ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের অভাব দেখছেন জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান

ব্যাংকটির বার্ষিক প্রতিবেদনে চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহার এমন স্ববিরোধী মন্তব্যে অনেকে হতবাক

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জনতা,

জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহা ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের অভাব দেখছেন। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধিসহ মূলধন স্বল্পতার বিষয়টিও তার নজর এড়ায়নি। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে তিনি বলেছেন, ‘ব্যাংকিং খাতে শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি, মূলধনের স্বল্পতা ও সুশাসনের অভাব বছরজুড়েই ছিল আলোচনায়।’ ২০১৭ সালে জনতা ব্যাংকের প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনের চেয়ারম্যানের বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতি বছরই প্রতিটি ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সে হিসাবে জনতা ব্যাংকেরও ২০১৭ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১৮ সালের প্রথমদিকে প্রকাশিত হয়েছে। নিয়মানুযায়ী প্রতিবেদনে চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের আলাদা বাণী থাকে। নিয়ম মেনে সেখানে তারা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এর মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বাণী সরকারের নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হলেও চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহার বাণীটি সরকারের নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না বলে অনেকেই মনে করেন।

বাণীতে তিনি বিশ্ব অর্থনীতি ও জনতা ব্যাংকের অর্জিত সাফল্যের প্রশংসা করলেও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আবার প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি ও বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর কথা বলছেন। চেয়ারম্যান তার বাণীতে দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় এক স্থানে উল্লেখ করেন, ‘বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে স্থবিরতা, ডলারের বিপরীতে টাকার মান হ্রাস, আমদানি ও রফতানি বাণিজ্যে অসম প্রবৃদ্ধির ফলে চলতি হিসাবে ঋণাত্মক স্থিতি, জনশক্তি রফতানি বৃদ্ধি সত্ত্বেও বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি গোটা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া ব্যাংকিং খাতে শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি, মূলধনের স্বল্পতা ও সুশাসনের অভাব বছরজুড়েই ছিল আলোচনায়।’

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, সরকার যেখানে অর্থনীতির সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে ব্যাপক প্রচারণা কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন, সেখানে সরকারি মালিকানাধীন একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান কিভাবে অর্থনীতির এমন নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরতে পারেন? তার বাণীর এই অংশ নিয়ে অনেকে রীতিমতো প্রশ্ন তুলেছেন। এ নিয়ে ব্যাংকারদের মধ্যেও নানা আলোচনা ঘুরপাক খাচ্ছে। কেননা বাস্তবিক অর্থে নানা কারণে ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এ কথা সত্য। কিন্তু এক্ষেত্রে সমালোচকদের যুক্তি হল- সরকারের বিশেষ আনুকূল্যে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাওয়া লুনা সামসুদ্দোহার বাণীতে এমন মন্তব্য কতখানি যুক্তিসঙ্গত। বিষয়টি নিঃসন্দেহে সরকারের বক্তব্য ও অবস্থানের সঙ্গে স্ববিরোধী।

এদিকে বার্ষিক এ প্রতিবেদনের বাণীতে অর্থনীতির নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরলেও তিনি জনতা ব্যাংকের সাফল্যের নানা তথ্য তুলে ধরেন। যা তার মূল বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বাস্তবতা হচ্ছে, জনতা ব্যাংকের আয় কমে গেছে, মুনাফাও কমেছে। ব্যাংকিং খাতে জনতা ব্যাংকের মার্কেট শেয়ার আগে আরও বেশি ছিল। সেগুলোও কমছে। মূলধন পর্যাপ্ততা ২০১৭ সালে ছিল ১০ শতাংশের বেশি। এক বছরের ব্যবধানে ২০১৮ সালে তা ৫ শতাংশের মধ্যে নেমে এসেছে। ২০১৭ সালে খেলাপি ঋণ ছিল ৫ হাজার ৮১৮ কোটি টাকা। গত বছরে তা বেড়ে হয়েছে ১৭ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। বড় ধরনের দুটি জালিয়াতির কারণে খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

ক্রিসেন্ট গ্রুপের ৫ হাজার কোটি টাকার জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুস সালামসহ তিনজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালকের (ডিএমডি) বিরুদ্ধে চরম দায়িত্বহীনতার অভিযোগ এনেছে ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ। তারা বলেন, ব্যাংকিং রীতিনীতি লংঘন করে ওই নির্বাহীরা ক্রিসেন্ট গ্রুপকে বেআইনিভাবে ঋণ সুবিধা দিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে এসব ঘটনা পর্ষদকেও জানানো হয়নি। ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের একটি বিশেষ তদন্তে এ ঘটনা বেরিয়ে এসেছে। অনেকেই মনে করেন, পর্ষদের দুর্বল নেতৃত্বের কারণেই ব্যাংক নির্বাহীরা পর্ষদদের কাছে ব্যাংকের জালিয়াতির ঘটনা আড়াল করার সাহস পান। যার দায় ব্যাংকটি চেয়ারম্যান হিসেবে লুনা সামসুদ্দোহা এড়াতে পারবেন না।

ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়ে বক্তব্য নিতে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহার সঙ্গে তার মুঠোফোনে ও সরাসরি দেখা করার জন্য কয়েক দফা চেষ্টা করেও প্রতিবেদক যোগাযোগ করতে পারেননি। সবশেষ শনিবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×