ময়মনসিংহের খসরু খুলনার কারাগারে
jugantor
গায়েবি থানার মামলা
ময়মনসিংহের খসরু খুলনার কারাগারে

  নূর ইসলাম রকি, খুলনা ব্যুরো  

১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মো. খসরু

‘খুলনা বন্দর থানা’ নামক গায়েবি থানায় করা মামলায় ময়মনসিংহের মো. খসরু বর্তমানে খুলনা জেলা কারাগারে আছেন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি সিলেট কারাগার থেকে তাকে খুলনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে খুলনা বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানা ও মামলার কাগজপত্রের কোনো সত্যতা না পাওয়ায় মিলছে না খসরুর জামিন।

খুলনা মহানগর ও জেলায় ‘খুলনা বন্দর থানা’ নামে কোনো থানা নেই। প্রশাসনের একাধিক সূত্রও এটা নিশ্চিত করেছে। সোমবার সকালে খসরুর আইনজীবীর পক্ষ থেকে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

খুলনা জেলা কারাগারের অনুমতি সাপেক্ষে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় বন্দি মো. খসরুর। এ সময় তিনি বলেন, চট্টগ্রামের এক মাদক ব্যবসায়ীর প্রতিহিংসার শিকার তিনি।

মাদক বিকিকিনির বিষয়ে তিনি সোচ্চার ও ফেসবুকে লেখালেখির কারণে খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও চট্টগ্রামে তার বিরুদ্ধে ১০টি মামলা হয়েছে। তিনি ৮টি মামলায় জামিনে রয়েছেন। খুলনা ও রাজশাহীর দুটি মামলায় তিনি জামিন নিতে পারছেন না।

কারণ এই দুই জেলায় তার বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে সেই নামে প্রকৃতপক্ষে কোনো থানাই পাওয়া যাচ্ছে না। এগুলো ‘খুলনা বন্দর থানা’ এবং আরেকটি ‘রাজশাহী কোতোয়ালি থানা’।

খসরু আরও বলেন, তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গৌরিপুর থানার সেলিমপুর এলাকায়। বাবা আ. কুদ্দুস চা পাতার ব্যবসা করেন। মাতা রাশেদা বেগম গৃহিণী। দুই বোন বিবাহিত। কাওসার, সৌরভ ও সাগর নামে তিন ভাই আছে, সবাই লেখাপড়া করছে।

জীবিকার তাগিদে খসরু ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামের ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্রেন্ডস নামে একটি গার্মেন্ট কাজ করতেন। এ সময় থাকতেন স্টেশন কলোনিতে। ওই এলাকার প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ী ইউসুফ তাদের বাড়ির ছাদের ওপর মাদকের বিকিকিনি করতেন।

কয়েকবার পুলিশ সেখান থেকে মাদক উদ্ধার করার পর ইউসুফের সন্দেহ হয় খসরুকে। এরই ধারাবাহিকতায় খসরুকে স্থানীয় পুলিশ কয়েকবার থানায় ডেকে নিয়ে হুমকি দেয়। এরপর খসরু ২০১৪ সালের পর ময়মনসিংহে চলে যান। সেখানে কৃষিকাজ করতেন।

পাশাপাশি ফেসবুকে চট্টগ্রামের মাদক ব্যবসা ও ইউসুফের বিষয়ে লেখালেখি করতেন। যার ফলে তার জীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় আসতে থাকে। খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলায় ১০টি মামলা দায়ের হয়।

২০১৮ সালের ২৯ জানুয়ারি তিনি সিলেট থেকে আটক হন। এরপর থেকে সিলেট-খুলনা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন কারাগারে ঘুরছেন। যেখানে মামলার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে সেখানে জামিন মিলেছে। খুলনা ও রাজশাহীর বিষয়ে কী হবে তিনি জানেন না। তবে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় আজ তার কারাবন্দি জীবন বলে দাবি করেন।

সোমবার বিকালে খসরুর বাবা আ. কুদ্দুস এ প্রতিবেদককে জানান, ‘প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আমার ছেলেকে খুলনার একটি ভুয়া থানার মামলায় আসামি করা হয়েছে। আইনজীবীরা খসরুর মামলার কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকারের কাছে রোববার দেখিয়েছেন। কিন্তু মামলার কাগজপত্র ও স্বাক্ষর সব কিছু ভুয়া।

এই অবস্থায় আমার ছেলের জামিন করানোর কোনো উপায় পাচ্ছি না। আজ (সোমবার) আইনজীবীরা খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজকে বিষয়টি জানিয়েছেন।’ তিনি ছেলের জামিন করানোর জন্য ময়মনসিংহ থেকে খুলনায় এসেছেন বলে জানান।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) নগর বিশেষ শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার রাশিদা বেগম যুগান্তরকে বলেন, ‘খুলনায় বন্দর থানা’ বলতে কোনো থানা নেই। জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের গোয়েন্দা বিভাগও নিশ্চিত করেছে ‘খুলনা বন্দর থানা’ নামে কোনো থানা নেই।

খসরুর খুলনার আইনজীবী আবু ইউসুফ মোল্লা বলেন, ‘এ বিষয়টি সোমবার সকালে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজকে জানানো হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে জেলা কারাগার থেকে একটি প্রতিবেদন নেবেন এবং পাশাপাশি জেলা জজের সঙ্গেও কথা বলে ব্যবস্থা নেবেন।’

গায়েবি থানার মামলা

ময়মনসিংহের খসরু খুলনার কারাগারে

 নূর ইসলাম রকি, খুলনা ব্যুরো 
১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
মো. খসরু
মো. খসরু। ছবি: যুগান্তর

‘খুলনা বন্দর থানা’ নামক গায়েবি থানায় করা মামলায় ময়মনসিংহের মো. খসরু বর্তমানে খুলনা জেলা কারাগারে আছেন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি সিলেট কারাগার থেকে তাকে খুলনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে খুলনা বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানা ও মামলার কাগজপত্রের কোনো সত্যতা না পাওয়ায় মিলছে না খসরুর জামিন।

খুলনা মহানগর ও জেলায় ‘খুলনা বন্দর থানা’ নামে কোনো থানা নেই। প্রশাসনের একাধিক সূত্রও এটা নিশ্চিত করেছে। সোমবার সকালে খসরুর আইনজীবীর পক্ষ থেকে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

খুলনা জেলা কারাগারের অনুমতি সাপেক্ষে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় বন্দি মো. খসরুর। এ সময় তিনি বলেন, চট্টগ্রামের এক মাদক ব্যবসায়ীর প্রতিহিংসার শিকার তিনি।

মাদক বিকিকিনির বিষয়ে তিনি সোচ্চার ও ফেসবুকে লেখালেখির কারণে খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও চট্টগ্রামে তার বিরুদ্ধে ১০টি মামলা হয়েছে। তিনি ৮টি মামলায় জামিনে রয়েছেন। খুলনা ও রাজশাহীর দুটি মামলায় তিনি জামিন নিতে পারছেন না।

কারণ এই দুই জেলায় তার বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে সেই নামে প্রকৃতপক্ষে কোনো থানাই পাওয়া যাচ্ছে না। এগুলো ‘খুলনা বন্দর থানা’ এবং আরেকটি ‘রাজশাহী কোতোয়ালি থানা’।

খসরু আরও বলেন, তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গৌরিপুর থানার সেলিমপুর এলাকায়। বাবা আ. কুদ্দুস চা পাতার ব্যবসা করেন। মাতা রাশেদা বেগম গৃহিণী। দুই বোন বিবাহিত। কাওসার, সৌরভ ও সাগর নামে তিন ভাই আছে, সবাই লেখাপড়া করছে।

জীবিকার তাগিদে খসরু ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামের ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্রেন্ডস নামে একটি গার্মেন্ট কাজ করতেন। এ সময় থাকতেন স্টেশন কলোনিতে। ওই এলাকার প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ী ইউসুফ তাদের বাড়ির ছাদের ওপর মাদকের বিকিকিনি করতেন।

কয়েকবার পুলিশ সেখান থেকে মাদক উদ্ধার করার পর ইউসুফের সন্দেহ হয় খসরুকে। এরই ধারাবাহিকতায় খসরুকে স্থানীয় পুলিশ কয়েকবার থানায় ডেকে নিয়ে হুমকি দেয়। এরপর খসরু ২০১৪ সালের পর ময়মনসিংহে চলে যান। সেখানে কৃষিকাজ করতেন।

পাশাপাশি ফেসবুকে চট্টগ্রামের মাদক ব্যবসা ও ইউসুফের বিষয়ে লেখালেখি করতেন। যার ফলে তার জীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় আসতে থাকে। খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলায় ১০টি মামলা দায়ের হয়।

২০১৮ সালের ২৯ জানুয়ারি তিনি সিলেট থেকে আটক হন। এরপর থেকে সিলেট-খুলনা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন কারাগারে ঘুরছেন। যেখানে মামলার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে সেখানে জামিন মিলেছে। খুলনা ও রাজশাহীর বিষয়ে কী হবে তিনি জানেন না। তবে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় আজ তার কারাবন্দি জীবন বলে দাবি করেন।

সোমবার বিকালে খসরুর বাবা আ. কুদ্দুস এ প্রতিবেদককে জানান, ‘প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আমার ছেলেকে খুলনার একটি ভুয়া থানার মামলায় আসামি করা হয়েছে। আইনজীবীরা খসরুর মামলার কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকারের কাছে রোববার দেখিয়েছেন। কিন্তু মামলার কাগজপত্র ও স্বাক্ষর সব কিছু ভুয়া।

এই অবস্থায় আমার ছেলের জামিন করানোর কোনো উপায় পাচ্ছি না। আজ (সোমবার) আইনজীবীরা খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজকে বিষয়টি জানিয়েছেন।’ তিনি ছেলের জামিন করানোর জন্য ময়মনসিংহ থেকে খুলনায় এসেছেন বলে জানান।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) নগর বিশেষ শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার রাশিদা বেগম যুগান্তরকে বলেন, ‘খুলনায় বন্দর থানা’ বলতে কোনো থানা নেই। জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের গোয়েন্দা বিভাগও নিশ্চিত করেছে ‘খুলনা বন্দর থানা’ নামে কোনো থানা নেই।

খসরুর খুলনার আইনজীবী আবু ইউসুফ মোল্লা বলেন, ‘এ বিষয়টি সোমবার সকালে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজকে জানানো হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে জেলা কারাগার থেকে একটি প্রতিবেদন নেবেন এবং পাশাপাশি জেলা জজের সঙ্গেও কথা বলে ব্যবস্থা নেবেন।’