বিএনপির মামলায় আওয়ামী লীগ বিব্রত নয় : ওবায়দুল কাদের

তারেককে ফেরাতে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আসনভিত্তিক বিএনপির মামলা নিয়ে আওয়ামী লীগ মোটেও বিব্রত নয়। এটা তো অস্বাভাবিক বা নতুন কিছু বিষয় নয়। ট্রাইব্যুনালে মামলা করা যায়, আমি মামলা করার বিরুদ্ধে নই। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি মামলা করতেই পারে।

তিনি বলেন, পরাজিত ব্যক্তির অবলম্বন আইনের কাছে আশ্রয় নেয়া, তিনি আইনের কাছে আশ্রয় নেবেন। তারা (বিএনপি) আইনের আশ্রয় নিয়েছে, অসুবিধা কি? আদালত খতিয়ে দেখবে, নির্বাচন কমিশন জবাব দেবে। এটা আমাদের কোনো বিষয় নয়।

আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে শুক্রবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশে দণ্ড নিয়ে যুক্তরাজ্যে পালিয়ে থাকা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে কাদের বলেন, তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য যা যা করণীয় তা করা হচ্ছে। কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক যে উদ্যোগ, সে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দল মনোনীত বা বিদ্রোহী প্রার্থী যেই জিতুক, তিনি আওয়ামী লীগেরই হবেন বলে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে যদি নৌকার প্রার্থী না জেতে, তাহলে বিদ্রোহী প্রার্থী জিতবে। তিনিও তো আওয়ামী লীগেরই।

তিনি বলেন, বিএনপি অংশ না নিলে যদি এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিবাদ বাড়ে, তাতে বিএনপির লাভ কি? রেজাল্ট তো আর তাদের পক্ষে আসবে না।

উপজেলা চেয়ারম্যান পদ শেষ পর্যন্ত উন্মুক্ত করা হবে কিনা- জানতে চাইলে কাদের বলেন, উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদগুলো উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে, যেন সেখানে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থাকে। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আমরা আমাদের নৌকা প্রতীক দিয়েছি, উপজেলা চেয়ারম্যান পদ আমরা উন্মুক্ত করিনি। আর যেহেতু ওয়ার্ডের ক্ষেত্রে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে না, সেটাও উন্মুক্ত থাকতেই পারে।

উপজেলা নির্বাচনে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে কিনা- প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, প্রার্থী হওয়ার আগে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগে আমি কাউকে বিদ্রোহী প্রার্থী বলতে পারি না। আমরা দেখছি কারা কারা নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণার পরও বিদ্রোহ করে। এমন কেউ করলে বিষয়টি আমরা দেখব। এর জন্য প্রার্থিতা প্রত্যাহার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় ?নির্বাচনের উত্তাপ হারাচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় নির্বাচন আর স্থানীয় নির্বাচন এক নয়। স্থানীয় নির্বাচনের বিষয়গুলো স্থানীয় সরকারের বিষয়। সে কারণে এটার লক্ষ্যও ভিন্ন, কাজের পরিধিটাও ভিন্ন।

স্থানীয় নির্বাচনের একটা উত্তাপ আছে, থাকে। কারণ স্থানীয় নির্বাচনে অন্যান্য দলের প্রার্থী ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকে। কাজেই এখানে ইলেকশন একেবারে উত্তাপহীন এবং প্রাণহীন পরিবেশে হবে এমনটা বলা যায় না। দু-চারটা জায়গায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সব সময় হয়ে থাকে, এটা নতুন কিছু নয়। তবে বেশির ভাগ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এবং জমবে। সবেমাত্র মনোনয়ন জমা দিয়েছে, এর পর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরই আসলে ইলেকশনের উত্তাপটা বোঝা যাবে।

বিএনপি কোনো ধরনের নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির এখন লিডারশিপের যে এলোমেলো অবস্থা, তাতে তাদের স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃত্ব সব ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ মেনে চলে এটা বাস্তবতা নয়। বাস্তবের ছবিটা ভিন্ন।

জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির টানাপোড়েন এবং নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় জামায়াত সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে রাজনীতি করতে চাচ্ছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো কোনো মিডিয়ায় দেখেছি জামায়াতের নবীন-প্রবীণের দ্বন্দ্বটা খুবই স্পষ্ট। যারা প্রবীণ তারা তাদের পুরনো নীতি কৌশল আদর্শ সেটা আঁকড়ে থাকতেই অটল।

নতুনরা চেঞ্জ চাচ্ছে। এটাকে কেন্দ্র করে জামায়াত সিদ্ধান্তহীনতায় আছে। তারা এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তবে সেটা তাদের ইন্টারনাল ম্যাটার, তারা কি সিদ্ধান্ত নেবে।

জামায়াত নাম পরিবর্তন এবং অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চেয়ে রাজনীতিতে আসতে চাইলে আওয়ামী লীগের অবস্থান কি হবে এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ স্বাগত জানাবে কি জানাবে না সেটা তো এখানে কোনো বিষয় নয়। তারা অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইবে কিনা, তারা ক্ষমা প্রার্থী কিনা, তারা ক্ষমাটা আগে চাক। তারপর বলব। তারা এখনও তো ক্ষমা চায়নি। তারা ক্ষমা চাওয়ার পরই এ ব্যাপারে আমাদের মূল্যায়নটা আমাদের বিশ্লেষণ নিয়ে, আমাদের প্রতিক্রিয়া আমরা প্রকাশ করতে পারি।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সাত্তার, কেন্দ্রীয় সদস্য আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×