চকবাজার ট্র্যাজেডি

কেমিক্যালে ঠাসা ওয়াহেদ মঞ্জিলের বেসমেন্ট

কেমিক্যাল রাখার অনুমতি নেই এই ভবনে : বিস্ফোরক পরিদফতর

  আহমদুল হাসান আসিক ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কেমিক্যালে ঠাসা ওয়াহেদ মঞ্জিলের বেসমেন্ট

পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার সেই ওয়াহেদ মঞ্জিলের বেসমেন্ট অর্থাৎ পার্কিয়ের স্থানে বিপুল পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থের সন্ধান মিলেছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা শুক্রবার সকালে ভবনটি তল্লাশি করতে গিয়ে পুরো বেজমেন্টে এসব রাসায়নিক পদার্থ বা কেমিক্যালের সন্ধান পায়।

চুড়িহাট্টা মোড়ে বুধবারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ যায় অন্তত ৬৭ জনের। ফায়ার সার্ভিস বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে সেই আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ওয়াহেদ মঞ্জিল। এছাড়া পাশের চারটি ভবনেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ওয়াহেদ মঞ্জিলের বেজমেন্টে যেসব কেমিক্যাল পাওয়া গেছে তার নমুনা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে থিনার, আয়রন অক্সাইড ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি রয়েছে থিনার। এটি খুবই উচ্চমাত্রার দাহ্য পদার্থ। যদি বেজমেন্টে আগুন ছড়াত তবে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতো। আশপাশের আরও ৮-১০টি ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতো। আগুন পুরো চুড়িহাট্টায় ছড়িয়ে পড়ত।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর শাকিল নেওয়াজ যুগান্তরকে বলেন, ওই ভবনের বেসমেন্টে যেসব কেমিক্যাল পাওয়া গেছে এর মধ্যে অধিকাংশই থিনার। এটি খুবই বিপজ্জনক কেমিক্যাল। অগ্নিকাণ্ডের সময়ও বেশ কয়েকটি থিনার ভর্তি ড্রামের বিস্ফোরণ হয়েছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, এই গোডাউনের মালিকের কোটি কোটি টাকার কেমিক্যালের ব্যবসা রয়েছে। প্রায়ই কনটেইনার ভর্তি কেমিক্যাল এনে গোডাউনে রাখেন। অগ্নিকাণ্ডের দু’দিন আগেও প্রায় সাত ট্রাক কেমিক্যাল গোডাউনে রাখা হয়।

ভবনের বেসমেন্ট গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহার করার কথা থাকলেও ‘সর্বনাশা’ ওয়াহেদ মঞ্জিলের বেসমেন্ট ভর্তি বিভিন্ন কেমিক্যালের ড্রাম ও বস্তা দিয়ে। শুক্রবার দুপুরে সরেজমিন ভবনটির দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে বেসমেন্টে যাওয়ার পথে একটু এগিয়েই দেখা গেল সারি করে রাখা শত শত ড্রাম ও বস্তা। ফায়ার সার্ভিস পরীক্ষা করে বলেছে, এগুলো সবই কেমিক্যালে ভর্তি।

কেমিক্যাল গোডাউনের মালিকের পরিচয় স্থানীয়দের কাছে জানতে চাইলেও কেউই সে বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য জানাতে পারেননি।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের ভাষ্য, গোডাউনের মালিকের বড় ব্যবসা। এখানে প্রায়ই কনটেইনারে করে কেমিক্যাল আসে। অগ্নিকাণ্ডের দু’দিন আগেও এখানে কেমিক্যালের মজুদ করা হয়।

এদিকে এ ভবনে বিস্ফোরক রাখার কোনো অনুমতি নেই বলে জানিয়েছেন বিস্ফোরক পরিদফতরের প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক শামসুল আলম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নিমতলী অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ওই এলাকায় কেমিক্যাল ব্যবসার জন্য একটি লাইসেন্সও দেয়া হয়নি। ওই এলাকায় বিস্ফোরক পরিদফতরের লাইসেন্সধারী কোনো গুদামও নেই। যে ভবনটিতে আগুন লেগেছিল সেটিতেও রাসায়নিক দ্রব্য ও দাহ্য পদার্থ রাখার অনুমতি ছিল না।

ফায়ার সার্ভিসের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ওয়াহেদ ম্যানশনে দাহ্য পদার্থের শেষ নেই। ওই ভবনের দোতলায় ছিল পারফিউমের গোডাউন। এসব পারফিউম উচ্চমাত্রায় দাহ্য পদার্থ। আগুনের সামান্য স্পর্শ পেলেই এগুলো বিস্ফোরিত হয়। এখন ভবনের বেজমেন্টে বিপুল পরিমাণে লিকুইড কেমিক্যালের সন্ধান মিলেছে। শত শত বস্তায় মিলেছে পাউডার কেমিক্যাল। এসব কেমিক্যালের বিষয়ে স্থানীয়রা কিছুই জানেন না। পুরান ঢাকায় এমন অনেক বাড়ির বেসমেন্টে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল মজুদ করা আছে।

গোডাউনের মালিকের সন্ধান পাওয়া গেছে কিনা তা জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা জানান, ধারণা করা হচ্ছে দোতলায় পারফিউম ও বেসমেন্টে রাখা কেমিক্যালের মজুদকারী একই ব্যক্তি।

ঘটনাপ্রবাহ : চকবাজার আগুনে মৃত্যুর মিছিল

আরও
আরও পড়ুন
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×