চলতি মাসেই রিজার্ভ চুরির মামলা : অর্থমন্ত্রী

মামলার আগে তদন্ত হয় না

  যুগান্তর রিপোর্ট ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ছবি: সংগৃহীত

চলতি মাসেই বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলা হবে বলে জানিয়েছেন, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রে উভয় দেশে আমাদের আইনজীবী আছেন। তারা বসে মামলা করার সময় নির্ধারণ করবেন।

রোববার রিজার্ভ চুরির মামলা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, আর্থিক প্রতিষ্ঠান সচিব মো. আসাদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের সঙ্গে ৩ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

রিজার্ভ চুরি সংক্রান্ত ড. ফরাসউদ্দিনের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মামলার আগে তদন্ত হয় না। মামলার পরই তদন্ত হয়। নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে মামলা করা হবে। আর ঢাকা বসে কে কি কমিটি করলাম, কোন কমিটি কি সিদ্ধান্ত দিয়েছে তা সঠিক সময় ও সঠিক ফরমেটে ছিল না।

অর্থমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, মামলার আগেই তদন্ত হলে তাহলে মামলা করব কেন। তদন্ত করলে পজিটিভ বা নেগেটিভ আসবে। এখনও কিছু জানি না। স্থান হচ্ছে নিউইয়র্ক। নিউইয়র্কে বসে ফাইল করে মামলা করা হবে। সুতরাং ঢাকায় বসে কে কি করেছে, কি রিপোর্ট দিয়েছে- আমার মনে হয় সেটি সঠিক সময় ছিল না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মামলা দেখভালের জন্য বাংলাদেশের একজন আইনজীবী রয়েছেন। ঠিক তেমনিভাবে আমেরিকায়ও একজন আইনজীবী আছেন। তারা যৌথভাবে সময় নির্ধারণ করে এ মামলা দায়ের করবেন। তবে কার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে এখনও সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মামলায় কতজনকে আসামি করব, কতজন বাদী হবে এগুলো দুই দেশের আইনজীবীরা বসে ঠিক করবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট আপনি প্রকাশ করবেন কিনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রকাশ করার প্রয়োজন হলে প্রকাশ করব। প্রয়োজন না হলে করব না।

যুক্তরাষ্ট্রের যে আইনজীবী বাংলাদেশের পক্ষে লড়বেন, ‘তার ফি সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক আইনজীবীর একটি নির্ধারিত ফি আছে। আমি নিজেও এক সময় আইনজীবী ছিলাম। আমারও একটি নির্দিষ্ট ফি ছিল। আমি মনে করি পেশাদার আইনজীবীদের সর্বনিু এবং সর্বোচ্চ ফি আছে। আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। সুইফটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হ্যাক্টড করে পাঁচটি সুইফট বার্তার মাধ্যমে চুরি হওয়া এ অর্থের মধ্যে শ্রীলংকায় যাওয়া দুই কোটি ডলার ফেরত আসে। তবে ফিলিপাইনে যাওয়া আট কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে এখনও ফেরত আসেনি ছয় কোটি ৬৪ লাখ ডলার। এ অর্থ ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকে জমা রয়েছে।

বৈঠক সূত্র জানায়, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক (ফেড) এবং ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের (আরসিবিসি) বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×