ঢাকা উত্তর সিটি উপনির্বাচন

বিভিন্ন কেন্দ্রে ‘অস্বাভাবিক’ ভোট

কোনো কোনো কেন্দ্রে ১ শতাংশের কম ভোট পড়েছে, আবার কোথাও ৮৪.৮১ শতাংশ * কম ভোট পড়ার হারই প্রমাণ করছে ভোটগ্রহণ ১০০ ভাগ সুষ্ঠু হয়েছে -রিটার্নিং কর্মকর্তা

  কাজী জেবেল ০২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হারম্যান মেইনার কলেজ
মিরপুর-১৩ হারম্যান মেইনার কলেজ। ফাইল ছবি

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে উপনির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট পড়ার ক্ষেত্রে বিস্তর ব্যবধানের তথ্য পাওয়া গেছে। কোনো কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৮০ শতাংশের বেশি। আবার এমন কেন্দ্রও পাওয়া গেছে, যেখানে ভোট পড়েছে মাত্র ০.১২ শতাংশ। ভোট পড়ার ক্ষেত্রে এ ব্যবধানকে ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিশ্লেষকরা।

রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতরে জমা হওয়া এ নির্বাচনের সব কেন্দ্রের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে- একটি কেন্দ্রে মাত্র তিনটি ভোট পড়েছে; যা ওই কেন্দ্রের মোট ভোটের ০.১২ শতাংশ।

আবার কোনো কোনো কেন্দ্রে মাত্র পাঁচটি বা সাতটি ভোট পড়েছে। এভাবে অন্তত ১০টি ভোট কেন্দ্রে ১ শতাংশের কম ভোট পড়েছে। অপর দিকে অন্তত পাঁচটি কেন্দ্রে ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে; যা সংখ্যার দিক থেকে অন্যান্য কেন্দ্রের সঙ্গে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি করেছে। এ নির্বাচনে মোট ভোট পড়ার গড় হার ৩১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।

ফলাফল বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, এ নির্বাচনে মোট ৮৮টি ভোট কেন্দ্রে ১০ শতাংশের কম ভোট পড়েছে। ২০ শতাংশের কম ভোট পড়েছে ২১২টি ভোট কেন্দ্রে। ৩২২টি কেন্দ্রে ৩০ শতাংশের কম ভোট পড়েছে।

এসব মিলিয়ে ৬২২টি ভোট কেন্দ্রে ৩০ শতাংশের কম ভোট পড়েছে। অপরদিকে ১১৯টি ভোট কেন্দ্রে ৫০ শতাংশ থেকে ৮৪ দশমিক ৮১ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে যেসব কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন সেসব কেন্দ্রে ভোটের হার অপেক্ষাকৃত বেশি ছিল।

শুক্রবার ভোটার দিবসের অনুষ্ঠানে সিটি নির্বাচন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, এ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল অংশগ্রহণ করেনি, তবে জনগণ অংশগ্রহণ করেছে।

তাদের ভোটে মেয়র নির্বাচিত হয়েছে। ঢাকা সিটি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হয়েছে। কারণ এ নির্বাচনের মেয়াদ কম, বিএনপি অংশ না নেয়ায়ও ভোটার উপস্থিতি কম হয়েছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণেও ভোটার উপস্থিতি কম হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ওপর বিরোধীদের আস্থা আছে কিনা- এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, এ দেশের সংস্কৃতিই এটা যে, পরাজিতরা সব সময় অনাস্থা প্রকাশ করবে। তিনি বলেন, ভোটের অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত করেছে এ কমিশন। জনগণকে ভোট দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে বলেও জানান সিইসি।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান যুগান্তরকে বলেন, ভোট কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি মানুষ দেখেছে এমন কথা বলতে শুনিনি। কোনো কেন্দ্রে এক শতাংশের কম ভোট পড়ল, আবার কোথাও ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ল- এ ব্যবধান একেবারেই অস্বাভাবিক।

তিনি বলেন, নির্বাচনে ভোটারদের এই যে অনাগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য দায়ী নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা। নির্বাচনের ওপর মানুষের আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া রাজধানীর নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিত কম হওয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে বিএনপির কোনো প্রার্থী ছিল না। যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তাদের মধ্যে আতিকুল ইসলামই একমাত্র যোগ্য প্রার্থী হওয়ায় এ নির্বাচনে মানুষের আগ্রহ দেখা যায়নি।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং ঢাকার দুই সিটির সম্প্রসারিত ৩৬টি ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট শেষ হয়।

রাতে বেসরকারি ও শুক্রবার আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাশেম। এ নির্বাচনে আতিকুল ইসলাম ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৩০২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

তার প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের শাফিন আহমেদ ৫২ হাজার ৪২৯ ভোট, টেবিল ঘড়ি প্রতীকের মোহাম্মদ আবদুর রহিম ১৪ হাজার ৪০ ভোট, আম প্রতীকের আনিসুর রহমান দেওয়ান ৮ হাজার ৬৯৫ ভোট ও বাঘ প্রতীকের শাহীন খান ৮ হাজার ৫৬০ ভোট পেয়েছেন।

এদিকে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. আতিকুল ইসলাম ছাড়া বাকি চার প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। সরকারদলীয় প্রার্থীর সঙ্গে তাদের ভোটের ব্যবধান অনেক বেশি হওয়ায় ও প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ না পাওয়ায় তারা জামানত হারাচ্ছেন।

এ নির্বাচনে ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯৯ জন ভোটারের মধ্যে ৯ লাখ ৪২ হাজার ৫৩৯ জন ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৫১৩ ভোট নানা কারণে বাতিল হয়েছে। বৈধ হিসেবে গণ্য হয়েছে ৯ লাখ ২৩ হাজার ২৬ ভোট। নির্বাচনে ভোট পড়ার হার ও ব্যবধান বড় হলেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কেউই এ নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির বড় কোনো অভিযোগ করেননি।

নির্বাচনে কম ভোট পড়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে এ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাশেম যুগান্তরকে বলেন, ভোটের হারই বলে দিচ্ছে কোনো কেন্দ্রেই সামান্যতম অনিয়ম হয়নি; যা ভোট পড়েছে তাই গণনা করা হয়েছে, সেটাই ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে। কম ভোট পড়ার হারই প্রমাণ করছে ভোটগ্রহণ ১০০ ভাগ সুষ্ঠু হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক কারণে ভোট পড়ার হার কম বলে মনে হচ্ছে।

প্রথমত, সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান পরিষদের মেয়াদ মাত্র এক বছর, দ্বিতীয়ত, বৈরী আবহাওয়া, তৃতীয়ত, টানা তিন দিন ছুটি পেয়ে অনেকেই ঢাকার বাইরে চলে গেছেন এবং চতুর্থত, প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা না হওয়া। তিনি আরও বলেন, যে ১৮টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন সেখানে ভোট পড়ার হার তুলনামূলক বেশি। এতে বোঝা যাচ্ছে, মেয়র পদে তীব্র প্রতিযোগিতা থাকলে ভোট পড়ার হার বাড়ত।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পাঁচজন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এ নির্বাচনের শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. আতিকুল ইসলাম নগরীর বিভিন্ন স্থানে সরব প্রচার চালিয়েছেন।

তার প্রচার কার্যক্রমে আচরণবিধি ভঙ্গ হয় কিনা- তা মনিটরিং করেছেন এসব কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, বাকি চার মেয়র প্রার্থীর ভোটারদের মাঝে তেমন পরিচিতি নেই।

শেষ মুহূর্তে কিছুটা প্রচার চালালেও সাধারণ মানুষের মাঝে সাড়া ফেলতে পারেননি। তাই সবার মধ্যে ধারণা সৃষ্টি হয়েছিল আতিকুল ইসলামই মেয়র নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। যার কারণে ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে আগ্রহ দেখাননি। তবে সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে কমিশনের পদক্ষেপের কোনো ঘাটতি ছিল না।

জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ভোট পড়ার এ হার অস্বাভাবিক। এ নির্বাচন নিয়ে মানুষের আগ্রহ দেখা যায়নি। সাধারণ লোকজন ভোটের খবরও নেয়নি। তিনি বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে যাচ্ছে।

ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে মিরপুরের মনিপাড়ায় অবস্থিত ই-আইডিয়াল স্কুল কেন্দ্রে। এ কেন্দ্রের ২ হাজার ৫০৪টি ভোটের মধ্যে তিনটি ভোট পড়েছে; অর্থাৎ ০.১২ শতাংশ।

এ তিনটি ভোটই মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম পেয়েছেন। একই এলাকার গ্রিন ভিউ হাই স্কুল কেন্দ্রে ভোট পড়েছে মাত্র ৯টি। এ কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৪৯০ জন। ভোট পড়ার হার ০.২০ শতাংশ।

অপরদিকে মিরপুরের হাজী আশ্রাফ আলী হাই স্কুল কেন্দ্রে ২ হাজার ২২০টি ভোটের মধ্যে পড়েছে ৭টি অর্থাৎ ০.৩২ শতাংশ। এ তিনটি কেন্দ্রসহ মোট ১০টি কেন্দ্রে এক শতাংশের কম ভোট পড়েছে।

বাকি কেন্দ্রগুলো হচ্ছে- বাড্ডার কুড়াতলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র (০.৩৩ শতাংশ), মিরপুরের পাইকপাড়ার বশির উদ্দিন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র (০.৩৬ শতাংশ), গ্রিন ভিউ হাই স্কুল (মহিলা-২) (০.৩৬ শতাংশ), কাফরুলের শহীদ পুলিশ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্র (০.৬৩ শতাংশ), মাদার কেয়া প্রি. স্কুল কেন্দ্রে (০.৭৪ শতাংশ), একই এলাকার ঢাকা আহছানিয়া মিশন মহিলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (০.৭৭ শতাংশ) এবং জোয়ার সাহারা এলাকার নিউ লাইফ প্রি-ক্যাডেট স্কুল (২য় তলা) কেন্দ্র (০.৮৫ শতাংশ)।

ভোটের ফলাফল পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, ৮টি কেন্দ্রে এক থেকে দুই শতাংশ ভোট পড়েছে। এগুলো হচ্ছে- জোয়ার সাহারার গুলশান কলেজ, নিচতলা, মহিলা কেন্দ্র-১ (১.৩২%), বাড্ডার কুড়াতলী উচ্চ বিদ্যালয় (২য় তলা-উত্তর পার্শ্ব) (১.৩২%), মিরপুরের ঢাকা আহছানিয়া মিশন মহিলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মহিলা-১ কেন্দ্র (১.৩৮%), কাফরুলের শহীদ পুলিশ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের নিচতলা কেন্দ্র (১.৪৫%), মিরপুরের আলীম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ২য় তলা কেন্দ্র (১.৫৫%), একই এলাকার রোটারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র (১.৬৪%), কসমিক কিন্ডারগার্টেন মহিলা-১ কেন্দ্র (১.৮০%) এবং জোয়ার সাহারার নিউ লাইফ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের নিচতলা পুরুষ কেন্দ্র (১.৮৩%)। এছাড়া ৯টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে দুই থেকে তিন শতাংশ।

কেন্দ্রগুলো হল- আদাবরের চিলড্রেন একাডেমি কেন্দ্র (২.০৪%), মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ব্রাঞ্চ-৩ কেন্দ্র (২.১১%), কালশী ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণের তিনতলা ভবনের নিচতলা ও ২য় তলা কেন্দ্র (২.১১%), শহীদ পুলিশ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের নিচতলায় পুরুষ কেন্দ্র (২.১৪%), পীরেরবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ তলায় পুরুষ কেন্দ্র (২.৫৬%), উত্তরা হাই স্কুল ও কলেজের নিচতলা মহিলা কেন্দ্র (২.৬৫%), পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব পার্শ্বে ভবন কেন্দ্রে (২.৬৯%), আলীম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের মহিলা কেন্দ্রে (২.৭৩%) এবং ফুলকি নার্সারি স্কুলের পুরুষ কেন্দ্র (২.৮৫%)।

৭টি কেন্দ্রে পড়েছে তিন থেকে চার শতাংশ ভোট। এগুলো হচ্ছে- মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বালিকা শাখার ২য় তলায় পূর্ব পার্শ্বে পুরুষ কেন্দ্র (৩.১০%), পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব পার্শ্বে ভবনের ২টি কক্ষ কেন্দ্র (৩.২৬%), পীরেরবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় তলায় পুরুষ কেন্দ্র (৩.৩৫%), মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ব্রাঞ্চ-৩ এর পুরুষ ভোটার কেন্দ্র (৩.৩৯%), কম্বাইন্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ২য় উত্তর পার্শ্বে মহিলা কেন্দ্র (৩.৪১%), কুড়িল কুড়াতলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব পার্শ্বে পুরুষ কেন্দ্র (৩.৫৮%) এবং গুলশান কলেজের ২য় তলায় মহিলা কেন্দ্র (৩.৬৭%)।

ফল বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, ১০টি কেন্দ্রে চার থেকে পাঁচ শতাংশ হারে ভোট পড়েছে। সেগুলো হচ্ছে- কুড়িল কুড়াতলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর ও দক্ষিণ পার্শ্বে অবস্থিত পুরুষ কেন্দ্র (৪.০২%), কালশী ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণের তিনতলা ভবনের ৩য় তলা কেন্দ্র (৪.১৬%), জাফরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুরুষ কেন্দ্র-০২ (৪.২০%), হালিম ফাউন্ডেশন স্কুলের নিচতলায় মহিলা কেন্দ্র (৪.৩১%), প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ তলায় পুরুষ কেন্দ্র (৪.৪৬%), মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বালিকা শাখার নিচতলায় মহিলা কেন্দ্র (৪.৫০%), শেরেবাংলা আইডিয়াল হাই স্কুলের নিচতলায় মহিলা ভোটার কেন্দ্র-১ (৪.৫১%), প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলায় মহিলা কেন্দ্র (৪.৬৭%), রোটারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পুরুষ ও মহিলা কেন্দ্র (৪.৬৮%) এবং মিরপুর বাংলা স্কুল ও কলেজের বালক শাখার নিচতলা ও ২য় তলা কেন্দ্র (৪.৮৫%)। অপরদিকে পাঁচটি ভোট কেন্দ্রে ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এসব কেন্দ্রে মেয়রের পাশাপাশি কাউন্সিলর পদেও ভোট হয়েছে। এর মধ্যে বিএন আইডিয়াল স্কুল কেন্দ্রে ৮৪ দশমিক ৮১ শতাংশ ভোট পড়েছে। এছাড়া খিলক্ষেতের তলনা রুহুল আমিন খান উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৮৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ, একই এলাকার পাতিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৮২ দশমিক ০১ শতাংশ, বাড্ডার পাতিরা তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসা কেন্দ্রে ৮১ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং বাড্ডার বেরাইদ মুসলিম হাই স্কুল কেন্দ্রে ৮০ দশমিক ২৩ শতাংশ ভোট পড়েছে।

প্রসঙ্গত, ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আনিসুল হক ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর মারা গেলে পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি এ সিটিতে উপনির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আদালতে দুটি রিট আবেদন করা হলে ওই সময়ে নির্বাচন স্থগিত করেন আদালত। পরে রিট দুটি খারিজ হওয়ার পর ২২ জানুয়ারি পুনরায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির তফসিল ঘোষণা করে ইসি।

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×