বগুড়ায় মির্জা ফখরুল

তামাশার নির্বাচন করে আ’লীগ আজ গণশত্রু

সভাপতি ও সম্পাদকের হাতাহাতি থামালেন মহাসচিব

  বগুড়া ব্যুরো ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের নামে তামাশা করে আজ গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে। এ নির্বাচনে মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি।

তারা নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। দলটি আজ জনবিচ্ছিন্ন। আমরা ফল প্রত্যাখ্যান করেছি। নির্বাচনের ফল বাতিল করতে হবে। ঠাকুরগাঁও থেকে সড়কপথে ঢাকায় ফেরার পথে বুধবার দুপুরে বগুড়া শহরতলির গোকুলে হোটেল মম-ইন-এ যাত্রা বিরতিকালে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মহাসচিব এসব কথা বলেন।

বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান, রেজাউল করিম বাদশা, সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, আলী আজগর হেনা, শহর বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বকুল, সাধারণ সম্পাদক হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীন, মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যকে ‘চোরের মায়ের বড় গলা’ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভোট ডাকাতি করে জয়লাভ করে এখন বলছেন তারা দেশে জনপ্রিয়। কিন্তু জরিপ বলছে, ৯৯ শতাংশ মানুষ বিএনপির পক্ষে। তাই আওয়ামী লীগ এখন গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের কারণে মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়া আজ জেলে আর তারেক রহমান বিদেশে।

তাই খালেদা জিয়াকে জেল থেকে বের করতে, তারেক রহমানকে দেশে আনা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বগুড়া থেকেই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন শুরু করতে হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, ২০১৮ সালে তা প্রমাণিত হল। তিনি বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটাররাও ভোট দিতে পারেননি। আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতিতে সভাপতি-সম্পাদক : বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁনের কোন্দল আরও বেড়েছে। বগুড়া শহরতলির গোকুল এলাকায় পাঁচতারকা হোটেল মম-ইন-এ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল যাত্রাবিরতি করেন। বুধবার দুপুরে মহাসচিব বগুড়ার ওই হোটেলে আসার আগেই সভাপতি তার লোকজন নিয়ে সেখানে হাজির হন।

পরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মহাসচিবকে বরণ করে লিফটে ৭ম তলায় যাচ্ছিলেন। এ সময় সভাপতি প্রশ্ন তোলেন মহাসচিব আসার খবর তাকে কেন দেয়া হয়নি। সাধারণ সম্পাদক উত্তরে বলেন, আপনি তো অনুষ্ঠানে আসতেই রাজি হন না। তারপরও মহাসচিব আসার খবর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হিমুকে জানানো হয়েছে। তখন সভাপতি ক্ষিপ্ত হয়ে সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। হাতাহাতি শুরুর উপক্রম হলে মহাসচিব ফখরুল ইসলাম সভাপতি সাইফুলের জ্যাকেট ধরে থামতে অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সামনে এমন করলে আমি অনুষ্ঠানে না গিয়ে ফিরে যাব। তখন দুই নেতা শান্ত হলে ফখরুল অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ নিয়ে অনলাইন পোর্টালগুলো ‘ফখরুলের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা’ শিরোনামে খবর প্রচার করার বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, মহাসচিব একজন সজ্জন ব্যক্তি, তাকে জড়িয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। এ ধরনের সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন বলেন, জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডা হচ্ছিল। তখন মহাসচিব আমাদের থামিয়ে দেন। তবে মহাসচিবকে নিয়ে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা ভিত্তিহীন। এটি কালার দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল বলেছেন, মহাসচিব আমাদের জেলা সভাপতির কলার চেপে ধরেননি। সাংবাদিকদের সামনে এহেন ঘটনায় তিনি জ্যাকেট ধরে সভাপতিকে শান্ত হতে অনুরোধ করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, নানা কারণে জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁনের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে।

তাদের ঘিরে নেতাকর্মীরা বিভক্ত। কিছু দিন ধরে জেলা সভাপতি সাইফুল ইসলাম অনেক অনুষ্ঠানে নিয়মিত নন। ফলে সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে আসছিলেন।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×