বদির ৪ ভাইসহ ১০২ ইয়াবা কারবারির আত্মসমর্পণ

সাড়ে তিন লাখ ইয়াবা ও ৩০টি আগ্নেয়াস্ত্র জমা * মাদক ব্যবসায়ীদের নিস্তার নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী * আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যেরও ছাড় নেই * আত্মসমর্পণের সমন্বয়কারী বদি দাওয়াত পাননি

  টেকনাফ প্রতিনিধি ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আত্মসমর্পণ

টেকনাফে কয়েক হাজার মানুষের সামনে পুলিশের তালিকাভুক্ত ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করেছেন। শনিবার আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির আপন চার ভাইসহ ঘনিষ্ঠ আট আত্মীয় রয়েছেন।

দুপুরে টেকনাফের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে তারা আট শর্তে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজি, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার পুলিশ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজার জেলার পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা ১১৫১ হলেও ১০২ জন আত্মসমর্পণ করেন। ২৪ জন ইয়াবা গডফাদারসহ আত্মসমর্পণকারী ১০২ জনকে শনিবারই গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আজ তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। এদিকে, এ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়। এ কারণে স্কুল মাঠ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ এবং আশপাশের বাড়ির ছাদ ও বারান্দাগুলো ছিল মানুষে ঠাসা।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কোনো নিস্তার নেই। তাদের আত্মসমর্পণ করে ভালো হয়ে যেতে হবে। নয়তো আইনের মুখোমুখি হতে হবে। টেকনাফের মতো দেশের অন্যসব এলাকার ইয়াবা ব্যবসায়ীদেরও আত্মসমর্পণের সুযোগ দেয়া হবে। টেকনাফে যারা আত্মসমর্পণ করেছেন তাদের তিনি ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, শুধু টেকনাফ-কক্সবাজার নয় গোটা দেশ শিগগিরই ইয়াবামুক্ত হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের বাঁচার কোনো পথ নেই।

এজন্য আইন সংশোধন করে মাদক ব্যবসায়ীদের সাজা মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন করা হয়েছে। আইনের ফাঁকফোকর গলে যাতে তারা বের হয়ে যেতে না পারে সে ব্যাপারে সরকার সজাগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাদকের ব্যাপারে কাউকে ছাড় নয়। আগে দেশ বাঁচাতে হবে। সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো প্রকার মাদক ও অন্য দেশের নাগরিক অনুপ্রবেশ করতে না পারে সেজন্য নিশ্ছিদ্র সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, সীমান্তে সব বিজিবি সদস্য সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না- এমন প্রতিবেদন এসেছে। এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মাদকের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত জিরো টলারেন্স বাস্তবায়ন করতে যা যা প্রয়োজন সবই করা হবে বলে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল আরও বলেন, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাদকসংশ্লিষ্ট থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা উপলক্ষে আয়োজিত আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আপনারা আল্লাহ কাছে মাফ চান। আপনারা ভালো হয়ে যান। দেশ ও জাতির ভবিষ্যতে এগিয়ে আসুন। আর যারা এখনও আত্মসমর্পণ করেননি, তারাও দ্রুত আত্মসমর্পণ করুন। তা না হলে যে যত শক্তিশালী হোক না কেন অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সংসদ সদস্য শাহীন আক্তার, জাফর আলম, আশেক উল্লাহ রফিক, সাইমুম সরওয়ার কমল, জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে ইয়াবা কারবারিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল ও পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারি। এ সময় ৩ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ও ৩০টি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৭০ রাউন্ড গুলি ইয়াবা কারবারিরা জমা দেন।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন জানান, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। যারা আত্মসমর্পণ করেননি, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হবে। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে একটি সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে এ আত্মসমর্পণের ব্যবস্থা করা হয়। টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার বলেন, বদির চার ভাই আত্মসমর্পণ করলেও তার এক ভাই আত্মসমর্পণ করেননি। তার ভাই টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী মজিবর রহমান আত্মসমর্পণ করেননি। পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, তালিকাভুক্ত ৭৩ গডফাদারের মধ্যে ২৪ জন আত্মসমর্পণ করেছেন। পুলিশ জানায়, অনুষ্ঠানে বদিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবে স্থানীয় এমপি ও বদির স্ত্রী শাহীন আক্তার বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

টেকনাফ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএমএস দোহা জানান, অনুষ্ঠান শেষে দুপুর ২টার দিকে দুটি মামলায় আটক দেখিয়ে আত্মসমর্পণকারীদের কক্সবাজার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ীর মধ্যে একজন ছাড়া বাকি সবাই টেকনাফের বাসিন্দা। তারা হলেন- সাবরাং ইউনিয়নের মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে দানু মেম্বার, শাহপরীর দ্বীপের রেজাউল করিম মেম্বার, সামশু মেম্বার, সাহেদ রহমান নিপু, সাহেদ কামাল, নুরুল আমিন, আলী আহমদ, মৌলভী বশির, হোসেন আহমদ, শওকত আলম, রাসেল, ডেইল পাড়ার নুরুল আমিন, মুণ্ডার ডেইলয়ের মনজুর, আলীর ডেইলের জাফর আহমদ, আবদুল হামিদ, শামীম, দক্ষিণ নয়াপাড়ার নূর মোহাম্মদ, আলমগীর ফয়সাল, ডেইল পাড়ার মো. সাকের মিয়া, নয়াপাড়ার মো. তৈয়ব, টেকনাফ পৌর এলাকা ও সদর ইউনিয়নের আবদু শুক্কুর, আমিনুর রহমান ওরফে আবদুল আমিন, দিদার মিয়া, আবদুল আমিন, নুরুল আমিন, শফিকুল ইসলাম সফিক, ফয়সাল রহমান, আবদুর রহমান, জিয়াউর রহমান, পৌর কাউন্সিলর নুরুল বশর ওরফে নুরশাদ, দক্ষিণ জালিয়াপাড়ার ইমাম হোসেন, বড় হাবিব পাড়ার ছিদ্দিক, পুরনো পল্লানপাড়ার শাহ আলম, অলিয়াবাদের মারুফ বিন খলিল বাবু, মৌলভী পাড়ার একরাম হোসেন, মধ্যম ডেইল পাড়ার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, চৌধুরী পাড়ার মংমং ছেং ওরফে মমচি ও দক্ষিণ জালিয়া পাড়ার জুবাইর হোসেন, মধ্যম জালিয়া পাড়ার মোজাম্মেল হক, ডেইল পাড়ার আবদুল আমিন, নাজির পাড়ার এনামুল হক মেম্বার, ভুট্টোর ভাগিনা আফসার, আবদুর রহমান, সৈয়দ হোসেন, মো. রফিক, মো. হেলাল, জামাল হোসেন, মৌলভী পাড়ার মো. আলী, নাইটং পাড়ার মো. ইউনুস, উত্তর লম্বরীর আবদুল করিম ওরফে করিম মাঝি, সদর কচুবনিয়ার বদিউর রহমান, রাজার ছড়ার আবদুল কুদ্দুস, জাহালিয়া পাড়ার মো. সিরাজ, নতুন পল্লানপাড়ার মো. সেলিম, নাইট্যং পাড়ার মো. রহিম উল্লাহ, চৌধুরী পাড়ার মোহাম্মদ আলম, তুলাতলীর নুরুল বশর, হাতিয়ার ঘোনার দিল মোহাম্মদ, মোহাম্মদ হাছন, রাজার ছড়ার হোসেন আলী, উত্তর জালিয়াপাড়ার নুরুল বশর মিজি, আবদুল গনি, জালিয়া পাড়ার মো. হাশেম, পুরান পল্লান পাড়ার ইসমাইল, নাইট্যংপাড়ার আইয়ুব, নুর হাবিব, মাঠপাড়ার কামাল, শিলবনিয়াপাড়ার আইয়ুব, জালিয়াপাড়ার আলম, নুরুল আলম, বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজ পুরার নুরুল আলম, শামলাপুর জুমপাড়ার শফি উল্লাহ, ছৈয়দ আলম, উত্তর শীলখালীর মো. আবু ছৈয়দ, হ্নীলা ইউনিয়নের হ্নীলা পশ্চিম লেদার নুরুল হুদা মেম্বার, আলী খালীর জামাল মেম্বার, শাহ আজম, পশ্চিম সিকদারপাড়ার ছৈয়দ আহমদ, রশিদ আহমদ, পশ্চিম লেদার নুরুল কবীর, পূর্ব লেদার জাহাঙ্গীর আলম, জাদিমোরার মোহাম্মদ হাসান আবদুল্লাহ, লেদার ফরিদ আলম, মো. হোছন, জহুর আলম, আবু তাহের, বোরহান, হামিদ, রবিউল আলম, আলীখালীর হারুন, হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়ার মাহাবুব, বাজারপাড়ার মো. শাহ, পূর্ব পানখালীর নজরুল ইসলাম, পশ্চিম পানখালীর নুরুল আবছার, ফুলের ডেইলের রুস্তম আলী, আলী নেওয়াজ, আবু তৈয়ব ও রমজান ও কক্সবাজারের শাহজাহান আনসারী।

আত্মসমর্পণের সমন্বয়কারী বদি দাওয়াত পাননি : ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণ করতে মুখ্য ভূমিকা পালনকারী উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাননি। সূত্র জানায়, ইয়াবা গডফাদার হিসেবে বদি তালিকার ১ নম্বরে থাকায় তাকে দাওয়াত দেয়া হয়নি। তবে তিনি আত্মসমর্পণের প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন। বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও মাইকিং করে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আলটিমেটাম দিয়ে তিনি আত্মসমর্পণে বাধ্য করেছিলেন। বদির আহ্বানে সাড়া দিয়ে তার নিকটাত্মীয়সহ অনেকে আত্মসমর্পণের জন্য প্রায় ১ মাস আগে পুলিশি হেফাজতে চলে যান। কিন্তু বিভিন্ন বিতর্কের মুখে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বদিকে।

বদির চার ভাইয়ের আত্মসমর্পণ : আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন- বদির চার ভাইসহ আট স্বজন। ভাইদের মধ্যে রয়েছেন- আবদুস শুক্কুর, আমিনুর রহমান, মো. ফয়সাল রহমান ও শফিকুল ইসলাম। এছাড়া বদির ভাগিনা সাহেদ রহমান নিপু, ফুফাতো ভাই কামরুল হাসান রাসেল, খালাতো ভাই মংমং সেন ও বেয়াই শাহেদ কামাল রয়েছেন।

সাত জনপ্রতিনিধির আত্মসমর্পণ : আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে সাত জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। তারা হলেন- টেকনাফ হ্নীলা ইউনিয়নের জামাল হোসেন, নুরুল হুদা মেম্বার, সাবরাং ইউপির শামসুল আলম, মোয়াজ্জেম হোসেন দানু, রেজাউল করিম রেজু, সদর ইউপি মেম্বার এনামুল হক, পৌর কাউন্সিলর নুরুল বশর ওরফে নুরশাদ। এছাড়া আত্মসমর্পণ করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদের ছেলে দিদার মিয়া। যেসব শর্তে আত্মসমর্পণ : ১. নিজের হেফাজতে থাকা সব ইয়াবা ও অবৈধ অস্ত্র পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। ২. আত্মসমর্পণের আগের মামলা ও বিচার কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলবে। ৩. ইয়াবা ব্যবসায় নিজের বা পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়স্বজনের নামে-বেনামে অর্জিত সব সম্পদ দুদক, সিআইডির মানি লন্ডারিং শাখা ও এনবিআরের মাধ্যমে যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ৪. আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ায় দায়ের হওয়া মামলায় সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে সহায়তা দেয়া হবে। ৫. যেসব মাদক ব্যবসায়ী এখনও সক্রিয় তাদের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে হবে। ৬. আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত হলে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড করতে হবে। ৭. ভবিষ্যতে কখনও মাদক ব্যবসাসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত হওয়া যাবে না। ৮. আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে যে মামলাটি হবে, সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে তাদের আইনগত সুবিধা দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×