ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে শিগগিরই অভিযান

গডফাদারদেরও রেহাই মিলবে না

  সৈয়দ আতিক ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে শিগগিরই অভিযান
ফাইল ছবি

সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও চিহ্নিত গডফাদারদের ধরতে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে শিগগিরই বড় ধরনের অভিযান চালাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ অভিযানের আগে বিশেষ অভিযানের মতো কোনো ঘোষণা থাকবে না। হঠাৎ করেই অভিযান শুরু হতে পারে।

সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসী গ্রুপকে চিহ্নিত করার পর অভিযান পরিচালনা করা হবে। এজন্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অভিযানের মূল লক্ষ্য, আন্ডারওয়ার্ল্ডে অস্ত্রধারীদের ছত্রভঙ্গ করা। পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সম্প্রতি মাদকের বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযান চলছে সে ধরনের অভিযানও হতে পারে আন্ডারওয়ার্ল্ডে। বিশেষ করে আন্ডারওয়ার্ল্ডে কয়েকজন দাপুটে সন্ত্রাসীর নাম-ঠিকানা পাওয়া গেছে। যারা ঢাকায় গোপনে এক ধরনের রাজত্ব তৈরি করেছে। এরা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের হুমকি দিয়ে চাঁদা নিচ্ছে। এদের অনেকে রাজনৈতিক দলে ভেড়ারও চেষ্টা চালাচ্ছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সম্প্রতি পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিট তাদের প্রতিবেদনে বেশ কিছু তথ্য উল্লেখ করেছে। এতে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের কারাবন্দি শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে বলা হয়, তাদের (শীর্ষ সন্ত্রাসী) যখন মামলায় হাজিরা দিতে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয় তখন লোকসমাগম বেড়ে যায়।

বিশেষ করে এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপের সন্ত্রাসীরা এসব শীর্ষ সন্ত্রাসীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে। এ সময় তাদের মধ্যে বার্তা বিনিময় হয়। সম্প্রতি দেয়া এ প্রতিবেদনটি নিয়ে পুলিশের একটি অপারেশনাল ইউনিট কাজ করে কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম যুগান্তরকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে অস্ত্র জব্দ ও সন্ত্রাসী গ্রেফতার একটা চলমান প্রক্রিয়া। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘোষণা দিয়ে বিশেষ অভিযান চালানো হয়।

এ অভিযানের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে, মাদক ও সন্ত্রাস দমন। তিনি বলেন, আবার কখনও কখনও ঘোষণা না দিয়েও বড় ধরনের অভিযান চালানো হয়। এটা নির্ভর করে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে। এ ধরনের গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে কয়েকজন সন্ত্রাসীর ব্যাপারে।

যারা ঢাকার কথিত আন্ডারওয়ার্ল্ডে নিজেদের সক্রিয় রেখেছে। তাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়। এরা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে। অপরাধের জম্ম দিতে পারে। সেজন্য তাদের শক্ত হাতে দমন করতে অভিযান চালানো হবে। এ ক্ষেত্রে গডফাদারদেরও রেহাই মিলবে না।

মাঠপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে কাজ করেন এমন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, আন্ডারওয়ার্ল্ডে অভিযানের জন্য এক ধরনের গোপন সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগে থেকেই সন্ত্রাসী তালিকা হালনাগাদ করা ছিল।

বিশেষ করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ তালিকা করা হয়। ওই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, শ্রেণীভেদে ছোট-বড় ও মাঝারি এ তিন স্তরে সন্ত্রাসী রয়েছে ঢাকায়। এদের বিরুদ্ধে আছে হত্যা মামলা, ডাকাতি, সশস্ত্র ছিনতাইসহ নানা ধরনের অভিযোগ।

অভিযানের আরেক লক্ষ্য, তারা যাতে কোনোভাবে রাজনৈতিক দলে প্রবেশ করতে না পারে। এজন্য অভিযান চালানো হবে। এরা রাজনৈতিক দলে গিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে গোলাগুলি, টেন্ডারবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে।

এছাড়া আন্ডারওয়ার্ল্ডের কোনো কোনো গ্রুপ আবার অস্ত্র সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে জঙ্গিগোষ্ঠীর সহায়তা নেয়- এমন তথ্য পাওয়া গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত থেকে জঙ্গিদের একটি গ্রুপ হাতবদল করে ঢাকার সন্ত্রাসীদের কাছে অস্ত্র দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, আত্মগোপনে থাকা চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের অনেকে এখন প্রকাশ্যে। তারা ছোট ছোট দল গঠন করছে। এতে মদদ আছে কারাবন্দি ও বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসীদের। তালিকায় আছে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী সন্ত্রাসী মেহেদী গ্রুপ ও মালয়েশিয়ায় অবস্থানকারী ডালিম ও রবিন গ্রুপের সন্ত্রাসীদের নাম।

শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকায় আছে মিরপুরের শাহাদাত, মোহাম্মদপুর এলাকার কারাবন্দি শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলাল, আত্মগোপনকারী সন্ত্রাসী মোক্তারের লোকজনের নাম।

র‌্যাব সূত্র জানায়, ছোট ছোট গ্রুপে ঢাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে মেহেদী হাসান, শাহরিয়ার, ইউসুফ অনিক, আমিনুল ইসলাম আমিন, আবু হুরায়রা আদিব, সাব্বির হোসেন, শিশির ওরফে সজল ও মাজহারুল ইসলাম ওরফে অনিক।

এরা আধিপত্য বিস্তার, ছিনতাই, মাদক বাণিজ্য, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এদের মধ্যে শাহজাহানপুর ও পুরান ঢাকার খান রাসেল গ্রুপ, শাহজাহানপুরের ইমন গ্রুপ, গোড়ানের হাওয়াই গলির মুজিবুর রহমান রানা, গোড়ান ঝিলপাড়ের মেহেদী গ্রুপ চিহ্নিত হয়েছে। এসব গ্রুপের দুই নিয়ন্ত্রণকারীর নাম রাব্বি ও অদিত।

ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার (অপারেশন্স) শেখ নাজমুল আলম যুগান্তরকে বলেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে যে মাত্রার অভিযান প্রয়োজন তা চালানো হবে। তিনি বলেন, আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন কিছু গ্রুপ তৈরি হয়েছে। তাদের দমনে অভিযান চালানো হবে।

এসব গ্রুপে আছে নতুন নতুন মুখ। পুরনো দাগি সন্ত্রাসীরা নতুন মুখ দিয়ে একই ধরনের অপরাধ করে যাচ্ছে।

ঘটনাপ্রবাহ : মাদকবিরোধী অভিযান ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×