স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী

দুর্নীতি-মাদকের থাবা থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে

মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ সুস্থ জীবনে ফিরতে চাইলে সুযোগ দিতে হবে * জঙ্গিবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে * কয়েদিদের ট্রেনিং দিয়ে উৎপাদনে নিয়োজিত করতে হবে * না চাইলে কেউ দেয় না, আমি কিন্তু সেধেই বলি

  যুগান্তর রিপোর্ট ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্নীতি-মাদক সমাজের কালো ব্যাধি। এর থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে। এর জন্য যা যা করণীয় তা করতে হবে। একটা দেশকে উন্নত করতে হলে, মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি থেকে মুক্তি ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি, এই অপশক্তির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানটাও অব্যাহত রাখতে হবে। মাদক কারা আনে, কারা পাচারকারী, কারা তৈরি করে- তাদের বিরুদ্ধে বহুমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে যারা সুস্থ জীবনে ফিরতে চায় তাদের সুযোগ দিতে হবে।

টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতর পরিদর্শনের অংশ হিসেবে রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামরিক সরকারগুলোর কারণে দুর্নীতি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এর থেকে মুক্তি ছাড়া দেশকে এগিয়ে নেয়া যাবে না। দেশে যখন জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটল, বাংলা ভাই সৃষ্টি হল, এ নিয়ে তৎকালীন সরকারের কেন জানি একটা প্রচ্ছন্ন সহযোগিতা ছিল। কেন আমি জানি না; কিন্তু এটা সবার কাছেই ধরা পড়েছে। ট্রাকে তারা মিছিল করে, আর পুলিশ তাদের পাহারা দেয়, এমন দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি বাংলাদেশে দেখেছি। সেই সঙ্গে মাদক ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেয়া এই মন্ত্রণালয়ে যারা রয়েছেন তাদের দায়িত্ব। আমরা দক্ষিণ এশিয়ার একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। যোগাযোগ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর গাড়ি বা নৌযানের খুব সমস্যা থাকে। আমরা প্রতিনিয়ত গাড়ি কিনে দিচ্ছি। গাড়ি এত বেশি ব্যবহার হয় যে, এগুলো বেশিদিন টিকবে এমন নয়। একবার গাড়ি কিনে দিলে আজীবন চলবে, এটা আমি বিশ্বাস করি না। অন্যের কাছ থেকে গাড়ি নিয়ে নেয়া এটাও আমরা চাই না।’

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এবার অসংখ গাড়ি দিয়ে দিয়েছি, সেগুলো আপনারা নিতে পারেননি। এটা যেহেতু একটা চলমান প্রক্রিয়া তাই হিসাব রেখে অনবরত আপনাদের ডিমান্ডটা দিতে থাকেন। কারণ না চাইলে কেউ দেয় না, আমি তো সেধে সেধে বলি। সবাই তো বলবে না, এটা হল বাস্তবতা। জলযান কোথায় কী পরিমাণ লাগবে সেটার যদি হিসাব থাকে, হিসাবমতো যদি শুরু থেকে ব্যবস্থা করা যায়, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও বেশি নিরাপত্তা দিতে পারবে।’

তিনি বলেন, যে কাজগুলো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে সেগুলো করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো প্রয়োজন সেগুলোর ক্ষেত্রে দেখেছি যে অবহেলার শিকার আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারে আমি বলতে পারি। পুলিশ বাহিনী কাজ করত, না ছিল তাদের লোকবল, না ছিল তাদের কোনো অবকাঠামো সুবিধা, ট্রেনিংয়ের সুবিধা। সব দিক থেকে অবহেলার শিকার ছিল। আমরা প্রথম বাজেটেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ দ্বিগুণ করে দিয়েছিলাম। ট্রেনিংয়ের সুযোগ সৃষ্টি, অবকাঠামো উন্নয়নের চেষ্টা তখন আমরা করি। আমাদের চেষ্টা ছিল যারা জনগণের নিরাপত্তা দেবে তাদের জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। যখন তারা সঠিক সেবা দেবে তখনই মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবে। এই মন্ত্রণালয়টা একটা বিশাল মন্ত্রণালয়।’

মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানটা অব্যাহত রাখতে হবে। অভিযান অব্যাহত রাখার সঙ্গে সঙ্গে মাদকমুক্ত করতে হবে। এছাড়া মাদক কারা আনে, কারা পাচারকারী, কারা তৈরি করে- তাদের বিরুদ্ধে বহুমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু মাদক যে সেবন করে তাকেই নয়, যারা সুস্থ হয়ে সমাজে ফিরে আসতে চায় তাদের সেই সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। কেন মানুষ অপরাধী হয় সেটা খুঁজে বের করতে হবে। অপরাধীর বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিলেই যে তারা ভালো হয়ে যাবে তা নয়। তাদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

কয়েদিদের ট্রেনিংয়ে বেশি নজর দেয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারাগারে কায়েদিদের ট্রেনিং দিয়ে তাদের মাধ্যমে কিছু উৎপাদন করা। সেটা বিক্রি করে লভ্যাংশটা, যারা কাজ করবে তাদের জন্য রেখে দিলাম। হয় এটা তার পরিবার নিয়ে যাবে বা টাকাটা থাকবে সে যখন মুক্তি পাবে তখন ওই টাকা দিয়ে সে যেন একটা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে- এই ব্যবস্থাটা আমরা করতে চাই। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ উভয় পক্ষই নেয়, এটাই বাস্তবতা। বিভিন্ন অ্যাপস আছে এর মাধ্যমে অপরাধীরাও সুযোগ নেয়, আমরা যারা এটা নিয়ন্ত্রণ করতে চাই তাদেরও সুযোগ আছে। সব সময় যুগোপযোগী ব্যবস্থাটা আমাদের নিতে হবে।’

টেলিযোগাযোগে নজরদারি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এনটিএমসিটা (ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার) নতুনভাবে তৈরি করে দিয়েছি, নতুন নতুন যা যা প্রয়োজন কিনে দিচ্ছি। নজরদারিটা যাতে আরও বাড়ানো যায় সেই ব্যবস্থাটা আমরা নিচ্ছি। সেটা আমরা করব।’

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা প্রজেক্টগুলো যখন তৈরি করেন তখনই জনবল কত প্রয়োজন সেটাও সঙ্গে সঙ্গে উল্লেখ করবেন। যাতে প্রজেক্ট পাস করার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা লোকবল দিতে পারি। কারণ এই লোকবলকে আগেভাগেই নিয়োগ দিয়ে ট্রেনিং দিতে হবে। বিষয়টিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব দেয়া উচিত।’

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন ও সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী এবং অধীন সংস্থার প্রধানরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×