বিনিয়োগে আ’লীগ সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ

সবার আগে জ্বালানি নিরাপত্তার গ্যারান্টি

ষড়যন্ত্রকারীরা এখনও সক্রিয় তাই বিনিয়োগ বাড়াতে হলে প্রধানমন্ত্রীকেই শক্ত হাতে অপশক্তি মোকাবেলায় দৃঢ় হতে হবে -বিশেষজ্ঞদের অভিমত

  মুজিব মাসুদ ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ সংসদের মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান।
একাদশ সংসদের মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। ছবি-যুগান্তর

টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতি-মাদকের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশকে বিনিয়োগের নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান। এ জন্য কার্যকরভাবে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেবেন। দেশের শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী সমাজ এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানিয়েছে।

তবে এ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনিয়োগ খাতে গতি তখনই আসবে যখন সরকার জ্বালানি নিরাপত্তা তথা গ্যাস-বিদ্যুতের প্রয়োজনীয় চাহিদার বিষয়টি নিশ্চিত করবে। এর বাইরে কোনো স্বপ্ন কিংবা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হওয়ার সুযোগ নেই।

এ ক্ষেত্রে তারা মনে করেন, অতীতের ন্যায় আমলাতন্ত্রসহ প্রভাববিস্তারকারী বিভিন্ন সেক্টরের ষড়যন্ত্রকারীরা এখনও পুরো মাত্রায় সক্রিয়। তাদের কারণে বিগত দুই মেয়াদে সুযোগ ও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি। তাই এবার শুরুতেই খোদ প্রধানমন্ত্রীকেই সজাগ ও সুদৃঢ় হতে হবে। তা না হলে ষড়যন্ত্রকারীদের রোষানলে পড়ে বিনিয়োগসহ দেশীয় শিল্পকারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

জানা গেছে, শিল্প, বাণিজ্যসহ সব খাতে চলছে জ্বালানির জন্য হাহাকার। ঘাটতি মেটাতে চার গুণ বেশি দামের গ্যাস আমদানি হচ্ছে। কিন্তু দেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমে গতি নেই। স্থলভাগে কচ্ছপ গতিতে কিছু কাজ চললেও সমুদ্রে একবারেই নজর নেই। বছরের পর বছর ঝুলে আছে দেশের বিশাল সমুদ্রসীমায় খনিজসম্পদের অনুসন্ধান কার্যক্রম।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে দ্রুত ও ব্যাপক শিল্পায়নের অন্যতম প্রধান সমস্যা হল প্রাথমিক জ্বালানির স্বল্পতা। দেশের উত্তরাঞ্চলে বড় কয়লার মজুদ থাকা সত্ত্বেও কয়লাখনি উন্নয়নের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা না থাকায় গ্যাসের বিকল্প হিসেবে কয়লা ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে সরকারকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজতে আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এক হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির ৯০ শতাংশ হবে আমদানি করা। আর এ জন্য বাংলাদেশকে মোটা অঙ্কের অর্থ জোগান দিতে হবে।

জ্বালানি সেক্টরের বিশেষজ্ঞ ও কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম যুগান্তরকে বলেন, প্রতিবেশী মিয়ানমার ও ভারত বঙ্গোপসাগরে তাদের সীমানায় তেল-গ্যাস আবিষ্কারের পাশাপাশি উত্তোলনও করছে। সেখানে বাংলাদেশ গত চার বছরে একটি জরিপ কাজও শুরু করতে পারেনি।

তিনি বলেন, দু’বার দরপত্র ডেকেও নির্বাচিত কোম্পানিকে কার্যাদেশ দেয়া যায়নি। সমুদ্রের ব্লকগুলোতে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে না। এর আগে কয়েক দফা আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেও পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত না থাকায় ভালো সাড়া মেলেনি। গভীর সমুদ্রে জরিপের জন্য জাহাজ কেনা বা ভাড়ার বিষয়টিও দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে।

জানা গেছে, আন্তর্জাতিক আদালতে ২০১২ মিয়ানমার ও ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তির পর সর্বমোট এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের বেশি সমুদ্র অঞ্চলের মালিক হয়েছে বাংলাদেশ। এরপর কয়েক বছর পেরিয়ে গেছে। ভারত ও মিয়ানমার তাদের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রমে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে কিন্তু বাংলাদেশের কোনো সফলতা নেই।

জ্বালানি সেক্টরের বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অবস্থায় আগামীর সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ার জন্য নতুন সরকারের কাছে এখন একমাত্র চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাদের মতে, ভবিষ্যতে বিশ্বের শীর্ষ ১১টি অর্থনীতির দেশের মধ্যে বাংলাদেশেরও একটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ দেশের টেকসই আর্থসামাজিক উন্নয়নে জ্বালানি অন্যতম প্রধান খাত। জ্বালানি চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি এবং স্বল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ গ্রহণ উন্নয়নের পথে প্রধান অন্তরায়। গ্যাসের মজুদ কমে আসছে। নতুন গ্যাসের মজুদ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ২০৫০ সাল নাগাদ মজুদ শেষ হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের জ্বালানি পরিকল্পনা ঢেলে সাজাতে হবে। এ জন্য খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই এ জন্য এগিয়ে আসতে হবে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ গত জ্বালানি নিরাপত্তা দিবসের এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে হলে সবার আগে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এটি করা না গেলে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বড় আঘাত আসতে পারে।

নসরুল হামিদ আরও বলেন, এখন বিদ্যুৎ বা জ্বালানির মূল্য আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ নয়। আসল চ্যালেঞ্জ হল চাহিদামতো জ্বালানি সরবরাহ করা। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে সেই বিষয়ে সঠিক পরামর্শ প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গার্মেন্টসহ বিভিন্ন পণ্য রফতানিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। রফতানিতে শুধু বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয় না, দেশের উন্নয়নের গতি বেড়ে যায়। তাই জ্বালানি খাতের উন্নয়ন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ইতিমধ্যে দেশে ব্যাপক শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক বিল্পবের ঘোষণা দিয়েছেন। এ সরকারের দুই মেয়াদে গত দশ বছরে দেশে বিদ্যুতের উৎপাদনক্ষমতা বেড়েছে চার গুণের বেশি। বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপানের স্থাপিত ক্ষমতা ২০ হাজার ৩৪৩ মেগাওয়াট।

দশ বছর আগে স্থাপিত ক্ষমতা ছিল ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় বসার সময় সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড ছিল মাত্র ৩ হাজার ২৬৮ মেগাওয়াট। এখন দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় সাড়ে ১১ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে।

জানা গেছে, শুধু বেসরকারি বিদ্যুৎ খাতে ২০৪০ সাল নাগাদ আরও সাড়ে চার লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের টার্গেট নির্ধারণ করেছে সরকার। এ ক্ষেত্রে নতুন নতুন বিনিয়োগকারীকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। অপরদিকে আগামী ১৫ বছরে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে একশ’ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে অন্তত ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান হবে। বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার যে স্বপ্ন দেখছে তা শিল্পায়নের মাধ্যমেই সম্ভব বলে মনে করছেন তারা। দেশকে শিল্পায়নে এগিয়ে নিতে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে।

পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে বেসরকারি খাতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে শিল্পায়নের বড় উপকরণ গ্যাস এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের গতিশীলতা চায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

শিল্প মালিকরা বলেছেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গড়ে ওঠা শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অর্থনৈতিক জোন স্থাপনে সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে জ্বালানি সংকট। বিশেষ করে গ্যাসের সংকটের কারণে বাধাগ্রস্ত হতে পারে সরকারের দেশব্যাপী অর্থনৈতিক জোন স্থাপনের প্রক্রিয়া। গ্যাসের সংকট থাকলে বিদেশি বিনিয়োগ দূরের কথা দেশি বিনিয়োগকারীরাও আকৃষ্ট হবে না।

বর্তমানে দেশে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট চলছে। গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানা চালু হচ্ছে না। নতুন বিনিয়োগ আসছে না। দেশের দৈনিক চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুটের বিপরীতে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে ২৬৯ কেটি ঘনফুট। প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।

সংকট দূর করতে ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি করছে বাংলাদেশ। কিন্তু এখনও চাহিদা অনুযায়ী এলএনজি আসা শুরু হয়নি। সব মিলিয়ে সাড়ে মাত্র ৩শ’ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি যোগ হয়েছে। যদিও আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল।

আর এই এলএনজির টার্গেট ধরে সরকার ইতিমধ্যে ২ হাজারের বেশি শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগ অনুমোদন করেছে। এসব শিল্পকারখানার অনেকগুলোই ইতিমধ্যে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে অবকাঠামো তৈরি, মেশিনপত্র আমদানি করেও গ্যাসের অভাবে উৎপাদনে যেতে পারছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভূতত্ত্ববিদ বদরুল ইমাম তার এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন, বঙ্গোপসাগর ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও শ্রীলংকা- এই চারটি দেশের উপকূল ছাড়িয়ে বিশাল এলাকাব্যাপী বিস্তৃত এবং এ সাগরের গভীরতা প্রায় একশ’ মিটার থেকে চার হাজার মিটার।

তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমে সাধারণত সমুদ্রে পানির গভীরতা ৪০০ মিটারের কম হলে তাকে অগভীর সমুদ্র এবং এর বেশি হলে তা গভীর সমুদ্র হিসেবে গণ্য করা হয়। গভীর সমুদ্রে সাধারণত ২০০০ মিটার পর্যন্ত অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো হয়।

এ বিষয়ে বদরুল ইমাম যুগান্তরকে বলেন, ভারত ও মিয়ানমার তাদের সমুদ্রসীমায় বিপুল গ্যাসসম্পদের খোঁজ পেয়েছে। মিয়ানমার বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে গ্যাস তুলছে। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার কারণে বাংলাদেশ এখনও জরিপই শুরু করতে পারেনি।

বদরুল ইমাম বলেন, গত ১৫ বছরে প্রতিবছর গড়ে একটি কূপও খনন করা হয়নি। নতুন নতুন গ্যাস উৎসের সন্ধান না পাওয়ায় এখন এলএনজি আনতে হচ্ছে। তার মতে দেশে চলমান গ্যাসঘাটতি মেটাতে স্বল্পমেয়াদের জন্য উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানি যৌক্তিক মনে করা যায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদের জন্য দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরালো করা এবং প্রাপ্ত গ্যাসসম্পদের দ্রুত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

ভূতত্ত্ববিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরে মিয়ানমার অংশে (রাখাইন বেসিন) গ্যাস প্রাপ্তির যে সাফল্য দেখা গেছে, একই রকম সাফল্য সমুদ্রসীমানার এপারে বাংলাদেশের সমুদ্র অংশেও রয়েছে। কারণ, মিয়ানমারের রাখাইন বেসিন ও বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সমুদ্র বেসিন মূলত একই ভূতাত্ত্বিক কাঠামোর অংশ। এটি হতাশাজনক যে বাংলাদেশ সমুদ্রে যথেষ্ট অনুসন্ধান কাজের মাধ্যমে উপরিউক্ত তত্ত্বটি প্রমাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

নিকট ও মধ্যবর্তী (২০২০-৩০) ভবিষ্যতে এ সংকট এড়াতে জ্বালানি আমদানি নির্ভরশীলতা কমিয়ে বাংলাদেশের উচিত অনতিবিলম্বে দেশে বিশেষ করে সমুদ্রের গ্যাস অনুসন্ধানের জোরালো ও চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরু করা। মধ্যম ও দূরবর্তী (২০৩০-৫০) ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশকে নেপাল, ভুটান ও ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং বাস্তবায়ন সাপেক্ষে আন্তঃদেশীয় পাইপলাইন গ্যাস সংযোগ প্রকল্প (ইরান-পাকিস্তান-ভারত অথবা তুর্কমেনিস্তান-আফগানিস্তান-পাকিস্তান-ভারত) সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আমদানির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের ওপর জোর দিয়েছে। স্থলভাগে শতাধিক কূপ খননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সেক্টরে সরকার অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এবার সরকারের পরিকল্পনা অনুসারে জ্বালানি বিভাগকে এগিয়ে নেয়া হবে মূল টার্গেট।

সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের ইতিবৃত্ত : বঙ্গোপসাগরের অগভীর ও গভীর অংশকে মোট ২৬টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে অগভীর অংশে ব্লক রয়েছে ১১টি। আর গভীর সমুদ্রে ব্লক রয়েছে ১৫টি। এর মধ্যে অগভীর সমুদ্রের নয় নম্বর ব্লকে ১৯৯৬ সালে সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে কেয়ার্নস এনার্জি, যা এ পর্যন্ত দেশের একমাত্র সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র। ১৯৯৮ সালে সেখান থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়। মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় ২০১৩ সালে গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত ঘোষিত হয়। এ ছাড়া কুতুবদিয়ার সাগরবক্ষে গ্যাসের সন্ধান মিললেও তা বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য বিবেচিত হয়নি।

এ ছাড়া গভীর সমুদ্রের ডিএস-১০ ও ডিএস-১১ নম্বর ব্লকে ২০০৮ সালের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ইজারা নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি কনোকো ফিলিপস। ২০১১ সালের ১৬ জুন কনোকোর সঙ্গে পিএসসি সই করে পেট্রোবাংলা। দু’বছর অনুসন্ধান কাজ করার পর গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মতভেদের কারণে ২০১৪ সালে ব্লক দুটো ছেড়ে দেয় কনোকো।

এ ছাড়া ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ডাকা অন্য আরেক আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে গভীর সমুদ্রের ডিএস-১২, ডিএস-১৬ ও ডিএস-২১ এই তিন ব্লকের জন্য যৌথভাবে দরপ্রস্তাব জমা দিয়েছিল কনোকো ও স্টেট ওয়েল। পরবর্তী সময়ে কনোকো নিজেকে সরিয়ে নেয়ায় ব্লকগুলো ইজারা দেয়া সম্ভব হয়নি।

একই সময়ে অগভীর সমুদ্রের ব্লকগুলোর জন্য ভিন্ন একটি দরপত্র আহ্বান করে পেট্রোবাংলা। এই দর প্রক্রিয়া একমাত্র প্রস্তাবদাতা হিসেবে এসএস ১১নং ব্লক সান্তোস ও ক্রিস এনার্জি এবং এসএস ৪ ও এসএস ৯নং ব্লক ভারতীয় দুটি কোম্পানি ওএনজিসি ভিদেশ (ওভিএল) ও অয়েল ইন্ডিয়া (ওআইএল) ইজারা নিয়েছে।

এরপর জ্বালানি বিভাগ বিশেষ আইনে দর প্রক্রিয়া ছাড়াই বাকি ব্লকগুলো ইজারা দেয়ার উদ্যোগ নেয়। এ জন্য ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে আগ্রহ পত্র চায় পেট্রোবাংলা। সিঙ্গাপুরের ক্রিস এনার্জি, দক্ষিণ কোরিয়ার পোসকো দাইয়ু ও নরওয়ের স্টেট অয়েল আগ্রহ প্রকাশ করে।

পরবর্তী সময়ে প্রস্তাব চাওয়া হলে ১২ নম্বর ব্লকের জন্য শুধু দাউয়ু প্রস্তাব দাখিল করে। দীর্ঘ আলোচনার পর গত ডিসেম্বরে ডিএস ১২ নম্বর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দাইয়ু কর্পোরেশনের সঙ্গে উৎপাদন-অংশীদারিত্ব চুক্তি (পিএসসি) সই করেছে পেট্রোবাংলা।

দাইয়ু এই ব্লকের পাশেই মিয়ানমারের একটি সমুদ্র ব্লকে গ্যাস উত্তোলনের কাজ করছে। জ্বালানি বিভাগের তথ্য মতে, ওএনজিসি ইতিমধ্যে জরিপ কাজ শেষ করেছে। তারা এসএস ৪-এ কাঞ্চন এক নামে একটি অনুসন্ধান কূপ খননের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ক্রিস এনার্জি গত মে মাসে টু ডি জরিপে কাজ শেষ করেছে। দাইয়ুর আগামী শুষ্ক মৌসুমে জরিপ কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×