কেন্দ্রীয় ও হল সংসদের ভোট ১১ মার্র্চ

হলে ভোট কেন্দ্র রেখেই ডাকসুর তফসিল

  যুগান্তর রিপোর্ট ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডাকসু নির্বাচন
ডাকসু নির্বাচন। ফাইল ছবি

একাধিক ছাত্র সংগঠনের বিরোধিতা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলে ভোট কেন্দ্র রেখেই ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় ও ছাত্র সংসদের ভোটের দিন ধার্য করা হয়েছে ১১ মার্চ।

হলগুলোতে ভোট কেন্দ্র স্থাপনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করেছে ছাত্রলীগ। অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এ তফসিল প্রত্যাখ্যান করেছে। বাম ছাত্র সংগঠনগুলো ঘোষিত তফসিল নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। ছাত্রদল ও বাম সংগঠনগুলো একাডেমিক ভবনে ভোট কেন্দ্র স্থাপনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে।

সোমবার সকালে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ডাকসু নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. এসএম মাহফুজুর রহমান এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট হলের ভোটার (আবাসিক ও অনাবাসিক) তার নিজ নিজ হলের ভোট কেন্দ্রে বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে ভোট দেবেন। তফসিল ঘোষণার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিল শুরু হয়। ঘোষিত তফসিল স্বাগত জানিয়ে ছাত্রলীগ মিছিল করে। অন্যান্য ছাত্র সংগঠনও তফসিল ঘোষণার পরপরই মিছিল করেছে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী হলগুলোর প্রাধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে ১৯-২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে হলের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টায় ডাকসুর মনোনয়নপত্র বাছাই করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এরপর ২৭ ফেব্রুয়ারি হলের নোটিশ বোর্ড ও ওয়েবসাইটে প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে।

প্রকাশিত তালিকার বিষয়ে কোনো প্রার্থীর আপত্তি থাকলে ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টার মধ্যে ডাকসু সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্যকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২ মার্চ। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ৩ মার্চ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ৫ মার্চ। ১১ মার্চ ভোট গ্রহণ। ওই দিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলে স্থাপিত ভোট কেন্দ্রে পরিচয়পত্র দেখিয়ে ভোট দেয়া যাবে।

কেন্দ্রীয় সংসদের পাশাপাশি হল সংসদের ১৩টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পদগুলো হল- সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহসাধারণ সম্পাদক, সাহিত্য সম্পাদক, সংস্কৃতি সম্পাদক, পাঠকক্ষ সম্পাদক, অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া সম্পাদক, বহিরাঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক, সমাজসেবা সম্পাদক ও ৪ জন সদস্য।

হল সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বিতরণ, জমা, বাছাই ও প্রত্যাহারের তারিখ কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য নির্ধারিত তারিখেই রাখা হয়েছে। তবে প্রচার ও প্রচারণার বিষয়ে তফসিলে কিছু বলা হয়নি। এ বিষয়ে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। জানা গেছে ডাকসু ও হল সংসদের গঠনতন্ত্রের ৬(খ) ও ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সংসদে ২৫টি পদে নির্বাচন হবে। এর মধ্যে সহসভাপতিসহ ১১টি সম্পাদকীয় পদ এবং ১৩টি সদস্যপদে সরাসরি ভোট দেবেন শিক্ষার্থীরা।

যেসব পদে শিক্ষার্থীরা ভোট দেবেন সেগুলো হচ্ছে- সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহ-সাধারণ সম্পাদক, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক, সাহিত্য সম্পাদক, সংস্কৃতি সম্পাদক, ক্রীড়া সম্পাদক, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক, সমাজসেবা সম্পাদক এবং ১৩ জন সদস্য। পদাধিকার বলে ডাকসুর সভাপতির দায়িত্বে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি।

ছাত্রলীগের প্রতিক্রিয়া : তফসিল ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ‘আমরা ঘোষিত তফসিলকে স্বাগত জানাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা নির্বাচিত নেতৃত্বের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। তারা স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চান। কিন্তু এর জন্য কোনো যৌক্তিক প্লাটফর্ম নেই। তাই ডাকসুর নির্বাচন এখন শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি। তাদের সেই দাবির প্রতি সম্মান রেখে আমরা ডাকসু নির্বাচনেতফসিলকে স্বাগত জানাচ্ছি।’ তফসিলের পরপরই ক্যাম্পাসে মিছিল বের করে ছাত্রলীগ। মিছিলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়ে কলাভবনসহ বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

ছাত্রদলের প্রতিক্রিয়া : তফসিল ঘোষণার পর ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকী বলেন, সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনকে ‘জেতানোর আয়োজন’ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই তফসিলকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা স্মারকলিপি দিয়ে, আলোচনা করে নির্বাচন পেছানোর কথা বলেছিলাম, কিন্তু আমাদের কোনো দাবি মানা হয়নি। আমরা বলেছি, আগে সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কিন্তু সেসব ঠিক না করেই তফসিল ঘোষণা করল প্রশাসন। এ থেকে প্রমাণিত হয়, ছাত্রলীগকে নির্বাচনে জেতানোর জন্য সব আয়োজন প্রশাসন করে রাখছে। হলে ভোট কেন্দ্র রাখার বিরোধিতা করে ছাত্রদল নেতা বলেন, হলগুলো তো তাদের (ছাত্রলীগ) দখলে। হলে ভোট হলে যে তা সুষ্ঠু হবে না, সেটাও জানা কথা। নির্বাচনে ছাত্রদল অংশ নেবে কি না জানতে চাইলে বাশার জানান, এ বিষয়ে আলোচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।

ছাত্র ইউনিয়নের প্রতক্রিয়া : বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতা ও ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, আমাদের দাবি উপেক্ষা করে তফসিল ঘোষণা করায় ‘উৎকণ্ঠা’ সৃষ্টি হয়েছে। তফসিল ঘোষণা আনন্দের। কিন্তু যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এ তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, তা আমাদের মাঝে অনেক বেশি উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি উপস্থাপন করেছিলাম। সে দাবিগুলো অগ্রাহ্য করা হয়েছে। শুধু একটি দলকে সামগ্রিক বিবেচনায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

লিটন বলেন, আমরা হয়তো পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যেই অনানুষ্ঠানিক প্যানেল ঘোষণা করতে পারব। তবে আমরা চাইব, এর আগেই আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পুনর্বিবেচনা করা হবে। সবার জন্য সমসুযোগ এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে।

কোটা আন্দোলকারীদের প্রতিক্রিয়া : তফসিলের প্রতিক্রিয়ায় পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘হলের বাইরে ভোট কেন্দ্রসহ একাধিক দাবিতে আমরা উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিয়েছি। বেশির ভাগ ছাত্র সংগঠনই হলের বাইরে ভোট কেন্দ্র চায়। কিন্তু আমাদের কোনো দাবিই সেই অর্থে গ্রহণ না করেই তফসিল দেয়া হল।’ নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই বসে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’

হলের বাইরে ভোট কেন্দ্রের দাবিতে বিক্ষোভ : এদিকে তফসিল ঘোষণার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে আবাসিক হলের বাইরে ভোট কেন্দ্র স্থাপনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য। সন্ত্রাস-দখলদারমুক্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশে ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি। সোমবার সকালে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে সংগঠন দুটি। মধুর ক্যান্টিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, কলাভবন ও গ্রন্থাগার চত্বর ঘুরে ডাকসু ভবনের মধুর ক্যান্টিন-সংলগ্ন অংশের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন সংগঠন দুটির নেতাকর্মীরা। দুই জোটের পক্ষ থেকে সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায়।

আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন পর ডাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে। তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। আশা করি, সব ছাত্র সংগঠনের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে। শিক্ষার্থীরা উৎসবমুখর পরিবেশের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবে, যারা ছাত্রদের কল্যাণে কাজ করবে।

তিনি বলেন, এখন কোনো ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। প্রার্থী হলেই বোঝা যাবে নির্বাচনের ফলাফল কেমন হবে। তবে আমরা একটা কথা বলতে পারি, আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বর্তমানে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে। শুধু উন্নয়নই নয়, বিশেষ করে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে ছাত্রসমাজের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। সে কারণে ছাত্রলীগ সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

বিএনপির প্রতিক্রিয়া : ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও এ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি। আমরা বলেছি, ডাকসু নির্বাচন যাতে জাতীয় নির্বাচনের মতো না হয়, বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো না হয়। সোমবার ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে এ কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য।

তিনি বলেন, ‘সরকার ক্ষমতায় আসীন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ সরকারের নিয়োজিত। ফলে দুশ্চিন্তার যথেষ্ট কারণ আছে।’ ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবি পূরণ না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে নজরুল বলেন, ‘আমরা আশা করব, যে ছাত্রসমাজ আমাদের যুগে যুগে পথ দেখিয়েছে, সেই ছাত্রসমাজ তাদের প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য সর্বশক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়বে।’ এবারের ডাকসু নির্বাচন গণতন্ত্রের পক্ষের ও বিপক্ষের শক্তির লড়াই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×