যুগান্তরের সাংবাদিক গ্রেফতারের নিন্দা ও প্রতিবাদ অব্যাহত

অভিযুক্ত ওসি বহাল তবিয়তে, প্রশ্নবিদ্ধ সম্পদের তদন্ত হচ্ছে না * সাংবাদিকদের বাসা বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের হুমকি দেয়া হচ্ছে

  যুগান্তর ডেস্ক ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যুগান্তরের সাংবাদিক গ্রেফতারের নিন্দা ও প্রতিবাদ অব্যাহত
কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি আবু জাফর

নবাবগঞ্জ থানার বিতর্কিত ওসি মোস্তফা কামাল এখনও বহাল তবিয়তে। আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন তার বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পদের তদন্ত শুরু না হলেও সাংবাদিকদের বাসা-বাড়িতে গিয়ে হয়রানি অব্যাহত আছে।

যুগান্তরের নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি আজহারুল হকসহ আরও তিনজন প্রতিনিধির আত্মীয়স্বনের বাড়িতে তল্লাশির নামে হুমকি দেয়া হচ্ছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানোসহ অবিলম্বে যুগান্তরের কারাবন্দি সাংবাদিক কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি আবু জাফরকে মুক্তি দেয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন জেলার সাংবাদিক নেতারা।

চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হেনস্থা করায় সারা দেশের সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। শুক্রবার সভা-সমাবেশ ও বিবৃতি দিয়ে তারা প্রতিবাদ জানান।

প্রতিবাদ সভায় তারা বলেন, সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগে সাংবাদিক সমাজকে দেয়া কথা থেকে সরে এসেছে। সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা সে সময় বলেছিলেন, এ আইন সাংবাদিকদের ওপর প্রয়োগ করা হবে না।

তারা নির্বিঘ্নে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র তুলে ধরতে পারবেন। কিন্তু যুগান্তরের কেরানীগঞ্জের সাংবাদিককে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে সেটি ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

এখন দেখা যাচ্ছে, একজন ওসির দুর্নীতির খবরও প্রকাশ করা যাবে না। প্রকান্তরে গণমাধ্যমকে সে বার্তাই দেয়া হচ্ছে। তারা বলেন, বাস্তবে যদি এমন আশঙ্কা সত্য হয় তাহলে তা হবে পুরো জাতির জন্য দুর্ভাগ্য।

তবে বিষয়টি নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার হতে হবে। সাংবাদিক নেতারা এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রীসহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ সম্পর্কে ব্যুরো, অফিস ও প্রতিনিধির পাঠানো খবর-

নবাবগঞ্জ : ঢাকার নবাবগঞ্জে সাদা পোশাকে পুলিশ তল্লাশির নামে সাংবাদিকদের আত্মীয়স্বজনকে হয়রানি করছে বলে স্থানীয় সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন। এছাড়া সাংবাদিকদের দেখে নেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ঢাকা জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা জানান। পুলিশি হয়রানি বন্ধে তারা জোরালো দাবি জানান। হুমকি দেয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেরানীগঞ্জ, দোহার ও নবাবগঞ্জের কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা। হয়রানি বন্ধসহ আবু জাফরের মুক্তি ও পুরো বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান তারা।

ময়মনসিংহ : সাংবাদিক আবু জাফরের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছেন ময়মনসিংহ সাংবাদিক ইউনিয়নের (এমইউজে) সভাপতি আতাউল করিম খোকন, সাধারণ সম্পাদক মীর গোলাম মোস্তফা। এছাড়া ময়মনসিংহ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অমিত রায় ও সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. মুসা, ময়মনসিংহ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম এবং সাংবাদিক বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পৃথক বিবৃতিতে সাংবাদিকের মুক্তি দাবি করেছেন।

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) : ত্রিশাল প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। যুগান্তর প্রতিনিধি ও ত্রিশাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি খোরশিদুল আলম মজিবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নোমানের পরিচালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন সিনিয়র সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম শামীম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সেলিম, প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক মামুনুর রশিদ ও রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এএইচএম জোবায়ের হোসাইন প্রমুখ।

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) : গৌরীপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও যুগান্তর প্রতিনিধি মো. রইছ উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি গৌরীপুর শাখার সভাপতি ম. নুরুল ইসলাম, প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম মিন্টু, গৌরীপুর উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ফকির, সাংবাদিক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, মোস্তাফিজুর রহমান বোরহান, গৌরীপুর যুগান্তর স্বজন সমাবেশের সভাপতি মো. এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক কবি সেলিম আল রাজ, সহ-সম্পাদক সামছুজ্জামান আরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিলন মিয়া, পৌর স্বজনের সভাপতি শ্যামল ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান মুক্তা প্রমুখ।

লালমনিরহাট : সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন লালমনিরহাটের বিভিন্ন প্রেস ক্লাবের নেতারা। গ্রেফতার সাংবাদিকের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করে তারা বিবৃতি দেন। বিবৃতিদাতারা হলেন- লালমনিরহাট প্রেস ক্লাব সভাপতি মোফাখ্খারুল ইসলাম মজনু, প্রেসফোর লালমনিরহাটের আহ্বায়ক হায়দার আলী বাবু, সদস্য সচিব মিজানুর রহমান দুলাল, জেলার আদিতমারী প্রেস ক্লাব সভাপতি ফরহাদ আলম সুমন, সম্পাদক সুলতান হোসেন, কালীগঞ্জ প্রেস ক্লাব সভাপতি আমিরুল ইসলাম হেলাল, সম্পাদক পারভেজ আলম লিটন, হাতীবান্ধা প্রেস ক্লাব আহ্বায়ক স্বপন কুমার দে, সদস্য সচিব ফারুক হোসেন নিশাত, পাটগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি লাবু ও সম্পাদক আজিজুল হক দুলাল প্রমুখ।

বগুড়া : সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়ায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতার সাংবাদিককে মুক্তির দেয়ার দাবি জানিয়ে তারা পৃথক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিদাতারা হলেন- বগুড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল আলম নয়ন, সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা নাসিম, নির্বাহী সদস্য আবদুস সালাম বাবু, নির্বাহী সদস্য সাজেদুর রহমান সিজু, নির্বাহী সদস্য সবুর আল মামুন, সাংবাদিক আবদুর রহমান টুলু, এইচ আলিম, বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আমজাদ হোসেন মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক জেএম রউফ, কোষাধ্যক্ষ সবুর আল মামুন প্রমুখ।

পাবনা : সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন পাবনার সাংবাদিক, সুশীল সমাজ এবং রাজনৈতিক নেতারা। অবিলম্বে সাংবাদিক আবু জাফরের মুক্তি এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তারা বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিদাতারা হলেন- পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি প্রফেসর শিবজিত নাগ, প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পাবনা সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি কামাল আহমেদ সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক আঁখিনুর ইসলাম রেমন, সাবেক সম্পাদক এবিএম ফজলুর রহমান, আহমেদ-উল-হক রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিকে সাদী, অর্থ সম্পাদক ড. নরেশ মধু, প্রথম আলোর পাবনা প্রতিনিধি সরোয়ার উল্লাস, পাবনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহবুব মোর্শেদ বাবলা, যুগান্তরের সাঁথিয়া প্রতিনিধি অধ্যাপক আবদুুদ দাইন, সাঁথিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদীন রানা, সাবেক সভাপতি আলী আহসান মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, সাবেক সম্পাদক মানিক মিয়া রানা, যুগান্তরের ফরিদপুর উপজেলা প্রতিনিধি ও প্রেস ক্লাব সভাপতি আবদুল হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক মির্জা বাসিদ, চাটমোহর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত সাহা কিংসুক, সমকাল প্রতিনিধি শামিম হাসান মিলন, ইত্তেফাক প্রতিনিধি হেলালুর রহমান জুয়েল, আমার সংবাদ প্রতিনিধি শিমুল বিশ্বাস, যুগান্তরের চাটমোহর প্রতিনিধি পবিত্র তালুকদার, ঈশ্বরদী প্রেস ক্লাবের সভাপতি স্বপন কুমার কুণ্ডু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল বাতেন, নাগরিক মঞ্চের সভাপতি অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, খেলাঘরের জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক হাসানুজ্জামান, ভোরের কাগজের প্রতিনিধি মোস্তাক আহমেদ কিরণ, যুগান্তরের প্রতিনিধি আলাউদ্দিন আহমেদ, সুজানগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি শাহাজাহান আলী (ভারপ্রাপ্ত), সাধারণ সম্পাদক এমএ আলীম রিপন, পাবনা টেলিভিশন অনলাইন সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈকত আফরোজ আসাদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহম্মদ মহিউদ্দিন, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি জাকির হোসেন, ন্যাপ সভাপতি রেজাউল করিম মনি, এনএ কলেজের অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক তরিৎ কুমার কুণ্ডু, মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সামাদ, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার তোফাজ্জল হোসেন, পাবনা যুগান্তর স্বজন সমাবেশের সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর চৌধুরী প্রমুখ।

নাটোর : সাংবাদিক গ্রেফতারের প্রতিবাদে জেলা প্রেস ক্লাব, জেলা মানবাধিকার কমিশন ও জেলা টিভি রিপোর্টার্স ইউনিটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নাটোর জেলা শাখার সভাপতি মো. মাহ্ফুজ আলম মুনী, সাধারণ সম্পাদক ও দেশ রূপান্তরের নাটোর জেলা প্রতিনিধি মো. আবদুল হাকিম এবং প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি মুক্তার হোসেন, জেলা টিভি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও ইনডিপেনডেন্ট টিভির প্রতিনিধি ও যায় যায় দিনের নাটোর প্রতিনিধি বাপ্পী লাহিড়ী এবং সাধারণ সম্পাদক যমুনা টিভির স্টাফ রিপোর্টার ও খোলা কাগজের নাটোর প্রতিনিধি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের শুরু থেকে সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ প্রতিবাদ করে আসছেন। কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি। সঠিক তথ্য প্রকাশ করার পরও এ কালো আইনে যুগান্তরের কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি আবু জাফরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তারা অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানান।

বাগাতিপাড়া (নাটোর) : বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহাতাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন থেকে ডিজিটাল আইনের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল সাংবাদিক মহল। এরপরও পাঁচজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা দেয়া এবং একজনকে গ্রেফতার করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তারা। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতার সাংবাদিকের মুক্তির দাবি জানানো হয়। এতে বক্তব্য দেন- প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও যুগান্তরের বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি মঞ্জুরুল আলম মাসুম, সাংবাদিক মিজানুর রহমান, মাহাতাব আলী, ফজলে রাব্বি, আবদুল আওয়াল, হাসান মাহমুদ, সবুজ সরকার, আবুল কালাম প্রমুখ।

বড়াইগ্রাম (নাটোর) : প্রেস ক্লাব সভাপতি ও যুগান্তর প্রতিনিধি অহিদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক ও ইত্তেফাক প্রতিনিধি আবদুল মান্নান, যুগ্ম সম্পাদক ও আলোকিত বাংলাদেশ প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলী গাজী, কোষাধ্যক্ষ হাসানুল বান্না উজ্জ্বল, দফতর সম্পাদক জাহিদ হাসান, প্রচার সম্পাদক আসাদুল ইসলাম ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক মন্তাজুর রহমান রানা প্রমুখ।

নোয়াখালী : যুগান্তরের কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তার মুক্তির দাবি করেছেন নোয়াখালীর ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদ কর্মীরা। বিবৃতি দিয়েছেন- মীর মোশাররফ হোসেন মিরন (সম্পাদক নোয়াখালী খবর), মো. ফারুক (সম্পাদক জনতার অধিকার), আবুল হাসেম (অবয়ব), যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার মো. হানিফ, সামছুল হাসান মিরন (কালের কণ্ঠ), মাহবুবুর রহমান (প্রথম আলো), হায়দার (সমকাল), আকবর হোসেন সোহাগ (বাংলাদেশ প্রতিদিন), মোহাম্মদ হানিফ ভূঁইয়া (নয়া দিগন্ত), আবু নাছের (ইনডিপেনডেন্ট), সাইফুল্লাহ কামরুল (সময় টিভি), ফুয়াদ (এটিএন বাংলা), শামীম (একুশ), মোত্তাসির বিল্লা সবুজ (যমুনা টিভি), বাবুল (আরটিভি) প্রমুখ। এছাড়া যুগান্তর স্বজন সমাবেশের নোয়াখালী জেলা সভাপতি ও নোয়াখালী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ কাজী মো. রফিক উল্লাহ, নোয়াখালী বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট বিইউএম কামরুল ইসলাম, আবদুর রহমান, সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, মো. জহির উদ্দিন, আবদুর রহিম চুন্নু, অ্যাডভোকেট বেলাল, আবদুর রশিদ আজাদ, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. এহছানুল হাসান প্রমুখ নিন্দা জানিয়েছেন।

জামালপুর : মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আবু জাফরের মুক্তির দাবি জানিয়ে জামালপুর প্রেস ক্লাব বিবৃতি দিয়েছে। প্রেস ক্লাবের সভাপতি আজিজুর রহমান ডল ও সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসাইন এক বিবৃতিতে বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার হচ্ছে। আইনটির অপব্যবহার হতে থাকলে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। যা কাম্য হতে পারে না। অবিলম্বে এ মামলা প্রত্যাহার এবং সাংবাদিকদের মুক্তি দাবি করেন তারা। অন্যথায় জামালপুরের সাংবাদিকরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।

সুনামগঞ্জ : যুগান্তরের পাঁচ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা এবং কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধিকে গ্রেফতারের নিন্দা জানানোর পাশাপাশি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুনামগঞ্জ প্রেস ক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতারা। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে উভয় সংগঠনের নেতারা পৃথক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিদাতারা হলেন- প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিজন সেন রায়, সহ-সভাপতি রওনক বখত, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহবুবুর রহমান পীর, অর্থ সম্পাদক সেলিম আহমেদ তালুকদার, নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি মাসুম হেলাল, নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সময় টিভি প্রতিনিধি হিমাদ্রী শেখর ভদ্র, যায় যায় প্রতিদিন প্রতিনিধি ঝুনু চৌধুরী, আমাদের অর্থনীতির প্রতিনিধি শাহাবুদ্দিন আহমেদ, আমাদের নতুন সময় প্রতিনিধি সুহেল আলম প্রমুখ। বিতর্কিত মামলায় গ্রেফতার সাংবাদিককে নিঃশর্ত মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান তারা। এছাড়া সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতারা এক যুক্ত বিবৃতিতে যুগান্তরের পাঁচ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা জানান।

হবিগঞ্জ : সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন হবিগঞ্জের সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর নেতারা । পৃথক বিবৃতিতে তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিদাতারা হলেন- হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি হারুনুর রশিদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন, টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রদীপ দাশ সাগর, সাধারণ সম্পাদক মো. ছানু মিয়া, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল প্রমুখ।

মৌলভীবাজার : সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাব সভাপতি আবদুল হামিদ মাহবুব ও সাংবাদিক ফোরাম সভাপতি বকশি ইকবাল আহমদ বলেন, স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করতে ডিজিটাল আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে।

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) : আগৈলঝাড়া প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে প্রেস ক্লাব সভাপতি কেএম আজাদ রহমানের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন সহ-সভাপতি এসএম শামীমুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক তপন বসু, যুগ্ম-সম্পাদক ওমর আলী সানী, নির্বাহী সদস্য অপূর্ব লাল সরকার, সরদার হারুন রানা, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তর প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলাম, সদস্য জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, মনিরুজ্জামান মনির, রিপন বিশ্বাস, নাজমুল রিপন, পলাশ দত্ত, স্বপন দাস, মারুফ মোল্লা, বরুন বাড়ৈ, মৃদুল দাস প্রমুখ।

পুবাইল (গাজীপুর) : যুগান্তরের সাংবাদিকের মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তির দাবিতে পুবাইল প্রেস ক্লাবে জরুরি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুবাইল প্রেস ক্লাব সভাপতি ও যুগান্তরের পুবাইল প্রতিনিধি মো. আখতার হোসেনের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভা হয়। এছাড়া স্থানীয় সাংবাদিকরা বিবৃতি দিয়ে মামলা প্রত্যাহার এবং আবু জাফরকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানান। প্রতিবাদ সভায় ও বিবৃতিতে সাংবাদিকরা বলেন, ৫৭ ধারার বিকল্প হিসেবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করার পর সাংবাদিকদের সব সংগঠন এ আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এ আইন প্রয়োগ করা হবে না- সরকারের পক্ষ থেকে এমন আশ্বস্ত করা হলেও সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে। পুবাইল প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে আবু জাফরের নিশর্ত মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- পুবাইল প্রেস ক্লাব সভাপতি ও যুগান্তরের পুবাইল প্রতিনিধি মো. আখতার হোসেন, প্রেস ক্লাব যুগ্ম স¤পাদক, রফিকুল ইসলাম জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ, আল আমিন সরকার ও প্রচার সম্পাদক মামুন মিয়া। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- সুব্রত দাস, মোতাহার হোসেন ও দৈনিক সকালের খোঁজ-খবরের সম্পাদক নাজমুল ইসলাম প্রমুখ।

লোহাগড়া (নড়াইল) : লোহাগড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও যুগান্তর প্রতিনিধি বিপ্লব রহমানের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন ইউনিয়নের সভাপতি মাহফুজুল ইসলাম, যায়যায় দিনের রূপক মুখার্জি, সমকাল প্রতিনিধি রেজাউল করিম, প্রথম আলোর প্রতিনিধি মারুফ সামদানী, মানবজমিনের শাহজাহান সাজু, ইত্তেফাকের এসএম শরিফুল ইসলাম, ভোরের কাগজের আবু আবদুল্লাহ প্রমুখ। প্রতিবাদ সভায় বক্তারা মামলা প্রত্যাহার এবং আবু জাফরের মুক্তির দাবি করেন।

১৯ ফেব্রুয়ারি যুগান্তরে ‘নবাবগঞ্জের ওসি মোস্তফা কামালের আলিশান বাড়ি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর ওসি মোস্তফা কামালের মদদে ওই দিন সন্ধ্যায় দোহার থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। যুগান্তর ও যমুনা টিভির নিজস্ব প্রতিনিধি আজহারুল হক, কেরানীগঞ্জ থানা প্রতিনিধি আবু জাফর, আশুলিয়া থানা প্রতিনিধি মো. মেহেদী হাসান মিঠু, ধামরাই থানা প্রতিনিধি শামীম খান এবং গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এসএম হুমায়ুন কবীরকে আসামি করে মামলা করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কথিত নেতা, অসংখ্য অপরাধমূলক মামলার আসামি ও কুখ্যাত ইয়াবা ব্যবসায়ী মো. পলাশ মিয়া। মামলার পর রাতেই সাংবাদিক আবু জাফরকে গ্রেফতার করা হয়। ওই প্রতিবেদনে ওসি মোস্তফা কামাল ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা পলাশের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরায় সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন নেমে আসে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যুগান্তরের পাঁচ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করায় হতাশা প্রকাশ করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের নেতারা। এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুব আলম, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হুদা অলক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক চাঁপাই চিত্রের সম্পাদক কামাল উদ্দীন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডাবলু ঘোষ, সিটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাজেদুল হক সাজু, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল রেজা, সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন-এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহজামাল, সাধারণ সম্পাদক ও যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার এবং দৈনিক যুগান্তরের জেলা প্রতিনিধি মনোয়ার হোসেন জুয়েল, কালের কণ্ঠ ও জিটিভির জেলা প্রতিনিধি ইমতিয়ার ফেরদৌস সুইট, এসএ টিভি ও কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি আহসান হাবিব, চ্যানেল ২৪, ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন, মানবজমিন ও মোহনা টিভির জেলা প্রতিনিধি তারেক রহমান ও ডিবিসি নিউজের জেলা প্রতিনিধি জহরুল ইসলাম।

গুরুদাসপুর (নাটোর) : গুরুদাসপুর প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেস ক্লাব সভাপতি ও যুগান্তর প্রতিনিধি দিল মোহাম্মদ (ডিএমদিলু)। এতে চলনবিল প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও নয়াদিগন্ত প্রতিনিধি অধ্যাপক আতহার হোসেন, গুরুদাসপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিলন, সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াদুদ রতন, ইত্তেফাক প্রতিনিধি রাশিদুল ইসলাম, ভোরের কাগজের প্রতিনিধি প্রভাষক মাজেম আলী, আমাদের সময়ের প্রতিনিধি আখলাকুজ্জামান, সাংবাদিক এসকে আব্দুল্লা, পলান ঘোষ, প্রভাষক শরিফুল ইসলাম, আওয়াল কবির, রোকসানা আকতার লিপি প্রমুখ বক্তব্য দেন। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা তারা প্রত্যাহারের দাবি জানান। একইসঙ্গে সাংবাদিক নির্যাতনের হাতিয়ার কালো আইন বাতিলের দাবি জানান তারা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×