বছরের দাম্পত্যে বিরক্ত ব্রিটেনের ‘ডিভোর্স’ নিতে ধরনা দিচ্ছেন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে।

দরজায় দরজায় কড়া নাড়ছেন। শক্ত কণ্ঠ ছেড়ে নরম সুর ধরেছেন। কারণ একটাই- সময়। আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যেই নতুন ব্রেক্সিট পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হবে এমপিদের সামনে। এই নকশার ওপর ২৯ জানুয়ারি আবার নতুন করে বিতর্ক বাধবে, ফের ভোট হবে পার্লামেন্টে।

তারপরই বিচ্ছেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ব্রিটেন। সরকারের গলার কাঁটা এ ব্রেক্সিটের পাকাপোক্ত একটা সুরাহা করতেই এবার হাঁকডাক শুরু করেছেন তেরেসা। ব্যক্তিস্বার্থ ভুলে একসঙ্গে কাজ করতে বলছেন সব এমপিকে। সর্বদলীয় অংশগ্রহণে গঠনমূলক আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছেন বারবার। স্থানীয় পত্রিকাগুলোর খবর- বৃহস্পতিবার থেকেই এ নয়া উদ্যম দেখা যাচ্ছে তেরেসার ব্রেক্সিট ঝুলিতে।

ইইউ’র সঙ্গে তেরেসার ব্রেক্সিট চুক্তি পার্লামেন্টে মুখ থুবড়ে পড়ার পর এক প্রকার বাধ্য হয়েই এ পথে হাঁটতে হচ্ছে তাকে। এক্ষেত্রে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট, ইইউ’র সঙ্গে চুক্তি নবায়ন অথবা ব্রেক্সিট প্রশ্নে দ্বিতীয় গণভোটের মতো বিকল্প হাতে রয়েছে তেরেসার।

চুক্তিহীন ব্রেক্সিট থেকে সরে আসলেই কেবল বৈঠকে বসবেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। তবে চুক্তিহীন ‘সংসার ভাঙতেও’ রাজি নয় ইইউ। তারা ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রয়োজনে লিসবন চুক্তির আর্টিকেল-৫০ বাস্তবায়ন করতে ব্রেক্সিট ২০২০ সাল নাগাদ পেছানো হবে।

আগামী ২৯ জানুয়ারি এ বিষয়ে পার্লামেন্টে বিতর্ক ও ভোটাভুটি হবে বলে জানিয়েছেন হাউস অব কমন্সের নেতা অ্যান্ড্রিউ লিডসাম। খবর বিবিসি, এএফপি ও গার্ডিয়ানের। তেরেসার সরকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হয়। ৬৫০ সদস্যের পার্লামেন্টে ৩২৫ জন আইনপ্রণেতা তেরেসার পক্ষে ও ৩০৬ জন বিপক্ষে ভোট দেন। মাত্র ১৯ ভোটে তিনি তার সরকার টেকাতে পেরেছেন।

এর আগের দিন মঙ্গলবার টানা আড়াই বছরের আলাপ-আলোচনার ফসল ব্রেক্সিট চুক্তির খসড়া পার্লামেন্টে প্রত্যাখ্যাত হয়। দলীয় এমপিদের বিদ্রোহে ২৩০ ভোটের ব্যবধানে চুক্তিটি বাতিল হয়ে যায়।

আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যে নতুন ব্রেক্সিট রূপরেখা খুঁজতে হবে তেরেসাকে। এ সপ্তাহে দৌড়ের ওপরই থাকবেন তিনি। সময় কম হওয়ায় শুরুটাও তড়িঘড়ি করেই। বুধবার ভোটের পরপরই লিবারেল ডেমোক্র্যাটস, স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (এসএনপি), প্লাইড কামরু দলের সঙ্গে বৈঠক করেন তেরেসা। তিনি নিজ স্বার্থ সরিয়ে রেখে একসঙ্গে গঠনমূলক কাজ করতে এমপিদের প্রতি আহ্বান জানান। তবে ওই বৈঠকে লেবার নেতা জেরেমি করবিন ছিলেন না। করবিন জানিয়েছেন, চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট চিন্তা বাদ না দিলে সরকারকে কোনো সহায়তা দেবেন না তিনি। বৈঠকে তেরেসা বলেন, ‘লেবার পার্টির নেতার এমন সিদ্ধান্তে আমি অত্যন্ত হতাশ হয়েছি। কিন্তু আমাদের দরজা সব সময় খোলা।’ তিনি আরও বলেন, ‘এত অল্প সময়ে সমাধান খোঁজা খুব সহজ নয়। তবে এমপিরা ভালোভাবেই জানেন, জাতীয় স্বার্থে কাজ করলে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব।’

এসএনপি’র নেতা আয়ান ব্লাকফোর্ড বলেছেন, “সরকারকে ‘চুক্তিহীন ব্রেক্সিট’ বাদ দিতে হবে অথবা বিকল্প হিসেবে গণভোটের আয়োজন করতে হবে। তা না হলে তারাও গঠনমূলক আলোচনায় বসতে রাজি নয়।” তবে দ্বিতীয় গণভোটের বিষয়টি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন তেরেসা। যদিও এদিন প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের বিষয়টি এখনও আলোচনার টেবিলেই রয়েছে। যুক্তরাজ্যের ১৭০ জন শীর্ষ ব্যবসায়িক নেতা আরেকটি গণভোটের জন্য তেরেসা ও করবিনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। দেশটির অর্থমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড তাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, যে কোনো মূল্যে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট প্রতিহত করা হবে। এমপি নিক বোলস বলেছেন, ‘চুক্তি ছাড়া বিচ্ছেদের পথে হাঁটলে ২০ জনের অধিক সাংসদ একসঙ্গে পদত্যাগ করবেন।’

২০১৬ সালের ২৩ জুনের গণভোটে ইইউ’র সঙ্গে যুক্তরাজ্যের চার দশকের বিচ্ছেদের রায় হয়। ভোটে হারের পর রক্ষণশীল দলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করেন। এরপর তেরেসা ক্ষমতায় এসে ‘ডিভোর্স’ প্রক্রিয়া শুরু করেন। বৃহত্তম এ অর্থনৈতিক জোট থেকে কোন প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্য আলাদা হবে এবং এরপর ইইউভুক্ত বাকি ২৭ রাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কেমন হবে, সেই পথ বের করতে সময় দেয়া হয় ২১ মাস। আগামী ২৯ মার্চ সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে। এর আগেই বিচ্ছেদে যেতে হবে আর তা বাস্তবায়ন হতে সময় লাগবে আরও প্রায় দেড় বছর (২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে)।

তবে ইইউ কাউন্সিলের একটি সূত্রের বরাতে ডেইলি মেইল জানায়, ব্রাসেলস চাইছে, চুক্তি মেনেই ব্রেক্সিট হোক। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে লিসবন চুক্তির আর্টিকেল-৫০ বাস্তবায়নে যুক্তরাজ্যকে আরও বাড়তি এক বছরের সময় দিতে। ইউরোপের ২৮ জাতির জোট থেকে কোনো সদস্য বেরিয়ে যেতে চাইলে তা কীভাবে সম্ভব, তারই দিকনির্দেশনা রয়েছে ৫০ নম্বর অনুচ্ছেদে। তবে সময়সীমা পেছাতে রাজি নন তেরেসা। তিনি জানিয়েছেন, ব্রেক্সিট যথাসময়েই হবে। হাউস অব কমন্সের নেতা অ্যান্ড্রিউ লিডসামও বলেছেন, এটা নিশ্চিত যে, আমরা আর্টিকেল-৫০ বাস্তবায়নে বিলম্ব করব না। তিনি বলেন, আগামী ২৯ জানুয়ারি পার্লামেন্টে এ বিষয়ে বিতর্ক ও ভোটাভুটি হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : ব্রেক্সিট ইস্যু

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×