মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল

জমি অধিগ্রহণে ঋণ এক শতাংশ সুদে

অনাপত্তি চাওয়া হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে * যে কোনো সুদহার কম থাকলে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে -বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান

  মিজান চৌধুরী ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল
মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল

বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ১ শতাংশ সুদে মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভারতের জন্য বিশেষ জোনের জমি অধিগ্রহণ প্রকল্পে ৮৪৫ কোটি টাকার ঋণ দিচ্ছে সরকার। সুদ কমানোর বিষয়ে অনাপত্তি চাওয়া হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে।

কারণ এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে ঋণের সুদের হার ৫ শতাংশ নির্ধারণ করে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এখন ভারতের জন্য বিশেষ জোন স্থাপনে ঋণের সুদহার কমানো হচ্ছে। এর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে শিগগিরই প্রস্তাবটি পাঠানো হবে। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করেছে মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, এর আগে অর্থনৈতিক অঞ্চল জামালপুর, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের জমি অধিগ্রহণ এবং নাফ ও সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য সরকারি উৎস থেকে ১ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়া হয়েছে।

সে আলোকেই মীরসরাইয়ে ভারতের জন্য বিশেষ জোন স্থাপনে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ঋণের সুদহার একই রাখা হবে। বেজা এই ঋণ নিয়ে মীরসরাইয়ে ভারতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক জোনের জন্য জমি অধিগ্রহণসহ অবকাঠামো উন্নয়ন করবে। জমি বরাদ্দ দেয়ার সময় অর্জিত আয় থেকে বেজা সরকারের ঋণ পরিশোধ করবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, সুদের হার যত কম হবে, অবকাঠামো উন্নয়নের ব্যয় তত কমবে। এতে উদ্যোক্তাদের ব্যয়ও কমে আসবে। এখানে বিনিয়োগকারীদের লাভের বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই।

সুদের হার যত কমাতে পারি, বাংলাদেশের জন্য এটি ভালো বিষয়। এটি অর্থনীতি ও ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। শুধু অর্থনীতির ক্ষেত্রে নয়, যে কোনো ক্ষেত্রে সুদের হার কমানো হলে দেশও উপকৃত হবে।

সূত্রমতে, ৭ মে পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভারতের জন্য একটি বিশেষ জোন স্থাপনের লক্ষ্যে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ঋণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

সেখানে বলা হয়, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছ থেকে নেয়া ঋণের সুদের হার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঋণের সুদের হার ১ শতাংশের ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি বা সম্মতি দেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে প্রস্তাব পাঠায় বেজা।

প্রসঙ্গত, সরকারি উৎস থেকে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে ২০১১ সালে কয়েকটি শর্ত দিয়ে পরিপত্র জারি করে অর্থ বিভাগ। এ শর্ত দেয়া হয় স্থানীয় বা বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণের লগ্নি এবং পুনর্লগ্নির ক্ষেত্রে। ওই পরিপত্রে বলা হয়, অবকাঠামো খাতে রাজউক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঋণের সুদের হার হবে ৫ শতাংশ। পাশাপাশি ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছর পরিশোধে ঋণ দেয়ার শর্ত রয়েছে।

এদিকে সুদ কমানো প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে বলা হয়, জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল শীর্ষক প্রকল্প, অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ (নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজার ও চট্টগ্রামের মীরসরাই) প্রকল্প এবং নাফ ও সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোয় বার্ষিক ১ শতাংশ হারে সুদে ঋণ নিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফলে উল্লিখিত প্রকল্পের সমজাতীয় মিরসরাইয়ে ভারতের জন্য বিশেষ জোন স্থাপনে জমি অধিগ্রহণ প্রকল্পের প্রাক্কলিত অর্থের (জিওবি অর্থ) ওপর প্রস্তাবিত বার্ষিক ১ শতাংশ হারে সুদে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, চারটি শর্তে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়ার সম্ভাবনা আছে। এসব হবে সুদযুক্ত সরকারের একটি ঋণ। এ ঋণের সুদের হার হবে ১ শতাংশ। এ ঋণ গ্রহণের আগে অর্থ বিভাগের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর ৫ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ঋণ পরিশোধের সময় পাবে ২০ বছর। গ্রেস পিরিয়ড চলাকালীন কোনো সুদ পরিশোধ করতে হবে না। ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে ভারতকে অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য জমি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় মীরসরাইয়ে জমি বরাদ্দের বিষয়ে। ভারত মীরসরাইয়ে ১ হাজার ৫৫ একর জমি বরাদ্দ চায়।

পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সরকার সেখানে এক হাজার একর জমি বরাদ্দ করেছে। এর আগে বাংলাদেশ ভারতকে দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড) দিয়েছে, যার সম্ভাব্য স্থান কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ও খুলনার মোংলায়। মীরসরাইয়ে হচ্ছে দেশটির তৃতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল।

সূত্রমতে, বাংলাদেশে এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ভারত মোট ২৭৮ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। দেশে ২০৩০ সাল নাগাদ ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার এখন কাজ করছে। এর মধ্যে মীরসরাই হবে দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল। এর আয়তন হবে প্রায় ৩০ হাজার একর। আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সবার আগে এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে সরবরাহ করা হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×