তামিম-ঝড়ে চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স

কুমিল্লা : ১৯৯/৩ * ঢাকা : ১৮২/৯ * ফল : কুমিল্লা ১৭ রানে জয়ী

  স্পোর্টস রিপোর্টার ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সেঞ্চুরি করার পর তামিমের উচ্ছ্বাস
সেঞ্চুরি করার পর তামিমের উচ্ছ্বাস। ছবি: বিসিবি

এবারের বিপিএলে আগের পাঁচটি সেঞ্চুরিই ছিল পাঁচ বিদেশির। দেশি ক্রিকেটারদের কাছ থেকে একটি সেঞ্চুরি দেখার অপেক্ষায় থাকা দর্শকদের তৃষিত নয়ন জুড়িয়ে একেবারে ফাইনালেই আসরের সেরা ইনিংসটি খেললেন তামিম ইকবাল। মাত্র ৬১ বলে অপরাজিত ১৪১ রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংস খেলে ছাড়িয়ে গেলেন সবাইকে।

শুক্রবার মিরপুরে বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের ফাইনালে তামিমের রেকর্ডভাঙা বিস্ফোরক সেঞ্চুরিতে ঢাকা ডায়নামাইটসের হৃদয় ভেঙে শিরোপা উৎসব করল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ১০ চার ও ১১ ছক্কায় সাজানো তামিমের টর্নেডো ব্যাটিংয়ে তিন উইকেটে ১৯৯ রানের পাহাড় গড়েছিল কুমিল্লা।

জবাবে আশাজাগানিয়া শুরুর পরও নয় উইকেটে ১৮২ রানে থমকে যায় সাকিব আল হাসানের ঢাকা। ১৭ রানের জয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিপিএল শিরোপা ঘরে তুলল কুমিল্লা।

বিপিএলে নিজের প্রথম ফাইনালেই তামিম পেলেন শিরোপার আরাধ্য স্বাদ। আসরের শুরুতে নিজের ছায়া হয়ে থাকা দেশসেরা এই ব্যাটসম্যান নিজের সেরাটা যেন তুলে রেখেছিলেন ফাইনালের জন্যই।

গত আসরের ফাইনালে ঢাকার শিরোপা স্বপ্ন ভেঙেছিল রংপুরের ক্যারিবীয় ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইলের খুনে ব্যাটিংয়ে। এবার সাকিবদের দুঃস্বপ্নের কারণ হলেন তামিম। টানা দুটি ফাইনালে হারল ঢাকা। ফাইনালের মতো স্নায়ুক্ষয়ী চাপের ম্যাচে ২০০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শূন্য রানে সুনীল নারাইনকে হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে উপুল থারাঙ্গা ও রনি তালুকদারের ১০২ রানের টর্নেডো জুটিতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল ঢাকা। কিন্তু এ জুটি ভাঙতেই মুখ থুবড়ে পড়ে তারা।

থারাঙ্গা ২৭ বলে ৪৮ ও রনি ৩৮ বলে ৬৬ রান করে বিদায় নেয়ার পর কেউ-ই দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে নিতে পারেননি দলকে। সাকিব, আন্দ্রে রাসেল ও কিয়েরন পোলার্ড মেটাতে পারেননি সময়ের দাবি। নুরুল হাসান থামেন ১৮ রানে। শেষ ওভারে ২২ রানের কঠিন সমীকরণ মেলাতে পারেননি মাহমুদুল হাসান (১৫), রুবেল হোসেন ও কাজী অনিক।

কুমিল্লার পক্ষে ওয়াহাব রিয়াজ তিনটি এবং মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও থিসারা পেরেরা নেন দুটি করে উইকেট। তবে সবাইকে ছাপিয়ে ফাইনালের উজ্জ্বলতম মুখ তামিমই। ওয়ান ম্যান শো’র সুবাদে অনুমিতভাবেই ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে তার হাতে।

আসল ট্রফিটা হাত ফসকে গেলেও টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন ঢাকার সাকিব। বিপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ ২৩ উইকেট নেয়ার রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে সাকিব করেছেন ৩০১ রান।

রানপ্রসবা ফাইনাল শেষে চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার হাতে ট্রফি তুলে দেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান ও আইসিসি সভাপতি শশাঙ্ক মনোহর। বিপিএল ফাইনাল দেখতে বিসিবির আমন্ত্রণে গত বুধবার ঢাকায় আসেন মনোহর।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা কুমিল্লার শুরুটা দেখে বোঝা যায়নি তিন উইকেটে ১৯৯ রানের পাহাড় গড়তে পারে তারা। দ্বিতীয় ওভারেই বিদায় নেন এভিন লুইস। বিপর্যয় এড়াতে তামিম ঢুকে যান খোলসে। অন্যপ্রান্তে এনামুলও এগিয়েছেন ধীরগতিতে। প্রথম চার ওভারে কুমিল্লার সংগ্রহ ছিল মাত্র ১৭ রান, ১০ ওভারে ৭১।

উইকেটে থিতু হওয়ার পর তামিম খেলতে থাকেন একের পর এক শট। শেষ ১০ ওভারে বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে একাই উড়িয়ে দেন ঢাকার বোলিং। রেকর্ডের পাতা এলোমেলো করে তুলে নেন অসাধারণ এক সেঞ্চুরি। তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন তামিম। শেষ পর্যন্ত তার একার ব্যাট থেকেই এসেছে ৬১ বলে অপরাজিত ১৪১ রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংস। যেখানে ১০টি চারের পাশে রয়েছে ১১টি ছক্কা।

বিপিএলে নিজের প্রথম ফাইনালকে স্মরণীয় করে রাখতেই যেন টি ২০তে নিজের সেরা ইনিংসটি খেললেন তামিম। টি ২০তে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের এমন বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের নজির নেই। ৫০ বলে সেঞ্চুরি- বিপিএল তো বটেই, টি ২০তেই বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ টি ২০ ইনিংসও এটি। ছয় আসর মিলিয়ে বিপিএলে তামিমের চেয়ে বড় ব্যক্তিগত ইনিংস আছে মাত্র একটি।

গত আসরের ফাইনালে ঢাকার বিপক্ষে রংপুরের ক্রিস গেইল করেছিলেন অপরাজিত ১৪৬। বিপিএলে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিতে এবারের আসরে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের তালিকায় তামিম (৪৬৭) উঠে এসেছেন দুই নম্বরে।

এছাড়া ছয় আসর মিলিয়ে মুশফিকুর রহিমকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি ফের নিজের করে নিয়েছেন তামিম। কুমিল্লার গোটা ইনিংসই ছিল যেন তামিম-শো। দলের বাকি সব ব্যাটসম্যান মিলে ৫৯ বলে করেছেন ৪৭ রান! এছাড়া অতিরিক্ত খাত থেকে এসেছে ১১ রান।

দ্বিতীয় উইকেটে তামিমের সঙ্গে ৮৯ রানের জুটিতে এনামুলের অবদান ছিল ৩০ বলে ২৪। চতুর্থ উইকেটে ১০০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে অধিনায়ক ইমরুল কায়েসের অবদান ২১ বলে ১৭*। সুনীল নারাইন (চার ওভারে ১৮ রান) ছাড়া ঢাকার সব বোলারের ওপর দিয়েই ঝড় বয়ে গেছে।

অধিনায়ক সাকিব চার ওভারে ৪৫ ও রুবেল চার ওভারে গুনেছেন ৪৮ রান। দু’জনই উইকেট নিয়েছেন একটি করে। ১৫ ম্যাচে ২৩ উইকেট নিয়ে সাকিবই এবারের আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×