মোদিবিরোধী সমাবেশ এবার দিল্লিতে

  কৃষ্ণকুমার দাস, কলকাতা থেকে ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নরেন্দ্র মোদি
নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপির বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ ২৩ দলের শীর্ষ নেতারা কলকাতার ব্রিগেড সমাবেশের সাফল্য ধরে রেখে আগামী মাসে দিল্লিতে ফের জমায়েত করতে চাইছেন। কলকাতায় মমতা ব্যানার্জির উদ্যোগে সভা হলেও রাজধানী দিল্লিতে এ সমাবেশ করার মূল উদ্যোক্তা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

মোদিবিরোধী দ্বিতীয় ঐতিহাসিক সমাবেশ আয়োজনে পূর্ণ মদদ দিচ্ছেন কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুখ আবদুল্লা, উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব ও বিজেপির তিন বিদ্রোহী নেতা যশবন্ত সিং, শত্রুঘ্ন সিনহা ও অরুণ শৌরির।

মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভারতের সংসদীয় নির্বাচন ঘোষণার আগেই দিল্লিতে সমাবেশের মধ্য দিয়ে বিরোধীদের ঐক্যের ছবি তুলে ধরে মোদিকে জোর ধাক্কা দিতে চাইছেন বিজেপিবিরোধী নেতারা।

সোমবার শিলিগুড়ি সফরে যাওয়ার আগে দমদম বিমানবন্দরে স্বয়ং মমতা বলেছেন, ‘আঞ্চলিক দলের নেতারা নিজেদের মধ্যে সবসময় যোগাযোগ রাখছেন। শিগগির দিল্লি ও অন্ধ্রপ্রদেশের অমরাবতীতে সমাবেশ করে বিজেপির বিদায় নিশ্চিত করা হবে।’

কলকাতার সমাবেশের সাফল্যে উৎসাহী বিরোধী নেতৃত্ব প্রতিটি রাজ্যেই এ ধরনের সমাবেশ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। দিল্লি, মুম্বাই, হায়দরাবাদ, বিহার, চেন্নাইয়ে হবে জোটের সমাবেশ। মমতা চাইছেন, ফারুক আবদুল্লারা ব্যবস্থা করলে কাশ্মীর ও আসামেও এ ধরনের মহাজোটের সমাবেশ করা যেতে পারে। আসন্ন ভোটে দেশের সব আসনে বিজেপির বিরুদ্ধে একটিই প্রার্থী দেয়ার প্রস্তুতি নিতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন ২৩ দলের নেতারা।

কলকাতার ব্রিগেড সমাবেশে না এলেও কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধী দু’জনেই চিঠি পাঠিয়ে বিরোধীদের ‘ইউনাইটেড ইন্ডিয়া’ সমাবেশকে সমর্থন জানিয়েছেন। অসুস্থতার কারণে সোনিয়া কলকাতার সমাবেশে আসতে পারেননি বলে মমতাকে জানিয়েছিলেন।

কিন্তু এবার দিল্লিতে সমাবেশ হলে সেখানে সোনিয়া বা রাহুলের হাজির থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ভারতের সংসদীয় ভোট ঘোষণার সময় যত এগিয়ে আসছে ততই মোদিবিরোধী জোট শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে বলে এদিন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী জানিয়েছেন।

তবে কর্ণাটকের কুমারস্বামী ও বিহারের লালুপ্রসাদের ছেলে আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, দু’জনেই বিরোধী জোটের নেতা হিসেবে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর নাম প্রকাশ্যেই বলেছেন।

জানিয়েছেন, ‘রাহুল এখন অনেক পরিণত এবং মোদিবিরোধী লড়াইয়ে সেনাপতি হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে তার। আগামীতে ভোটের লড়াই হবে মোদি বনাম ঐক্যবদ্ধ জোট।’

যদিও কলকাতায় এদিন মমতা ফের বলেছেন, ‘লোকসভা ভোটের পর ঠিক হবে জোটের নেতা কে হবেন। প্রধানমন্ত্রীর নাম তখনই ঠিক হবে। আগে মোদির বিদায়, পরে প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করবেন ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্টের নেতারা।’

ভারতের সব বিরোধী নেতার নজরে এখন নরেন্দ্র মোদি। সবার টার্গেটই প্রধানমন্ত্রী। একটাই আওয়াজ। তাকে যেভাবেই হোক সরাতে হবে। কারণ সবার এক সুর- মোদি আরও একবার ক্ষমতায় এলে দেশের সংবিধানটাই বদলে দেবেন। নির্বাচন বন্ধ করে দেবেন।

ব্যাংকে গচ্ছিত সাধারণ মানুষের টাকাও লোপাট হয়ে যাবে। মুখ্যমন্ত্রী তার এই পাঁচ বছরকে তুলনা করলেন হিটলারের জমানার সঙ্গে। অন্যদের গলায় আক্রমণ তীব্র। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে সমর্থন করে মমতা বলেন, ‘৭০ বছরে পাকিস্তান আমাদের যা ক্ষতি করেতে পারেনি, এই পাঁচ বছরে তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি করেছে এই বিজেপি। সবকিছু শেষ করে দিয়েছে। সবাই যখন কাঁদছে, বিজেপি তখন হাসছে। জনগণের টাকা লুটে ভোট করছে।’

মমতা আরও বলেছেন, ‘নেতা আমরা সবাই। আবার সবাই কর্মী। সবাই আয়োজক। আসলে আমরা প্রজা। আর এ দেশ গণতন্ত্রের। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লোকের অভাব নেই দেশে। ভোটে জয়ের পর সেসব ঠিক হবে।’ একসঙ্গে গোটা বিরোধী শিবিরের চোখেই ভিলেন শুধু মোদি।

বাইরে থেকে নয়, মোদি হটানোর আওয়াজ উঠেছে বিজেপির ঘর থেকেই। বলিউডের নামি অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা এখনও বিজেপির সংসদ সদস্য। তিনি এতটাই ক্ষুব্ধ যে, বিরোধী শিবিরকে বার্তা দিয়ে বলেছেন, ‘মতভেদ আপনাদের হতে পারে, কিন্তু মনের ভেদ যেন না হয়। মোদিকে হারাতেই হবে।’

অটল বিহারী বাজপেয়ী মন্ত্রিসভার দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী অরুণ শৌরি ও যশবন্ত সিনহাও বক্তব্যে মোদিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। শামিল হয়েছেন সদ্য বিজেপি ছেড়ে আসা অরুণাচল প্রদেশের পাঁচবারের মুখ্যমন্ত্রী গেগং আপাং।

বিরোধী জোটের নেতারা বলছেন, শুধু এই তিন প্রবীণ নেতা নন, মোদি-অমিত শাহের বিজেপিতে রাজনাথ সিং, সুষমা স্বরাজ, নীতিন গড়কড়ির মতো মানুষদেরও আজ সম্মান নেই। খুব স্বাভাবিকভাবেই কলকাতায় বিরোধী নেতারা সত্যটা স্বীকার করে স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলার নেতৃত্ব দানের প্রসঙ্গ তুলেছেন। কেউ কেউ মনে করিয়ে দিলেন মহামতি গোখলের বিখ্যাত উক্তি, ‘হোয়াট বেঙ্গল থিংকস টুডে, ইন্ডিয়া থিংকস টুমরো।’

পাটনায় এদিন লালুপ্রসাদ যাদবের ছেলে তেজস্বী কলকাতার সমাবেশের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন, একদিকে যেমন রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, অন্যদিকে তেমন বাংলা ও বাঙালির উদ্যোগে সমর্থন করেছেন।

অবশ্য বিরোধীদের এই ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ নিয়ে একদিন আগেই মমতা বলেছেন, ‘এই মঞ্চ ভারতবর্ষের মঞ্চ। নতুন সূর্য উঠবে। আমরা একসঙ্গে কাজ করব। এটা দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধ। কখনও কখনও সময়ের প্রয়োজনে চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-তারা এক আকাশে উঁকি মারে। বাংলা একসময় নবজাগরণে পথ দেখিয়েছে। এখন দেশকে পথ দেখাবে।’ মমতা দাবি করেছেন, শুধু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে রাফাল বিমান কেলেঙ্কারি নয়, এ সরকার চলে গেলে আরও বড় বড় স্ক্যান্ডাল বেরোবে। বলেছেন, ‘বিজেপির এখন বিনাশকালে বুদ্ধিনাশ। আরও অনেকে আছে যারা আমাদের সঙ্গে যোগ দেবেন, আমরা তাদের জন্য অপেক্ষা করছি।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×