আমদানি পণ্যের শুল্কায়নে দুর্নীতি-হয়রানি

এনবিআরের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম কাস্টমসে

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম কাস্টমস
চট্টগ্রাম কাস্টমস। ফাইল ছবি

আমদানি পণ্যের শুল্কায়নে দুর্নীতি-হয়রানির সত্যতা যাচাই এবং শুল্কায়ন পদ্ধতিতে ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে কি না- তা খতিয়ে দেখতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলকে বুধবার চট্টগ্রাম কাস্টমসে পাঠানো হয়েছে।

এনবিআর চেয়ারম্যানের নির্দেশে পাঠানো প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সরেজমিনে শুল্কায়ন পদ্ধতি দেখবেন এবং কাস্টম হাউসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি দৈনিক যুগান্তরে শুল্কায়ন পদ্ধতির জটিলতার কারণে আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং এ কারণে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দুর্নীতি জেঁকে বসেছে শিরোনামে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদ আমলে নিয়ে বিদ্যমান শুল্কায়ন পদ্ধতির জটিলতা দূর এবং দুর্নীতি রোধে করণীয় নির্ধারণে নির্দেশ দেন এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। মূলত এনবিআর চেয়ারম্যানের নির্দেশে আট সদস্যের প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে পাঠানো হয়েছে।

এ প্রতিনিধি দল সরেজমিনে শুল্কায়ন পদ্ধতি দেখবে এবং কাস্টম হাউসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক করবে। শুল্কনীতির সদস্য ফিরোজ শাহ আলমের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে রয়েছেন চট্টগ্রাম কাস্টমসে সদ্য নিয়োগ পাওয়া কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান, সিস্টেম ম্যানেজার শফিকুর রহমান, এনবিআরের প্রথম সচিব আবুল বাশার মো. শফিকুর রহমান, একেএম নূরুল হুদা আজাদ, দ্বিতীয় সচিব মোহাম্মদ মাহবুব হাসান এবং অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড টিমের তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। প্রতিনিধি দলটি বুধবার বিকালে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন। আজ সরেজমিনে পণ্যের শুল্কায়ন দেখবে।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া যুগান্তরকে বলেন, কাস্টম হাউসে প্রতিনিধি দলকে শুল্কায়ন পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনে বিধিমালা সংশোধন করা হবে।

প্রতিনিধি দলের প্রধান ও শুল্কনীতির সদস্য ফিরোজ শাহ আলম বলেন, শুল্ক মূল্যায়ন বিধিমালায় অসঙ্গতি নেই। তবে প্রয়োগে অসঙ্গতি আছে। বুধবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন সব কর্মকর্তাকে শুল্কায়নে বিধিমালার প্রয়োগের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এতে নতুন ও পুরনো দুই কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, শুল্ক মূল্যায়ন (আমদানি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ) বিধিমালা ২০০০ এবং এনবিআরের জারি করা স্থায়ী আদেশ (০১/১৮, তারিখ-৩০/০৭/১৮ খ্রি.) অনুযায়ী আমদানি পণ্যের শুল্কায়ন করে চট্টগ্রাম কাস্টমস। বিধিমালার শুরুতে বিনিময় মূল্যে (আমদানি মূল্য) পণ্যের শুল্কায়ন করার কথা বলা আছে। অর্থাৎ আমদানি পণ্যের প্রকৃত মূল্যে শুল্কায়নের কথা। কিন্তু কাস্টমস সেটি না করে (বিনিময় মূল্যে) সব ক্ষেত্রেই অভিন্ন পণ্য (আইডেন্টিক্যাল গুডস) ও সমতুল্য পণ্যের (সিমিলার গুডস বা একই জাতীয় পণ্য) ক্যাটাগরিতে শুল্কায়ন করে।

এ কারণে আমদানিকারকদের অতিরিক্ত শুল্ক-কর দিতে হচ্ছে। এতে একদিকে আমদানিকারকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে বাধ্য হয়ে পণ্য খালাসে ঘুষ দিতে হচ্ছে। কারণ অভিন্ন পণ্য বা সমতুল্য পণ্যের ক্যাটাগরিতে পণ্যের শুল্কায়নের সময় কাস্টমসে রক্ষিত ৩ মাসের ডাটাবেজ অনুযায়ী ওই পণ্যের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে অ্যাসেসমেন্টে অংশ নেয়া কর্মকর্তার ইচ্ছা প্রাধান্য পায়। তাই বাধ্য হয়ে আমদানিকারককে কর্মকর্তাদের সঙ্গে লিয়াজোঁ করতে হয়। যারা লিয়াজোঁ করেন না তাদের উচ্চ দামে পণ্যের শুল্কায়ন করতে হয়।

আমদানিকারকরা বলছেন, বাণিজ্যের গতি ধরে রাখতে বিদ্যমান শুল্ক মূল্যায়ন বিধিমালা সংশোধন এবং সংস্কার করতে হবে। সহজ ও যৌক্তিক শুল্কায়ন শেষে দ্রুততার সঙ্গে পণ্য খালাসের ব্যবস্থা করতে হবে। বড় জোর তিন দিনের ডাটাবেজ (আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডার) পরীক্ষা ও অনলাইনে তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য দেখে আমদানি পণ্যের শুল্কায়ন করা যায়।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, এখন অনলাইনের যুগ। আন্তর্জাতিক বাজারে কোন পণ্যের কী দর তা নিমেষে দেখে নেয়া যায়। দিনে দিনে এমনকি ঘণ্টায় ঘণ্টায় পণ্যের দাম কমতেও পারে আবার বাড়তেও পারে।

এখানে তিন মাসের ডাটাবেজ দেখার কোনো প্রয়োজন নেই। আমদানিকারক যে দামে পণ্যটি কিনেছেন সেই দরের ওপরই শুল্ক নির্ধারণ করতে হবে। যদি তা না হয় তবে কম দামে পণ্য কিনে বেশি দামের শুল্ক দিয়ে আমদানিকারকের লাভ কী। অথচ চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস তাই করছে। এভাবে চলতে পারে না। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার।

নুরুজ্জামানকে বদলি, নতুন কমিশনার কাজী মোস্তাফিজ : চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার ড. একেএম নুরুজ্জামানকে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে নিয়োগ দেয়া হয়েছে কাজী মোস্তাফিজুর রহমানকে। রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যানের নির্দেশে ২১ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট বিভাগের দ্বিতীয় সচিব সোহানা ইসলাম এ বদলি আদেশ জারি করেন। যোগদানের ১৪ মাসের মাথায় বদলি হলেন নুরুজ্জামান।

তাকে ঢাকায় শুল্ক মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের কমিশনার করা হয়েছে। নবনিযুক্ত কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা দক্ষিণের কমিশনার ছিলেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×