জেএম’র প্রতিষ্ঠাতা রিজওয়ান রিমান্ডে

  যুগান্তর রিপোর্ট ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জামায়া’তুল মুসলিমিনের (জেএম) প্রতিষ্ঠাতা লেকহেড গ্রামার স্কুলের সাবেক মালিক রিজওয়ান হারুন
জামায়া’তুল মুসলিমিনের (জেএম) প্রতিষ্ঠাতা লেকহেড গ্রামার স্কুলের সাবেক মালিক রিজওয়ান হারুন। ছবি: সংগৃহীত

আল কায়দার মতাদর্শে পরিচালিত সংগঠন জামায়া’তুল মুসলিমিনের (জেএম) প্রতিষ্ঠাতা লেকহেড গ্রামার স্কুলের সাবেক মালিক রিজওয়ান হারুনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী আসামির রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে গুলশান থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. রবিউল আলম রিমান্ডের এ আবেদন করেন।

অপরদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী কলিমুল্লাহ মজুমদার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন নাকচ করে রিমান্ডের ওই আদেশ দেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম আল কায়দার মতাদর্শী জঙ্গি জেএম প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর প্রায় ১৭টি দেশে এ সংগঠনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আর আসামি দেশে জেএম প্রতিষ্ঠায় প্রত্যক্ষ মদদ দিয়েছেন।

এর আগে রোববার ভোরে ধানমণ্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। কালো তালিকাভুক্ত জঙ্গি সংগঠনের তালিকায় জেএম’র নাম রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার ডিসি মাসুদুর রহমান জানান, গত বছরের জানুয়ারি মাসের গুলশান থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলার এজাহার নামীয় আসামি হারুন।

মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, জেএম বাংলাদেশের সর্বপ্রথম আল কায়দার মতাদর্শী জঙ্গি সংগঠন। রিজওয়ানসহ এ সংগঠনের অন্য সহযোগীরা ঢাকা শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি, মসজিদ এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সংলগ্ন হারুন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নিজস্ব অফিস জঙ্গি কার্যক্রমে ব্যবহার করত।

এ সংগঠনের সদস্যরা জঙ্গি কার্যক্রম দ্রুত বিস্তারের জন্য বিভিন্ন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। তারই কার্যক্রম হিসেবে রিজওয়ান ২০০৬ সালে লেকহেড গ্রামার স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা লতিফ আহম্মেদের কাছ থেকে কিনে নেয়।

পরে সে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মস্তিষ্কে কথিত জিহাদি চেতনার বীজ ঢোকানোর চেষ্টা করে। এই স্কুলটি রিজওয়ান জঙ্গি প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করত। ২০০৫ সালে জামায়া’তুল মুসলিমিনের কার্যকলাপ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। পরে সংগঠনটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে সরকার।

ডিবি সূত্র জানায়, ২০০২ সালে লেকহেড গ্রামার স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন ইসলামী ব্যাংকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ লতিফ আহমেদ। ২০০৬ সালে জেএম’র প্রতিষ্ঠাতা রেজওয়ান হারুন লেকহেডের ৫০ শতাংশ শেয়ার কেনে।

হারুন কৌশলে জেএম’র অনেক সদস্যকে তাদের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়। ২০১৫ সালে হারুন লেকহেডের শতভাগ শেয়ার কেনে। জঙ্গিবাদ বিস্তারে জড়িত থাকার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির নাম গণমাধ্যমে আসার পর আত্মগোপনে ছিল হারুন।

গোপনে কার্যক্রম শুরু করে রিচার্স সেন্টার ফর ইউনিটি ডেভেলপমেন্ট (আরসিইউডি) নামের একটি এনজিওর। এ এনজিওর আড়ালে জঙ্গিবাদ চর্চার অভিযোগ আছে। গুলশানে জঙ্গি হামলার পর আবারও আলোচনায় আসে লেকহেড।

তবে জঙ্গিবাদে প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টতার কথা জেনেও তিন কোটি টাকায় হারুন ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে খালেদ হাসান মতিন নামে এক ব্যক্তি প্রথমে লেকহেডের ৩০ শতাংশ শেয়ার কেনে।

২০১৭ সালের ১৭ মার্চ ২০ কোটি টাকায় লেকহেডের শতভাগ শেয়ার কেনে সে। মতিনের সঙ্গে আল কায়দার মতাদর্শী নিষিদ্ধ সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) শীর্ষ নেতাদের যোগাযোগ রয়েছে। এমনকি ২০১২ সালে মতিন তার গুলশানের বাসায় এবিটির আধ্যাত্মিক গুরু জসীমুদ্দিন রাহমানীর সঙ্গে বৈঠকও করেছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×