চট্টগ্রামে জুট মিলের গোডাউনে আগুন

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে আগুনে পুড়ছে জুট মিলের গোডাউন

চট্টগ্রামে একটি জুট মিলের গোডাউনে ভয়াবহ আগুনে বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে গেছে। নগরীর পাহাড়তলি থানার একে খান মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ইস্পাহানি গ্রুপের ভিক্টোরিয়া জুট মিলটির গোডাউন ভাড়া নিয়ে পণ্য রেখেছিল আরএফএল, ইউনিলিভার ও ইউনিটেকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ধারণা দিতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, এ ঘটনায় তাদের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে একটি গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে দাউ দাউ আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের গোডাউনে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিটের ১৮টি গাড়ি ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তবে আগুনের বেগ কিছুটা কমে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা আগুন নেভানোর প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। গুদামগুলোর কোনো কোনো অংশে আগুন দেখা যাচ্ছিল আবার কোনো অংশে আগুন নিভে গিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছিল।

ইস্পাহানি গ্রুপের ম্যানেজার (এডমিন) নুরুল আলম যুগান্তরকে বলেন, ‘মিলটি বন্ধ থাকায় বিশালাকার গোডাউনগুলো অব্যবহৃত পড়ে ছিল। এজন্য এগুলো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে এরএফএলের পণ্যের গুদাম, ইউনিলিভারের কেমিক্যালের গুদাম ও ইউনিটেক নামক একটি প্রতিষ্ঠানের তুলার গুদামসহ মোট তিনটি বিশাল আকারের গুদাম আগুনে পুড়ে গেছে। পুড়ে গেছে ওইসব প্রতিষ্ঠানের মালামালও।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমে আরএফএলের গুদামে আগুন লাগে। পরে ইউনিটেকের তুলার গুদাম এবং ইউনিলিভারের কেমিক্যালের গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিস আগুন প্রায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছিল। তবে পরে ইউনিলিভারের গোডাউনে কেমিক্যালের বস্তা ও ড্রামে আগুন ধরে গেলে তা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে।’

ইস্পাহানি গ্রুপের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘যে তিনটি গুদামে আগুন লেগেছে তার আয়তন আড়াই লাখ বর্গফুট। এর মধ্যে এক লাখ ৩০ হাজার বর্গফুট এলাকায় আরএফএল, ৬০ হাজার বর্গফুট এলাকায় ইউনিলিভার ও ২৫ হাজার বর্গফুট এলাকায় ইউনিটেকের পণ্য ছিল। এর মধ্যে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আরএফএলের। প্রতিষ্ঠানটির পুরো চট্টগ্রাম এলাকায় ইলেকট্রনিক্স, প্লাস্টিক ও বিভিন্ন ধরনের পণ্য এখান থেকে সরবরাহ করা হতো। এক লাখ বস্তার বেশি কেমিক্যাল ছিল ইউনিলিভারের গোডাউনে। ড্রামভর্তি কেমিক্যালও ছিল। স্টিল পাতের ওপর গোডাউনের ভবনগুলো দাঁড়ানো ছিল। আগুনে পাত গলে গোডাউনগুলো প্রায় ধসে পড়েছে।’

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আগুন প্রথম দিকে নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। পরে আবার বেড়ে যায়। এরপর আবার নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনের উৎস ও ক্ষয়ক্ষতি এ মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। পরে তদন্তসাপেক্ষে বলা যাবে। হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।