উপজেলা নির্বাচন

দুই কমিশনারের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য

প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক হবে -সিইসি * সার্বিকভাবে অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে না -মাহবুব তালুকদার

  যুগান্তর রিপোর্ট ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা ও নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা ও নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে একই অনুষ্ঠানে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা ও নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

সিইসি বলেছেন, নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে। এ দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সারা জীবন যে রকম প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে, এ বছরও তেমনিভাবে প্রতিযোগিতামূলক হবে, তেমনিভাবে অংশগ্রহণমূলকও হবে। অপরদিকে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, এবারের উপজেলা নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকছে।

এতে নির্বাচন জৌলুস হারাতে বসেছে। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, নির্বাচনকে অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে।

তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচন সার্বিকভাবে অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে না, এই সত্যকে মেনে নিয়েই নির্বাচন করতে হবে। ধারণা করা যায়, চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা প্রায় প্রত্যেকেই নির্বাচিত হবেন এবং ওই পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে না। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলে বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য শব্দ দুটির ঔজ্জ্বল্য থাকে না। তারপরও আনুষ্ঠানিকতার কারণেই নির্বাচন করে যেতে হয়।

মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ব্রিফিংয়ে তারা এ বক্তব্য দেন। এ সময় অন্য কমিশনাররা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

এ পর্যন্ত তিন ধাপের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে ইসি। মঙ্গলবার ছিল প্রথম ধাপের প্রত্যাহারের শেষ দিন। এর আগে সোমবার দ্বিতীয় ধাপের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল।

অনুষ্ঠানে সিইসি বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে। এ দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সারা জীবন যেরকম প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে। এ বছরও কিন্তু তেমনিভাবে প্রতিযোগিতামূলক হবে, তেমনিভাবে অংশগ্রহণমূলক হবে, তেমনিভাবে এর সেরকম গুরুত্ব বহন করবে।

কর্মকর্তাদের সহিংসতা এড়াতে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, বিগত দিনে অনেক সময় নির্বাচন পরিচালনা করতে গিয়ে অনেকের জীবনহানি ঘটেছে, অনেকে আহত হয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এগুলো সতর্কতার সঙ্গে দেখতে হবে।

আপনারা ব্যক্তিগত উদ্যোগে হলেও সাংঘর্ষিক ঘটনাগুলো মীমাংসা করার চেষ্টা করবেন। কোনো প্রাণহানি যেন না ঘটে, হতাহত না হয়। প্রতিটা জীবন অত্যন্ত মূল্যবান। একটা জীবন একটা নির্বাচন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা যায় না।

নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উৎসব রয়েছে জানিয়ে সিইসি বলেন, এ দেশের মানুষ অন্যান্য দেশের মানুষের চেয়ে বেশি নির্বাচনমুখী, বেশি রকমের ভোটদানমুখী। সেই উৎসব তাদের মধ্যে আছে। সে কারণে তারা গিয়ে ভোট দেন।

সুতরাং সেই মালিকের মালিকানা যাতে তাদের ভোটের মাধ্যমে প্রয়োগ করতে পারেন। সেই ব্যাপারে আপনারা অবশ্যই সচেতন করবেন। সে ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।

সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবারই প্রথম রাজনৈতিক মনোনয়নে প্রার্থী হচ্ছে। এর আগে কখনো হয়নি। কিন্তু সেসব নির্বাচন কি প্রতিযোগিতামূলক হয়নি? কেউ কাউকে ছাড় দেয় না।

প্রত্যেকেই সেখানে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নেন। প্রত্যেক প্রার্থী, সমর্থক এবং ভোটাররা কিন্তু সে নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখে। আপনারাও গুরুত্বসহকারে নির্বাচন দেখবেন ও পরিচালনা করবেন।

প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া নির্বাচন কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে নুরুল হুদা বলেন, যারা কাজ করেন তাদের প্রতি আমি সবসময় আস্থাশীল। কাজ করতে গিয়ে হয়তো ভুলভ্রান্তি হতে পারে। দায়িত্ব নিয়ে কাজ করলে নির্বাচন কখনও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে না। তিনি বলেন, ‘এনজয় ইওর লাইফ অ্যান্ড টেক ইওর রেসপনসিবিলিটি। দ্যাট ইজ ইম্পর্টেন্ট।’

অনুষ্ঠানে মাহবুব তালুকদার বলেন, পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় পর্যায়ে আয়োজিত এ কর্মশালায় এসে আমার মনে একটি প্রশ্ন জেগেছে, আমরা নির্বাচন কেন করি?

এর উত্তর অত্যন্ত সহজ তা হল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। গণতন্ত্র কি? এ প্রশ্নের উত্তরও কঠিন নয়। গণতন্ত্র হচ্ছে ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের বেছে নেয়া এবং তাদের দিয়ে জাতীয় বা স্থানীয় পর্যায়ে দেশ পরিচালনা। জাতীয় পর্যায়ের মতো স্থানীয় পর্যায়েও গণতন্ত্র একটি সুনির্দিষ্ট অবকাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত।

কিন্তু বিশেষ কোনো আদেশ-নির্দেশে যদি সেই অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আজ্ঞাবহ হয়ে পড়েন। এই অবস্থা কখনোই কাম্য নয়। কিন্তু বর্তমানে উপজেলা পরিষদ যেভাবে দায়িত্ব পালন করার কথা তা সম্ভব হচ্ছে না।

আমি আগেও বলেছি, উপজেলা পরিষদ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী না হলে এ নির্বাচনও গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যই তো নির্বাচন। নির্বাচন কখনও গণতন্ত্রহীনতাকে প্রশ্রয় দিতে পারে না।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পরে দেশব্যাপী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের গুরুত্ব কম নয়। বিভিন্ন কারণে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে, এ কথা অস্বীকার করা যায় না। এ অবস্থায়, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে অন্তত আমরা যদি সমুন্নত রাখতে পারি, তাহলে দেশের মানুষের কাছে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হতে পারে। এই কাজে আপনাদের অবদান অনস্বীকার্য।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×